মধ্যযুগের অসম (পাঠ ৮) – অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর | SEBA Class 10 ইতিহাস
অধ্যায়ের নাম: মধ্যযুগের অসম
অনুশীলনী – ১ (পৃষ্ঠা ৭৯–৮০)
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
(ক) শদিয়া কোন্ রাজবংশের শাসন কেন্দ্র ছিল?
উত্তর: শদিয়া চুতিয়া রাজবংশের শাসন কেন্দ্র ছিল।
(খ) ভূঞাগণ কারা ছিল?
উত্তর: ভূঞাগণ প্রথম অবস্থায় কামতা বা কামরূপের রাজাদের ভূ-সামন্ত বা আঞ্চলিক প্রধান ছিলেন।
(গ) ভূঞাগণ কখন থেকে মধ্য অসমের এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল?
উত্তর: কামতা রাজ্যের রাজা সন্ধ্যার শাসনকালে রাজ্যটি দুর্বল হয়ে পড়লে সেই সুযোগে ভূঞাগণ নিজেদের কর্তৃত্ব অসমের পশ্চিম দিক পর্যন্ত বিস্তার করে মধ্য অসমের এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
(ঘ) ডিমাপুর ও মাইবঙে কোন্ রাজবংশ শাসন করেছিল?
উত্তর: ডিমাপুর ও মাইবঙে কাছারি রাজবংশ শাসন করেছিল।
(ঙ) কোন্ রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় সুকবি নারায়ণদেব অসমিয়া ভাষায় পদ্মপুরাণ রচনা করেছিলেন?
উত্তর: কোচ রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় সুকবি নারায়ণদেব অসমিয়া ভাষায় ‘পদ্মপুরাণ’ রচনা করেছিলেন।
২. কেঁচাইখাইতি গোঁসানিকে কেন তাম্রেশ্বরী বলে ডাকা হয়?
উত্তর: চুতিয়াদের উপাস্য দেবী কেঁচাইখাইতি গোঁসানির বিগ্রহ রাখার জন্য নির্মিত মন্দিরটির চূড়া বা ছাদ তামার পাত দিয়ে আবৃত ছিল। এই কারণে মন্দিরটি তাম্রেশ্বরী মন্দির এবং দেবী কেঁচাইখাইতি গোঁসানিকে তাম্রেশ্বরী নামে ডাকা হতো।
৩. ভূঞাদের বারো ভূঞা ও ছোট ভূঞা—এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল কেন?
উত্তর: ভূমি রাজস্ব বা কর সংগ্রহের হিসাব-নিকাশের সুবিধার্থে গ্রামের লোকদের বারোটি বা তার কম গ্রামের দলে ভাগ করা হয়েছিল। যে আধিকারিকের অধীনে বারোটি গ্রাম থাকত, তাঁকে বারভূঞা বলা হতো। আর বারোটির কম গ্রাম নিয়ে গঠিত দলের আধিকারিকদের ছোট-ভূঞা বলা হতো।
৪. কোচ রাজ্যটি বিভক্ত হয়েছিল কেন? বিভক্তির পর গড়ে ওঠা শাসন কেন্দ্র দুটি কী কী ছিল?
উত্তর: মহারাজ নরনারায়ণের মৃত্যুর পর কোচ রাজপরিবারে ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোন্দল বা বিবাদের সৃষ্টি হওয়ায় কোচ রাজ্যটি বিভক্ত হয়েছিল। বিভক্তির পর গড়ে ওঠা দুটি শাসন কেন্দ্র হলো— কোচবিহার এবং কোচ হাজো।
৫. অসমে স্থাপত্য-ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে কোচদের অবদান উল্লেখ করো।
উত্তর: অসমে স্থাপত্য-ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে কোচ রাজাদের উল্লেখযোগ্য অবদান হলো—
- গুয়াহাটির বিখ্যাত কামাখ্যা মন্দির।
- হাজোর হয়গ্রীব-মাধব মন্দির এবং এর অনন্য প্রবেশদ্বার।
- আহোম রাজ্য আক্রমণের সুবিধার্থে নির্মিত দীর্ঘ গোহাঁই কমল আলি।
অনুশীলনী – ২ (পৃষ্ঠা ৮৫–৮৬)
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
(ক) আহোমেরা অসমের কোন্ দিক থেকে প্রবেশ করেছিল এবং কখন প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিল?
উত্তর: আহোমরা পাটকাই পর্বত অতিক্রম করে অসমের পূর্ব দিক (বর্তমান মায়ানমার বা ব্রহ্মদেশের মাওলুং রাজ্য) থেকে প্রবেশ করেছিল এবং ১২৫৩ খ্রিস্টাব্দে চরাইদেউতে তাদের প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিল।
(খ) মিরজুমলার সঙ্গে আসা লেখকের নাম কী?
উত্তর: মিরজুমলার সঙ্গে আসা লেখকের নাম ছিল সিহাবউদ্দিন তালিশ।
(গ) আহোমরা সীমান্তবর্তী পাহাড়িয়া জাতিগুলোর সঙ্গে করা বন্দোবস্তকে কী বলা হতো?
উত্তর: আহোমরা সীমান্তবর্তী পাহাড়িয়া জাতিগুলোর সঙ্গে করা বন্দোবস্তকে ‘পচা ব্যবস্থা’ বা ‘পচা প্রথা’ বলত।
(ঘ) আহোমরা প্রথমে কোন্ ভাষাতে বুরঞ্জি লিখেছিলেন?
উত্তর: আহোমরা প্রথমে টাই-আহোম ভাষায় বুরঞ্জি লিখেছিলেন।
২. ১৬০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে আহোম শাসনের সংকটকাল বলা হয় কেন?
উত্তর: ১৬০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আহোমদের সঙ্গে শক্তিশালী মোগলদের ধারাবাহিক ও তীব্র সংঘর্ষ চলেছিল। এই কারণেই এই সময়কালকে আহোম শাসনের সংকটকাল বলা হয়।
৩. আহোম রাজ্য কেন ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: পরবর্তী আহোম শাসকদের সময়ে অভ্যন্তরীণ গৃহকোন্দল, মোয়ামরিয়া বিদ্রোহ, দন্দুয়াদ্রোহ এবং মান-এর উপ্যুপরি আক্রমণের ফলে আহোম রাজ্য ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
৪. প্রত্যেক পাইক চাষ করার জন্য দু-পোয়া করে খাজনাবিহীন মাটি পেয়েছিল কেন?
উত্তর: পাইক প্রথা অনুযায়ী ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রত্যেক সক্ষম পুরুষকে আহোম রাজার হয়ে শারীরিক শ্রম দিতে হতো অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হতো। রাজার অধীনে এই সেবার বিনিময়ে প্রত্যেক পাইককে চাষাবাদের জন্য দু-পোয়া করে খাজনাবিহীন জমি প্রদান করা হয়েছিল।
