📘 সপ্তম অধ্যায়: সোনালি অতীত — সম্পূর্ণ সমাধান (প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাকরণ)
বাংলা পাঠ্যবইয়ের সপ্তম অধ্যায়, যার নাম ‘সোনালি অতীত’। নিচে এই অধ্যায়ের সমস্ত অনুশীলনী এবং ব্যাকরণ অংশের সমাধান দেওয়া হলো:
—
📖 অধ্যায়ের নাম: সোনালি অতীত
—
✅ ১. সঠিক উত্তরটি বাছাই করো:
কামাখ্যা জংশন থেকে তম্বরম পৌঁছাতে কত সময় লেগেছিল?
উত্তর: (ঘ) ৫৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
চিদাম্বরম মন্দিরের নটরাজ মূর্তিটিতে কী ধাতু অধিক পরিমাণে রয়েছে?
উত্তর: (খ) তামা।
১৪:৫৫-টায় রেলগাড়িটি চলতে শুরু করল—হাত-ঘড়িতে সময়টি হবে?
উত্তর: (খ) ০২:৫৫।
—
✍️ ২. নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(ক) ‘কেরলের জলে-ডাঙায়’ বইটির লেখকের নাম কী?
উত্তর: বইটির লেখকের নাম উষারঞ্জন ভট্টাচার্য।
(খ) ‘গোপুরম’ শব্দটি কী বোঝায়?
উত্তর: গোপুরম হলো দাক্ষিণাত্যের মন্দিরের উচ্চচূড়া-শোভিত বিশাল প্রবেশদ্বার।
(গ) ব্রোঞ্জ কী? ব্রোঞ্জ কীভাবে তৈরি করা হয়?
উত্তর: ব্রোঞ্জ হলো একটি মিশ্র ধাতু। এটি আশি শতাংশ তামা এবং বিশ শতাংশ রাং মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
(ঘ) নটরাজ মূর্তিটি কী প্রযুক্তি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল?
উত্তর: নটরাজ মূর্তিটি ‘মোম বিগলন পদ্ধতি’ (Lost Wax Process) নামক প্রাচীন প্রযুক্তির দ্বারা নির্মিত।
(ঙ) বিজ্ঞানীরা নটরাজ মূর্তিটির বৈশিষ্ট্য কী বলে মনে করেছেন?
উত্তর: নটরাজ মূর্তির বুড়ো আঙুলটি যেখানে ভূমি স্পর্শ করে আছে, বিজ্ঞানীরা মনে করেন সেটিই পৃথিবীর চুম্বকীয় বিষুব রেখার কেন্দ্রবিন্দু।
(চ) গাইড স্নেহাদের কী কী প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন?
উত্তর: গাইড স্নেহাদের প্রাচীন ভারতের ধাতু নিষ্কাশন পদ্ধতি এবং মোম বিগলন পদ্ধতির মতো উন্নত প্রযুক্তির কথা বলেছিলেন।
—
🧠 ৩. চিদাম্বরম মন্দিরে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার দিকগুলি:
চিদাম্বরম মন্দিরে প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যশৈলী (গোপুরম), উন্নত ধাতুবিদ্যা (ব্রোঞ্জ মূর্তি নির্মাণ) এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের (চুম্বকীয় বিষুব রেখার অবস্থান) এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। এখানে দশম শতাব্দীতে চোল রাজাদের আমলে নির্মিত ভাস্কর্যগুলি আজও ভারতীয় প্রযুক্তি ও আধ্যাত্মিকতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
—
📚 ৪. অভিধান দেখে শব্দ ও অর্থ মেলানো:
শব্দ অর্থ
স্থাপত্য গৃহ, অট্টালিকা ইত্যাদি নির্মাণের শিল্প
পুরাতত্ত্ব প্রাচীন ইতিহাসের বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়ন
আধ্যাত্মিকতা মন, আত্মা সম্বন্ধীয়
গোপুরম মন্দিরের উঁচু প্রবেশদ্বার
তিল্লাই আর্দ্র স্থানে জন্মানো এক ধরনের গাছ
নটরাজ নৃত্যরত শিবের মূর্তি
গর্ভগৃহ মন্দিরের সবচেয়ে ভেতরের পবিত্র কক্ষ
—
🧾 ৫ ও ৬. ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যাকরণ):
🔹 শিশ-ধ্বনি (শ, ষ, স):
বাংলায় শ, ষ, স—এই তিনটির উচ্চারণ সাধারণত ‘তালব্য শ’-এর মতো হয়।
ব্যতিক্রম: যখন শ, ষ, স বর্ণগুলি র, ল, ত, থ, ন ইত্যাদি ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন উচ্চারণ ‘স’-এর মতো হয় (যেমন—শ্রাবণ, স্তব, স্নান)।
—
🔹 ৫(গ) উচ্চারণ পার্থক্য:
হিংসা (শ-এর মতো উচ্চারণ) বনাম হিংস্র (স-এর মতো উচ্চারণ)।
শান্ত (শ-এর মতো) বনাম শ্রান্ত (স-এর মতো)।
—
🏛️ ৭. প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণ:
(খ) বিজ্ঞপ্তিটির সহায়তা: এটি মানুষকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের গুরুত্ব বোঝাতে এবং আইনত দণ্ড ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে সম্পদ নষ্ট করা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।
(গ) কেন সংরক্ষণ করা উচিত: প্রাচীন সম্পদ আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পূর্বপুরুষদের জ্ঞান-পরম্পরার সাক্ষী। এগুলো নষ্ট হলে আমরা আমাদের শিকড়কে হারিয়ে ফেলব।
(ঘ) পরামর্শ:
১. প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় আবর্জনা না ফেলা।
২. দেয়ালে কোনো কিছু না লেখা।
৩. প্রাচীন ভাস্কর্য স্পর্শ না করা।
৪. সরকারি নিয়ম মেনে চলা।
—
📝 প্রকল্প (১১): ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থের তালিকা
ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থের নাম লেখক
কেরলের জলে-ডাঙায় উষারঞ্জন ভট্টাচার্য
ভলগা থেকে গঙ্গা রাহুল সাংকৃত্যায়ন
পথের পাঁচালী (ভ্রমণ অংশ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
