পাঠ ৪, কৃষক, সপ্তম শ্রেণী, chapter 4, উন্মেষ,new textbook Bengali Class 7

আপনার পাঠ্যবইয়ের চতুর্থ অধ্যায় ‘কৃষক’-এর অন্তর্গত দুটি কবিতা—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমরা চাষ করি আনন্দে’ এবং রাজিয়া খাতুন চৌধুরানীর ‘চাষি’—এর যাবতীয় প্রশ্ন ও ব্যাকরণ অংশের সমাধান নীচে দেওয়া হলো:

অধ্যায়: কৃষক

১. শূন্যস্থান পূর্ণ করো:

(ক) ‘ধানের শিষে পুলক ছোটে সকল ধরা হেসে ওঠে
অঘ্রানেরই সোনার রোদে, পূর্ণিমারই চন্দ্রে।’

(খ) ‘আমার দেশের মাটির ছেলে নমি বারংবার,
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।’

২. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে সঠিক বৃত্তটি পূরণ করো:

  • ‘সকল ধরা হেসে ওঠে’—’ধরা’ শব্দের অর্থ কী?
    • উত্তর: (খ) পৃথিবী
  • কাকে সব সাধকের বড় সাধক বলা হয়েছে?
    • উত্তর: (খ) চাষা

৩. কবিতা দুটির মূলভাব:

  • আমরা চাষ করি আনন্দে: এই কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রামবাংলার কৃষকদের অকৃত্রিম আনন্দের কথা বলেছেন। কৃষকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পরম আনন্দে কাজ করেন। অঘ্রানের সোনালি রোদ আর চষা মাটির গন্ধে প্রকৃতি মাতিয়ে তোলে তাঁদের পরিশ্রমের ফসল ধানের শিষ।
  • চাষি: রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী কৃষককে ‘মহাসাধক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কৃষক নিজের সুখের কথা না ভেবে দেশবাসীর জন্য অন্ন জোগান। তাঁর তনু (শরীর) রোদে শুকায় আর বৃষ্টিতে ভিজে যায়, কিন্তু তাঁর মনে কোনো অহংকার নেই। কৃষকের এই নিঃস্বার্থ সেবাই তাঁকে শ্রেষ্ঠ সাধকের মর্যাদা দিয়েছে।

৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

  • (ক) ‘আমরা চাষ করি আনন্দে’—কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
    • উত্তর: কবিতাটি কবির ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
  • (খ) ‘সবারই সে অন্ন জোগায় নাইকো গর্ব লেশ।’—এখানে ‘সে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
    • উত্তর: এখানে ‘সে’ বলতে চাষা বা কৃষককে বোঝানো হয়েছে।
  • (গ) কবির মতে দেশের মাটির ছেলে কে?
    • উত্তর: কবির মতে দেশের মাটির ছেলে হলো চাষা।
  • (ঘ) ‘চাষি’ কবিতাটির কবির নাম কী?
    • উত্তর: কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী।

৫. প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করে লেখো:

  • (ক) ‘মাঠে মাঠে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধে।’—মাঠে মাঠে কাদের বেলা কাটে এবং কেন?
    • উত্তর: মাঠে মাঠে চাষিদের বেলা কাটে। তাঁরা দেশবাসীর জন্য ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন বলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই কাটান।
  • (খ) কবি চাষাকে ‘সব সাধকের বড় সাধক’ বলে অভিহিত করেছেন কেন?
    • উত্তর: চাষি কোনো প্রতিদান বা যশের আশা না করে অকাতরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে মানুষের জন্য অন্ন জোগান। তাঁর এই ত্যাগের তুলনা দধীচির মতো মুনি-ঋষিদের ত্যাগের চেয়েও বড় বলে কবি মনে করেন।
  • (গ) নিজ দেশের মাটির ছেলেকে কবি বারবার নমস্কার করার কথা কেন বলেছেন?
    • উত্তর: কৃষকেরা অহংকারহীন হয়ে পরের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। তাঁদের এই মহান কর্ম এবং নিরলস পরিশ্রম দেখে মানুষের মনের গর্ব চূর্ণ হয়। তাই কবি তাঁদের বারবার নমস্কার জানিয়েছেন।
  • (ঘ) কৃষকরা চাষ না-করলে দেশের কী কী সমস্যা হতে পারে?
    • উত্তর: কৃষকরা চাষ না-করলে দেশে চরম খাদ্যসংকট দেখা দেবে। মানুষ না খেয়ে মারা যাবে এবং দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে, কারণ সব স্তরের লোকই কৃষিজাত সামগ্রীর ওপর নির্ভরশীল।

৭. প্রতিশব্দ ও বাক্য রচনা:

কবিতা থেকে সংগৃহীত প্রতিশব্দগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • তনু — দেহ: কঠোর পরিশ্রমে কৃষকের তনু শুকিয়ে যায়।
  • ধরা — পৃথিবী: বৃষ্টির ছোঁয়ায় সকল ধরা সতেজ হয়ে ওঠে।
  • হিত — মঙ্গল: চাষিরা পরের হিত কামনায় ব্যস্ত থাকে।
  • তরুণ — যুবক: তরুণ কবিরা নতুন ছন্দে গান লেখেন।
  • পুলক — রোমাঞ্চ: ধানের শিষে রোদের ছটায় মনে পুলক জাগে।
  • চূর্ণ — ধ্বংস: ঝড়ে ঘরবাড়িগুলো চূর্ণ হয়ে গেল।
  • গর্ব — অহংকার: চাষির মনে কোনো গর্ব নেই।

ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যাকরণ):

৮ (খ) সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বাছাই:

  • বাজার থেকে একটি পেনসিল কিনে আনব। — সমাপিকা: আনব, অসমাপিকা: কিনে
  • ছোট ভাই তুলি দিয়ে রং করবে। — সমাপিকা: করবে, অসমাপিকা: দিয়ে
  • আমি তাকে ছবি আঁকতে সাহায্য করব। — সমাপিকা: করব, অসমাপিকা: আঁকতে
  • সে খুশিতে নেচে উঠল। — সমাপিকা: উঠল, অসমাপিকা: নেচে

১০ (ক) যুগ্মশব্দ গঠন:

  • সুখ-দুঃখ
  • হেসে-খেলে
  • সোনা-রূপা
  • ঘর-বাড়ি
  • শাক-সবজি
  • ভাই-বোন
  • পড়া-শোনা

১১. প্রবাদ-প্রবচনের অর্থ:

  • (ক) কুম্ভকর্ণের নিদ্রা: অত্যন্ত গভীর বা দীর্ঘস্থায়ী ঘুম।
  • (খ) আলালের ঘরের দুলাল: অতি আদরে বিগড়ে যাওয়া ধনীর সন্তান।
  • (গ) দশের লাঠি, একের বোঝা: দশজনের সামান্য সাহায্য একজনের বড় বিপদ দূর করে দেয়।
  • (ঘ) রথ দেখা আর কলা বেচা: এক কাজ করতে গিয়ে অন্য কাজও সেরে নেওয়া।
  • (ঙ) জলে কুমির ডাঙায় বাঘ: উভয় দিক থেকেই মহাবিপদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *