পাঠ–৬ : মধ্যযুগের ভারত, Class 7, chapter 6, SEBA, new textbook

পাঠ–৬ : মধ্যযুগের ভারত

অনুশীলনী–১

১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) তুর্কিদের অসম আক্রমণের কথা কোথায় উল্লেখ আছে?

উত্তর : উত্তর গৌহাটির কানাই বৰশী বোৱা শিলালিপিতে তুর্কিদের অসম আক্রমণের কথা উল্লেখ আছে।

(খ) কোন সুলতান দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন?

উত্তর : মহম্মদ-বিন-তুঘলক দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন।

(গ) ইবন বতুতা কোথা থেকে ভারতে এসেছিলেন?

উত্তর : ইবন বতুতা মরক্কো থেকে ভারতে এসেছিলেন।

(ঘ) সৈয়দ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর : সৈয়দ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খিজির খাঁ।

(ঙ) ১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেছিলেন?

উত্তর : ১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধে বাবর লোদি বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করেছিলেন।

(চ) দিল্লিতে তিনটি বাজার কে স্থাপন করেছিলেন?

উত্তর : আলাউদ্দিন খিলজি দিল্লিতে তিনটি বাজার স্থাপন করেছিলেন।

(ছ) সুলতানদের প্রশাসনের ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর : সুলতানদের প্রশাসনের ভিত্তি ছিল ইসলামী আইন বা শরিয়া আইন।


২. সুলতানি শাসক বলতে তুমি কী বোঝ? সুলতানি শাসনের উল্লেখযোগ্য রাজবংশগুলি কী কী?

উত্তর : ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতে তুর্কি-আফগান শাসকদের রাজত্বকে সুলতানি শাসন বলা হয়। এই সময়ে শাসকদের সুলতান বলা হত। উল্লেখযোগ্য রাজবংশগুলি হল— ১) দাস রাজবংশ
২) খিলজি রাজবংশ
৩) তুঘলক রাজবংশ
৪) সৈয়দ রাজবংশ
৫) লোদি রাজবংশ


৩. কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশকে দাস রাজবংশ বলা হয় কেন?

উত্তর : কুতুবউদ্দিন আইবেক পূর্বে একজন তুর্কি বংশোদ্ভূত দাস ছিলেন। পরে তিনি মুহম্মদ ঘোরীর সেনাপতি হন এবং দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তিনি প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের শাসকরা পূর্বে দাস হওয়ায় এই রাজবংশকে দাস রাজবংশ বলা হয়।


৪. মহম্মদ-বিন-তুঘলককে ‘জ্ঞানি মূর্খ রাজা’ বলা হয় কেন?

উত্তর : মহম্মদ-বিন-তুঘলক একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু বাস্তব পরিকল্পনার অভাবে তাঁর গৃহীত অনেক প্রকল্প ব্যর্থ হয়। তিনি দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং তামার মুদ্রা প্রচলন করেন, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়। তাই তাঁকে ‘জ্ঞানি মূর্খ রাজা’ বলা হয়।


৫. সুলতানদের প্রশাসনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লেখো।

উত্তর : সুলতান ছিলেন প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের ভিত্তি ছিল ইসলামী আইন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রশাসনকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল, যেমন— ধর্ম ও ন্যায়, সামরিক, রাজস্ব ও রাজপ্রাসাদ, ডাকব্যবস্থা ইত্যাদি। প্রতিটি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন উজির। সাম্রাজ্যকে ইক্তায় বিভক্ত করা হয়েছিল এবং ইক্তাদাররা সেই অঞ্চল পরিচালনা করতেন। সুলতানরা তাদের কর্মচারীদের মধ্য থেকে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করতেন।


অনুশীলনী–২

১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর কার বংশধর ছিলেন?

উত্তর : মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর ছিলেন তৈমুরের বংশধর।

(খ) মোগল সাম্রাজ্য কোথা থেকে বিস্তৃত হয়েছিল?

উত্তর : ঔরঙ্গজেবের সময় মোগল সাম্রাজ্য পূর্বে বাংলা থেকে পশ্চিমে গুজরাট এবং উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কর্ণাটক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

(গ) ‘বাবরনামা’ কী?

উত্তর : ‘বাবরনামা’ হলো বাবরের আত্মজীবনী।

(ঘ) ‘হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য’ উপাধি কে গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর : হেমু ‘হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

(ঙ) ‘সুলহ-ই-কুল’ বলতে কী বোঝ?

উত্তর : ‘সুলহ-ই-কুল’ বলতে সকলের সঙ্গে শান্তি ও সহনশীলতার নীতিকে বোঝায়।

(চ) তাজমহল কে এবং কার স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর : সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের স্মৃতিতে তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন।

(ছ) সিংহাসনে আরোহণ করে ঔরঙ্গজেব কী উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর : সিংহাসনে আরোহণ করে ঔরঙ্গজেব ‘আলমগীর’ বা ‘বিশ্ববিজয়ী’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।


২. জ্ঞান অর্জনের জন্য আকবর কোন কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর : আকবর জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিনি ফারসি ও ভারতীয় বইয়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারত, রামায়ণ, ভগবদ্গীতা ও পঞ্চতন্ত্রের মতো সংস্কৃত গ্রন্থগুলি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল।


৩. জিজিয়া কর বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : মুসলিম শাসকদের দ্বারা অমুসলিম প্রজাদের উপর আরোপিত এক ধরনের করকে জিজিয়া কর বলা হয়। নিরাপত্তা, জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষার বিনিময়ে প্রজাদের এই কর দিতে হত।


৪. মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে সংক্ষেপে টীকা লেখো।

উত্তর : মোগল শাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মনসবদারি প্রথা। ‘মনসব’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদ বা স্থান। মনসবদারদের সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সম্রাটের সেবা করতে হত। তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্রাট কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হত এবং পদ বংশানুক্রমিক ছিল না। তাদের পদমর্যাদা বোঝাতে ‘জাত’ ও ‘সওয়ার’ নামে দুটি পদবি ব্যবহৃত হত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *