পাঠ–৫ : আদি-মধ্যযুগের ভারত
অনুশীলনী–১
১. নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও।
(ক) ভারতীয় ইতিহাস অধ্যয়নে কোন সময়কালকে আদি ও মধ্যযুগ বলা হয়?
উত্তর : সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালকে ভারতীয় ইতিহাসে আদি-মধ্যযুগ বলা হয়।
(খ) রাজা কাকে জমি দান করতেন?
উত্তর : রাজারা ব্রাহ্মণ, পুরোহিত, ধর্মীয় স্থান এবং তাদের কর্মচারীদের জমি দান করতেন।
(গ) পুষ্যভূতি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর : পুষ্যভূতি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রভাকরবর্ধন।
(ঘ) হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে আসা চীনা পর্যটক কে ছিলেন?
উত্তর : হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে আসা চীনা পর্যটক ছিলেন হিউয়েন সাঙ।
২. সাহিত্য ও ধর্মে রাষ্ট্রকূটদের অবদান সম্পর্কে লেখো।
উত্তর : রাষ্ট্রকূটদের রাজত্বকালে সংস্কৃত এবং প্রাকৃত ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। তারা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বহু মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। ইলোরার কৈলাসনাথ মন্দির তাদের স্থাপত্যশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। রাজা অমোঘবর্ষ সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর রচিত ‘কবিরাজমার্গ’ কন্নড় ভাষার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
৩. গুর্জর-প্রতিহারদের পতনের কারণ কী?
উত্তর : গুর্জর-প্রতিহাররা কনৌজ পর্যন্ত তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল। এর ফলে তারা রাষ্ট্রকূট ও পাল রাজবংশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দশম শতাব্দীর গোড়ার দিকে রাষ্ট্রকূটরা কনৌজ শহর ধ্বংস করে এবং তাদের অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসকরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ফলে গুর্জর-প্রতিহারদের দুর্বলতা দেখা দেয়। একাদশ শতাব্দীতে গজনির সুলতান মাহমুদের আক্রমণের সময় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যায়।
৪. পালরা কীভাবে তাদের প্রশাসনিক কার্য সম্পাদন করতেন তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর : পালরা তাদের রাজ্যকে তিনটি প্রশাসনিক বিভাগে ভাগ করেছিলেন— ভুক্তি, বিষয় এবং মণ্ডল। প্রতিটি স্তরে এক বা একাধিক কর্মচারী দায়িত্বে ছিলেন। গ্রামের প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল গ্রামপতি ও দশগ্রামিক নামে পরিচিত কর্মকর্তাদের উপর। পাল রাজারা ব্রাহ্মণ, পুরোহিত এবং মন্দিরের পাশাপাশি কৃষিজীবী কৈবর্তদেরও জমি দান করতেন।
৫. রাষ্ট্রকূট এবং গুর্জর-প্রতিহাররা প্রশাসনিক সুবিধার্থে তাদের রাজ্যগুলিকে কোন কোন অংশে ভাগ করেছিলেন? নাম উল্লেখ করো।
উত্তর : রাষ্ট্রকূট এবং গুর্জর-প্রতিহাররা প্রশাসনিক সুবিধার্থে তাদের রাজ্যকে চারটি অংশে ভাগ করেছিলেন। এগুলি হল— ১) রাষ্ট্র (রাজ্য)
২) প্রদেশ
৩) ভুক্তি
৪) মণ্ডল
অনুশীলনী–২
১. নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও।
(ক) ভারত আক্রমণকারী প্রথম বিদেশি শক্তি কে ছিলেন?
উত্তর : ভারত আক্রমণকারী প্রথম বিদেশি শক্তি ছিল আরবরা।
(খ) আরবদের আগমনের সময় সিন্ধু অঞ্চলের রাজা কে ছিলেন?
উত্তর : আরবদের আগমনের সময় সিন্ধু অঞ্চলের রাজা ছিলেন দাহির।
(গ) সুলতান মাহমুদ কতবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন?
উত্তর : সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেছিলেন।
(ঘ) ভারতে সুলতানি আমল কখন শুরু হয়েছিল?
উত্তর : ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে সুলতানি আমল শুরু হয়েছিল।
২. আরবরা কোন কোন অঞ্চলে তাদের শাসন বিস্তার করেছিল?
উত্তর : আরবরা সিন্ধু অঞ্চলের দেওয়াল, ব্রাহ্মণাবাদ, হায়দরাবাদ এবং মুলতান অঞ্চলে তাদের শাসন বিস্তার করেছিল।
৩. তারাইনের প্রথম এবং দ্বিতীয় যুদ্ধ কখন এবং কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর : ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তারাইনের প্রথম যুদ্ধ পৃথ্বীরাজ চৌহান এবং মুহাম্মদ ঘোরির মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তারাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধও পৃথ্বীরাজ চৌহান এবং মুহাম্মদ ঘোরির মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহান পরাজিত হন।
৪. তুর্কিদের ভারত আক্রমণের মূল কারণ কী ছিল?
উত্তর : তুর্কিদের ভারত আক্রমণের মূল কারণ ছিল ভারতের বিপুল সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং নিজেদের শাসন সম্প্রসারণ করা।
