পাঠ–৩ : ভারতের কৃষি ও উদ্যোগ, Class 7, chapter 3, SEBA, new textbook

পাঠ–৩ : ভারতের কৃষি ও উদ্যোগ

অনুশীলনী–১

১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) ভারতবর্ষে কৃষি ঋতু কতগুলো ও কী কী?

উত্তর : ভারতবর্ষে তিনটি কৃষি ঋতু আছে— ১) খরিফ (গ্ৰীষ্মকাল)
২) রবি (শীতকাল)
৩) জায়দ

(খ) ভারতের কোন কোন রাজ্যে কী কী রোপণ শস্যের চাষ করা হয়?

উত্তর : অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, ওডিশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অঞ্চলে রোপণ কৃষি প্রচলিত। এখানে চা, রাবার, আখ, কলা, নারিকেল, কফি প্রভৃতি শস্যের চাষ করা হয়।

(গ) ঝুম চাষ কী?

উত্তর : পাহাড়ি অঞ্চলে বনভূমি পরিষ্কার করে আগুন লাগিয়ে কয়েক বছর চাষ করার পর মাটির উর্বরতা কমে গেলে অন্য স্থানে গিয়ে একইভাবে চাষ করার পদ্ধতিকে ঝুম চাষ বা স্থানান্তরিত কৃষি বলা হয়।

(ঘ) মিশ্র কৃষি বলতে কী বোঝ?

উত্তর : যে কৃষি ব্যবস্থায় শস্য উৎপাদনের পাশাপাশি একই জমিতে পশুপালনও করা হয়, তাকে মিশ্র কৃষি বলে।

(ঙ) ট্রাক ফার্মিং কী? এই পদ্ধতিতে সাধারণত কীসের চাষ করা হয়?

উত্তর : ট্রাকের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের পদ্ধতিকে ট্রাক ফার্মিং বলে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত ফলমূল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় শস্যের চাষ করা হয়।

২. কৃষিকে কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়?

উত্তর : ভারত একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও কৃষি-সম্পর্কিত কাজে নিয়োজিত। কৃষি মানুষের খাদ্যের যোগান দেয় এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে। কৃষির উন্নতির সঙ্গে পরিবহন, বাণিজ্য ও শিল্পেরও বিকাশ ঘটে। তাই কৃষিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

৩. আমাদের দেশে প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে কী কী শস্যের চাষ করা হয়? উদাহরণসহ লেখ।

উত্তর : আমাদের দেশে প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে ধান, গম, ডালজাতীয় শস্য, বাজরা, জোয়ার ইত্যাদির চাষ করা হয়। এছাড়া ভুট্টা, আলু, আখ, সরিষা প্রভৃতিও উৎপাদিত হয়।

৪. ভারতে প্রচলিত কৃষি পদ্ধতি নিয়ে একটি টীকা লেখ।

উত্তর : ভারতে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। এগুলির মধ্যে স্থানান্তরিত কৃষি, ধাপচাষ, নিবিড় কৃষি, মিশ্র কৃষি, রোপণ কৃষি এবং উদ্যান কৃষি উল্লেখযোগ্য। স্থানভেদে জলবায়ু, ভূমিরূপ, মাটির গঠন এবং মানুষের আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন কৃষি পদ্ধতি গড়ে উঠেছে।


অনুশীলনী–২

১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) গম ও আখ চাষের জন্য ভারতের কোন কোন রাজ্য বিখ্যাত?

উত্তর : উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা অঞ্চল, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর রাজস্থানের অংশ গম ও আখ চাষের জন্য বিখ্যাত।

(খ) যেকোনো দুই ধরনের তৈলবীজ শস্যের নাম লেখ।

উত্তর : ১) বাদাম
২) সরিষা

(গ) বৃষ্টিছায়া অঞ্চল কাকে বলে?

উত্তর : জলীয় বাষ্প বহনকারী বায়ু যখন পাহাড়ের বাধার কারণে একদিকে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে অন্যদিকে শুষ্ক অবস্থার সৃষ্টি করে, তখন পাহাড়ের বিপরীত দিকের কম বৃষ্টিপাতপ্রাপ্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিছায়া অঞ্চল বলে।

(ঘ) ভারতের কোন কোন অঞ্চল কাপাস (তুলা) চাষের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর : ভারতের দক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশ, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের কিছু অঞ্চল কাপাস (তুলা) চাষের জন্য বিখ্যাত।

(ঙ) যেকোনো দুই ধরনের মসলাজাতীয় শস্যের নাম লেখ।

উত্তর : ১) লবঙ্গ
২) এলাচ

(চ) সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝ?

উত্তর : প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং নিয়ন্ত্রিত জলসেচ ব্যবস্থার সাহায্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে সবুজ বিপ্লব বলা হয়।


অনুশীলনী–৩

১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(ক) তিনটি হস্তশিল্পের নাম লেখ।

উত্তর : ১) মৃৎশিল্প।
২) কাঁসা শিল্প ।
৩) গয়নাশিল্প।

(খ) কোন সালে ভারতের প্রথম ইস্পাত কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল?

উত্তর : ১৯০৭ সালে ভারতের প্রথম ইস্পাত কারখানা বর্তমান ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে স্থাপন করা হয়।

(গ) ছোটনাগপুর অঞ্চলকে কেন ভারতের ভারী শিল্পাঞ্চল বলা হয়?

উত্তর : খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য এবং ইস্পাত, ধাতু, ভারী যন্ত্রাংশ ও রাসায়নিক শিল্পের বিকাশের জন্য ছোটনাগপুর অঞ্চলকে ভারতের ভারী শিল্পাঞ্চল বলা হয়।

(ঘ) হুগলি শিল্পাঞ্চল কোন কোন উদ্যোগের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর : হুগলি শিল্পাঞ্চল পাটশিল্প, বস্ত্রশিল্প, কাগজশিল্প, রাসায়নিক শিল্প, ওষুধ শিল্প এবং বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।

(ঙ) মুম্বাই-পুনে শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত স্থানসমূহের নাম লেখ।

উত্তর : মুম্বাই, থানে, ভাণ্ডুপ এবং পুনে মুম্বাই-পুনে শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত প্রধান স্থান।

(চ) ভারতের প্রতিটি স্থানে শিল্পাঞ্চল গড়ে না ওঠার মূল কারণ উল্লেখ কর।

উত্তর : প্রতিটি স্থানে পর্যাপ্ত কাঁচামাল, খনিজ সম্পদ, পরিবহন ব্যবস্থা, দক্ষ শ্রমিক, বিদ্যুৎ এবং বাজারের সুবিধা সমানভাবে না থাকায় সব জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠেনি।

২. উদ্যোগগুলোকে কীসের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভক্ত করা হয়েছে? শ্রেণিগুলো কী কী?

উত্তর : উদ্যোগের আকার, কাঁচামাল, উৎপাদন ও মালিকানার ভিত্তিতে উদ্যোগগুলোকে শ্রেণিবিভক্ত করা হয়েছে।

শ্রেণিগুলো হলো— ১) কুটির উদ্যোগ
২) ক্ষুদ্র উদ্যোগ
৩) বৃহৎ উদ্যোগ

৩. একটি দেশের শিল্পায়নে প্রভাব ফেলার মতো উপাদানগুলো কী কী?

উত্তর : একটি দেশের শিল্পায়নে প্রভাব ফেলার প্রধান উপাদানগুলো হলো—

  • কাঁচামালের প্রাপ্যতা
  • খনিজ সম্পদের সহজলভ্যতা
  • উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা
  • অনুকূল জলবায়ু
  • দক্ষ শ্রমিক
  • বিদ্যুতের ব্যবস্থা
  • বাজারের সুবিধা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *