অধ্যায়: পৃথিবীর ভূগোল
১। পৃথিবীর স্থলভাগ আর জলভাগ বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ২৯% হলো স্থলভাগ এবং প্রায় ৭১% হলো জলভাগ। স্থলভাগ সাতটি মহাদেশ নিয়ে গঠিত— এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা। জলভাগ প্রধানত পাঁচটি মহাসাগর নিয়ে গঠিত— প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত, উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর।
২। মহাদেশীয় সঞ্চরণ সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর অবস্থা আদিতে কেমন ছিল?
উত্তর:
মহাদেশীয় সঞ্চরণ সূত্র অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রে ছিল। এই বিশাল স্থলভাগের নাম ছিল ‘প্যাঞ্জিয়া’ (Pangaea) এবং চারদিকে ছিল বিশাল জলভাগ ‘প্যানথালাসা’ (Panthalassa)। পরে প্যাঞ্জিয়া ভেঙে লরেশিয়া ও গন্ডোয়ানাল্যান্ডে বিভক্ত হয় এবং ক্রমে বর্তমান মহাদেশগুলোর সৃষ্টি হয়।
৩। মহাসাগরের তলদেশের ভূ-অবয়ব সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
মহাসাগরের তলদেশ সমতল নয়; সেখানে বিভিন্ন ধরনের ভূ-অবয়ব দেখা যায়। উপকূলের কাছাকাছি অগভীর অংশকে মহীসোপান বলা হয়। এর পরে গভীর ঢালু অংশ হলো মহীঢাল। আরও গভীরে গভীর সমুদ্র সমভূমি, সামুদ্রিক গিরিখাত, সামুদ্রিক শৈলশিরা ও গভীর সমুদ্র খাদ দেখা যায়। পৃথিবীর গভীরতম খাদ হলো মারিয়ানা খাদ, যার গভীরতা প্রায় ১১,০২২ মিটার।
৪। মহাসাগর এবং মহাদেশগুলোর বিতরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ ও পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। এশিয়া সবচেয়ে বড় মহাদেশ এবং ওশেনিয়া সবচেয়ে ছোট। প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড় মহাসাগর এবং উত্তর মহাসাগর সবচেয়ে ছোট। পৃথিবীর অধিকাংশ স্থলভাগ উত্তর গোলার্ধে এবং অধিকাংশ জলভাগ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
৫। পৃথিবীর স্থলভাগের উপর বিস্তৃত ভূ-অবয়বগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
পৃথিবীর স্থলভাগে বিভিন্ন ধরনের ভূ-অবয়ব দেখা যায়। প্রধান ভূ-অবয়ব হলো পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি। এছাড়া উপত্যকা, মরুভূমি, নদী অববাহিকা, দ্বীপ ইত্যাদিও স্থলভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-অবয়ব। এই ভূ-অবয়বগুলোর অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।
৬। এশিয়া মহাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:
এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ। এটি প্রধানত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এশিয়ার উত্তরে উত্তর মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এশিয়াতেই অবস্থিত। এছাড়া হিমালয়, কারাকোরাম, কুনলুন প্রভৃতি বিখ্যাত পর্বতমালা এখানে রয়েছে। এশিয়ায় বিস্তীর্ণ সমভূমি, মরুভূমি ও মালভূমি দেখা যায়। গোবি ও আরব মরুভূমি এবং তিব্বত মালভূমি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইয়াংসি, হোয়াংহো, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু প্রভৃতি বড় বড় নদী এশিয়ায় প্রবাহিত হয়েছে। জলবায়ু ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকেও এশিয়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
৭। কারণ দর্শিয়ে উত্তর লেখো।
(ক) পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করছে কেন?
উত্তর:
পৃথিবীর অধিকাংশ স্থলভাগ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এখানে জলবায়ু তুলনামূলকভাবে অনুকূল, উর্বর সমভূমি ও নদী অববাহিকা বেশি এবং কৃষি, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। ফলে মানুষের বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের সুবিধা বেশি হওয়ায় পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করে।
(খ) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে মানুষের স্থায়ী বসতি নেই কেন?
উত্তর:
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে সারা বছর অত্যন্ত শীতল জলবায়ু বিরাজ করে এবং অধিকাংশ অঞ্চল বরফে আচ্ছাদিত থাকে। সেখানে কৃষিকাজ, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ নেই। খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব থাকায় মানুষ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে না।
৮। নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষেপে উত্তর লেখো।
(ক) এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যকার প্রাকৃতিক সীমা কোনে সৃষ্টি করেছে?
উত্তর:
ইউরাল পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান সাগর, ককেশাস পর্বতমালা ও কৃষ্ণসাগর এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের প্রাকৃতিক সীমা সৃষ্টি করেছে।
(খ) পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা কোনটি এবং কোথায় অবস্থিত?
উত্তর:
পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আন্দিজ পর্বতমালা। এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল বরাবর অবস্থিত।
(গ) আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম আর ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম লেখো।
উত্তর:
আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ হলো এশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ হলো ওশেনিয়া।
(ঘ) পৃথিবীর কোন দেশ, কোন দুটি মহাদেশে বিস্তৃত?
উত্তর:
রাশিয়া দেশটি ইউরোপ ও এশিয়া— এই দুটি মহাদেশে বিস্তৃত।
(ঙ) আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্রতম দেশের নাম বলো।
উত্তর:
আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ হলো রাশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি।
(চ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রধান পর্বতশ্রেণির নাম কী? তা মহাদেশের কোন অংশে অবস্থিত?
উত্তর:
উত্তর আমেরিকার প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো রকি পর্বতমালা। এটি মহাদেশের পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
(ছ) পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি এবং তা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর:
পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হলো সাহারা মরুভূমি। এটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
৯। সংক্ষেপে টীকা লেখো।
(ক) প্যাঞ্জিয়া
উত্তর:
মহাদেশীয় সঞ্চরণ সূত্র অনুযায়ী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রে যুক্ত ছিল। এই বিশাল একক স্থলভাগকে প্যাঞ্জিয়া বলা হয়। পরে এটি ভেঙে লরেশিয়া ও গন্ডোয়ানাল্যান্ডে বিভক্ত হয় এবং বর্তমান মহাদেশগুলোর সৃষ্টি হয়।
(খ) উত্তর মহাসাগর
উত্তর:
উত্তর মহাসাগর পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর। এটি উত্তর মেরুকে ঘিরে অবস্থিত এবং এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ দ্বারা বেষ্টিত। বছরের অধিকাংশ সময় এই মহাসাগর বরফে ঢাকা থাকে।
(গ) ওশেনিয়া মহাদেশ
উত্তর:
ওশেনিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। এটি অস্ট্রেলিয়া ও বহু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে এর অবস্থান।
(ঘ) এশিয়া মহাদেশের নদনদী
উত্তর:
এশিয়া মহাদেশে বহু বৃহৎ নদনদী প্রবাহিত হয়েছে। প্রধান নদীগুলোর মধ্যে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, হোয়াংহো, মেকং প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই নদীগুলো কৃষি, পরিবহন ও মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ঙ) আফ্রিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ
উত্তর:
আফ্রিকা মহাদেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ হ্রদ রয়েছে। ভিক্টোরিয়া, টাঙ্গানিকা, নিয়াসা ও চাদ হ্রদ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম হ্রদ। এই হ্রদগুলো মৎস্যচাষ, পরিবহন ও জলসম্পদের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
(চ) ইউরোপ মহাদেশের নদনদী
উত্তর:
ইউরোপে বহু গুরুত্বপূর্ণ নদী রয়েছে। ভলগা, ড্যানিউব, রাইন, সিন ও এলবে উল্লেখযোগ্য নদী। ভলগা ইউরোপের দীর্ঘতম নদী। এই নদীগুলো বাণিজ্য, পরিবহন ও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ছ) অ্যাংলোস্যাক্সন উচ্চভূমি অঞ্চল
উত্তর:
অ্যাংলোস্যাক্সন উচ্চভূমি অঞ্চল মূলত উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত একটি প্রাচীন উচ্চভূমি অঞ্চল। এটি প্রধানত ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অংশ নিয়ে গঠিত। এখানে প্রাচীন কঠিন শিলার আধিক্য দেখা যায়।
(জ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ
উত্তর:
উত্তর আমেরিকায় বহু বৃহৎ হ্রদ রয়েছে। সুপিরিয়র, মিশিগান, হিউরন, এরি ও অন্টারিও— এই পাঁচটি হ্রদ একত্রে গ্রেট লেকস নামে পরিচিত। এগুলো পৃথিবীর বৃহত্তম মিঠা জলের হ্রদসমূহের মধ্যে অন্যতম।
১০। পার্থক্য লেখো।
(ক) মহীসোপান এবং মহীঢাল
উত্তর:
১। মহীসোপান
১) উপকূলের নিকটবর্তী অগভীর সমুদ্রতলকে মহীসোপান বলে।
২) এর গভীরতা সাধারণত প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত।
৩) এটি তুলনামূলকভাবে সমতল।
২। মহীঢাল
১) মহীসোপানের পরবর্তী ঢালু গভীর অংশকে মহীঢাল বলে।
২) এর গভীরতা প্রায় ২০০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
৩) এটি অধিক ঢালযুক্ত ও গভীর।
—
(খ) এভারেস্ট শৃঙ্গ এবং গডউইন অস্টিন শৃঙ্গ
উত্তর:
১। এভারেস্ট শৃঙ্গ
১) পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
২) উচ্চতা প্রায় ৮,৮৪৮ মিটার।
৩) হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত।
২। গডউইন অস্টিন শৃঙ্গ (K2)
১) পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।
২) উচ্চতা প্রায় ৮,৬১১ মিটার।
৩) কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত।
—
(গ) ওশেনিয়া মহাদেশ এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
উত্তর:
১। ওশেনিয়া মহাদেশ
১) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
২) এটি অস্ট্রেলিয়া ও বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
৩) এখানে মানুষের স্থায়ী বসবাস রয়েছে।
২। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
১) পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ।
২) অধিকাংশ অঞ্চল বরফে আবৃত।
৩) এখানে মানুষের স্থায়ী বসতি নেই।
—
(ঘ) গোবি মরুভূমি এবং আটাকামা মরুভূমি
উত্তর:
১। গোবি মরুভূমি
১) এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
২) এটি মঙ্গোলিয়া ও চীনের অংশজুড়ে বিস্তৃত।
৩) এটি শীতল মরুভূমি হিসেবে পরিচিত।
২। আটাকামা মরুভূমি
১) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
২) এটি প্রধানত চিলিতে অবস্থিত।
৩) এটি পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক মরুভূমি।
১১। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে নাও।
(ক) পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
উত্তর: (৩) আটলান্টিক মহাসাগর
(খ) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
উত্তর: (৪) ওশেনিয়া মহাদেশ
(গ) ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
উত্তর: (১) আটলান্টিক মহাসাগর
(ঘ) এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশকে কোন সাগর পৃথক করেছে?
উত্তর: (২) লোহিত সাগর
(ঙ) এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে প্রাকৃতিকভাবে কে পৃথক করেছে?
উত্তর: (১) ইউরাল পর্বতমালা
(চ) ইকুয়েডর কোন মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তর: (২) দক্ষিণ আমেরিকা
(ছ) ব্রাজিলের রাজধানী কী?
উত্তর: (৩) ব্রাসিলিয়া
