Chapter 2, বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ এবং বায়ুপ্রবাহ , Class 9, New updated book

১। বায়ুমণ্ডল কাকে বলে? তৎসহ এর গঠন সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকা গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার বিশাল আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলা হয়। পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে এই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত থাকে। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জীবের শ্বাস-প্রশ্বাস, আবহাওয়া সৃষ্টি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে।

বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সর্বাধিক, প্রায় ৭৮ শতাংশ। অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ। এছাড়া আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম, ওজোন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি গ্যাস অল্প পরিমাণে উপস্থিত থাকে। বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণাও থাকে, যা বৃষ্টিপাত, মেঘ গঠন ও আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না। তাই বায়ুমণ্ডলকে পৃথিবীর “রক্ষাকবচ” বলা হয়।




২। গ্যাসের রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত কী কী স্তরে বিভক্ত করা যায়? এই স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ গ্যাসের রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত দুটি স্তরে বিভক্ত করা যায়। যথা—

১) হোমোস্ফিয়ার (Homosphere)
২) হেটেরোস্ফিয়ার (Heterosphere) 

১) হোমোস্ফিয়ার

ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে হোমোস্ফিয়ার বলা হয়। এই স্তরে বিভিন্ন গ্যাস সমভাবে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের আধিক্য এখানে বেশি দেখা যায়। আবহাওয়ার সমস্ত পরিবর্তন যেমন—মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি এই স্তরেই সংঘটিত হয়। জীবজগতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

২) হেটেরোস্ফিয়ার

৮০ কিলোমিটারের উপরের অংশকে হেটেরোস্ফিয়ার বলা হয়। এই স্তরে গ্যাসগুলি তাদের আণবিক ভরের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা স্তরে বিভক্ত থাকে। এখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পরিমাণ বেশি। বায়ু খুবই পাতলা হওয়ায় এই স্তরে সাধারণ জীবের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।




৩। উচ্চতা এবং উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধির ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে কয়টি এবং কী কী স্তরে বিভক্ত করা যায়? চিত্রসহ যেকোনো দুটি স্তরের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ

উচ্চতা ও উষ্ণতার পরিবর্তনের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত পাঁচটি স্তরে বিভক্ত করা হয়। যথা—

১) ট্রোপোস্ফিয়ার
২) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
৩) মেসোস্ফিয়ার
৪) থার্মোস্ফিয়ার
৫) এক্সোস্ফিয়ার 



ট্রোপোস্ফিয়ার

এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরেই মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, কুয়াশা প্রভৃতি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটে। উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে এখানে উষ্ণতা কমে যায়। বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণা এই স্তরে থাকে। জীবজগতের অস্তিত্বের জন্য এই স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

ট্রোপোস্ফিয়ারের উপরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অবস্থিত। এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর থাকে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। এখানে বায়ু শান্ত ও স্থির থাকে বলে জেট বিমান এই স্তরে চলাচল করে। উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে এই স্তরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।




৪। বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্য ঘটার কারণগুলো উদাহরণসহ আলোচনা করো।

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের চাপ সব স্থানে সমান নয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণের জন্য বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে। প্রধান কারণগুলি হলো—

১) উষ্ণতার পার্থক্য

উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং নিম্নচাপ সৃষ্টি করে। অপরদিকে ঠান্ডা বায়ু ভারী হয়ে নিচে নেমে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে।
উদাহরণস্বরূপ, নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড উষ্ণতার কারণে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং মেরু অঞ্চলে শীতলতার কারণে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়।

২) উচ্চতার পার্থক্য

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, বায়ুর ঘনত্ব তত কমে যায়। ফলে বায়ুচাপও কমতে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, পাহাড়ের চূড়ায় বায়ুচাপ সমভূমির তুলনায় অনেক কম।

৩) জলীয়বাষ্পের পরিমাণ

আর্দ্র বায়ু হালকা হওয়ায় বায়ুচাপ কম হয়, আর শুষ্ক বায়ু ভারী হওয়ায় বায়ুচাপ বেশি হয়। তাই আর্দ্র অঞ্চলে সাধারণত নিম্নচাপ দেখা যায়।

৪) পৃথিবীর আবর্তন

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে বায়ুর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চাপের তারতম্য সৃষ্টি হয়। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুচাপ বলয় গঠিত হয়।




৫। চিত্রের সাহায্যে পৃথিবীর প্রধান চাপ-বলয়গুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীর উপর বায়ুচাপ সমানভাবে বণ্টিত নয়। উষ্ণতা ও পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীতে কয়েকটি প্রধান চাপ-বলয় সৃষ্টি হয়েছে। এগুলি হলো—

১) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
২) উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়
৩) উপমেরু নিম্নচাপ বলয়
৪) মেরু উচ্চচাপ বলয় 



নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়

এই বলয় নিরক্ষরেখার নিকটে অবস্থিত। এখানে সূর্যের তাপ বেশি পাওয়া যায় বলে বায়ু উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই অঞ্চলে বায়ু শান্ত থাকে বলে একে “ডলড্রাম অঞ্চল” বলা হয়।

উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়

প্রায় ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে এই বলয় অবস্থিত। উপরের ঠান্ডা বায়ু নিচে নেমে এসে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। এখান থেকেই বাণিজ্য বায়ুর উৎপত্তি হয়।

উপমেরু নিম্নচাপ বলয়

প্রায় ৬০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে এই বলয় দেখা যায়। এখানে উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনের ফলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এই অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি বেশি হয়।

মেরু উচ্চচাপ বলয়

উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অত্যন্ত ঠান্ডা বায়ু ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে এবং উচ্চচাপের সৃষ্টি করে। এখান থেকে মেরু বায়ু প্রবাহিত হয়।


৬। পৃথিবীতে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব সম্পর্কে লেখো।

উত্তরঃ পৃথিবীতে জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম। বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না। এটি পৃথিবীকে একটি সুরক্ষাবলয়ের মতো রক্ষা করে এবং অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

প্রথমত, বায়ুমণ্ডল জীবের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রদান করে। ফলে জীবজগতের জীবনচক্র বজায় থাকে।

দ্বিতীয়ত, বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে। যদি এই ওজোন স্তর না থাকত, তবে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ত।

তৃতীয়ত, বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দিনে অতিরিক্ত গরম এবং রাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা হতে দেয় না। ফলে পৃথিবীতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ বজায় থাকে।

চতুর্থত, বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয়বাষ্প মেঘ সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর ফলে নদী, হ্রদ, সমুদ্র ইত্যাদিতে জলচক্র বজায় থাকে এবং কৃষিকাজ সম্ভব হয়।

এছাড়া বায়ুমণ্ডল আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, শব্দ পরিবহনে সাহায্য করে এবং উল্কাপিণ্ডকে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়ার আগেই পুড়িয়ে দেয়। এই সব কারণেই পৃথিবীতে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বায়ুমণ্ডলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




৭। বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে? বায়ুপ্রবাহের উৎপত্তির কারণসমূহ আলোচনা করো।

উত্তরঃ উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর অনুভূমিক গতিকে বায়ুপ্রবাহ বা বায়ু বলা হয়। বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণেই বায়ুর সৃষ্টি হয়।

বায়ুপ্রবাহের উৎপত্তির প্রধান কারণসমূহ নিম্নরূপ—

১) বায়ুচাপের পার্থক্য

বায়ুপ্রবাহের প্রধান কারণ হলো বায়ুচাপের পার্থক্য। যেখানে বায়ুচাপ বেশি থাকে সেখান থেকে বায়ু নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

২) উষ্ণতার পার্থক্য

পৃথিবীর সব স্থানে সমানভাবে সূর্যতাপ পৌঁছায় না। ফলে কোথাও বায়ু উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয় এবং উপরে উঠে যায়, আবার কোথাও ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়। এর ফলে চাপের পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং বায়ুপ্রবাহ শুরু হয়।

৩) পৃথিবীর আবর্তন

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোরিওলিস বলের সৃষ্টি হয়, যা বায়ুর গতিপথকে বেঁকিয়ে দেয়। উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

৪) মহাকর্ষ শক্তি

মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে বায়ু পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং চাপের পার্থক্যের ফলে বায়ু চলাচল করে।

৫) ঘর্ষণ শক্তি

ভূপৃষ্ঠের পাহাড়, বনভূমি, সমুদ্র ইত্যাদির সঙ্গে বায়ুর ঘর্ষণ ঘটে, যা বায়ুর গতিবেগ ও দিককে প্রভাবিত করে।




৮। বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টির মূল কারণগুলো কী? এর গতি এবং দিক নির্ধারণের কারণসমূহ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুচাপের পার্থক্য। সূর্যের অসম তাপপ্রাপ্তির ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে উষ্ণতা ও বায়ুচাপের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয় এবং এর ফলেই বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়।

বায়ুর গতি ও দিক নির্ধারণের প্রধান কারণগুলি হলো—

১) চাপ পার্থক্যজনিত শক্তি

যেখানে চাপের পার্থক্য বেশি, সেখানে বায়ুর গতিবেগও বেশি হয়। চাপের পার্থক্য কম হলে বায়ুর গতিবেগ কম হয়।

২) কোরিওলিস শক্তি

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোরিওলিস শক্তির সৃষ্টি হয়। এর ফলে বায়ু সরলরেখায় প্রবাহিত না হয়ে বেঁকে যায়। উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

৩) মহাকর্ষ শক্তি

মহাকর্ষ শক্তি বায়ুকে পৃথিবীর সঙ্গে ধরে রাখে এবং বায়ুচাপের পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।

৪) ঘর্ষণ শক্তি

ভূপৃষ্ঠের অসমতা, পাহাড়-পর্বত, বনভূমি, সমুদ্র ইত্যাদির সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে বায়ুর গতি কমে যায় এবং দিক পরিবর্তিত হয়।




৯। কোরিওলিস বল বায়ুকে কীভাবে বেঁকায়? বায়ুর গতির দিক নির্ধারণে এর ভূমিকা চিত্রসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট আপাত বলকে কোরিওলিস বল বলা হয়। এই বলের প্রভাবে বায়ু তার সরল গতিপথ থেকে বেঁকে যায়। ফরাসি বিজ্ঞানী গ্যাসপার্ড কোরিওলিস এই বলের ব্যাখ্যা দেন, তাই তাঁর নামানুসারে এর নাম কোরিওলিস বল।



উত্তর গোলার্ধে বায়ু তার গতিপথের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। নিরক্ষরেখায় কোরিওলিস বলের প্রভাব সবচেয়ে কম এবং মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি।

উদাহরণস্বরূপ, উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে।

কোরিওলিস বলের কারণে পৃথিবীর প্রধান বায়ুপ্রবাহ যেমন—বাণিজ্য বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর দিক নির্ধারিত হয়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও প্রতিঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ধারণেও এই বল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০। চাপতি বা চাপের পতনশীল শক্তি বলতে কী বোঝায়? বায়ুপ্রবাহে এর ভূমিকা কী?

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে দুটি স্থানের বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে যে শক্তির সৃষ্টি হয় এবং যার প্রভাবে বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে চাপতি বা চাপের পতনশীল শক্তি (Pressure Gradient Force) বলা হয়।

এই শক্তি বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টির প্রধান কারণ। যেখানে চাপের পার্থক্য বেশি হয় সেখানে এই শক্তিও বেশি হয় এবং বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। আবার চাপের পার্থক্য কম হলে বায়ুর গতিবেগও কম হয়।

চাপতি শক্তি সর্বদা সমচাপ রেখার উপর লম্বভাবে কাজ করে এবং বায়ুকে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ যেমন—বাণিজ্য বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মৌসুমি বায়ু ইত্যাদির উৎপত্তিতে এই শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।




১১। বায়ুপ্রবাহে পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তির ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তি বায়ুমণ্ডলকে পৃথিবীর সঙ্গে আবদ্ধ করে রাখে। যদি মহাকর্ষ শক্তি না থাকত তবে বায়ুমণ্ডল মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ত এবং পৃথিবীতে কোনো বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হতো না।

মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে বায়ুর ওজন সৃষ্টি হয় এবং এর ফলেই বায়ুচাপের উৎপত্তি ঘটে। বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়।

এছাড়া মহাকর্ষ শক্তি বায়ুকে নিচের দিকে টেনে রাখে এবং বায়ুর উল্লম্ব গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। উষ্ণ বায়ু উপরে উঠলেও পরে ঠান্ডা হয়ে আবার নিচে নেমে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বায়ুচলাচল ও বায়ুপ্রবাহের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টিতে ও নিয়ন্ত্রণে পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।




১২। বাতাসের নামকরণ বলতে কী বোঝায়? একটি স্থানের উপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের নামকরণ কীভাবে করা হয়?

উত্তরঃ বাতাসের প্রবাহের দিক অনুসারে বাতাসের যে নাম নির্ধারণ করা হয় তাকে বাতাসের নামকরণ বলা হয়। সাধারণত যে দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়ে আসে সেই দিকের নাম অনুসারেই বাতাসের নামকরণ করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বাতাস উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় তবে তাকে উত্তরী বাতাস বলা হয়। একইভাবে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত বাতাসকে পশ্চিমা বাতাস বলা হয়।

আবার পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্থানীয় বায়ুরও আলাদা নাম রয়েছে। যেমন—লু, চিনুক, ফোঁন, মিসট্রাল ইত্যাদি।

বাতাসের নামকরণের মাধ্যমে বায়ুর উৎস, গতিপথ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়।




১৩। বাতাসের গতিবেগ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে? বাতাসের গতিবেগের এককগুলোর নাম কী?

উত্তরঃ বাতাসের গতিবেগ নির্ধারণ করার জন্য অ্যানিমোমিটার (Anemometer) নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে নির্দিষ্ট সময়ে বায়ু কত দ্রুত প্রবাহিত হচ্ছে তা পরিমাপ করা যায়।

বাতাসের গতিবেগ সাধারণত ঘণ্টায় কিলোমিটার (কিমি/ঘণ্টা) বা মিটার প্রতি সেকেন্ড (মি/সে) এককে প্রকাশ করা হয়। সমুদ্র ও আবহাওয়াবিদ্যায় কখনও কখনও “নট” (Knot) এককও ব্যবহৃত হয়।

আবহাওয়াবিদ ফ্রান্সিস বিউফোর্ট বাতাসের গতিবেগ বোঝানোর জন্য বিউফোর্ট স্কেল প্রবর্তন করেন। এই স্কেলের মাধ্যমে বাতাসের বেগ ও তার প্রভাব সহজে বোঝা যায়।




১৪। বাতাসের শ্রেণিবিভাগ কীভাবে করা হয়? উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ উৎপত্তি, স্থায়িত্ব ও প্রবাহের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাতাসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা—

১) প্রাথমিক বা নিয়মিত বায়ু
২) গৌণ বা সাময়িক বায়ু
৩) স্থানীয় বায়ু 

১) প্রাথমিক বা নিয়মিত বায়ু

যে বায়ু সারা বছর নির্দিষ্ট দিক দিয়ে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাকে প্রাথমিক বায়ু বলে।
উদাহরণ— বাণিজ্য বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মেরু বায়ু।

২) গৌণ বা সাময়িক বায়ু

যে বায়ু বিশেষ ঋতু বা বিশেষ অবস্থায় প্রবাহিত হয় তাকে গৌণ বায়ু বলে।
উদাহরণ— মৌসুমি বায়ু, ঘূর্ণিঝড়, প্রতিঘূর্ণিঝড়।

৩) স্থানীয় বায়ু

স্থানীয় উষ্ণতা ও চাপের পার্থক্যের কারণে স্বল্প অঞ্চলে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে স্থানীয় বায়ু বলে।
উদাহরণ— সমুদ্রবায়ু, স্থলবায়ু, লু, চিনুক, ফোঁন ইত্যাদি।




১৫। প্রাথমিক বায়ুপ্রবাহ বলতে কী বোঝায়? একটি চিত্রে প্রাথমিক বায়ুপ্রবাহের বিতরণ বা বিভাগ দেখাও। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করো।

উত্তরঃ যে বায়ু সারা বছর পৃথিবীর নির্দিষ্ট চাপবলয়গুলির মধ্যে নির্দিষ্ট দিক দিয়ে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাকে প্রাথমিক বায়ুপ্রবাহ বা নিয়মিত বায়ু বলা হয়। এই বায়ু পৃথিবীর স্থায়ী চাপবলয়ের প্রভাবে সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিক বায়ুপ্রবাহ প্রধানত তিন প্রকার—

১) বাণিজ্য বায়ু (Trade Winds)
২) পশ্চিমা বায়ু (Westerlies)
৩) মেরু বায়ু (Polar Winds)

প্রাথমিক বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য

১) বাণিজ্য বায়ু

উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।

উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

এটি উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির বায়ু।


২) পশ্চিমা বায়ু

উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।

পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর এর বড় প্রভাব রয়েছে।


৩) মেরু বায়ু

মেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।

অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির বায়ু।

১৬। গৌণ বায়ু কাকে বলে? উদাহরণ সহ একটি স্থানের জলবায়ু নির্ধারণে গৌণ বায়ুর ভূমিকা বর্ণনা করো।

উত্তরঃ যে বায়ু বিশেষ ঋতু, বিশেষ সময় বা বিশেষ আবহাওয়াগত অবস্থায় সৃষ্টি হয় এবং স্থায়ীভাবে সারা বছর প্রবাহিত হয় না, তাকে গৌণ বায়ু বলা হয়। এই বায়ু সাধারণত অস্থায়ী প্রকৃতির হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর গভীর প্রভাব ফেলে।

গৌণ বায়ুর প্রধান উদাহরণ হলো—

মৌসুমি বায়ু

ঘূর্ণিঝড়

প্রতিঘূর্ণিঝড়


জলবায়ু নির্ধারণে গৌণ বায়ুর ভূমিকা

মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগে প্রবেশ করে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর ফলে কৃষিকাজ, নদীনালা ও জলসম্পদের উন্নতি হয়।

অন্যদিকে, শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়, ফলে আবহাওয়া শীতল ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।

আবার ঘূর্ণিঝড় ও প্রতিঘূর্ণিঝড় কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, ঝড় বা শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই গৌণ বায়ু একটি স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।




১৭। স্থানীয় বায়ু কাকে বলে? স্থানীয় বায়ু একটি স্থানের আবহাওয়া নির্ধারণ বা জলবায়ুতে এর প্রভাব কেমন সংক্ষেপে উল্লেখ করো।

উত্তরঃ স্থানীয় উষ্ণতা, চাপ ও ভূপৃষ্ঠের বৈচিত্র্যের কারণে স্বল্প পরিসরে যে বায়ু সৃষ্টি হয় এবং অল্প দূরত্বে প্রবাহিত হয় তাকে স্থানীয় বায়ু বলা হয়।

স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ হলো—

সমুদ্রবায়ু

স্থলবায়ু

লু

চিনুক

ফোঁন

মিসট্রাল ইত্যাদি।


স্থানীয় বায়ুর প্রভাব

স্থানীয় বায়ু কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যেমন—

দিনের বেলায় সমুদ্রবায়ু উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা কমিয়ে আবহাওয়াকে মনোরম করে।

রাতের বেলায় স্থলবায়ু প্রবাহিত হয়।

উত্তর ভারতের “লু” অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক হওয়ায় গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম সৃষ্টি করে।

“চিনুক” তুষার গলাতে সাহায্য করে এবং শীতপ্রধান অঞ্চলের আবহাওয়াকে তুলনামূলক উষ্ণ করে তোলে।


এইভাবে স্থানীয় বায়ু একটি অঞ্চলের দৈনন্দিন আবহাওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।




১৮। ঘূর্ণি বায়ু কাকে বলে? এটি কত প্রকার ও কী কী? একটি স্থানের জলবায়ু বা আবহাওয়া নির্ধারণে এর ভূমিকা কী?

উত্তরঃ যে বায়ু কোনো নিম্নচাপ বা উচ্চচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে বৃত্তাকারে প্রবাহিত হয় তাকে ঘূর্ণি বায়ু বলা হয়।

ঘূর্ণি বায়ু প্রধানত দুই প্রকার—

১) ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন (Cyclone)
২) প্রতিঘূর্ণিঝড় বা অ্যান্টিসাইক্লোন (Anticyclone)

১) ঘূর্ণিঝড়

নিম্নচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে প্রবাহিত বায়ুকে ঘূর্ণিঝড় বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রবাহিত হয়।

২) প্রতিঘূর্ণিঝড়

উচ্চচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে প্রবাহিত বায়ুকে প্রতিঘূর্ণিঝড় বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।

আবহাওয়া ও জলবায়ুতে প্রভাব

ঘূর্ণিঝড় সাধারণত প্রবল বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ধ্বংসাত্মক আবহাওয়া সৃষ্টি করে। অন্যদিকে প্রতিঘূর্ণিঝড় শুষ্ক ও পরিষ্কার আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

এইভাবে ঘূর্ণি বায়ু একটি অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।




১৯। বায়ুরাশ কাকে বলে? কীভাবে এর শ্রেণিবিভাগ করা হয়? একটি স্থানের জলবায়ু নির্ধারণে এর ভূমিকা কী?

উত্তরঃ বিশাল বিস্তৃত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের উষ্ণতা ও আর্দ্রতাযুক্ত বায়ুর সমষ্টিকে বায়ুরাশ (Air Mass) বলা হয়।

বায়ুরাশের শ্রেণিবিভাগ

উৎপত্তিস্থল ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বায়ুরাশকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন—

১) ক্রান্তীয় মহাদেশীয় বায়ুরাশ (Tropical Continental Air Mass)
২) ক্রান্তীয় সামুদ্রিক বায়ুরাশ (Tropical Maritime Air Mass)
৩) মেরু মহাদেশীয় বায়ুরাশ (Polar Continental Air Mass)
৪) মেরু সামুদ্রিক বায়ুরাশ (Polar Maritime Air Mass) 

জলবায়ু নির্ধারণে ভূমিকা

বায়ুরাশ কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

সামুদ্রিক বায়ুরাশ আর্দ্র হওয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।

মহাদেশীয় বায়ুরাশ শুষ্ক হওয়ায় বৃষ্টিপাত কম হয়।

মেরু বায়ুরাশ ঠান্ডা আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

ক্রান্তীয় বায়ুরাশ উষ্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।


এইভাবে বায়ুরাশ একটি অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।




২০। বাত্যাবল বলতে কী বোঝ? কীভাবে এর সৃষ্টি হয়? জলবায়ু এবং বায়ুরাশের সম্পর্ক সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বায়ুরাশের মিলনস্থলে যে বিভাজনরেখা বা সংযোগস্থল সৃষ্টি হয় তাকে বাত্যাবল (Front) বলা হয়।

বাত্যাবলের সৃষ্টি

যখন উষ্ণ ও শীতল বায়ুরাশ পরস্পরের সংস্পর্শে আসে তখন তাদের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে একটি সীমারেখা সৃষ্টি হয়। এই সীমারেখাই বাত্যাবল নামে পরিচিত।

বাত্যাবল প্রধানত চার প্রকার—

শীতল বাত্যাবল

উষ্ণ বাত্যাবল

স্থির বাত্যাবল

অবরুদ্ধ বাত্যাবল


জলবায়ু ও বায়ুরাশের সম্পর্ক

বায়ুরাশের প্রকৃতি কোনো অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন ভিন্ন প্রকৃতির বায়ুরাশ মিলিত হয় তখন ঝড়, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে।

উদাহরণস্বরূপ, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুরাশের সঙ্গে শীতল বায়ুরাশের সংঘর্ষে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাই জলবায়ু গঠনে বায়ুরাশ ও বাত্যাবলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।




২১। মৌসুমি বায়ু বলতে কী বোঝ? কীভাবে মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়? পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলে এর প্রভাব সুস্পষ্ট?

উত্তরঃ যে বায়ু ঋতুভেদে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে তাকে মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind) বলা হয়। “মৌসুম” শব্দ থেকে “মৌসুমি” শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি

স্থলভাগ ও জলভাগের অসম উষ্ণতার কারণে মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।

গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে এবং সমুদ্র তুলনামূলক শীতল থাকায় সেখানে উচ্চচাপ বজায় থাকে। ফলে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

শীতকালে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়ে উচ্চচাপের সৃষ্টি করে এবং সমুদ্র অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকায় সেখানে নিম্নচাপ থাকে। ফলে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়।

প্রভাবিত অঞ্চল

মৌসুমি বায়ুর প্রভাব প্রধানত নিম্নলিখিত অঞ্চলে সুস্পষ্ট—

ভারতীয় উপমহাদেশ
বাংলাদেশ
মায়ানমার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
চীন ও জাপানের কিছু অংশ
পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চল
উত্তর অস্ট্রেলিয়া 

২২। কারণ দর্শিয়ে উত্তর লেখো।
(ক) ট্রোপোস্ফিয়ারের স্তরে প্রধানত আবহাওয়ার ক্রিয়াকলাপ কেন সংঘটিত হয়?
উত্তরঃ ট্রোপোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর এবং এই স্তরেই বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও গ্যাস অবস্থান করে। মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, কুয়াশা, বজ্রপাত ইত্যাদি আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলির জন্য জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার প্রয়োজন হয়। এছাড়া সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে এই স্তরের বায়ুকে উত্তপ্ত করে, ফলে বায়ুর উত্থান-পতন ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। তাই ট্রোপোস্ফিয়ার স্তরেই প্রধানত আবহাওয়ার ক্রিয়াকলাপ সংঘটিত হয়।

(খ) বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তার ফল কী হতে পারে?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে গ্রিনহাউস প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়, যাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলা হয়। এর প্রভাবে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে পারে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে এবং খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

(গ) ভোরের বায়ুচাপের চেয়ে রাত্রের বায়ুচাপ বেশি কেন?
উত্তরঃ দিনের বেলায় সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং সংলগ্ন বায়ুও গরম হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠে বায়ুচাপ কমে যায়। কিন্তু রাত্রে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বায়ুও শীতল ও ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং বায়ুচাপ বেড়ে যায়। তাই ভোরের তুলনায় রাত্রের বায়ুচাপ বেশি হয়।

(ঘ) ওজোন স্তর কীভাবে জীবজগতের উপকার করে?
উত্তরঃ ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে। যদি এই ক্ষতিকর রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাত, তবে মানুষের ত্বকের ক্যানসার, চোখের রোগ এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষতি হতো। তাই ওজোন স্তর পৃথিবীর জীবনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

(ঙ) সাধারণত কেন বায়ুর চাপ সর্বাধিক হয়?
উত্তরঃ সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে, কারণ সমগ্র বায়ুমণ্ডলের বায়ুর ওজন সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরেই সর্বাধিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় এবং বায়ুচাপও হ্রাস পায়। তাই সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুচাপ সর্বাধিক হয়।

(চ) ট্রোপোস্ফিয়ারের স্তরে উষ্ণ বিষুব অঞ্চল এবং বিষুব অঞ্চল কেন ভিন্ন ভিন্ন হয়?
উত্তরঃ ট্রোপোস্ফিয়ারের উচ্চতা সর্বত্র সমান নয়। বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যের তাপ বেশি পাওয়া যায় বলে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়। ফলে ট্রোপোস্ফিয়ারের উচ্চতা সেখানে বেশি হয়। কিন্তু মেরু অঞ্চলে তাপমাত্রা কম হওয়ায় বায়ু সংকুচিত থাকে এবং ট্রোপোস্ফিয়ারের উচ্চতা কম হয়। তাই উষ্ণ বিষুব অঞ্চল ও শীতল মেরু অঞ্চলে ট্রোপোস্ফিয়ারের উচ্চতা ভিন্ন হয়।

(ছ) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে ভূপ্রস্থ সমান্তরালভাবে বায়ু প্রবাহিত হওয়াটা সাধারণত কেন অসম্ভব হয়ে পড়ে?
উত্তরঃ নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে সূর্যের তাপের কারণে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়। ফলে এখানে উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহ বেশি দেখা যায়। তাই ভূপ্রস্থ সমান্তরালভাবে বা অনুভূমিকভাবে বায়ু প্রবাহিত হওয়া সাধারণত সম্ভব হয় না। এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে শান্ত বায়ুর অবস্থা সৃষ্টি হয়, যাকে ডলড্রাম বলা হয়।
২৩। নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।

(ক) বায়ুমণ্ডল কতদূর উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।




(খ) ভূপৃষ্ঠ থেকে কতদূর উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোর রাসায়নিক গঠন প্রায় একই থাকে?

উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোর রাসায়নিক গঠন প্রায় একই থাকে। এই স্তরকে হোমোস্ফিয়ার বলা হয়।




(গ) হোমোস্ফিয়ার এবং হেটেরোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সীমারেখার নাম কী?

উত্তরঃ হোমোস্ফিয়ার এবং হেটেরোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সীমারেখাকে হোমোপজ (Homopause) বলা হয়।




(ঘ) ফেরেল-এর সূত্র কী?

উত্তরঃ ফেরেল-এর সূত্র অনুযায়ী, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উত্তর গোলার্ধে বায়ু তার গতিপথের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।




(ঙ) বিউফোর্ট স্কেল কী? উদাহরণ সহ এই স্কেলের ব্যবহার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ বাতাসের গতিবেগ ও তার প্রভাব নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত স্কেলকে বিউফোর্ট স্কেল (Beaufort Scale) বলা হয়। আবহাওয়াবিদ স্যার ফ্রান্সিস বিউফোর্ট এই স্কেল প্রবর্তন করেন।

এই স্কেলের সাহায্যে বাতাসের বেগকে ০ থেকে ১২ মাত্রায় ভাগ করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ— ০ মাত্রায় শান্ত বায়ু (Calm) বোঝায়।
১২ মাত্রায় প্রবল হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড় (Hurricane) বোঝায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সমুদ্রযাত্রা এবং ঝড়ের তীব্রতা নির্ণয়ে এই স্কেল ব্যবহার করা হয়।

২৪। সংক্ষেপে টীকা লেখো।

(ক) হোমোস্ফিয়ার

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের নিম্নাংশ যেখানে গ্যাসগুলির রাসায়নিক গঠন প্রায় একই থাকে তাকে হোমোস্ফিয়ার বলা হয়। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন প্রভৃতি গ্যাস সমভাবে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। আবহাওয়ার অধিকাংশ পরিবর্তন এই স্তরেই ঘটে।




(খ) হেটেরোস্ফিয়ার

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বাংশ যেখানে গ্যাসগুলি আণবিক ভরের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক স্তরে অবস্থান করে তাকে হেটেরোস্ফিয়ার বলা হয়। এটি প্রায় ৮০ কিলোমিটারের উপরে অবস্থিত। এখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পরিমাণ বেশি এবং বায়ু অত্যন্ত পাতলা।




(গ) বায়ুর তাপ, ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং বায়ুচাপের সম্পর্ক

উত্তরঃ বায়ুর তাপমাত্রা, ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা ও বায়ুচাপ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাপমাত্রা বাড়লে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং বায়ুচাপ কমে যায়। আবার তাপমাত্রা কমলে বায়ু ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে এবং বায়ুচাপ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, বায়ুর ঘনত্ব তত কমে এবং বায়ুচাপও হ্রাস পায়।




(ঘ) মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়

উত্তরঃ উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অত্যন্ত শীতল ও ভারী বায়ু নিচে নেমে এসে যে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি করে তাকে মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় বলা হয়। এই অঞ্চল থেকে মেরু বায়ু উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এখানে আবহাওয়া সাধারণত অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক।




(ঙ) বায়ুপ্রবাহ তন্ত্র বা প্রক্রিয়া

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চলাচলের সামগ্রিক ব্যবস্থাকে বায়ুপ্রবাহ তন্ত্র বলা হয়। সূর্যের অসম তাপপ্রাপ্তি, বায়ুচাপের পার্থক্য, পৃথিবীর আবর্তন এবং ভূপৃষ্ঠের বৈচিত্র্যের কারণে এই বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর প্রধান বায়ুপ্রবাহগুলির মধ্যে বাণিজ্য বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু উল্লেখযোগ্য।




(চ) চাপতি বা চাপের পতনশীলতা

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে দুটি স্থানের বায়ুচাপের পার্থক্যের ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয় এবং যার প্রভাবে বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে চাপতি বা চাপের পতনশীলতা বলা হয়। এই শক্তি বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টির প্রধান কারণ। চাপের পার্থক্য যত বেশি হয়, বায়ুর গতিবেগও তত বেশি হয়।




(ছ) বাণিজ্য বায়ু

উত্তরঃ উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে বাণিজ্য বায়ু বলা হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির।




(জ) অশ্ব অক্ষাংশ

উত্তরঃ প্রায় ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়। অতীতে সমুদ্রযাত্রার সময় এই অঞ্চলে বায়ু শান্ত থাকত বলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতো এবং নাবিকেরা অতিরিক্ত ঘোড়া সমুদ্রে ফেলে দিত। সেই থেকেই এই নামের উৎপত্তি।




(ঝ) গর্জনময় চল্লিশ

উত্তরঃ দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০° অক্ষাংশ অঞ্চলে পশ্চিমা বায়ুর প্রবল ও গর্জনময় প্রবাহকে গর্জনময় চল্লিশ (Roaring Forties) বলা হয়। এখানে স্থলভাগ কম থাকায় বায়ুর গতি অত্যন্ত বেশি হয়।




(ঞ) প্রতীচ্য ঘূর্ণি বায়ু

উত্তরঃ উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত বায়ুকে প্রতীচ্য ঘূর্ণি বায়ু বা পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। এই বায়ু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।




(ট) জেট প্রবাহ

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রবাহিত সরু বায়ুধারাকে জেট প্রবাহ বলা হয়। এটি সাধারণত ট্রোপোপজ অঞ্চলে দেখা যায়। জেট প্রবাহ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।




(ঠ) সামুদ্রিক বায়ু

উত্তরঃ দিনের বেলায় সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে যে শীতল ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে সামুদ্রিক বায়ু বা সমুদ্রবায়ু বলা হয়। দিনের বেলায় স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করলে সমুদ্রের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়াকে শীতল ও মনোরম করে।




(ড) ক্রান্তীয় ঘূর্ণি বায়ু

উত্তরঃ উষ্ণ সমুদ্রের উপর সৃষ্ট প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় তাকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণি বায়ু বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। এটি প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। বিভিন্ন অঞ্চলে একে টাইফুন, হারিকেন বা সাইক্লোন নামেও ডাকা হয়।
২৫। পার্থক্য লেখো।

(ক) আনুভূমিক এবং উল্লম্ব প্রবাহ

উত্তরঃ আনুভূমিক প্রবাহ বলতে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালভাবে বায়ুর চলাচলকে বোঝায়। এটি সাধারণত উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। উদাহরণ হিসেবে সাধারণ বায়ুপ্রবাহকে উল্লেখ করা যায়।

অন্যদিকে, উল্লম্ব প্রবাহ বলতে ভূপৃষ্ঠের উপর বা নিচের দিকে বায়ুর চলাচলকে বোঝায়। উষ্ণ বায়ু উপরে ওঠে এবং ঠান্ডা বায়ু নিচে নেমে আসে—এটাই উল্লম্ব প্রবাহের উদাহরণ।




(খ) বায়ুপ্রবাহ এবং বায়ুরাশ

উত্তরঃ বায়ুপ্রবাহ হলো উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচল। এটি সর্বদা গতিশীল। যেমন—বাণিজ্য বায়ু বা পশ্চিমা বায়ু।

অপরদিকে, বায়ুরাশ হলো বিশাল অঞ্চলে একই ধরনের উষ্ণতা ও আর্দ্রতাযুক্ত বায়ুর সমষ্টি। এটি একটি বৃহৎ বায়ুগুচ্ছ, যার নিজস্ব তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বৈশিষ্ট্য থাকে।




(গ) ক্রান্তীয় এবং বহিঃক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়

উত্তরঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ ক্রান্তীয় সমুদ্র অঞ্চলে সৃষ্টি হয়। এটি উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে গঠিত হয় এবং খুব শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্র তৈরি করে। টাইফুন, হারিকেন ও সাইক্লোন এর উদাহরণ।

অন্যদিকে, বহিঃক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সৃষ্টি হয়। এটি উষ্ণ ও শীতল বায়ুরাশের সংঘর্ষে গঠিত হয় এবং একে টেম্পারেট সাইক্লোনও বলা হয়।




(ঘ) জলবায়ু এবং স্থলবায়ু

উত্তরঃ জলবায়ু বলতে দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে বোঝায়। এটি কোনো অঞ্চলের বহু বছরের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে।

অপরদিকে, স্থলবায়ু হলো রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত বায়ু। এটি দৈনিক তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয় এবং প্রধানত উপকূলীয় অঞ্চলে অনুভূত হয়।




(ঙ) পর্বত এবং উপত্যকা বায়ু

উত্তরঃ পর্বত বায়ু রাতে পাহাড়ের ঢাল থেকে নিচের উপত্যকার দিকে প্রবাহিত হয়। এটি শীতল ও ভারী প্রকৃতির বায়ু।

অন্যদিকে, উপত্যকা বায়ু দিনের বেলায় উপত্যকা থেকে পাহাড়ের ঢালের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি তুলনামূলক উষ্ণ প্রকৃতির বায়ু।




(চ) শীতল এবং উষ্ণ বাত্যাবল

উত্তরঃ শীতল বাত্যাবল তখন সৃষ্টি হয় যখন শীতল বায়ুরাশ উষ্ণ বায়ুরাশকে সরিয়ে দেয়। এতে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি দ্রুত অগ্রসর হয়।

অপরদিকে, উষ্ণ বাত্যাবল সৃষ্টি হয় যখন উষ্ণ বায়ুরাশ শীতল বায়ুরাশের উপর উঠে যায়। এতে দীর্ঘস্থায়ী হালকা বৃষ্টিপাত হয় এবং এটি ধীরে অগ্রসর হয়।




(ছ) ঘূর্ণি বায়ু এবং প্রতীচ্য ঘূর্ণি বায়ু

উত্তরঃ ঘূর্ণি বায়ু হলো নিম্নচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে বায়ুর ঘূর্ণায়মান প্রবাহ। এটি ঝড় ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রতীচ্য ঘূর্ণি বায়ু বা পশ্চিমা বায়ু উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।




(জ) ট্রোপোস্ফিয়ার এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

উত্তরঃ ট্রোপোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এখানে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়সহ সব ধরনের আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই স্তরে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যায়।

অপরদিকে, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ট্রোপোস্ফিয়ারের উপরের স্তর। এখানে আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব কম হয় এবং ওজোন স্তর অবস্থিত। এই স্তরে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
২৬। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে নাও।

(গ) বায়ুপ্রবাহের মূল কারণ হলো—

১) আর্দ্রতার তারতম্য
২) চাপের তারতম্য
৩) মহাকর্ষ শক্তি
৪) অপকেন্দ্রিক বল

উত্তরঃ

২) চাপের তারতম্য




(ঘ) বাতাসের গতিবেগ নির্ণয়কারী যন্ত্র হলো—

১) উইন্ড ভেন
২) অ্যানিমোমিটার
৩) বিউফোর্ট স্কেল
৪) হাইগ্রোমিটার

উত্তরঃ

২) অ্যানিমোমিটার




(ঙ) বাতাসের গতিবেগের এককটি হলো—

১) নট
২) মিলিবার
৩) শতাংশ
৪) ডিগ্রি

উত্তরঃ

১) নট




(চ) মৌসুমি বাতাস কোন শ্রেণির অন্তর্গত?

১) স্থানীয় বাতাস
২) প্রাথমিক বাতাস
৩) গৌণ বাতাস
৪) নিয়মিত বাতাস

উত্তরঃ

৩) গৌণ বাতাস




(ছ) আটলান্টিক মহাসাগরীয় উপকূল অঞ্চলের ঘূর্ণি বাতাসের নাম হলো—

১) সাইক্লোন
২) হারিকেন
৩) উইলি উইলি
৪) টাইফুন

উত্তরঃ

২) হারিকেন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *