পাঠ–১২ : সংবিধান (পৃষ্ঠা ১১৪–১২৩)-এর সমস্ত অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর বাংলায় দেওয়া হলো। উত্তরগুলো অধ্যায়ের তথ্য অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে।
অধ্যায়ের নাম: পাঠ–১২ — সংবিধান
অনুশীলনী–১
১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) সংবিধান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, নিয়ম ও আইনের সামগ্রিক রূপকে সংবিধান বলে।
(খ) সংবিধান কত প্রকারের?
উত্তর:
সংবিধান প্রধানত দুই প্রকার— ১. লিখিত সংবিধান
২. অলিখিত সংবিধান।
(গ) কোনটি দেশের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল?
উত্তর:
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান।
(ঘ) অলিখিত সংবিধান প্রচলিত একটি দেশের নাম লেখো।
উত্তর:
ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য)।
(ঙ) সংবিধানের যে কোনো একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
২। সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করো।
উত্তর:
- রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও নিয়ম নির্ধারণ করে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে।
- নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দেয়।
- রাষ্ট্রের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।
৩। সংক্ষেপে টীকা লেখো।
(ক) অলিখিত সংবিধান
উত্তর:
যে সংবিধান লিখিত আকারে না থেকে রীতি-নীতি, প্রথা ও বিচারিক সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে চলে তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। উদাহরণ—ইংল্যান্ড।
(খ) লিখিত সংবিধান
উত্তর:
যে সংবিধান লিখিতভাবে প্রণীত ও সংরক্ষিত থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে। উদাহরণ—ভারত ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।
অনুশীলনী–২
১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) ভারতের সংবিধান সভার সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর:
ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
(খ) ভারতের সংবিধানের খসড়া কমিটিতে থাকা অসমের একমাত্র সদস্যের নাম কী?
উত্তর:
সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা।
(গ) ভারতকে কেন ‘অর্ধ-যুক্তরাষ্ট্র’ বলা হয়?
উত্তর:
ভারতের সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও একক রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় রয়েছে বলে ভারতকে অর্ধ-যুক্তরাষ্ট্র (Quasi-Federal) বলা হয়।
(ঘ) ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত রূপে কতজন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন?
উত্তর:
২৮৪ জন সদস্য।
(ঙ) ভারতীয় সংবিধান অনুসারে জরুরি অবস্থা কত প্রকারের?
উত্তর:
তিন প্রকারের— ১. জাতীয় জরুরি অবস্থা
২. রাষ্ট্রপতি শাসন (রাজ্য জরুরি অবস্থা)
৩. আর্থিক জরুরি অবস্থা।
২। কী কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ভারতীয় সংবিধান অনুসারে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যাবে?
উত্তর:
- যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহ হলে।
- কোনো রাজ্যে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে।
- দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হলে।
৩। ভারতীয় সংবিধানের যে-কোনো তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান।
২. ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
৩. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা।
৪। ভারতীয় সংবিধান প্রণয়ন প্রসঙ্গে অসমের অবদান বর্ণনা করো।
উত্তর:
ভারতের সংবিধান প্রণয়নে অসম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গোপীনাথ বরদলৈ, সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা, কুলধর চলিহা, রোহিণীকুমার চৌধুরী, নিকোলস রায় প্রমুখ সদস্য সংবিধান সভায় অংশগ্রহণ করেন। গোপীনাথ বরদলৈ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনজাতীয় এলাকার জন্য গঠিত উপ-সমিতির সভাপতি ছিলেন এবং তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অন্তর্ভুক্ত হয়।
অনুশীলনী–৩
১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) সংবিধানের সংশোধন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানের কোনো অংশ পরিবর্তন, সংযোজন বা বর্জনের প্রক্রিয়াকে সংবিধান সংশোধন বলে।
(খ) কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানে বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর:
৮৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে।
(গ) ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল?
উত্তর:
প্রস্তাবনায় সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ সংযোজন এবং মৌলিক কর্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. ভারতের আদর্শ ও উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।
২. সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় দেয়।
৩. ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করে।
৩। অসমের জন্য ভারতীয় সংবিধানে কী কী বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, সে বিষয়ে লেখো।
উত্তর:
- ষষ্ঠ তফসিলের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- জনজাতীয় এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
- জনজাতীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।
- জনজাতীয় এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।
