পাঠ ৫, লালু ও ভুলু, সপ্তম শ্রেণী, Chapter 5, উন্মেষ, new textbook Bengali Class 7

আপনাদের পাঠ্যবইয়ের পঞ্চম অধ্যায় ‘লালু ও ভুলু’ গল্পের যাবতীয় প্রশ্ন এবং ব্যাকরণ অংশের সমাধান নীচে দেওয়া হলো:

অধ্যায়: লালু ও ভুলু

১. নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  • (ক) লালু এবং ভুলু কে ছিল?
    • উত্তর: লালু এবং ভুলু ছিল সুচিত্রাদের গ্রামের দুটি দুষ্টু কুকুর।
  • (খ) সুচিত্রা কোন্ ক্লাসের ছাত্রী ছিল?
    • উত্তর: সুচিত্রা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
  • (গ) সরকার কেন সতর্কতামূলক বার্তা পাঠিয়েছিল?
    • উত্তর: আবহাওয়া দপ্তরের থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও বিপদের সতর্কবার্তা পেয়ে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই নাগরিকদের সচেতন করার জন্য সতর্কতামূলক বার্তা পাঠিয়েছিল।
  • (ঘ) সুচিত্রাদের দিদিমা কোলে করে কী নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন?
    • উত্তর: সুচিত্রাদের দিদিমা রূপক ভেবে ভুল করে একটি গিটবাঁধা কম্বল কোলে করে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন।
  • (ঙ) সুচিত্রা ও রূপককে কে গল্প শুনিয়েছিলেন?
    • উত্তর: সুচিত্রা ও রূপককে তাদের দিদিমা গল্প শুনিয়েছিলেন।
  • (চ) ‘মাচান’ কী? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
    • উত্তর: মাচান হলো ঘরের ভেতরে তৈরি একটি উঁচু পাটাতন বা জায়গা। এটি সাধারণত বন্যার হাত থেকে ধান, মুগ ইত্যাদি শস্য রক্ষার জন্য এবং বন্যার সময় আশ্রয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।
  • (ছ) গুয়াহাটিতে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ কী?
    • উত্তর: গুয়াহাটিতে কৃত্রিম বন্যার মূল কারণ হলো মানুষ যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে নালা-নর্দমা বন্ধ করে দেয় এবং পাহাড় কেটে বাড়ি তৈরির ফলে নেমে আসা মাটি নর্দমা আটকে দেয়।
  • (জ) গ্রামের মানুষরা রাস্তার ধারে শামিয়ানা খাটিয়ে কেন থাকতে বাধ্য হয়েছিল?
    • উত্তর: হঠাৎ আসা বন্যার জলের স্রোতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় এবং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মানুষরা প্রাণ বাঁচাতে ও জিনিসপত্র রক্ষা করতে রাস্তার ধারে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।

২. ভেবে উত্তর দাও:

  • (ক) ‘স্বস্তি ফিরে এল’ বাক্যাংশটির অর্থ কী?
    • উত্তর: ‘স্বস্তি ফিরে এল’ কথাটির অর্থ হলো দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেয়ে শান্ত হওয়া। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সুচিত্রা ও রূপক সঠিক সময়ে স্কুল থেকে ফিরতে না পারায় মা-বাবা চিন্তিত ছিলেন, তারা ফিরে আসায় তাদের চিন্তা দূর হলো।
  • (খ) ‘দুর্যোগে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খায়’—এই কথাটির অর্থ কী?
    • উত্তর: এর অর্থ হলো—বড় কোনো বিপদে পড়লে জাত শত্রু বা ঘোর বিরোধীরাও নিজেদের বিবাদ ভুলে গিয়ে টিকে থাকার জন্য এক জায়গায় শান্ত হয়ে অবস্থান করে।
  • (গ) ‘অহি-নকুল সম্পর্ক’ বলতে কেমন সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে?
    • উত্তর: ‘অহি-নকুল সম্পর্ক’ বলতে চরম শত্রুতার সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে। সাপের (অহি) সাথে বেজির (নকুল) যেমন জন্মগত শত্রুতা থাকে, লালু ও ভুলুর মধ্যেও তেমন ঝগড়ার সম্পর্ক ছিল।

৪. বাক্যগুলো সাজিয়ে লেখো:

  • (ক) নৌকায় দল উদ্ধারকারী নিয়ে আসে রাবারের ভুলুকে উদ্ধার করে।
    • শুদ্ধ: উদ্ধারকারী দল রাবারের নৌকা নিয়ে এসে উদ্ধার করে।
  • (খ) এক বাঘে-গোরুতে জল ঘাটে দুর্যোগে খায়।
    • শুদ্ধ: দুর্যোগে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খায়।
  • (গ) সম্পর্ক মধ্যে অহি-নকুল দু’জনের ছিল।
    • শুদ্ধ: দু’জনের মধ্যে ছিল অহি-নকুল সম্পর্ক।
  • (ঘ) করে দিদিমা বলছিলেন গল্পটি মজা।
    • শুদ্ধ: দিদিমা মজা করে গল্পটি বলছিলেন।
  • (ঙ) শুনে তার উঠল কথা সবাই হেসে।
    • শুদ্ধ: তার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।

ভাষা অধ্যয়ন (ব্যাকরণ):

৬. বাক্যের ধরন লেখো:

  • তোমার যাত্রা শুভ হোক! — ইচ্ছাসূচক/শুভকামনামূলক বাক্য
  • তুমি কবে আসবে? — প্রশ্নবোধক বাক্য
  • সকালে পূর্বদিকে সূর্য ওঠে। — বর্ণনামূলক বাক্য
  • সবাই সুখে-শান্তিতে থাকো। — ইচ্ছাসূচক বাক্য
  • সকালে তাড়াতাড়ি উঠবে। — অনুজ্ঞাবোধক/উপদেশমূলক বাক্য
  • তুমি অঙ্কগুলো করেছ কি? — প্রশ্নবোধক বাক্য
  • বইটি মন দিয়ে পড়ো। — অনুজ্ঞাবোধক/আদেশমূলক বাক্য
  • উফ! খুব কষ্ট পেলাম! — ভাববোধক/বিস্ময়সূচক বাক্য
  • পড়ার সময় আমরা খেলা-ধুলা করি না। — নঞর্থক বর্ণনামূলক বাক্য
  • আহ! খুব আনন্দ পেলাম! — ভাববোধক বাক্য

৯. জোড়া শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:

(ক) সুচিত্রাদের স্কুল-ভ্যানটি সেদিন আড়াইটের পরিবর্তে বিকেল চারটায় পৌঁছাল।
(খ) সে দিদিমার কাছে গুটিসুটি মেরে বসল।
(গ) হঠাৎ আসা জলের স্রোতে চোখের পলকে ছয়-সাতটি গ্রাম ডুবে গিয়েছিল।
(ঘ) গল্পে মজা পেয়ে সেও ধীরে-ধীরে এসে দিদিমার পাশে বসল।
(ঙ) বৃষ্টির সঙ্গে নেমে আসা মাটি নালা-নর্দমা আটকে দেয়।

১১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ জ্ঞান:

  • (ক) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কী?
    • উত্তর: দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতির প্রভাব কমানোর জন্য যে সমস্ত পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে।
  • (খ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তিনটি স্তর কী কী?
    • উত্তর: ১. আগাম প্রস্তুতি, ২. দুর্যোগ চলাকালীন জরুরি সাহায্য এবং ৩. দুর্যোগের পর পুনর্বাসন ও পুনঃসংস্থাপন।
  • (গ) উদাহরণ দাও:
    • প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস।
    • মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: কারখানার বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন, অগ্নিকাণ্ড, পরিবেশ দূষণ, যুদ্ধ।

১২. জরুরিকালীন ফোন নম্বর প্রয়োগ:

  • (ক) শিশুশ্রম দেখলে: ১০৯৮ (শিশু হেল্পলাইন)
  • (খ) রাস্তায় অসুস্থ শ্রমিক দেখলে: ১০৮ (অ্যাম্বুলেন্স)
  • (গ) চুরির চেষ্টা দেখলে: ১০০/১১২ (পুলিশ)
  • (ঘ) গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে: ১০১ (অগ্নিনির্বাপক বাহিনী)
  • (ঙ) ভূমিধস হলে: ১১২ (জরুরিকালীন অবস্থা)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *