অধ্যায় ৩: প্রকৃতিলব্ধ আম্লিক, ক্ষারকীয় এবং প্রশম দ্রব্য | অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 6 Science Bengali
অনুশীলনী (Questions and Answers)
১. শুদ্ধ উত্তরের গোলটি সম্পূর্ণ করে পূর্ণ করো-
i. তুমি একটি লাল লিটমাস কাগজ একটি দ্রবণে ডুবিয়ে দিলে এবং এটি নীল হয়ে গেল। নীচের কোন্ দ্রবণ এটিকে আবার লাল রঙে পরিবর্তিত করবে?
(a) বেকিং সোডা
(b) ভিনিগার
(c) চুনের জল
(d) সাবান জল
উত্তর: (b) ভিনিগার
ii. বিভিন্ন ধরনের সূচকের সাহায্যে 3 ধরনের দ্রবণ পরীক্ষা করা হলো। ‘A’ লাল লিট্রাসকে নীল রঙে পরিবর্তিত করে, ‘B’ হলুদের দ্রবণকে লাল রঙে পরিবর্তন করে এবং ‘C’ লাল গোলাপের আরককে সবুজ রঙে পরিবর্তিত করে। নীচের কোন্টি শুদ্ধ করে মিলানো হয়েছে?
(a) A- আম্লিক, B- আম্লিক, C- আম্লিক
(b) A- ক্ষারকীয়, B- ক্ষারকীয়, C- আম্লিক
(c) A- ক্ষারকীয়, B- ক্ষারকীয়, C- ক্ষারকীয়
(d) A- প্রশম, B- ক্ষারকীয়, C- ক্ষারকীয়
উত্তর: (c) A- ক্ষারকীয়, B- ক্ষারকীয়, C- ক্ষারকীয় (কারণ তিনটি সূচকের এই পরিবর্তনগুলো কেবল ক্ষারকীয় মাধ্যমেই ঘটে)।
iii. নীচের কোন্ প্রাকৃতিক সূচক ক্ষারকীয় দ্রবণে সবুজ হবে?
(a) লাল গোলাপের আরক
(b) হলুদ
(c) বেগুনি বাঁধাকপি
(d) লিটমাস কাগজ
উত্তর: (a) লাল গোলাপের আরক
iv. একজন কৃষক দেখল যে চাষের মাটি অধিক আম্লিক হওয়ার জন্য শস্যের বৃদ্ধি ভালো হয়নি। মাটি প্রশমিত করার জন্য নীচের কোন্ পদার্থ মাটির সাথে মিশাতে হবে?
(a) ভিনিগার
(b) চুন
(c) সাধারণ লবণ
(d) লেবুর রস
উত্তর: (b) চুন (চুন একটি ক্ষারক যা মাটির অতিরিক্ত অম্লকে প্রশমিত করে)।
২. রিয়াকে একটি লাল পিঁপড়া কামড়াল এবং তার ঠাকুরদা জল মিশিয়ে বেকিং সোডা লাগিয়ে দিলেন। এটির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লাল পিঁপড়া বা মৌমাছি দংশন করলে তারা আমাদের চর্মে ফরমিক অ্যাসিড (Formic acid) বা মিথানয়িক অ্যাসিড ঢুকিয়ে দেয়। এই অ্যাসিডের কারণে দংশন করা স্থানে ব্যথা, জ্বালা ও ফোলাভাবের সৃষ্টি হয়। যেহেতু পিঁপড়ার দংশন আম্লিক, তাই বেকিং সোডার মতো একটি মৃদু ক্ষারক লাগালে তা অম্লকে প্রশমিত (Neutralise) করে এবং জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে উপশম দেয়।
৩. সূচক এবং তার রং মিলাও।

৪. রবিকে হলুদের প্রলেপ লাগানো কাগজ এবং বর্ণহীন তরল সাবান জল দেওয়া হলো। দ্রবণটির প্রকৃতি শনাক্ত করার জন্য সে হলুদ কাগজটির কী পর্যবেক্ষণ করবে?
উত্তর: সাবান জল হলো একটি ক্ষারকীয় (Basic) পদার্থ। রবি যখন বর্ণহীন তরল সাবান জল হলুদ কাগজটির ওপর ফেলবে, তখন সে পর্যবেক্ষণ করবে যে হলুদ কাগজের রঙ পরিবর্তিত হয়ে লাল হয়ে গেছে। কারণ, হলুদ হলো এমন একটি প্রাকৃতিক সূচক যা ক্ষারকীয় দ্রবণের সংস্পর্শে এলে লাল রঙ ধারণ করে।
৫. তুমি তোমার একজন বন্ধুকে গোপনবার্তা দিয়ে আশ্চর্যান্বিত করতে চাও। বার্তাটি কেবল একটি বিশেষ দ্রব্য ছিটালে দেখতে পাওয়া যায়। কোন্ ধরনের প্রাকৃতিক দ্রব্য বার্তাটি লিখতে ব্যবহার করবে? কোন্ ধরনের বিশেষ প্রাকৃতিক সূচক ছিটালে বার্তাটি প্রকাশ পাবে? এই বিষয়টি নিয়ে একটি আনন্দদায়ক প্রকল্প প্রস্তুত করো।
উত্তর:
- গোপন বার্তাটি লিখতে আমি প্রাকৃতিক সূচক হিসেবে ‘হলুদের লেই বা দ্রবণ’ ব্যবহার করব। একটি সাদা কাগজে হলুদের লেই দিয়ে বার্তাটি লিখে কাগজটি ভালোভাবে শুকিয়ে নেব।
- বার্তাটি প্রকাশ করার জন্য আমি ‘সাবান জল’ (যা একটি ক্ষারকীয় দ্রবণ) ছিটিয়ে দেব।
- প্রকল্পের ধারণা: বন্ধুকে শুকিয়ে যাওয়া হলুদ কাগজটি দিলে সে কিছুই বুঝতে পারবে না। কিন্তু যখনই সে একটি ড্রপার বা তুলো দিয়ে সাবান জল কাগজটির ওপর ছড়াবে, তখন হলুদের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ার ফলে গোপন লেখাগুলো লালচে-বাদামি রঙে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠবে।
৬. একটি দ্রবণ নীল অপরাজিতা আরককে সবুজ রঙে পরিবর্তন করে। দ্রবণটির প্রকৃতি কী হবে? তাতে চালতার রস বা ভিনিগার যোগ করলে কী পরিবর্তন হবে?
উত্তর: নীল অপরাজিতা ফুলের আরক ক্ষারকীয় দ্রবণে সবুজ রঙ ধারণ করে। সুতরাং, দ্রবণটির প্রকৃতি হলো ক্ষারকীয়। তাতে চালতার রস বা ভিনিগার যোগ করলে, যেহেতু এগুলো আম্লিক (Acidic) পদার্থ, তাই তারা ক্ষারকীয় দ্রবণটিকে প্রশমিত করতে শুরু করবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ অম্ল যোগ করার ফলে দ্রবণটি আম্লিক হয়ে পড়লে, নীল অপরাজিতা আরকটির রঙ সবুজ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গোলাপি রঙ ধারণ করবে।
৭. নীচের তালিকাটি পূর্ণ করো-

৮. লাল গোলাপের আরকের সাথে আঙুরের রস মিশানোর পর দ্রবণটির রং লালচে হয়। এই দ্রবণে যদি বেকিং সোডা মিশানো হয় তাহলে রং কী হবে? কারণ দেখাও।
উত্তর: এই দ্রবণে বেকিং সোডা মেশালে দ্রবণটির রঙ পরিবর্তিত হয়ে সবুজ হবে।
কারণ: আঙুরের রস হলো আম্লিক, তাই লাল গোলাপের আরক তাতে লালচে রঙ দেখায়। বেকিং সোডা হলো একটি ক্ষারক। আঙুরের রসের দ্রবণে বেকিং সোডা মেশালে তা অম্লকে প্রশমিত করবে এবং অতিরিক্ত বেকিং সোডার কারণে দ্রবণটি ক্ষারকীয় হয়ে যাবে। লাল গোলাপের আরক ক্ষারকীয় মাধ্যমে সবুজ রঙ ধারণ করে।
৯. নীচের কোন্ দ্রব্যটি হলুদ লাগানো কাগজে অদৃশ্য গোপন বার্তা লেখার জন্য ব্যবহার করা হয়? কেন ব্যবহার করা হয় ব্যাখ্যা করো।
(a) লেবুর রস
(b) সাবান জল
(d) ভিনিগার
উত্তর: (b) সাবান জল
ব্যাখ্যা: হলুদ একটি প্রাকৃতিক সূচক, যা কেবল ক্ষারকীয় দ্রবণের সংস্পর্শে এলে হলুদ থেকে লাল রঙে পরিবর্তিত হয়। এখানে সাবান জল হলো ক্ষারকীয় প্রকৃতির। তাই হলুদ লাগানো কাগজে সাবান জল দিয়ে লিখলে লেখাটি লাল রঙের হয়ে ফুটে উঠবে। অন্যদিকে, লেবুর রস ও ভিনিগার আম্লিক হওয়ায় হলুদের রঙের কোনো পরিবর্তন করবে না।
১০. তোমার হাতে হলুদ লাগানো কাগজ এবং তিন ধরনের দ্রব্য আছে। কোন দ্রব্যগুলো বর্ণের পরিবর্তন দেখায় না? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
(a) চিনির জল
(b) লেবুর রস
(c) বেকিং সোডা
উত্তর: (a) চিনির জল এবং (b) লেবুর রস – এই দ্রব্যগুলো হলুদ লাগানো কাগজের বর্ণের কোনো পরিবর্তন দেখায় না।
যুক্তি: হলুদ কাগজের পট্টি কেবল ক্ষারকীয় পদার্থের সূচক হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি ক্ষারের উপস্থিতিতে লাল রঙ ধারণ করে। এখানে লেবুর রস হলো আম্লিক (Acidic) এবং চিনির জল হলো প্রশম (Neutral) পদার্থ। তাই এরা হলুদের রঙের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না, কাগজটি হলুদই থেকে যায়।
১১. তুমি ঘরে প্রাকৃতিক সূচক প্রস্তুত করতে চাও। এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারা একটি ফুল বা ফল বা মশলার নাম লেখো। সূচকটি কীভাবে প্রস্তুত করবে এবং এটি অম্ল এবং ক্ষারের সাথে কীভাবে বিক্রিয়া করবে বর্ণনা করো।
উত্তর:
- মশলার নাম: হলুদ (Turmeric)।
- প্রস্তুত প্রণালী: একটি ছোট পাত্রে এক চামচ হলুদ গুঁড়ো নিয়ে তাতে সামান্য জল মিশিয়ে একটি গাঢ় লেই (paste) তৈরি করতে হবে। এরপর একটি সাদা কাগজ বা ফিল্টার পেপারের ওপর লেইটির প্রলেপ দিয়ে কাগজটিকে সম্পূর্ণরূপে শুকাতে দিতে হবে। শুকিয়ে যাওয়ার পর কাগজটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিলেই ‘হলুদ কাগজের পট্টি’ বা সূচক প্রস্তুত হয়ে যাবে।
- বিক্রিয়া: হলুদ সূচকটি আম্লিক দ্রবণের (যেমন লেবুর রস) এবং প্রশম দ্রবণের সংস্পর্শে এলে এর রঙের কোনো পরিবর্তন হয় না (হলুদই থাকে)। কিন্তু ক্ষারকীয় দ্রবণের (যেমন সাবান জল বা বেকিং সোডা) সংস্পর্শে এলে এটি লাল রঙে পরিবর্তিত হয়।
১২. রিয়া একটি হলুদ কাগজের পট্টি একটি তরল পদার্থে ডুবিয়ে দেওয়াতে লাল হয়ে গেল। তখন সে অল্প ভিনিগার যোগ করল এবং হলুদ কাগজের পট্টিটি আবার হলুদ হয়ে গেল। প্রক্রিয়াটি কী?
উত্তর: এই প্রক্রিয়াটি হলো ‘প্রশমন বিক্রিয়া’ (Neutralisation)।
ব্যাখ্যা: হলুদ কাগজের পট্টি লাল হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো প্রথম তরল পদার্থটি ছিল ক্ষারকীয় (Base)। যখন এতে ভিনিগার যোগ করা হলো (যা একটি অম্ল বা Acid), তখন অম্লটি ক্ষারককে প্রশমিত করে দিল। ফলে দ্রবণটির ক্ষারকীয় গুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং হলুদ কাগজটি তার নিজস্ব স্বাভাবিক হলুদ রঙে ফিরে আসে।
১৩. নীচে দেওয়া পরিস্থিতিগুলো পর্যবেক্ষণ করো এবং শূন্যস্থান পূর্ণ করো-
রাহুল খেলতে গিয়ে মশলাযুক্ত খাদ্য খেয়েছিল এবং পরে সে পেটের অস্বস্তিতে ভুগছিল।
(a) তার পেটে অত্যধিক অম্ল (অ্যাসিড) উৎপন্ন হওয়ার জন্য এরকম হয়েছিল।
(b) পেটে অত্যধিক অম্ল উৎপন্ন হলে এসিডিটি (বা বদহজম) অবস্থার সৃষ্টি হয়।
(c) সুস্থবোধ করার জন্য রাহুলের মা মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া (অম্লনাশক/Antacid) নামের ঔষধ তাকে খেতে দিলেন।
(d) এই ঔষধ এক ধরনের ক্ষারক (অম্ল/ক্ষারক)।
(e) ক্ষার পেটের অতিরিক্ত অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে। এই প্রক্রিয়াটি হলো প্রশমন বিক্রিয়া।
(f) এটি লবণ এবং জল প্রস্তুত করে উপশমিত করে।

