পাঠ–১৩ : ভারতের রাজ্য প্রশাসন ব্যবস্থা, Class 7, Chapter 13, SEBA new textbook

অধ্যায়ের নাম: পাঠ–১৩ : ভারতের রাজ্য প্রশাসন ব্যবস্থা

অনুশীলনী–১

১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) রাজ্য প্রশাসন বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনসেবা পরিচালনা করে, তাকে রাজ্য প্রশাসন বলে।


(খ) একটি রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ-কর্ম কে পরিচালনা করেন?

উত্তর:
রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ এবং বিভিন্ন বিভাগের আমলা-কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে একটি রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন।


২। ভারতে গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:
রাজ্য প্রশাসন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান ভূমিকা হলো—

  • রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
  • জনগণের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ইত্যাদি জনসেবা প্রদান।
  • আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করা।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাস্তা, সেতু, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
  • জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।
  • কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা।

৩। নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান সহজ করার জন্য রাজ্য প্রশাসন প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের জনসেবার উদাহরণ দাও।

উত্তর:

১. সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
২. সরকারি বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা।
৩. পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা।
৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৫. দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা।
৬. রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
৭. বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা।


অনুশীলনী–২

১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) রাজ্য কার্যপালিকা বলতে কাকে বোঝায়?

উত্তর:
রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁদের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীপরিষদকে একত্রে রাজ্য কার্যপালিকা বলা হয়।


(খ) রাজ্যপাল হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে?

উত্তর:
১. ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
২. ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স হতে হবে।


(গ) রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কে নিয়োগ দেন?

উত্তর:
রাজ্যপাল নিয়োগ দেন।


(ঘ) রাজ্য বিধানসভায় গৃহীত বিল কখন আইনে পরিণত হয়?

উত্তর:
রাজ্যপালের স্বাক্ষর (সম্মতি) পাওয়ার পর রাজ্য বিধানসভায় গৃহীত বিল আইনে পরিণত হয়।


(ঙ) রাজ্যের নিম্ন ও উচ্চ কক্ষ দুটি কী কী?

উত্তর:
১. নিম্নকক্ষ — বিধানসভা
২. উচ্চকক্ষ — বিধান পরিষদ


(চ) বিধানসভার সদস্যদের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সংখ্যাগত সীমা কত হতে হয়?

উত্তর:
সর্বনিম্ন ৬০ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০০ জন


(ছ) উচ্চ ন্যায়ালয়ের বিচারপতিদের কে নিয়োগ দেন?

উত্তর:
ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।


(জ) ভারতে বর্তমানে কয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আছে?

উত্তর:
৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে।


২। রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।

উত্তর:
রাজ্যপালের প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি হলো—

  • তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।
  • মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন।
  • বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান, মুলতবি ও ভেঙে দিতে পারেন।
  • বিধানসভায় গৃহীত বিলে সম্মতি প্রদান করেন।
  • প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন।
  • বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগ করেন।

৩। মুখ্যমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন? মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:
মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল নিয়োগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি—

  • তিনি রাজ্য সরকারের প্রকৃত প্রধান।
  • মন্ত্রীপরিষদের নেতৃত্ব দেন।
  • রাজ্যের নীতি ও প্রশাসন পরিচালনা করেন।
  • রাজ্যপালকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।
  • বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় সাধন করেন।
  • রাজ্যের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।

৪। প্রশাসন ব্যবস্থায় বিধানসভা ও বিধান পরিষদের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

বিধানসভার ভূমিকা—

  • আইন প্রণয়ন করে।
  • রাজ্যের বাজেট অনুমোদন করে।
  • সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।
  • অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।

বিধান পরিষদের ভূমিকা—

  • বিল পর্যালোচনা করে।
  • আইন প্রণয়নে পরামর্শ প্রদান করে।
  • বিধানসভাকে সহায়তা করে।

৫। অনাস্থা প্রস্তাব বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
বিধানসভার সদস্যরা যখন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীপরিষদের প্রতি আস্থা নেই বলে প্রস্তাব আনেন, তাকে অনাস্থা প্রস্তাব বলা হয়।


৬। রাজ্য প্রশাসনে বিধায়কের ভূমিকাগুলো আলোচনা করো।

উত্তর:
বিধায়কদের প্রধান ভূমিকা হলো—

  • আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করা।
  • জনগণের সমস্যা বিধানসভায় উত্থাপন করা।
  • সরকারের কাজের সমালোচনা ও পর্যালোচনা করা।
  • বাজেট নিয়ে আলোচনা করা।
  • উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।
  • জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা।

৭। বিরোধী দল বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
যে রাজনৈতিক দল বা দলসমূহ সরকার গঠন করতে পারে না এবং সরকারের কার্যকলাপের গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাকে বিরোধী দল বলা হয়।


৮। বিধান পরিষদ থাকা চারটি রাজ্যের নাম লেখো।

উত্তর:

১. অন্ধ্রপ্রদেশ
২. তেলেঙ্গানা
৩. কর্ণাটক
৪. মহারাষ্ট্র


৯। রাজ্য বিচারব্যবস্থার গঠন ও ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:
রাজ্য বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদালত হলো উচ্চ ন্যায়ালয় (High Court)। এর অধীনে জেলা আদালত এবং ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত রয়েছে। বিচারব্যবস্থা সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে বিচার করে, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে, আইন ব্যাখ্যা করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

অনুশীলনী–৩

১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) অসমের বিধানসভায় কয়টি কক্ষ আছে?

উত্তর:
অসমের বিধানসভায় একটি কক্ষ (এককক্ষবিশিষ্ট) আছে।


(খ) অসমের বিধানসভার মোট সদস্যের সংখ্যা কত?

উত্তর:
অসম বিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যা ১২৬ জন


(গ) অসম বিধানসভা ভবন কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:
অসম বিধানসভা ভবন দিসপুরে অবস্থিত।


(ঘ) অসমের সর্বোচ্চ বিচারালয় কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:
অসমের সর্বোচ্চ বিচারালয় গুয়াহাটি শহরে অবস্থিত।


(ঙ) গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয় অসমের বাইরে আর কোন কোন রাজ্যের উচ্চ ন্যায়ালয় হিসেবে কাজ করে?

উত্তর:
গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয় নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশের উচ্চ ন্যায়ালয় হিসেবেও কাজ করে।


(চ) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন কার্য কে দেখাশোনা করেন?

উত্তর:
ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত প্রশাসক (Administrator) বা উপরাজ্যপাল (Lieutenant Governor) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন পরিচালনা করেন।


২। অসমের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নামের তালিকা প্রস্তুত করো।

উত্তর:
অসমের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে রয়েছে—

১. ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)
২. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (INC)
৩. অসম গণ পরিষদ (AGP)
৪. অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (AIUDF)
৫. ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (UPPL)
৬. বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF)
৭. রাইজর দল (Raijor Dal)
৮. অসম জাতীয় পরিষদ (AJP)


অধ্যায

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *