পাঠ–১ : পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ এবং ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
অনুশীলনী–১
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন বলতে কী বোঝ?
উত্তর : পৃথিবীর গঠন, আকার ও বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনকে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন বলা হয়।
(খ) ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনের কারণ কতগুলো ও কী কী?
উত্তর : ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনের কারণ প্রধানত দুই প্রকার— ১) অভ্যন্তরীণ কারণ (Internal Factors)
২) বাহ্যিক কারণ (External Factors)।
(গ) ভূ-পৃষ্ঠের কেন্দ্রভাগের উষ্ণতা কত?
উত্তর : বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াসেরও বেশি।
(ঘ) সিমা (SiMa) শব্দটি কোথা থেকে এসেছে?
উত্তর : ‘SiMa’ শব্দের ‘Si’ দ্বারা সিলিকা এবং ‘Ma’ দ্বারা ম্যাগনেসিয়াম বোঝানো হয়েছে।
(ঙ) পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কতগুলো স্তর আছে তা ছবির সাহায্যে বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে— ১) ভূত্বক (Crust)
২) আবরণ স্তর বা ম্যান্টল (Mantle)
৩) কেন্দ্রমণ্ডল (Core)
কেন্দ্রমণ্ডল আবার দুই ভাগে বিভক্ত— (ক) অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (Inner Core)
(খ) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (Outer Core)
২. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ উপাদান বলতে কী বোঝ?
উত্তর : পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা পদার্থগুলোর তীব্র তাপ ও চাপের ফলে অভ্যন্তরীণ শক্তির সৃষ্টি হয়। এই শক্তির প্রভাবে ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ঘটে। এই শক্তিকেই পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ উপাদান বলা হয়।
৩. ভূমিকম্প কী? ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর : ভূত্বকের যে স্থানে ভূমিকম্প শুরু হয়, সেই স্থানকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus) বলা হয়। এই কেন্দ্র সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার নিচে থাকে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক ওপরে ভূ-পৃষ্ঠের স্থানটিকে উপকেন্দ্র বা অভিকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়। উপকেন্দ্র অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়।
৪. আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ভূ-আন্দোলনের ফলে কখনো কখনো ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হয়। সেই ফাটল দিয়ে ভূগর্ভ থেকে উত্তপ্ত গলিত পদার্থ, ধোঁয়া, ছাই ও বাষ্প প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে এসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ (Volcanic Eruption) বলা হয়।
অনুশীলনী–২
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) দুটি বাহ্যিক শক্তির উদাহরণ দাও।
উত্তর : দুটি বাহ্যিক শক্তির উদাহরণ হল— ১) সূর্যরশ্মি
২) প্রবাহিত জল।
(খ) ক্ষয়কার্য কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর : ক্ষয়কার্য দুই প্রকার— ১) আবহবিকার
২) ক্ষয়সাধন।
(গ) অবক্ষেপণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর : পরিবহন প্রক্রিয়ায় ক্ষয় হওয়া পদার্থগুলোকে বহন করে নিয়ে অন্য স্থানে জমা করার কাজকে অবক্ষেপণ (Deposition) বলা হয়।
(ঘ) বালিয়াড়ি কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর : বালিয়াড়ি প্রধানত দুই প্রকার— ১) অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি (Longitudinal Sand Dune)
২) অনুপ্রস্থ বালিয়াড়ি (Transverse Sand Dune)।
২. সৌরশক্তি কীভাবে ক্ষয়জাত পর্বতের সৃষ্টি করতে পারে?
উত্তর : সূর্যের তাপ দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের ঢালে থাকা শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টি করে। ক্রমে ফাটল ধরে শিলাগুলো ভেঙে-চুরে যায় এবং উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বতে (Residual Mountains) পরিণত হতে পারে।
৩. হিমবাহের সৃষ্টি কীভাবে হয়?
উত্তর : দুই মেরু ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জমে থাকা বরফপুঞ্জ যখন নদীর মতো নিচের দিকে নেমে আসে তখন তাকে হিমবাহ বা বরফের নদী বলা হয়। পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তি ও উপরিভাগের চাপের ফলে হিমবাহ নিচের দিকে নেমে আসে।
৪. সাগরের ঢেউ কীভাবে উপকূলভূমির পরিবর্তন সাধন করে?
উত্তর : উপকূল ও তার আশপাশের অঞ্চলে সাগরের ঢেউ, স্রোত ও জোয়ারের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের অবয়বের সৃষ্টি হয়। সাগরের ঢেউ ও স্রোতের মাধ্যমে উপকূলভূমিতে ক্ষয়, পরিবহন ও অবক্ষেপণ কার্য সম্পন্ন হয়। এর ফলে উপকূলভূমির পরিবর্তন সাধিত হয়।
