পৃথিবীর অন্তর্ভাগ এবং ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন , সপ্তম শ্রেণী, নতুন পাঠ্যবই ২০২৬
ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন। পৃথিবীর গঠন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, ক্ষয়কার্য, হিমবাহ ও সাগরের ঢেউ কীভাবে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটায়, তা এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়। নিচে অনুশীলনী-১ ও অনুশীলনী-২ এর সমস্ত প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
অনুশীলনী-১ (পৃষ্ঠা ৫)
১. নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(ক) ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন বলতে পৃথিবীর গঠন, আকার ও বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনকে বোঝায়। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে অথবা কখনও কখনও হঠাৎ ঘটতে পারে। এর ফলে সাগর-মহাসাগর বা নদীর গতিপথের মতো ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয়।
(খ) ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনের কারণ কতগুলো ও কী কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনের কারণ প্রধানত দুটি:
- বাহ্যিক কারণ (External Factors): রোদ, বায়ু, বৃষ্টি, নদী, সাগরের ঢেউ, হিমবাহ ইত্যাদি।
- অভ্যন্তরীণ কারণ (Internal Factors): ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ ইত্যাদি যা পৃথিবীর ভেতরে ঘটে।
(গ) ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রভাগের উত্তাপ কত?
উত্তর: বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের তাপমাত্রা প্রায় 6000° সেলসিয়াসেরও বেশি।
(ঘ) সিমা (SiMa) শব্দটি কোথা থেকে এসেছে?
উত্তর: আবরণ স্তর বা ম্যান্টলে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। সিলিকনের ‘Si’ এবং ম্যাগনেসিয়ামের ‘Ma’ যুক্ত করে ‘SiMa’ (সিমা) শব্দটি এসেছে।
(ঙ) পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কতগুলো স্তর আছে তা ছবির সাহায্যে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
- ভূত্বক (Crust): এটি পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ।
- আবরণ স্তর বা গুরুমণ্ডল (Mantle): ভূত্বকের নিচে প্রায় ২৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর।
- কেন্দ্রমণ্ডল (Core): এটি পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে অবস্থিত, যা আবার অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে বিভক্ত।
৩. পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ উপাদান বলতে কী বোঝ?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ভাগ অনেক উত্তপ্ত ও তরল অবস্থায় আছে। এই স্তরে থাকা প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম (সিমা স্তরে), লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni) (কেন্দ্রমণ্ডলে) অন্যতম।
৪. ভূমিকম্প কী? ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর: কোনো কারণে পৃথিবী কেঁপে উঠলে তাকে ভূমিকম্প বলে।
- কেন্দ্র (Focus): ভূত্বকের যে স্থানে ভূমিকম্প শুরু হয়, তাকে কেন্দ্র বলে।
- উপকেন্দ্র (Epicentre): কেন্দ্রের ঠিক ওপরে অবস্থিত ভূপৃষ্ঠের স্থানটিকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
৫. আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ভূ-আন্দোলনের ফলে ভূত্বকের ফাটল দিয়ে ভূগর্ভ থেকে উত্তপ্ত গলিত পদার্থ (লাভা), ধোঁয়া, ছাই, বাষ্প ইত্যাদি প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে আসাকে আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ বলা হয়।
অনুশীলনী-২ (পৃষ্ঠা ১০)
১. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(ক) দুটি বাহ্যিক শক্তির উদাহরণ দাও।
উত্তর: দুটি বাহ্যিক শক্তি হলো সূর্য রশ্মি এবং প্রবাহিত জল (নদী)।
(খ) ক্ষয়কার্য কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: বাহ্যিক শক্তির ফলে হওয়া ক্ষয়কার্য দুই ধরনের: আবহবিকার ও ক্ষয়সাধন।
(গ) অবক্ষেপন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: নদী, বাতাস বা হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত চূর্ণ-বিচূর্ণ পদার্থগুলো যখন কোনো এক জায়গায় জমা হয়, তখন সেই জমা করার প্রক্রিয়াকে অবক্ষেপন (Deposition) বলা হয়।
(ঘ) বালিয়াড়ি কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: আকার-আকৃতি অনুযায়ী বালিয়াড়ি প্রধানত তিন প্রকার:
- অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি।
- অনুপ্রস্থ বালিয়াড়ি।
- বারখান বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি।
২. সৌরশক্তি কীভাবে ক্ষয়জাত পর্বতের সৃষ্টি করতে পারে?
উত্তর: সূর্যের তাপে পাহাড়ের ঢালে থাকা শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে এই প্রক্রিয়ায় শিলা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার ফলে উচ্চভূমি কালক্রমে ক্ষয়জাত পর্বতে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের আরাবল্লি পর্বত।
৩. হিমবাহের সৃষ্টি কীভাবে হয়?
উত্তর: দুই মেরু ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যখন প্রচুর বরফ জমা হয় এবং সেই বরফস্তূপ উপরিস্তরের চাপ ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে নদীর মতো নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন হিমবাহের সৃষ্টি হয়।
৪. সাগরের ঢেউ কীভাবে উপকূলভূমির পরিবর্তন সাধন করে?
উত্তর: সাগরের ঢেউ, স্রোত ও জোয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে অনবরত আঘাত করে শিলা ক্ষয় করে এবং বালি বা পলি জমা করে। অন্যান্য বাহ্যিক কারণের তুলনায় সাগরের ঢেউয়ের মাধ্যমে উপকূল ভূমির পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত ঘটে।
