আবহাওয়া ও জলবায়ু | ভারতের মৌসুমি জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্য – সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর
আবহাওয়া ও জলবায়ু – গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
আবহাওয়া ও জলবায়ু ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়ে আবহাওয়া, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা এবং ভারতের মৌসুমি জলবায়ু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিচে অনুশীলনী প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
অনুশীলনী-১ (পৃষ্ঠা ৫)
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
(ক) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে থাকা দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।
উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুর দুটি পার্থক্য হলো:
- সময়: আবহাওয়া হলো বায়ুমণ্ডলের একটি স্বল্পকালীন বা বিশেষ মুহূর্তের অবস্থা, অন্যদিকে জলবায়ু বলতে কোনো একটি জায়গার দীর্ঘদিনের (৩০ থেকে ৫০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে বোঝায়।
- পরিবর্তনশীলতা: আবহাওয়া সময় ও অবস্থানের সামান্য ব্যবধানেই পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু জলবায়ু সহজে পরিবর্তিত হয় না।
(খ) বাতাস কীভাবে একটি অঞ্চল থেকে অন্য একটি অঞ্চলে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: চাপের পার্থক্যের ফলে বায়ু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গতিশীল হয়। বাতাস সাধারণত উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(গ) বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার প্রধান উৎস কী?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার প্রধান উৎস হলো সূর্য।
(ঘ) আর্দ্রতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ মাপের মানদণ্ডকে আর্দ্রতা (Humidity) বলা হয়।
(ঙ) বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রটির নাম কী?
উত্তর: বায়ুর চাপ মাপার জন্য ‘ব্যারোমিটার’ নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
(চ) কী কী উপাদান আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণকারী উপাদানগুলো হলো অক্ষাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, সাগরের থেকে দূরত্ব, সাগরের স্রোত, পাহাড় পর্বতের অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, ভূমির ঢাল এবং উদ্ভিদের স্থিতি।
২. বৃষ্টির সৃষ্টি কী করে হয়?
উত্তর: সূর্যের তাপে জলাশয়ের জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলের ওপরে গিয়ে ঠান্ডা হয়ে জলের কণিকাতে রূপান্তরিত হয় (ঘনীভবন)। এই জলের কণিকাগুলি অতিরিক্ত ঠান্ডার ফলে ফোঁটায় পরিণত হয় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে নেমে আসে।
৩. আবহাওয়া কাকে বলে? আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলোর বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ মুহূর্তের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলো হলো:
- বায়ুর উষ্ণতা: বায়ুমণ্ডলের গরম বা ঠান্ডার পরিমাপ।
- বায়ুর চাপ: মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট ভুপৃষ্ঠমুখী চাপ।
- জলীয় বাষ্প: বায়ুতে মিশে থাকা বাষ্পীভূত জল যা আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- বাতাস: উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপে প্রবাহিত গতিশীল বায়ু।
- বৃষ্টিপাত: বায়ুমণ্ডলের ঘনীভূত জলকণা যা পৃথিবীতে নেমে আসে।
অনুশীলনী-২ (পৃষ্ঠা ১০)
১. নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
(ক) ভারতকে কি জলবায়ুর দেশ বলা হয়?
উত্তর: ভারতকে ‘মৌসুমি জলবায়ুর দেশ’ বলা হয়।
(খ) তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে কেন বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসার সময় কিছু পরিমাণ জলীয়বাষ্প শোষণ করে, যার ফলে তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
(গ) কোন্ ঋতুতে গাছের পাতা ঝরে পড়ে?
উত্তর: হেমন্ত ঋতুতে ধীরে ধীরে গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
(ঘ) ঋতু বিভাজনের ভিত্তি কী?
উত্তর: ঋতু বিভাজনের ভিত্তি হলো স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন। এছাড়া সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর পরিক্রমাণ ও দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনও এতে প্রভাব ফেলে।
(ঙ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কোন্ দুটি সাগরের ওপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে?
উত্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ‘আরব সাগর’ এবং ‘বঙ্গোপসাগর’—এই দুটি সাগরের ওপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
২. ভারতে বিরাজ করা জলবায়ু সম্পর্কে একটি টীকা প্রস্তুত করো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ু প্রধানত মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই একে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। এখানে মূলত গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—এই ছয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়। অক্ষাংশ, হিমালয় পর্বতের অবস্থান এবং সমুদ্রের নৈকট্যের কারণে ভারতের বিভিন্ন স্থানে জলবায়ুর বৈচিত্র্য দেখা যায়। উত্তর-পূর্ব ভারত ও উপকূলে জলবায়ু আর্দ্র, অন্যদিকে পশ্চিমে রাজস্থান অঞ্চলে জলবায়ু অত্যন্ত শুষ্ক।
৩. ভারতের পরিবেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের পরিবেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম:
- বৃষ্টিপাত: ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের সিংহভাগই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে ঘটে।
- কৃষি: ভারতীয় কৃষি ব্যবস্থা মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
- জীববৈচিত্র্য: মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে অরুণাচল ও পশ্চিমঘাটে বর্ষারণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- অর্থনীতি: কৃষি ও জলসম্পদের বিকাশে মৌসুমি বায়ুর ভূমিকা দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: ভারতের বৃষ্টিপাতকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
- অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত অঞ্চল: উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমঘাট উপকূল (বার্ষিক গড়ে ৪০০ সেমি)।
- অধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল: বিহার, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ ও নাগাল্যান্ডের কিছু অংশ (গড়ে ২০০-৩০০ সেমি)।
- মাঝারি বৃষ্টিপাত অঞ্চল: মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার কিছু অংশ (গড়ে ১০০-২০০ সেমি)।
- হালকা বৃষ্টিপাত অঞ্চল: মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাট (গড়ে ৫০-১০০ সেমি)।
- মরুভূমি অঞ্চল: রাজস্থান ও লাডাখ (গড়ে ৫০ সেমি-র নিচে)।
