পাঠ–৭ : মধ্যযুগীয় ভারতের প্রাদেশিক রাজ্যসমূহ
অনুশীলনী–১
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) কাশ্মীরের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?
উত্তর : কাশ্মীরের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন জৈন-উল-আবেদিন।
(খ) কোন মোগল সম্রাট কাশ্মীরকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে এনেছিলেন?
উত্তর : সম্রাট আকবর কাশ্মীরকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে এনেছিলেন।
(গ) বিখ্যাত হলদিঘাটের যুদ্ধ কার-কার মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর : বিখ্যাত হলদিঘাটের যুদ্ধ মহারানা প্রতাপ ও সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিংহের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
(ঘ) জৌনপুর রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে?
উত্তর : জৌনপুর রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন সুলতান ইব্রাহিম শাহ।
(ঙ) ‘শার্কি স্থাপত্য’ শৈলী বলতে কী বোঝ?
উত্তর : জৌনপুরের শার্কি রাজবংশের আমলে বিকশিত স্থাপত্যশৈলীকে ‘শার্কি স্থাপত্য’ শৈলী বলা হয়।
(চ) গুজরাটের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?
উত্তর : গুজরাটের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন মহম্মদ বেগড়া।
(ছ) মালবে শাসন করা রাজবংশ দুটির নাম কী?
উত্তর : মালবে ঘোরি ও খিলজি রাজবংশ শাসন করেছিল।
২. জৈন-উল-আবেদিন কাশ্মীরে করা তিনটি প্রজাহিতৈষী কাজের উল্লেখ করো।
উত্তর : ১) তিনি কাশ্মীরের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
২) কৃষির উন্নতির জন্য নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে জলসেচের ব্যবস্থা করেছিলেন।
৩) তিনি বিভিন্ন নদীতে সেতু নির্মাণ ও নতুন নগর স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
৩. গুজরাট রাজ্যটি অর্থনৈতিকভাবে কেন উন্নত ছিল?
উত্তর : উন্নতমানের হস্তশিল্প, উপযুক্ত সামুদ্রিক বন্দর এবং পলিযুক্ত উর্বর ভূমির জন্য গুজরাট অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ছিল। সামুদ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুজরাট অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল।
অনুশীলনী–২
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) বিজয়নগর সাম্রাজ্য ভারতের কোন প্রান্তে অবস্থিত?
উত্তর : বিজয়নগর সাম্রাজ্য দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত ছিল।
(খ) বিজয়নগর সাম্রাজ্যে শাসন করা রাজবংশ কয়টি এবং কী কী?
উত্তর : বিজয়নগর সাম্রাজ্যে চারটি রাজবংশ শাসন করেছিল। সেগুলি হলো— সঙ্গম, চালুভ, তুলুভ এবং আরাভিডু।
(গ) ‘মুক্তমাল্যদা’ কে রচনা করেছিলেন?
উত্তর : ‘মুক্তমাল্যদা’ কৃষ্ণদেব রায় রচনা করেছিলেন।
(ঘ) হাজারা রামস্বামী মন্দির কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : হাজারা রামস্বামী মন্দির কর্ণাটকে অবস্থিত।
(ঙ) ‘গুলবর্গা’ কোন রাজ্যের রাজধানী ছিল?
উত্তর : গুলবর্গা ছিল বাহমনি রাজ্যের রাজধানী।
২. কৃষ্ণদেব রায়ের রাজত্বকালে বিজয়নগর সাম্রাজ্য কীভাবে উন্নতির শিখরে উপনীত হয়েছিল?
উত্তর : কৃষ্ণদেব রায়ের শাসনকালে বিজয়নগর সাম্রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল। তিনি দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করেছিলেন। কৃষির উন্নতির জন্য নতুন কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও জলসেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রজাদের কল্যাণ ও সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সাহিত্য, শিল্প ও স্থাপত্যেরও উন্নতি সাধন করেছিলেন।
৩. বাহমনিরা কার সঙ্গে এবং কেন ঘন ঘন সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল?
উত্তর : বাহমনিরা বিজয়নগর রাজ্যের সঙ্গে প্রায়ই সংঘাতে লিপ্ত হতো। এছাড়া তারা ওড়িশার গজপতি ও পর্তুগিজদের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। রাজ্যের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষাই ছিল এই সংঘাতের মূল কারণ।
৪. মহম্মদ গবন নামে অধিকারিককে কার অভিভাবক হিসেবে এবং কেন রাজকার্য পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল?
উত্তর : তৃতীয় মহম্মদ শাহ মাত্র নয় বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। অল্পবয়সী হওয়ার কারণে মহম্মদ গবন নামে একজন অধিকারিককে তাঁর অভিভাবক হিসেবে রাজকার্য পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল।
অনুশীলনী–৩
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) বঙ্গে কোন কোন দেশ থেকে পর্যটকরা এসেছিল?
উত্তর : বঙ্গে ইউরোপীয় ও চীনা পর্যটকরা এসেছিল।
(খ) কোন রাজবংশের সময় পর্তুগিজরা বঙ্গে কারখানা স্থাপন করেছিল?
উত্তর : হোসেন শাহ রাজবংশের সময় পর্তুগিজরা বঙ্গে কারখানা স্থাপন করেছিল।
(গ) ওড়িশার শক্তিশালী রাজবংশটি কী ছিল?
উত্তর : ওড়িশার শক্তিশালী রাজবংশ ছিল গজপতি রাজবংশ।
(ঘ) ওড়িশার কোন অঞ্চলটি মধ্যযুগের ধর্ম ও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল ছিল?
উত্তর : পুরীর জগন্নাথ মন্দির অঞ্চলটি মধ্যযুগের ধর্ম ও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল ছিল।
ঙ)কামাল খান গখখর কে ছিল?
উত্তর: গখখরদের মাতব্বর ছিল।
২. ওড়িশা রাজ্যের পতন কেন ঘটেছিল?
উত্তর : পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন যুদ্ধবিগ্রহের ফলে ওড়িশা রাজ্যের পতন ঘটেছিল।
৩. জাট ও গাড্ডিরা কারা ছিল? তারা কেন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করত?
উত্তর : জাট ও গাড্ডিরা ছিল যাযাবর জাতি। তাদের প্রধান জীবিকা ছিল শিকার ও পশুপালন। খাদ্যের সন্ধানে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য তারা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করত।
৪. মধ্যযুগীয় ভারতে বসবাসকারী কয়েকটি যাযাবর জাতির নাম লেখো। তাদের প্রধান জীবিকা কী ছিল?
উত্তর : মধ্যযুগীয় ভারতে বসবাসকারী কয়েকটি যাযাবর জাতি ছিল— জাট, গাড্ডি, বঞ্জারা ও গুজ্জর।
তাদের প্রধান জীবিকা ছিল—
- শিকার করা,
- পশুপালন,
- ব্যবসা-বাণিজ্য করা,
- এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দ্রব্যসামগ্রী বহন করা।
