ভারতে ভক্তিবাদ ও সামাজিক সমন্বয় – পাঠ ৯ | সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর | SCERT Assam Class 7 সমাজবিজ্ঞান
এই নিবন্ধে SCERT Assam Class 7 সমাজবিজ্ঞান-এর পাঠ ৯ – “ভারতে ভক্তিবাদ ও সামাজিক সমন্বয়” অধ্যায়ের সমস্ত অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর সহজ, নির্ভুল এবং পরীক্ষা-উপযোগী ভাষায় উপস্থাপন করা হলো।
অধ্যায়ের নাম: ভারতে ভক্তিবাদ ও সামাজিক সমন্বয়
অনুশীলনী – ১ (পৃষ্ঠা ৮৯)
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
(ক) প্রশ্ন: ভারতে নতুন ধর্মীয় চিন্তাধারার বাহক কে ছিলেন?
উত্তর: ভারতে নতুন ধর্মীয় চিন্তাধারার বাহক ছিলেন আধ্যাত্মিক গুরুগণ।
(খ) প্রশ্ন: সমন্বয়বাদ মানে কী?
উত্তর: বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মিলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন ভাবধারাকে সমন্বয়বাদ বলা হয়।
(গ) প্রশ্ন: ভক্তি শব্দের প্রথম উল্লেখ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: ভক্তি শব্দের প্রথম উল্লেখ উপনিষদে পাওয়া যায়।
(ঘ) প্রশ্ন: ভক্তিবাদের উত্থান প্রথম কোথায় ঘটেছিল?
উত্তর: খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শুরুতে বর্তমানের তামিলনাড়ু রাজ্যে ভক্তিবাদের উত্থান ঘটেছিল।
(ঙ) প্রশ্ন: বীরশৈব মতের অনুগামীদের কেন লিঙ্গায়েত বলা হতো?
উত্তর: বীরশৈব মতের অনুগামীরা শিবকে ইষ্টলিঙ্গ রূপে উপাসনা করতেন। তাই তাঁদের লিঙ্গায়েত বলা হতো।
২. প্রশ্ন: বৌদ্ধধর্ম ভারতের বাইরে কীভাবে সম্প্রসারিত হয়েছিল?
উত্তর: বৌদ্ধধর্ম ভারতে সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়লেও রাজাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে এই ধর্ম ভারত থেকে চীন, জাপান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়েছিল।
৩. প্রশ্ন: ভক্তি বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ‘ভক্তি’ শব্দটি সংস্কৃত ‘ভজ’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ পূজা করা বা আনুগত্য প্রকাশ করা। ভক্তি হলো এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে ভক্ত ভগবানের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করে গভীর প্রশান্তি লাভ করে।
৪. প্রশ্ন: উপনিষদে কোন ধারণাকে অদ্বৈতবাদ বলে অভিহিত করা হয়?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে, মানুষের নিজের মধ্যেই ভগবান বিদ্যমান এবং আত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উপনিষদে এই ধারণাকেই অদ্বৈতবাদ বলা হয়।
৫. সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
(ক) ভক্তিবাদ
উত্তর: খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি গভীর অনুরাগকে ভিত্তি করে মহাপুরুষগণ যে মতবাদের সৃষ্টি করেছিলেন, তাকে ভক্তিবাদ বলা হয়। কঠোর ধর্মীয় নিয়ম-নীতির পরিবর্তে ঈশ্বরের প্রতি আন্তরিক ভক্তি ও ভালোবাসাই ছিল এই মতবাদের মূল শিক্ষা।
(খ) শঙ্করাচার্য
উত্তর: শঙ্করাচার্য ছিলেন দক্ষিণ ভারতের একজন মহান আধ্যাত্মিক গুরু এবং অদ্বৈতবাদের প্রবক্তা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে কোনো ভেদ নেই। সৎ জ্ঞান ও সৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ মুক্তি লাভ করতে পারে বলে তিনি প্রচার করেছিলেন।
(গ) বীরশৈব
উত্তর: দ্বাদশ শতকের মধ্যভাগে কর্নাটকে বাসবন্নার নেতৃত্বে বীরশৈব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। তারা শিবের উপাসক ছিলেন এবং জাতিভেদ, সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি বিধবা বিবাহের প্রচলনে গুরুত্ব দেন।
অনুশীলনী – ২ (পৃষ্ঠা ৯৪)
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
(ক) প্রশ্ন: কার নেতৃত্বে খ্রিস্টীয় তেরো শতকে নব্য ভক্তিবাদের ধারা আরম্ভ হয়েছিল?
উত্তর: মহারাষ্ট্রে জ্ঞানেশ্বর (জ্ঞানদেব)-এর নেতৃত্বে খ্রিস্টীয় তেরো শতকে নব্য ভক্তিবাদের ধারা শুরু হয়েছিল।
(খ) প্রশ্ন: মীরাবাই কে ছিলেন?
উত্তর: মীরাবাই ছিলেন মেবারের রানার পত্নী এবং মধ্যযুগের নব্য ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম কৃষ্ণভক্ত সাধিকা। তিনি কৃষ্ণভক্তির জন্য বৈষয়িক সুখ-আনন্দ ত্যাগ করেছিলেন।
(গ) প্রশ্ন: উত্তর ভারতে নব্য ভক্তিবাদের মূল কে ছিলেন?
উত্তর: উত্তর ভারতে নব্য ভক্তিবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন রামানন্দ।
(ঘ) প্রশ্ন: দোহা কী?
উত্তর: সন্ত কবিরের রচিত হিন্দি ভাষার দুই লাইনের শিক্ষামূলক ভক্তিমূলক কবিতাগুলোকে দোহা বলা হয়।
(ঙ) প্রশ্ন: গীতগোবিন্দ কে রচনা করেছিলেন?
উত্তর: জয়দেব গীতগোবিন্দ রচনা করেছিলেন।
২. প্রশ্ন: নব্য ভক্তিবাদ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: তুর্কি-আফগানদের আগমনের পর সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, কঠোর ধর্মীয় নিয়ম এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে হিন্দুধর্মের পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে যে নতুন ভক্তি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তাকে নব্য ভক্তিবাদ বলা হয়।
৩. প্রশ্ন: মহাপুরুষ শঙ্করদেব অসমে কীভাবে নব্য ভক্তিবাদ প্রচার করেছিলেন?
উত্তর: মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণ করে ভক্তি আন্দোলনের আদর্শ গ্রহণ করেন। ভাগবত পুরাণকে ভিত্তি করে তিনি একশরণ নামধর্ম প্রচার করেন। যাগ-যজ্ঞ ও পশুবলির পরিবর্তে নাম-কীর্তনের মাধ্যমে মুক্তির পথ দেখান। তিনি ব্রজবুলি ভাষায় গীত, পদ, নাটক এবং ভাওনা রচনা করে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেন এবং জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করে সমাজে সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
৪. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলন ভারতের সামাজিক জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর:
- সামাজিক সমতা: জাতিভেদ, ছোট-বড় ভেদাভেদ ও আচার-অনুষ্ঠানের বাহুল্য অনেকাংশে কমে যায়।
- নারীর মর্যাদা: নারীরা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও প্রচারের সুযোগ লাভ করেন।
- আঞ্চলিক ভাষার বিকাশ: সাধারণ মানুষের ভাষায় ধর্মীয় বাণী প্রচার করায় অসমিয়া, বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি ঘটে।
৫. সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
(ক) কবির
উত্তর: সন্ত কবির ছিলেন পঞ্চদশ শতকের নব্য ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। তিনি হিন্দু ও ইসলাম—উভয় ধর্মের কুসংস্কারের বিরোধিতা করে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনার কথা প্রচার করেন। তাঁর রচিত দোহা আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
(খ) গুরু নানক
উত্তর: গুরু নানক দেব ছিলেন শিখধর্মের প্রবর্তক। তিনি মূর্তিপূজা ও জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা করে নিরাকার পরমেশ্বরের উপাসনার শিক্ষা দেন। মানবপ্রেম ও সেবাই ছিল তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি। তাঁর বাণী গুরুগ্রন্থ সাহিব-এ সংকলিত রয়েছে।
(গ) সুফিবাদ
উত্তর: খ্রিস্টীয় একাদশ শতকে ইসলাম ধর্মের অভ্যন্তরে উদারনৈতিক ও আধ্যাত্মিক ধারার উত্থান ঘটে, যা সুফিবাদ নামে পরিচিত। সুফি সাধকরা প্রেম, শান্তি, সংগীত ও বৈরাগ্যের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের শিক্ষা দিতেন। ভারতে নিজামউদ্দিন আউলিয়া ও মইনুদ্দিন চিস্তি ছিলেন এই ধারার উল্লেখযোগ্য সাধক।
