অধ্যায় ৪: আলোর সাথে মজার খেলা: ছায়া ও প্রতিফলন | অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 6 Science Bengali
এখানে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনীর সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:
অনুশীলনী
১. শুদ্ধ উত্তরের গোলটি পূর্ণ করো-
(i) নীচের কোন্টি আলোর কৃত্রিম উৎস?
(a) সূর্য
(b) জোনাকি পোকা
(c) জেলিমাছ
(d) বৈদ্যুতিক বাল্ব
উত্তর: (d) বৈদ্যুতিক বাল্ব
(ii) ছায়া গঠনের জন্য নীচের কোন্ উপাদানটি অপরিহার্য নয়?
(a) পর্দা
(b) বস্তু
(c) বস্তুর রং
(d) আলোর উৎস
উত্তর: (c) বস্তুর রং
(iii) একটি ছায়ার রং হলো-
(a) সর্বদা কালো এবং সাদা
(b) শুধুমাত্র কালো
(c) শুধুমাত্র সাদা
(d) বস্তুর মতোই
উত্তর: (b) শুধুমাত্র কালো
(iv) এই পদার্থগুলির কোন্টির মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পাই?
(a) এক টুকরো লোহা
(b) কাঠের টুকরো
(c) একটি কাচের পাত্র
(d) একটি পুরু বই
উত্তর: (c) একটি কাচের পাত্র
(v) সোমা একটি সমতল আয়না থেকে 3 মিটার দূরে। যদি সে আয়নার কয়েক ধাপ কাছে যায়, তাহলে আয়নার প্রতিবিম্বের আকারের কী পরিবর্তন হবে?
(a) কমে যাবে
(b) বৃদ্ধি পাবে
(c) একই থাকবে
(d) উলটো হবে
উত্তর: (c) একই থাকবে
২. শূন্যস্থান পূরণ করো
(i) একটি ছায়ার রং নেই।
(ii) পিনহোল ক্যামেরা উলটো প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে।
(iii) রাবার অস্বচ্ছ কিন্তু কাঁচ হলো স্বচ্ছ।
(iv) যখন আমরা একটি সমতল আয়নায় তাকাই, তখন আমাদের বাম হাতটিকে ডান হাত দেখায়। এই পরিঘটনাটিকে পার্শ্বীয় বিলোমন বলা হয়।
৩. শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো-
(i) দীপ্তিহীন বস্তুগুলি তাদের নিজস্ব আলো নির্গত করে। -> অশুদ্ধ
(ii) আলো সরলরেখায় গতি করে। -> শুদ্ধ
(iii) প্যারিস্কোপ আলোর প্রতিফলনের ধর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। -> শুদ্ধ
(iv) চাঁদ একটি দীপ্তিমান বস্তু। -> অশুদ্ধ
৪. নীচে দেওয়া অংশগুলো মিলিয়ে লেখো-
ক অংশ খ অংশ (সঠিক উত্তর) (i) যে সকল বস্তুর মধ্য দিয়ে আলো পার হয়ে যেতে পারে (iii) স্বচ্ছ বস্তু (ii) চাঁদ (iv) অ-আলোকিত বস্তু (দীপ্তিহীন বস্তু) (iii) একটি বস্তু যা নিজস্ব আলো নির্গত করে (i) আলোকিত বস্তু (দীপ্তিমান বস্তু) (iv) পৃষ্ঠ থেকে আলোর উচ্ছ্বাস (ii) প্রতিফলন
৫. ভেবে উত্তর দাও-
(i) একটি বস্তু কি একাধিক ছায়া গঠন করতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি একাধিক আলোর উৎস থাকে এবং সেগুলো বিভিন্ন দিক থেকে বস্তুটির ওপর আলো ফেলে, তবে একটি বস্তু একাধিক ছায়া গঠন করতে পারে।
(ii) ছায়া গঠন হতে কী কী শর্ত প্রয়োজন?
উত্তর: ছায়া গঠনের জন্য প্রধানত তিনটি শর্তের প্রয়োজন:
১. একটি আলোর উৎস।
২. আলোর গতিপথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য একটি অস্বচ্ছ বস্তু।
৩. একটি পর্দা বা তল (যেখানে ছায়াটি পড়বে, যেমন- মাটি বা দেওয়াল)।
(iii) আলোর উৎস না থাকলে কি আমরা দেখতে পারি?
উত্তর: না, আলোর উৎস না থাকলে আমরা কোনো কিছু দেখতে পারি না। কারণ কোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছালেই আমরা কেবল সেই বস্তুটি দেখতে পাই।
(iv) মনে করো তোমার একটি লাল বাল্ব এবং একটি নীল বাল্ব আছে। যদি তুমি দুইটি বাল্বের সুইচ অন করো এবং লাল বাল্বের সামনে একটি বস্তু রাখো, ছায়ার রং কেমন হবে? যদি নীল বাল্বের সামনে বস্তুটি রাখো, তাহলে ছায়ার রং কেমন হবে?
উত্তর: বস্তুর রঙ বা আলোর রঙ যাই হোক না কেন, ছায়ার রঙ সর্বদা কালোই হয়। তাই লাল বা নীল যে বাল্বের সামনেই বস্তু রাখা হোক না কেন, গঠিত ছায়ার রঙ কালোই হবে। কারণ, ছায়া হলো বস্তুর দ্বারা আলোর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অন্ধকার অঞ্চল।
(v) অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ‘AMBULANCE’ শব্দটি উলটো লেখা হয় কেন?
উত্তর: সমতল আয়নায় গঠিত প্রতিবিম্বে পার্শ্বীয় বিলোমন (lateral inversion) ঘটে, অর্থাৎ ডান দিক বাঁ দিক হিসেবে এবং বাঁ দিক ডান দিক হিসেবে দেখায়। অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ‘AMBULANCE’ শব্দটি উলটো করে লেখা থাকে যাতে সামনের গাড়ির চালক তার রিয়ারভিউ মিররে (rear-view mirror) শব্দটির সঠিক প্রতিবিম্ব দেখতে পান এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সকে পথ ছেড়ে দিতে পারেন।
(vi) রাতে চাঁদ উজ্জ্বল দেখায়। সেজন্য কি আমরা চাঁদকে দীপ্তিমান বস্তু বলতে পারি?
উত্তর: না, আমরা চাঁদকে দীপ্তিমান বস্তু বলতে পারি না। দীপ্তিমান বস্তুর নিজস্ব আলো থাকে (যেমন- সূর্য), কিন্তু চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে বলেই চাঁদকে উজ্জ্বল দেখায়। তাই চাঁদ হলো একটি দীপ্তিহীন (অ-আলোকিত) বস্তু।
(vii) ধর তুমি একটা অন্ধকার ঘরে আছ, তুমি কি ঘরের জিনিসগুলো দেখতে পাবে? বাইরে আলো থাকলে কি তুমি ঘরের বাইরের জিনিসগুলো দেখতে পাবে?
উত্তর: আমি অন্ধকার ঘরে থাকলে ঘরের ভেতরের জিনিসগুলো দেখতে পাব না, কারণ সেখানে কোনো আলোর উৎস নেই। তবে ঘরের বাইরে যদি আলো থাকে, তাহলে জানলা বা দরজা দিয়ে সেই আলোতে থাকা বাইরের জিনিসগুলো আমি দেখতে পাব।
(viii) কেন আমরা উড়ন্ত বিমানের ছায়া দেখতে পাই না?
উত্তর: ছায়া দেখার জন্য একটি পর্দার (যেমন ভূমি) প্রয়োজন হয়। উড়ন্ত বিমান মাটি থেকে অনেক উঁচুতে থাকে। বিমান একটি অস্বচ্ছ বস্তু হলেও আলোর উৎস (সূর্য) থেকে এর দূরত্ব এবং মাটি থেকে এর উচ্চতা এতই বেশি যে, বিমানের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত আলো মাটিতে পৌঁছানোর আগেই চারপাশের অন্যান্য আলো দ্বারা বিলীন হয়ে যায়। তাই আমরা উড়ন্ত বিমানের ছায়া দেখতে পাই না।
(ix) পিনহোল ক্যামেরার নীতি কী? পিনহোল ক্যামেরা দ্বারা গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: পিনহোল ক্যামেরার মূল নীতি হলো “আলো সর্বদা সরলরেখায় গতি করে”। পিনহোল ক্যামেরা দ্বারা গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. প্রতিবিম্বটি সর্বদা উলটো (Inverted) হয়।
২. প্রতিবিম্বটি রঙিন হয়, অর্থাৎ বস্তুর প্রকৃত রঙের মতোই হয় (ছায়ার মতো কালো নয়)।
৩. প্রতিবিম্বটি একটি পর্দায় গঠিত হয় এবং এটি আকার-আকৃতিতে বস্তুর অনুরূপ হয়।
(x) সোমা 6 মিটার দূরে একটি সমতল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে আয়নার দিকে 1 মিটার এগিয়ে গেল। সোমা এবং প্রতিবিম্বের মধ্যে দূরত্ব কত হবে?
উত্তর: সোমা প্রথমে আয়না থেকে 6 মিটার দূরে ছিল। সে আয়নার দিকে 1 মিটার এগিয়ে গেলে, আয়না থেকে তার বর্তমান দূরত্ব হবে (6 – 1) = 5 মিটার। সমতল আয়নার ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু আয়নার যত সামনে থাকে, প্রতিবিম্ব আয়নার ঠিক ততটাই পেছনে গঠিত হয়। তাই আয়না থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্বও হবে 5 মিটার। সুতরাং, সোমা এবং তার প্রতিবিম্বের মধ্যে মোট দূরত্ব হবে (5 + 5) = 10 মিটার।
(xi) নিম্নলিখিত বস্তু বা উপকরণগুলিকে অস্বচ্ছ, স্বচ্ছ, ঈষৎ স্বচ্ছ, দীপ্তিমান বা দীপ্তিহীন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করো: আয়না, কাঠের টুকরো, কুয়াশাচ্ছন্ন কাঁচ, পাথরের টুকরো, সূর্য, চাঁদ, টিউবলাইট, একটি সি ডি, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত, জোনাকি পোকা।
উত্তর:
- আয়না: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- কাঠের টুকরো: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- কুয়াশাচ্ছন্ন কাঁচ: ঈষৎ স্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- পাথরের টুকরো: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- সূর্য: অস্বচ্ছ (বাস্তবে গ্যাসীয় হলেও এর ভেতর দিয়ে দেখা যায় না) এবং দীপ্তিমান বস্তু।
- চাঁদ: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু (সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে)।
- টিউবলাইট: অস্বচ্ছ/ঈষৎ স্বচ্ছ এবং দীপ্তিমান বস্তু (যখন জ্বালানো থাকে)।
- একটি সি ডি (CD): অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিহীন বস্তু।
- জোনাকি পোকা: অস্বচ্ছ এবং দীপ্তিমান বস্তু।
অন্বেষণমূলক প্রকল্প (Exploratory Projects)
অন্বেষণমূলক প্রকল্পের সমাধান
১. আমাদের দেশে সৌরশক্তির ব্যবহার ও বাড়িতে সৌরশক্তি ব্যবহারের উপায়
জরিপের ফলাফল (১০টি পরিবারের উপর):
- ৩টি পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
- ৫টি পরিবার সৌর লাইট ব্যবহার করে।
- ২টি পরিবার এখনও সৌরশক্তি ব্যবহার করে না।
বাড়িতে সৌরশক্তি ব্যবহারের জন্য করণীয়:
- বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসানো।
- সৌরচালিত LED আলো ব্যবহার করা।
- সৌরচালিত জল গরম করার যন্ত্র ব্যবহার করা।
- সৌরচালিত রাস্তার আলো ও বাগানের আলো ব্যবহার করা।
- সৌরশক্তির মাধ্যমে মোবাইল ও ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্র চার্জ করা।
উপসংহার:
সৌরশক্তি পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। তাই এর ব্যবহার বাড়ানো উচিত।
২. ছায়ার দৈর্ঘ্য পর্যবেক্ষণ
সময় ছায়ার দৈর্ঘ্য সকাল ৭টা ২.১ মিটার দুপুর ১২টা ০.৬ মিটার বিকেল ৪টা ১.৮ মিটার
উপসংহার:
সকালে ও বিকেলে সূর্য নিচু অবস্থানে থাকায় ছায়া বড় হয়। দুপুরে সূর্য মাথার কাছাকাছি থাকায় ছায়া সবচেয়ে ছোট হয়।
৩. দুটি সমতল দর্পণের প্রতিচ্ছবি পর্যবেক্ষণ
পর্যবেক্ষণ:
- দুটি সমতল দর্পণ কোণে রাখলে একটি বস্তুর একাধিক প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।
- দর্পণের মধ্যবর্তী কোণ যত কম হয়, প্রতিচ্ছবির সংখ্যা তত বেশি হয়।
- কোণ বাড়ালে প্রতিচ্ছবির সংখ্যা কমে যায়।
মতামত:
দুটি সমতল দর্পণের কোণের উপর প্রতিচ্ছবির সংখ্যা নির্ভর করে।

৫. আলো কি পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে?
উত্তর:
হ্যাঁ, অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কৃত্রিম আলো আলোক দূষণ সৃষ্টি করে।
আলোক দূষণের ক্ষতি:
- রাতের আকাশে তারা দেখা যায় না।
- মানুষ ও প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- বিদ্যুতের অপচয় হয়।
- মানুষের ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
আলোক দূষণ কমানোর উপায়:
- অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা।
- কম শক্তি খরচের LED আলো ব্যবহার করা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী আলো জ্বালানো।
- বাইরের আলোর সঠিক দিক নির্ধারণ করা।
উপসংহার:
প্রয়োজনমতো আলো ব্যবহার করলে আলোক দূষণ কমানো যায় এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।
