পাঠ–২ : আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ঋতু পরিবর্তন
অনুশীলনী–১
১. নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
(ক) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে থাকা দুটি পার্থক্য উল্লেখ কর।
উত্তর : ১) কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে, আর দীর্ঘদিনের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
২) আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল, কিন্তু জলবায়ু তুলনামূলকভাবে স্থায়ী।
(খ) বাতাস কীভাবে একটি অঞ্চল থেকে অন্য একটি অঞ্চলে প্রবাহিত হয়?
উত্তর : বাতাস উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(গ) বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার প্রধান উৎস কী?
উত্তর : সূর্যই বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার প্রধান উৎস।
(ঘ) আর্দ্রতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে আর্দ্রতা (Humidity) বলে।
(ঙ) বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রটির নাম কী?
উত্তর : বায়ুর চাপ মাপার জন্য ব্যারোমিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
(চ) কী কী উপাদান আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর : অক্ষাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, সাগরের থেকে দূরত্ব, সাগরের স্রোত, পাহাড়-পর্বতের অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, ভূমির ঢাল এবং উদ্ভিদের স্থিতি ইত্যাদি আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
২. বৃষ্টির সৃষ্টি কী করে হয়?
উত্তর : সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুর সঙ্গে উপরে উঠে যায়। উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এই জলকণাগুলি বড় হয়ে পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে বৃষ্টিরূপে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে।
৩. আবহাওয়া কাকে বলে? আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলোর বিষয়ে সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর : বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
আবহাওয়ার প্রধান উপাদান :
(ক) বায়ুর উষ্ণতা
বায়ুমণ্ডলের গরম বা ঠান্ডার পরিমাণকে উষ্ণতা বলে। এর প্রধান উৎস সূর্য।
(খ) বায়ুর চাপ
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে বায়ুর চাপ বলে। এটি ব্যারোমিটার দ্বারা মাপা হয়।
(গ) জলীয় বাষ্প
ভূ-পৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। জলীয় বাষ্প মেঘ ও বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করে।
(ঘ) বাতাস
উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে বাতাস বলে। এটি আবহাওয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
অনুশীলনী–২
১. নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) ভারতকে কী জলবায়ুর দেশ বলা হয়?
উত্তর : ভারতকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়।
(খ) তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে কেন বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর : উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কিছু পরিমাণ জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। এর ফলে তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।
(গ) কোন ঋতুতে গাছের পাতা ঝরে পড়ে?
উত্তর : হেমন্ত ঋতুতে গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
(ঘ) ঋতু বিভাগের ভিত্তি কী?
উত্তর : সাধারণত স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুকে ভিত্তি করে ঋতু বিভাগ করা হয়।
(ঙ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কোন দুটি সাগরের উপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে?
উত্তর : দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
২. ভারতে বিরাজ করা জলবায়ু সম্পর্কে একটি টীকা প্রস্তুত করো।
উত্তর : ভারতের জলবায়ু মৌসুমি প্রকৃতির। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তারতম্য দেখা যায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্ষাকালে অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, পাহাড়-পর্বতের অবস্থান ইত্যাদি ভারতের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
৩. ভারতের পরিবেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতের বর্ষাকাল মৌসুমি বায়ুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং কৃষি, জলসম্পদ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। মৌসুমি বায়ুর তারতম্যের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
৪. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : ভারতে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়।
১) অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চল — বার্ষিক গড় ৪০০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
২) অধিক বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চল — ২০০ থেকে ৩০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
৩) মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চল — ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
৪) হালকা বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চল — ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
৫) মরুভূমি ও অর্ধ-মরুভূমি অঞ্চল — ৫০ সেন্টিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয়।
