Chapter -23,নির্বাচন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া, Class 7

Next Chapter

পাঠ – ২৩: নির্বাচন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া

১। উত্তর দাও:

(ক) বিধানসভার সদস্যদের কে নির্বাচন করে?
উত্তর: বিধানসভার সদস্যদের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের সকল ভোটার অর্থাৎ সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করে। 

(খ) শাসক দল মানে কী?
উত্তর: নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে এবং সরকার গঠন করে, তাকে শাসক দল বলে। 

(গ) দেশে মধ্যকালীন নির্বাচন কখন হয়?
উত্তর: যদি কোনো সরকার বা মন্ত্রিসভা তার পাঁচ বছরের কার্যকাল সম্পূর্ণ করার আগেই ভেঙে যায় এবং পুনরায় নির্বাচনের প্রয়োজন হয়, তখন তাকে মধ্যকালীন নির্বাচন বলে। 

(ঘ) রাজ্য বিধানসভার কার্যকাল কত বৎসর?
উত্তর: রাজ্য বিধানসভার কার্যকাল পাঁচ বৎসর। 

(ঙ) দুটো রাষ্ট্রীয় দলের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি রাষ্ট্রীয় দলের নাম হলো— ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি। 

(চ) অসমের একটি আঞ্চলিক দলের নাম লেখো।
উত্তর: অসমের একটি আঞ্চলিক দলের নাম হলো অসম গণ পরিষদ। 

২। উত্তর লেখো:
(ক) নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কী ধরণের বর্ণনা করো।
উত্তর: ভারতবর্ষের নির্বাচন প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়: 
নির্বাচন আয়োগ: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত নির্বাচন আয়োগ নির্বাচনের তারিখ এবং কর্মসূচি প্রস্তুত করে। 
আচরণ বিধি: মুক্ত ও সুস্থ নির্বাচনের জন্য আয়োগ নির্বাচনি আচরণ বিধি বলবৎ করে। 
মনোনয়ন ও প্রচার: রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনীত করে এবং জনসভা, মিছিল ও ইস্তাহারের মাধ্যমে প্রচার চালায়। 
ভোটগ্রহণ: নির্ধারিত দিনে ভোটারগণ ইভিএম (EVM) বা ব্যালট পেপারের সাহায্যে ভোটদান করেন。 
সরকার গঠন: ভোট গণনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হয়। 

(খ) গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলী কী কী?

উত্তর: রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যাবলী হলো: 
নির্দিষ্ট আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে নাগরিকদের সংগঠিত করা।
    নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করা এবং প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা।
    সংবিধানসম্মতভাবে সরকার গঠন করার চেষ্টা করা।
আঞ্চলিক দলগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া।

(গ) গণতন্ত্রে কীভাবে বিরোধী দল সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: বিরোধী দল নিম্নলিখিত উপায়ে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: 
সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অভাব বা ত্রুটির সমালোচনা করে সুস্থ জনমত গঠন করে।
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করে এবং সরকারের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে।
বিধানসভার অধ্যক্ষের সাহায্যে বিভাগীয় মন্ত্রীদের কার্যাবলীর হিসাব চেয়ে নেয়।
সরকারকে সর্বদা সঠিক পথে চলতে বাধ্য করে।

(ঘ) গণতন্ত্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা আছে কী? যুক্তি দেখাও।
উত্তর: হ্যাঁ, গণতন্ত্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
কারণ:  নির্বাচন হলো জনসাধারণের মতামত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম।
     এর মাধ্যমেই জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নিয়ে সরকার গঠন করে। 
নির্বাচন ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
       নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তন বা পূর্ববর্তী সরকারের কার্যাবলীর বিচার করার সুযোগ জনগণের হাতে থাকে।

৩। শুদ্ধ উত্তরটি বের করে লেখো:
(ক) ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পরোক্ষভাবে নির্বাচিত।
(খ) লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৫৪৫ জন।
(গ) তেলুগু দেশম পার্টি একটি আঞ্চলিক দল।
(ঘ) মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল নিযুক্তি দেন। 

৪। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো:

(ক) সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার:   ভারতবর্ষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের সকল নাগরিক— ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে ভোট দেওয়ার অধিকার লাভ করে। নির্দিষ্ট বয়সপ্রাপ্ত সকল ব্যক্তি সমানভাবে এই অধিকার পায় বলেই একে ‘সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার’ বলা হয়। 


(খ) নির্বাচন আয়োগ:    ভারতবর্ষে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাচন আয়োগ গঠন করেন। এতে একজন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ও দুজন নির্বাচন আধিকারিক থাকেন। আয়োগ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ, মনোনয়নপত্র পরীক্ষা, আচরণ বিধি বলবৎ করা এবং ফলাফল ঘোষণা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে। 

(গ) রাজনৈতিক দল:      যখন নির্দিষ্ট কিছু নীতির ওপর ভিত্তি করে এবং একই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নাগরিকগণ কোনো সংস্থা গড়ে তোলে এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করার চেষ্টা করে, তাকে রাজনৈতিক দল বলা হয়। রাজনৈতিক দল দুই প্রকার— রাষ্ট্রীয় দল এবং আঞ্চলিক দল। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *