Chapter 3,অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো, Class 9, SEBA new textbook

অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো | অনুশীলনী সমাধান | Class 9 Economics Notes in Bengali

অধ্যায়: অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো

অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, উৎপাদন, ভোগ, বণ্টন এবং সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই অধ্যায়ে অর্থনীতির সংজ্ঞা, অর্থনীতিবিদদের মতবাদ, ব্যষ্টিবাদী ও সমষ্টিবাদী অর্থনীতি, উপযোগিতা, মূলধন এবং জাতীয় আয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে। নিচে “অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো” অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।


অনুশীলনী সমাধান

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

১. অর্থনীতি শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

উত্তর: অর্থনীতি (Economics) শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে।

২. অর্থনীতি শব্দটি কোন শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: এটি গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৩. অর্থবিজ্ঞানের পিতৃস্বরূপ কে?

উত্তর: হলেন অর্থবিজ্ঞানের পিতৃস্বরূপ।

৪. অর্থবিজ্ঞানের সম্পদ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি কার?

উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের সম্পদ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি -এর।

৫. অর্থবিজ্ঞানের কল্যাণ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি কার?

উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের কল্যাণ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি -এর।

৬. অর্থবিজ্ঞানের দুষ্প্রাপ্যতার সংজ্ঞাটি কার?

উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের দুষ্প্রাপ্যতার সংজ্ঞাটি -এর।

৭. আদাম স্মিথ কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থে অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন।

৮. আলফ্রেড মার্সেল কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন?

উত্তর: ১৮৯০ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন।

৯. লায়নেল রবিন্স কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: ১৯৩২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থে অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন।

১০. কে আদাম স্মিথের সংজ্ঞাটিকে যক্ষের বাণী বলেছেন?

উত্তর: সমাজবিজ্ঞানী এবং আদাম স্মিথের সংজ্ঞাটিকে ‘যক্ষের বাণী’ বলেছেন।

১১. দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন?

উত্তর: এবং দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন।

১২. কোনো বস্তুর মানুষের অভাব পূরণ করতে পারার ক্ষমতাকে কী বলা হয়?

উত্তর: কোনো বস্তুর মানুষের অভাব পূরণ করতে পারার ক্ষমতাকে ‘উপযোগিতা’ (Utility) বলা হয়।

১৩. উৎপাদনের উৎপাদিত উপায়কে কী বলা হয়?

উত্তর: উৎপাদনের উৎপাদিত উপায়কে ‘মূলধন’ (Capital) বলা হয়।

১৪. ‘Micro’ এবং ‘Macro’ শব্দ দুইটি কোন শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘Micro’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Mikros’ এবং ‘Macro’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Makros’ থেকে নেওয়া হয়েছে।


সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

১. আদাম স্মিথের সংজ্ঞাটি লেখো।

উত্তর: -এর মতে, “অর্থবিজ্ঞান হল সম্পদের বিজ্ঞান” (Economics is the Science of Wealth)।

২. মার্সেলের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।

উত্তর: -এর মতে, “মানব জাতির দৈনন্দিন জীবনের কার্যগুলো অধ্যয়নই হল অর্থনীতি”। এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক কার্যাবলির সেই অংশটি আলোচনা করে যা পার্থিব কল্যাণসাধনের বস্তুগত উপকরণ প্রাপ্তি ও ব্যবহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

৩. রবিন্সের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।

উত্তর: -এর মতে, “যে বিজ্ঞান মানুষের আচরণকে মানুষের অপরিসীম আশা (লক্ষ্য) এবং এর বিপরীতে বিকল্পভাবে ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের (উপায়) মধ্যকার সম্পর্ককে অধ্যয়ন করে, তা-ই অর্থনীতি”।

৪. সেমুয়েলসন এবং নর্ডহাসের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।

উত্তর: এবং -এর মতে, দুষ্প্রাপ্যতার বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে সম্পদগুলোর সর্বোত্তম দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য সমাজ গঠন করাই হল অর্থনীতির মূল বিষয়বস্তু।

৫. রবিন্সের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটির মৌলিক ধারণাগুলো কী কী?

উত্তর: রবিন্সের সংজ্ঞায় তিনটি মৌলিক ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে:

  • মানুষের অভাব অসীম।
  • অভাব পূরণের উপায় বা সরঞ্জামগুলো সীমিত।
  • সীমিত সম্পদগুলো বিকল্প ব্যবহারযোগ্য।

৬. ব্যষ্টিবাদী অর্থবিজ্ঞান কাকে বলে?

উত্তর: ব্যষ্টিবাদী অর্থনীতি (Micro-Economics) ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক নিয়মগুলো স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করে। যেমন—একজন গ্রাহক, একজন সঞ্চয়কারী বা একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক আচরণ।

৭. সমষ্টিবাদী অর্থবিজ্ঞান কাকে বলে?

উত্তর: সমষ্টিবাদী অর্থনীতি (Macro-Economics) একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক ব্যবহার আলোচনা করে। যেমন—একটি দেশের মোট জনসংখ্যা, নিয়োগ বা জাতীয় আয় সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়গুলো।

৮. আর্থিক বস্তু ও অন-আর্থিক বস্তুর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

  • আর্থিক বস্তু: যে সকল বস্তুর যোগান চাহিদার তুলনায় সীমিত এবং যার নির্দিষ্ট দাম থাকে, তাকে আর্থিক বস্তু বলে। যেমন—বৈদ্যুতিক আলো, খাদ্যদ্রব্য।
  • অন-আর্থিক বা মুক্ত বস্তু: যে সকল বস্তু প্রকৃতির অকৃপণ দান এবং যা পাওয়ার জন্য কোনো মূল্য দিতে হয় না, তাকে মুক্ত বস্তু বলে। যেমন—সূর্যের তাপ, বাতাস।

৯. রাষ্ট্রীয় আয় কাকে বলে?

উত্তর: একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট বিত্তীয় বর্ষে যে সমস্ত প্রস্তুত দ্রব্য বা সেবা সামগ্রী উৎপাদন করা হয়, তার মোট মুদ্রা মূল্যই হল রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় আয়।

১০. মাথাপিছু আয়ের সূত্রটি কী?


দীর্ঘ উত্তর লেখো

১. অর্থবিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অর্থবিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা বহুমুখী:

  • নাগরিক সচেতনতা: একজন করদাতা হিসেবে সরকার কীভাবে কর সংগ্রহ ও ব্যয় করে তা জানার জন্য অর্থনীতি বোঝা প্রয়োজন।
  • সামাজিক সমস্যা সমাধান: দারিদ্র্যের মতো গভীর সামাজিক সমস্যার মূল কারণগুলো বুঝতে এবং তা দূর করতে অর্থবিজ্ঞান জ্ঞান সাহায্য করে।
  • ভোক্তা হিসেবে সচেতনতা: বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বায়নের সুফল-কুফল এবং পরিবেশ-অর্থনীতি সম্পর্কে জানার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।
  • সম্পদের সঠিক ব্যবহার: সমাজকে সীমিত সম্পদের দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে সম্পর্কে এটি শিক্ষা দেয়।

২. অর্থবিজ্ঞানের কোন সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: -এর দেওয়া সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

কারণসমূহ:

  • এটি মানুষের অসীম অভাব এবং সীমিত সম্পদের মধ্যকার বাস্তব সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
  • এটি শুধু পার্থিব কল্যাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের সার্বিক আচরণ বিশ্লেষণ করে।
  • এটি ‘পছন্দের সমস্যা’ (Problem of Choice) বা অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণগুলো (অসীম অভাব ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদ) নিখুঁতভাবে তুলে ধরে।
  • মার্শেল বা স্মিথের সংজ্ঞা যেখানে কল্যাণের নৈতিক বিচার বা শুধু সম্পদের ওপর জোর দিয়েছে, রবিন্সের সংজ্ঞা সেখানে অর্থনীতিকে একটি নিরপেক্ষ বিজ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

৩. অর্থবিজ্ঞানের পরিসর সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান বিষয়গুলো হল:

  • ভোগকার্য: মানুষের অভাব দূর করার জন্য দ্রব্য বা সেবার ব্যবহার।
  • উৎপাদন: উপযোগী সামগ্রী বা সেবার সৃষ্টি, যা ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের সমন্বয়ে ঘটে।
  • বণ্টন: উৎপাদিত সম্পদ বা আয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়ার নীতি।
  • বিনিময়: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্য আদান-প্রদান।
  • মুদ্রা ও রাজস্ব: মুদ্রার কার্যাবলি এবং সরকারের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত রাজস্ব বিজ্ঞান।
  • কল্যাণকামী ও পরিবেশ অর্থনীতি: ও -এর মতো পণ্ডিতদের জনপ্রিয় করা সামাজিক কল্যাণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ।
  • দক্ষতা: সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *