মৃৎশিল্পের গরিমা | প্রশ্ন ও উত্তর । নতুন বাংলা পাঠ্যবই সমাধান
এই পাঠটি অসমের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এবং অন্যান্য কুটির শিল্প নিয়ে রচিত। নিচে প্রতিটি পৃষ্ঠার প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
অধ্যায়ের নাম: মৃৎশিল্পের গরিমা
পৃষ্ঠা ৪-এর সমাধান
২১। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর শুদ্ধ উত্তর বেছে নিয়ে সঠিক বৃত্ত পূরণ করো:
দাদু মিতাকে কী উপহার দিয়েছিলেন?
উত্তর: (ঘ) মাটির তৈরি সামগ্রী
মিতা কী বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তুত করেছিল?
উত্তর: (ঘ) পানিভরার মৃৎশিল্প
(দ্রষ্টব্য: মিতা মূল প্রকল্পটি মৃৎশিল্পের ওপর তৈরি করেছিল।)
মৃৎশিল্প কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: (ক) মাটি
পৃষ্ঠা ৫-এর সমাধান
২২। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(ক) মৃৎশিল্প তৈরি করতে কী উপাদান প্রয়োজন?
উত্তর: মৃৎশিল্প তৈরি করতে নির্দিষ্ট ধরনের কাদামাটি প্রয়োজন। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বালি বা অন্যান্য সামগ্রী মাটিতে মেশানো হয়।
(খ) অসমের কোন্ জায়গা পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: শুয়ালকুচি পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
(গ) বাঁশ-বেতের শিল্পের জন্য অসমের কোন্ জায়গা বিখ্যাত?
উত্তর: নলবাড়ি এবং ভালুকমারি বাঁশ-বেতের শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
২৩। নীচে দেওয়া স্থান ও শিল্পগুলোর মধ্যে মিল না-থাকা সামগ্রীগুলো বেছে বের করো এবং কেন অমিল রয়েছে লেখো।
সর্থেবাড়ির — মুগা শিল্প
উত্তর: এটি অমিল। কারণ সর্থেবাড়ি কাঁসা-শিল্পের জন্য বিখ্যাত, মুগা শিল্পের জন্য নয়।
বেকিরপাড়, পানিভরার — কাঁসা শিল্প
উত্তর: এটি অমিল। কারণ বেকিরপাড় ও পানিভরা মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত।
শুয়ালকুচির — শীতলপাটি শিল্প
উত্তর: এটি অমিল। কারণ শুয়ালকুচি পাট-মুগা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
কালীগঞ্জের — মৃৎশিল্প
উত্তর: এটি অমিল। কারণ কালীগঞ্জ শীতলপাটি শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
২৪। মৃৎশিল্প কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: প্রথমে নির্দিষ্ট ধরনের কাদামাটি তৈরি করা হয়। এরপর মাটির তালকে চাক-এর ওপর রেখে হাত দিয়ে নিপুণভাবে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। আকার দেওয়ার পর সেগুলোকে রোদে শুকিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয়। শেষে শিল্পীরা সেগুলোতে নানারকম রং করেন।
২৫। (ক) মৃৎশিল্পীরা কী কী সামগ্রী তৈরি করেন?
উত্তর: মৃৎশিল্পীরা মাটির পুতুল, ফুলদানি, ঘট, হাঁড়ি, কলস, সরা, পাতিল, প্রদীপ, ফুলের টব এবং দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করেন।
২৫। (খ) ‘মৃৎশিল্প বরাক উপত্যকার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ’ — কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: এর অর্থ হলো মৃৎশিল্প বরাক উপত্যকার সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। সভ্যতার শুরু থেকেই এই শিল্প মানুষের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরাকের পানিভরা, বেকিরপাড়, নয়াবিলের মতো গ্রামগুলোতে বংশপরম্পরায় এই শিল্প টিকে আছে এবং এটি অসমের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
২৬। ছোট থেকে বড় মিলিয়ে লেখো:
(ক)
শ্রীভূমি < আনিপুর < অসম
(ভৌগোলিক এলাকা অনুযায়ী)
(খ)
মিতা < মিতার মা < দাদু
(বয়স অনুযায়ী)
(গ)
দিশপুর < অসম < ভারত
(প্রশাসনিক এলাকা অনুযায়ী)
পৃষ্ঠা ৬-এর সমাধান (ভাষা-অধ্যয়ন: সর্বনাম)
৫৮। (খ) অনুচ্ছেদ থেকে সর্বনাম পদ বেছে বের করো:
উত্তর: অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত সর্বনাম পদগুলো হলো — সে, তাকে, তার।
৫৮। (গ) শূন্যস্থানে সর্বনাম পদ বসাও:
(ক)
রাম একটি ভালো ছেলে। সে সবসময় ভালোভাবে পড়াশোনা করে।
(খ)
মিতা দাদুকে দেখে খুব আনন্দিত হলো। সে দাদুর কাছে ছুটে গেল।
(গ)
মিতা আর আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমরা নিয়মিত স্কুলে যাই।
(ঘ)
মহাত্মা গান্ধীকে আমরা ‘বাপু’ বলে সম্বোর্ডন করি। তিনি ভারতের কুটির শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
পৃষ্ঠা ৭-এর সমাধান
৯। আলোচনা করো — কুটির-শিল্প মানুষকে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: কুটির শিল্প গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক পরিবার ঘরে বসে সামগ্রী তৈরি করে তা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে স্বাবলম্বী হয়। এছাড়া এটি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও শিল্পকলাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
১১। কুটির-শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রীসমূহের তালিকা প্রস্তুত করো:
- দেবী প্রতিমা — মৃৎ শিল্প
- মুগা সিল্কের শাড়ি — মুগা শিল্প
- পিতলের কলস — পিতল শিল্প (হাজো)
- শীতলপাটি — শীতলপাটি শিল্প (কালীগঞ্জ)
- বাঁশের জাপি — বাঁশ-বেত শিল্প (নলবাড়ি)
উপসংহার
“মৃৎশিল্পের গরিমা” অধ্যায়টি অসমের সমৃদ্ধ কুটির শিল্প ও ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এই পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মৃৎশিল্প, মুগা শিল্প, বাঁশ-বেত শিল্পসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্প সম্পর্কে জানতে পারবে এবং আমাদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠবে।
