পাঠ ১২: আত্মরক্ষা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান
চতুর্থ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের পাঠ ১২: “আত্মরক্ষা”। নিচে এই অধ্যায়ের সমস্ত প্রশ্নোত্তর এবং ব্যাকরণ (ভাষা-অধ্যয়ন) সমাধান করে দেওয়া হলো:
—
পাঠ ১২: আত্মরক্ষা
১। শূন্যস্থান পূরণ করো:
(ক) সুমনের বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
(খ) সুমনদের প্রতিবেশী সৌরভ দাদা সদ্য সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে।
(গ) আত্মরক্ষা শব্দটি রত্না দিদিমণির পর দ্বিতীয়বারের জন্য কাকুর মুখে সে শুনতে পেল।
(ঘ) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ফল-মূল ও শাকসবজি খাওয়া দরকার।
—
২। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো:
(ক) স্বপ্ন সফল করতে হলে কীসের প্রয়োজন বলে আলোচ্য পাঠে বলা হয়েছে?
উত্তর: স্বপ্ন সফল করতে হলে জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রয়োজন। লক্ষ্যহীন জীবন বইঠাহীন নৌকোর মতো।
(খ) আত্মরক্ষা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ, দুষ্টু লোকের আক্রমণ বা অপহরণের চেষ্টা থেকে সাহস ও কৌশলের সাথে নিজেকে রক্ষা করাকেই আত্মরক্ষা বলে।
(গ) বৌদি, আমাদের ছেলে-মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে হবে।’- এ-কথা কে কাকে বলেছিলেন?
উত্তর: কথাটি সুমনের মনোজ কাকু সুমনের মাকে (বৌদিকে) বলেছিলেন।
(ঘ) সুমন কী পড়তে ভালোবাসত?
উত্তর: সুমন গল্পের বই এবং দুঃসাহসিক অভিযানের কাহিনি পড়তে ভালোবাসত।
(ঙ) আলোচ্য গল্পে স্নেহপূর্ণ ও রসিক ব্যক্তি বলে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চিকিৎসক ডাক্তার চৌধুরীকে স্নেহপূর্ণ ও রসিক ব্যক্তি বলা হয়েছে।
—
৩। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর আলোচনা করে লেখো:
(ক) রত্না দিদিমণি জীবনের লক্ষ্যের বিষয়ে কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, “লক্ষ্যহীন জীবন বইঠাহীন নৌকোর মতো।” অর্থাৎ লক্ষ্য ছাড়া মানুষ জীবনে এগোতে পারে না।
(খ) সুমন কেন পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল? এই প্রেরণা সে কার কাছ থেকে পেয়েছিল?
উত্তর: সুমন ছোট ছেলে-মেয়েদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল। এই প্রেরণা সে তার মনোজ কাকুর কাছ থেকে পেয়েছিল।
(গ) দেশের সৈনিকদের প্রতি সুমনের মনে কেন কৃতজ্ঞতার ভাব জেগেছিল?
উত্তর: দেশের সীমান্তের দুর্গম স্থানে সৈনিকরা দিন-রাত অতন্দ্র পাহারা দেন বলেই আমরা সুরক্ষিত থাকি, তাই তাঁদের প্রতি সুমনের কৃতজ্ঞতা জেগেছিল।
(ঘ) সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের কী কী উপায় অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর: সুস্বাস্থ্যের জন্য মরশুমি ফল-মূল ও সবুজ শাক-সবজি খাওয়া উচিত এবং বাজারের মুখরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করা উচিত।
—
৪। সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো:
(ক) লক্ষ্যহীন জীবন বইঠাহীন নৌকোর মতো:
বইঠা ছাড়া নৌকা যেমন দিক হারিয়ে ফেলে, তেমনি জীবনের কোনো লক্ষ্য না থাকলে মানুষ সফল হতে পারে না।
(খ) স্বাস্থ্যই সম্পদ:
শরীরের সুস্থতাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শরীর ভালো না থাকলে কোনো কাজ করা বা শক্তিশালী হওয়া সম্ভব নয়।
—
৫। “আজকালের ছেলে-মেয়েরা… রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে” — কথাগুলো কে, কাকে কেন বলেছিলেন?
উত্তর: কথাগুলো ডাক্তার চৌধুরী সুমনের মা-বাবাকে বলেছিলেন। সুমন জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর ডাক্তারবাবু পরীক্ষা করে দেখেন যে পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, তাই তিনি সচেতন করতে এ-কথা বলেন।
—
ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যাকরণ সমাধান)
৬। বিসর্গ সন্ধি করো:
নিঃ + চয় = নিশ্চয়
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
নিঃ + তার = নিস্তার
মনঃ + তাপ = মনস্তাপ
নিঃ + ফল = নিষ্ফল
নিঃ + প্রভ = নিষ্প্রভ
নিঃ + প্রদীপ = নিষ্প্রদীপ
নিঃ + প্রয়োজন = নিষ্প্রয়োজন
—
৭। শব্দ নিয়ে খেলা (সুরক্ষিত):
সু + র = সুর
সু + ত = সুত
র + ত = রত
—
৮। ‘আত্ম’ দিয়ে পাঁচটি শব্দ:
আত্মরক্ষা, আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভর, আত্মজীবনী, আত্মত্যাগ
—
৯। মানুষের পাঁচটি সৎ গুণ:
সত্যবাদিতা, সততা, ধৈর্য, ক্ষমা, দয়া
—
১০ (ক)। বিশেষ্য পদের বিশেষণ খুঁজে বের করো:
খারাপ স্পর্শ
নির্ভীক পুলিশ অফিসার
মফস্সল শহর
—
১০ (গ)। পাঠ থেকে বিভক্তি যুক্ত শব্দ:
দিদিমণিকে, কাকুরকে, শ্রেণিতে, সুমনদের, পত্রিকায়
—
১১। জ্ঞান-সম্প্রসারণ:
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তিনটি প্রধান ভাগ হলো:
ভারতীয় স্থলসেনা
ভারতীয় নৌসেনা
ভারতীয় বায়ুসেনা
