ঐতিহ্য | অতুল্য অসম | প্রশ্ন ও উত্তর
এই পাঠটি অসমের গৌরবময় ইতিহাস, ভৌগোলিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ নিয়ে রচিত। নিচে পাঠভিত্তিক প্রতিটি পৃষ্ঠার প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
অধ্যায়ের নাম: ঐতিহ্য (পাঠ: অতুল্য অসম)
পৃষ্ঠা ৩-এর সমাধান
১। শব্দার্থ মেলাও (কলাপাতায় উল্লিখিত শব্দের অর্থ):
- খ্যাত: প্রসিদ্ধ
- খ্যাতি: যশ
- দিঘি: বড় জলাশয়
- মান: মর্যাদা
- দৌল: মন্দির
- বস্ত্র: পোশাক
- হৃদয়: অন্তর
- খাঁটি: বিশুদ্ধ
২। শুদ্ধ উত্তরটি বের করে সঠিক বৃত্তটি পূরণ করো:
জয়সাগর দিঘি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: (খ) শিবসাগর
কামরূপের পূর্ববর্তী নাম কী ছিল?
উত্তর: (ক) প্রাগজ্যোতিষ
কোন্ অঞ্চলটি পাটির জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: (খ) কালীগঞ্জ
আপনার দেওয়া ইমেজটির প্রশ্নগুলো “অতুল্য অসম” পাঠের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিচে এই পৃষ্ঠাটির (পৃষ্ঠা ৭৩) সবকটি সমাধান দে
৩। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর বলো এবং লেখো—
(ক) দাদু ও নাতি কোথায় বসে গল্প করছিলেন?
উত্তর: দাদু ও নাতি গরমের দিনে উঠানে বসে গল্প করছিলেন।
(খ) কুণ্ডিলনগর অসমের কোন্ দিকে অবস্থিত?
উত্তর: কুণ্ডিলনগর অসমের পূর্ব দিকে অবস্থিত।
(গ) ডিমাহাসাওয়ের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: ডিমাহাসাওয়ের রাজধানীর নাম মাইবং।
(ঘ) কামাখ্যা মন্দির কোন্ পাহাড়ে অবস্থিত?
উত্তর: কামাখ্যা মন্দির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত।
(ঙ) কোন্ অঞ্চলকে অসমের বস্ত্র নগরী বলা হয়?
উত্তর: শুয়ালকুচিকে অসমের বস্ত্র নগরী বলা হয়।
৪। এসো, লিখি—
(ক) “অসমি মায়ের মান রেখেছেন লাচিত বরফুকন নিজে।”
লাচিত বরফুকন কে?
উত্তর: ছিলেন আহোম সাম্রাজ্যের একজন দেশপ্রেমিক সেনাপতি।
তিনি কীভাবে অসমের মান রেখেছেন?
উত্তর: তিনি অসীম সাহসিকতার সাথে মোগল সৈন্যদের পরাজিত করে এবং তাদের অসম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে মাতৃভূমির মান রক্ষা করেছিলেন।
অসমকে ‘মা’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: জন্মভূমি আমাদের আশ্রয় দেয় এবং মায়ের মতোই লালন-পালন করে, তাই কবি শ্রদ্ধাবশত অসম দেশকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন।
(খ) “ধুবড়ির ঘাটে নেতা-ধোবানি টেগ বাহাদুরের ধাম।”
টেগ বাহাদুর কে?
উত্তর: ছিলেন শিখদের নবম গুরু।
নেতা-ধোবানি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: লোককথা অনুযায়ী, নেতা-ধোবানি হলেন ধুবড়ির ঘাটের এক ঐতিহাসিক চরিত্র যিনি কাপড় ধোওয়ার সময় মৃত সন্তানকে জীবিত করার অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন।
৫। এসো মেলাই—
ইমেজ এবং পাঠের তথ্য অনুযায়ী সঠিক মিলটি হলো:
- ভীষ্মক রাজা — কুণ্ডিল নগর
- মৈদাম — চরাইদেউ
- রংঘর — শিবসাগর
- শনবিল — শ্রীভূমি
- টেরাকোটা — গৌরীপুর
- কামাখ্যা — নীলাচল
- বস্ত্রনগরী — শুয়ালকুচি
পৃষ্ঠা ৪-এর সমাধান (ভাষা-অধ্যয়ন: অব্যয়)
৭। ক। অব্যয় পদ সম্পর্কে ধারণা:
যেসব পদের রূপ কখনও পরিবর্তন হয় না (যেমন: এবং, কিন্তু, ও, নতুবা, বাঃ, যদি, যেন ইত্যাদি), তাদের অব্যয় পদ বলে। ‘ও’ পদটি একাধিক পদ বা বাক্যকে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
পৃষ্ঠা ৫-এর সমাধান
৭। খ। উপযুক্ত অব্যয় ব্যবহার করে নীচের অনুচ্ছেদটি সম্পূর্ণ করো:
উঃ, বড় গরম। মদন বাজারে যাবি না? তুই যদি না-যাস, তাহলে আমি একাই যাব। বাজার থেকে নারকেল ও কাঁঠাল আনব। আমি সাইকেল নিয়ে নতুবা হেঁটেই বাজারে যাব। বড় বোকা গরমে কাঁঠাল না-খেলে খাবি কখন? বাঃ, কী স্বাদ!
৯। বাঁদিকে থাকা নামগুলো অসমের কোন অঞ্চলগুলোকে বোঝায়:
জাদুনগরী:
উত্তর: মায়ং
বস্ত্রনগরী:
উত্তর: শুয়ালকুচি
সত্রনগরী:
উত্তর: বরপেটা / মাজুলি
পঞ্চতীর্থ:
উত্তর: হাজো
সোনালি সুতোর দেশ:
উত্তর: অসম (বিশেষ করে কামরূপ ও লখিমপুর অঞ্চল)
অসমের পিরামিড:
উত্তর: চরাইদেউ-এর মৈদাম
অসমের নবদ্বীপ:
উত্তর: নবদ্বীপ বা মাজুলি (সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য)
১০। তোমার জেলার ঐতিহ্যসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করো (উদাহরণস্বরূপ শ্রীভূমি বা করিমগঞ্জ জেলা):
- মালেগড়: ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহের শহিদদের সমাধিস্থল।
- শনবিল: এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বিল।
- কুশিয়ারা নদী: জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদী।
১১। প্রকল্প:
তোমরা কামাখ্যা মন্দির, রং ঘর, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান এবং মাজুলি দ্বীপের ছবি সংগ্রহ করে একটি সুন্দর অ্যালবাম তৈরি করতে পারো।
পাঠের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্র
তিনি মোগলদের তাড়িয়ে অসমীয়া মায়ের মান রক্ষা করেছিলেন।
উপসংহার
“অতুল্য অসম” পাঠটি অসমের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা প্রদান করে। এই অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজ্যের গৌরবময় অতীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং অসমের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।
