ষষ্ঠ অধ্যায়: শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক দুটি পদ – সম্পূর্ণ সমাধান
বাংলা পাঠ্যবইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়, যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক দুটি পদ’। নিচে এই অধ্যায়ের সমস্ত অনুশীলনী এবং ব্যাকরণ অংশের সমাধান দেওয়া হলো:
২. শূন্যস্থান পূরণ করো:
- (ক) ‘নিকটে গোধন রেখো / ‘মা’ বলে শিঙাতে ডেকো / ঘরে থাকি’ শুনি যেন রব।’
- (খ) বলাই ধাইবে আগে / আর শিশু বাম ভাগে / মাঠে বড় রিপু-ভয় আছে।’
৩. পঙ্ক্তির সঙ্গে অর্থ মেলাও:
- (ক) বিহি কৈল গোপ-জাতি গোধন-পালন বৃত্তি — (ঘ) ঈশ্বর আমাদের গোয়ালা জাতি করেছেন, গোপালন আমাদের জীবিকা
- (খ) নিকটে রাখিহ ধেনু পুরিহ মোহন বেণু — (গ) গোরুগুলিকে কাছে রেখে মোহনবাঁশি বাজিয়ো
- (গ) থাকিহ তরুর ছায় মিনতি করিছে মায় — (খ) মায়ের অনুরোধ গাছের ছায়ায় থেকো
- (ঘ) নিকটে গোধন রেখো ‘মা’ বলে শিঙাতে ডেকো — (ক) গোরুগুলিকে কাছে রেখে শিঙাতে ‘মা’ বলে ডেকো।
৪. প্রশ্নের উত্তর লিখি:
- (ক) ‘যশোদার মাতৃস্নেহ’ পদটিতে ‘গোপাল’ শব্দের দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে?
- উত্তর: ‘গোপাল’ শব্দের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হয়েছে।
- (খ) ‘মিনতি করিয়ে তো সভারে’—এখানে কে অনুরোধ জানিয়েছেন?
- উত্তর: এখানে শ্রীকৃষ্ণের মাতা যশোদা কৃষ্ণসখাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
- (গ) ‘শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা’ পদটিতে তাঁর কোন্ দু’জন সখার নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
- উত্তর: শ্রীদাম এবং সুদাম—এই দুইজন সখার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
- (ঘ) শ্রীকৃষ্ণের দাদার নাম কী?
- উত্তর: শ্রীকৃষ্ণের দাদার নাম বলরাম (পদে ‘বলাই’ নামেও উল্লিখিত)।
- (ঙ) গোপজাতির বৃত্তি কী?
- উত্তর: গোপজাতির বৃত্তি হলো গোধন বা গোরু পালন করা।
৫. চিন্তা করে উত্তর দাও:
- (ক) যশোদা কেন শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে দূরে যেতে বারণ করেছিলেন?
- উত্তর: যশোদা মনে করতেন বন অনেক দূর এবং বনের পথে নতুন ঘাস ও কুশের ধারালো ডগা (কুশাঙ্কুর) থাকতে পারে, যা তাঁর নীলমণির কচি পায়ে লাগলে ব্যথা লাগতে পারে।
- (খ) যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে কেন মাঝখানে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন?
- উত্তর: পথে বা মাঠে বনের পশুপাখি বা অন্য কোনো শত্রুর ভয় (রিপু-ভয়) থাকতে পারে। তাই শ্রীকৃষ্ণকে সুরক্ষার বলয়ে রাখতে তিনি সখাদের মাঝখানে তাঁকে নিয়ে ধীরে ধীরে চলতে বলেছেন।
- (গ) পদটির শেষে কবি যাদবেন্দ্রদাস কী বলেছেন?
- উত্তর: কবি যাদবেন্দ্রদাস যশোদার প্রতিনিধি হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তিনি পায়ে পাদুকা বা পানই পরে থাকেন এবং রোদের তাপ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় থাকেন।
৮. ধাঁধার সমাধান:
- (ক) শব্দটি হলো: “গোপাল”
- প্রথম ও তৃতীয় (গো + ল) = গোল (ফুটবলের আকার)।
- প্রথম ও দ্বিতীয় (গো + পা) = গোপা (গোয়ালা মহিলা)।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় (পা + ল) = পাল (নৌকায় থাকে)।
- (খ) শব্দটি হলো: “মিনতি”
- তৃতীয় + প্রথম (তি + মি) = তিমি (জলের স্তন্যপায়ী প্রাণী)।
- তৃতীয় + দ্বিতীয় (তি + ন) = তিন (দুইয়ের পরে আসে)।
- দ্বিতীয় + প্রথম (ন + মি) = নমি (নমস্কার করা)।
৯. আধুনিক বাংলা রূপ:
- সভারে — সকলকে
- করহ — করো
- বিহি — বিধি বা ঈশ্বর
- তেঞি — সেইজন্য
- পানই — পাদুকা বা জুতো
১০. সমার্থক শব্দ লিখি:
- বন: অরণ্য, জঙ্গল।
- গোপাল: কৃষ্ণ, নীলমণি।
- সখা: বন্ধু, মিত্র।
- ধেনু: গোরু, গাভী।
১১. ণত্ব-বিধান (ব্যাকরণ):
- (ক) ‘তৃণ’ শব্দের বানানে ণ হয়েছে; কারণ ণ-এর আগে ঋ-কার (তৃ) রয়েছে।
- (খ) ‘চরণ’ শব্দের বানানে ণ হয়েছে; কারণ ণ-এর আগে র রয়েছে।
১২. মিল বজায় রেখে পঙ্ক্তি পূরণ:
- চরে প্রান্তরে দূর বহু দূর,
কৃষ্ণ বাজান বেণু কী যে সুমধুর। - যশোদার কাছে কানু নয়নের তারা,
দ্যাখো সে কীভাবে চুরি করে মাখন। (অথবা: দ্যাখো সে কীভাবে সবার মন করে হরা)
১৪. পদদুটির বিষয়গত সাদৃশ্য:
- উভয় পদেই যশোদার অকৃত্রিম মাতৃস্নেহ এবং শ্রীকৃষ্ণের সুরক্ষার জন্য মায়ের ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
- মা যশোদা গোরু চরাতে যাওয়ার সময় কৃষ্ণকে ছায়ায় থাকতে, সখাদের মাঝে থাকতে এবং পায়ে কাঁটা ফোটা থেকে বাঁচতে নানা সাবধানবাণী শুনিয়েছেন।
- এটিই পদদুটির মূল মিল।
