অধ্যায় ২: বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক বর্তনী এবং সেগুলোর উপাংশসমূহ, Class 7, chapter 2

অধ্যায় ২: বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক বর্তনী এবং সেগুলোর উপাংশসমূহ | অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর | Class 7 Science Bengali Medium

এই পাতায় অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক বর্তনীর মৌলিক ধারণা, বাস্তব জীবনের উদাহরণ এবং নিরাপদে শেখার কয়েকটি উপায় দেওয়া হয়েছে। উত্তর মুখস্থ করার আগে প্রতিটি উপাংশের কাজ এবং বর্তনী সম্পূর্ণ হলে কীভাবে প্রবাহের পথ তৈরি হয়, তা বোঝার চেষ্টা করো।

একটি বর্তনী কীভাবে কাজ করে?

একটি সাধারণ বর্তনীতে শক্তির উৎস, পরিবাহী তার এবং একটি বৈদ্যুতিক উপাংশ—যেমন ছোট বাল্ব—থাকে। সুইচ বন্ধ করলে প্রবাহের জন্য একটি সম্পূর্ণ পথ তৈরি হয় এবং উপাংশটি কাজ করতে পারে। সুইচ খোলা থাকলে পথটি বিচ্ছিন্ন হয়, তাই সাধারণ বর্তনীতে বাল্ব জ্বলে না।

নিজে পর্যবেক্ষণ করো

  1. একটি ছোট ব্যাটারি-চালিত শিক্ষামূলক সার্কিট ব্যবহার করে বাল্ব বা LED-এর সংযোগ পর্যবেক্ষণ করো।
  2. সুইচের অবস্থান বদলে দেখো কখন আলো জ্বলে এবং কখন নিভে যায়।
  3. একটি ধাতব ও একটি প্লাস্টিকের বস্তু দিয়ে একই পরীক্ষায় পরিবাহিতার পার্থক্য লক্ষ্য করো।

নিরাপত্তা: এই পরীক্ষা কেবল ছোট ব্যাটারি দিয়ে করো। বাড়ির বৈদ্যুতিক সকেট, খোলা তার বা মেইনস বিদ্যুৎ নিয়ে পরীক্ষা করো না।

বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক বর্তনী: সহজ ধারণা

Class 7-এর এই অধ্যায়ে আমরা বৈদ্যুতিক বর্তনী, ব্যাটারি, তার, সুইচ এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্র কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে তা বুঝব। শুধু উত্তর মুখস্থ না করে বর্তনীর প্রতিটি উপাংশের কাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার বোঝাই এই অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য।

  • কোষ/ব্যাটারি: বৈদ্যুতিক শক্তির উৎস।
  • তার: বৈদ্যুতিক প্রবাহের পথ তৈরি করে।
  • সুইচ: বর্তনী খোলা বা বন্ধ করতে সাহায্য করে।
  • বাল্ব: বৈদ্যুতিক শক্তিকে আলোতে রূপান্তর করে।

সম্পর্কিত অধ্যায়: আলো সম্পর্কে ধারণা আরও পরিষ্কার করতে আমাদের ছায়া ও প্রতিফলন অধ্যায়টিও পড়তে পারো।

অনুশীলনী

১. শুদ্ধ উত্তরের গোলটি গাঢ় রঙে পূর্ণ করো- (i) নীচের কোন্টির মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে? (ক) দেশলাই কাঠি (খ) প্লাস্টিকের চিরুনি (গ) ইরেজার বা রাবার (ঘ) লোহার পেরেক

উত্তর: (ঘ) লোহার পেরেক

(ii) একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বা সম্পূর্ণ করতে ব্যবহার করা সরঞ্জামটির নাম কী? (ক) পরিবাহী (খ) সুইচ্ (গ) প্রবাহ (ঘ) মেরু

উত্তর: (খ) সুইচ্

(iii) নীচের কোনটি অপরিবাহী? (ক) তামা (খ) পারদ (গ) কাঁচ (ঘ) সোনা

উত্তর: (গ) কাঁচ

(iv) বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরি করতে কোন্ ধাতু ব্যবহার করা হয়? (ক) সীসা (খ) সোনা (গ) তামা (ঘ) টাংস্টেন

উত্তর: (ঘ) টাংস্টেন

(v) বৈদ্যুতিক বর্তনীর সুইচ্ ‘অফ্’ অবস্থায় থাকলে বর্তনীটির নাম কী হবে? (ক) বন্ধ বর্তনী (খ) শর্ট সার্কিট (গ) মুক্ত বর্তনী (ঘ) এগুলির একটিও নয়

উত্তর: (গ) মুক্ত বর্তনী

(vi) বৈদ্যুতিক বর্তনীর সুইচ্ ‘অন’ অবস্থায় থাকলে বর্তনীটির নাম কী হবে? (ক) শর্ট সার্কিট (খ) বন্ধ বর্তনী (গ) মুক্ত বর্তনী (ঘ) এগুলির একটিও নয়

উত্তর: (খ) বন্ধ বর্তনী

২. শূন্যস্থান পূর্ণ করো-

(i) দুটি বা ততোধিক কোষের সমবায় বা সংযুতিকে ব্যাটারি বলা হয়।

(ii) আমাদের শরীর বিদ্যুতের পরিবাহী।

(iii) একটি বিদ্যুৎ কোষে দুটি (২) টি টার্মিনাল বা প্রান্ত থাকে।

(iv) বিদ্যুৎ কেবল বন্ধ বর্তনীতেই প্রবাহিত হয়।

(v) যে সব পদার্থ তাদের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় তাদেরকে পরিবাহী বলে।

(vi) যে সব পদার্থ তাদের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় না তাদেরকে অপরিবাহী বলে।

(vii) একটি বাল্বের মাঝে জ্বলজ্বল করে আলো দেওয়া পাতলা তারটিকে ফিলামেন্ট বলে।

(viii) বৈদ্যুতিক বর্তনী হলো একটি পথ যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

(ix) টেস্টার (বা পরিবাহিতা টেস্টার) হলো একটি পদার্থ পরিবাহী না অপরিবাহী তা নির্ধারণ করার যন্ত্র।

৩. নীচের উক্তিগুলি সত্য না মিথ্যা লেখো-

(i) একটি বিদ্যুৎ কোষের ধাতুর টুপিটি হলো ধনাত্মক মেরু। -> সত্য

(ii) একটি বর্তনী চিত্রে বৈদ্যুতিক উপাংশের জন্য আদর্শ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। -> সত্য

(iii) ব্যাটারির সমষ্টিকে কোষ বলা হয়। -> মিথ্যা (সঠিক: কোষের সমষ্টিকে ব্যাটারি বলে)।

(iv) অপরিবাহী পদার্থ তার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। -> মিথ্যা

(v) একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে একটি টার্মিনাল বা প্রান্ত থাকে। -> মিথ্যা (সঠিক: দুটি টার্মিনাল থাকে)।

(vi) যে বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, সেই বর্তনীটিকে মুক্ত বর্তনী বলা হয়। -> সত্য

(vii) প্লাস্টিক বিদ্যুতের সুপরিবাহী। -> মিথ্যা

৪. নীচের বাক্যগুলো শুদ্ধ করে মিলিয়ে লেখো-

উত্তর:

  • (i) বিদ্যুৎ কোষ -> (খ) এক প্রকার সামগ্রী যা রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
  • (ii) একটি বৈদ্যুতিক সুইচ্ -> (ক) একটি সরল যন্ত্র যা বর্তনীটি সম্পূর্ণ করতে বা বিছিন্ন করতে ব্যবহার করা হয়।
  • (iii) বন্ধ বর্তনী -> (ঘ) একটি বর্তনী যেটিতে বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ সম্পূর্ণ বা বন্ধ।
  • (iv) ফিলামেন্ট -> (গ) আলো নির্গত করা বাল্বে থাকা পাতলা তার।

৫. চিত্র 2.21 (a & b) তে:

১১. তোমাদের ঘরে সুইচ্ মেরামতির সময় ইলেক্ট্রিশিয়ানরা রাবারের হাতমোজা কেন পরে?

উত্তর: আমাদের শরীর বিদ্যুতের পরিবাহী, কিন্তু রাবার বিদ্যুতের একটি অপরিবাহী পদার্থ। সুইচ্ মেরামতির সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করলে শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক আঘাত বা শকের সৃষ্টি করতে পারে। রাবারের হাতমোজা পরলে বিদ্যুৎ শরীরে প্রবেশ করতে পারে না, তাই ইলেক্ট্রিশিয়ানরা বৈদ্যুতিক শক থেকে সুরক্ষিত থাকেন।

১২. বিদ্যুৎ উপকারী হওয়া সত্যেও এটি বিপদজনক হতে পারে, কীভাবে? এই বিষয়ে একটি দলগত আলোচনা করো।

উত্তর: বিদ্যুৎ আমাদের জীবনে অনেক কাজ সহজ করে দিলেও এর অসতর্ক ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

  • যেহেতু আমাদের শরীর বিদ্যুতের পরিবাহী, তাই কোনো কারণে শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক লাগতে পারে, যা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
  • ভেজা হাতে সুইচ বা প্লাগ ছুঁলে, অথবা আবরণ নষ্ট হওয়া তার ব্যবহার করলে বিপদ ঘটতে পারে।
  • বহনযোগ্য জেনারেটর থেকে উৎপন্ন হওয়া বিদ্যুৎও একইভাবে বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সবসময় সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

অন্বেষণমূলক প্রকল্প (Exploratory Projects)



২. বিদ্যুৎ তিন দিনের জন্য না থাকলে তোমার সম্মুখীন হওয়া পাঁচটি সমস্যা লিখো।

১. রাতে আলো না থাকায় পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ ব্যাহত হবে।
২. মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ করা যাবে না।
৩. ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৪. পানির মোটর না চলায় জল সরবরাহে সমস্যা হবে।
৫. পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র না চলায় গরমে অসুবিধা হবে।


—

৩. বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের কোষ (Cell) ও তাদের ব্যবহার সম্পর্কে প্রতিবেদন

প্রতিবেদন

আমি আমাদের এলাকার একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে বিভিন্ন ধরনের কোষ দেখতে পাই।

ড্রাই সেল (AA, AAA): রিমোট, ঘড়ি, খেলনা, টর্চে ব্যবহৃত হয়।

৯ ভোল্ট ব্যাটারি: স্মোক ডিটেক্টর, মাল্টিমিটার ও ইলেকট্রনিক সার্কিটে ব্যবহৃত হয়।

বোতাম কোষ (Button Cell): হাতঘড়ি, ক্যালকুলেটর ও ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

লিথিয়াম-আয়ন রিচার্জেবল ব্যাটারি: মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ক্যামেরায় ব্যবহৃত হয়।

লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি: ইনভার্টার, মোটরসাইকেল ও গাড়িতে ব্যবহৃত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *