ভারতীয় জাতীয়বাদের উন্মেষ

অতি সংক্ষিপ্ত/সংক্ষিপ্ত উত্তর

১। ভারতীয় জাতীয়বাদের উন্মেষের প্রধান কারণটি কী? সময় উল্লেখ করে লেখো।

উত্তর: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষের প্রধান কারণ হলো ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ। বিদ্রোহটি যদিও তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে সফল হয়নি, কিন্তু এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এই বিদ্রোহ থেকেই ভারতীয় জাতীয় জীবনের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল।

২। আনন্দমঠ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

উত্তর: আনন্দমঠ উপন্যাসের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৩। ‘স্যারে জাহাছে আচ্ছা…’ গানটির রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘স্যারে জাহাঁছে আচ্ছা’ গানটির রচয়িতা উর্দু কবি মহম্মদ ইকবাল।

৪। ভারতে রেল যাতায়াত প্রথম কখন, কোথায় সূচিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই ও থানের মধ্যে ২১ কিলোমিটার পথে রেল চলাচলের মাধ্যমে ভারতবর্ষে প্রথম রেল যাতায়াত ব্যবস্থার সূচনা হয়।

৫। ভারতে প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার সূচনা কখন, কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা এবং ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। পরবর্তীতে ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসি এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে কলকাতা এবং আগ্রার মধ্যে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটান।

৬। ভারতে প্রথম ছাপাখানা কখন, কোথায় স্থাপন করা হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপীয় মিশনারিরা খ্রিস্টধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে শ্রীরামপুরে প্রথম ছাপাখানা স্থাপন করেছিল।

৭। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রথম কী নামে কোথায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল?

উত্তর: কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রথম ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ‘হিন্দু কলেজ’ নামে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

৮। লর্ড উইলিয়াম ব্যান্টিঙ্কের দুটি উল্লেখযোগ্য সমাজ সংস্কার বিষয়ে লেখো।

উত্তর: লর্ড উইলিয়াম ব্যান্টিঙ্কের দুটি উল্লেখযোগ্য সমাজ সংস্কার হলো:

* রাজা রামমোহন রায়ের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে আইন করে কুখ্যাত ‘সতীদাহ প্রথা’ বিলুপ্তি করা।

* নারী শিক্ষার বিস্তার এবং সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার প্রদানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৯। ভারতীয় সংবাদপত্রের ইতিহাসে প্রথম সংবাদপত্র কোনটি?

উত্তর: ভারতীয় সংবাদপত্রের ইতিহাসে প্রথম সংবাদপত্র হলো ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে জেমস আগস্টাস হিকি প্রকাশিত ‘বেঙ্গল গেজেট’।

সংক্ষিপ্ত/দীর্ঘ উত্তর :

১। সিপাহি বিদ্রোহ কীভাবে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছিল সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ ছিল ভারতবর্ষের রাজনৈতিক মুক্তির প্রথম বড় আন্দোলন। যদিও বিদ্রোহীরা ইংরেজ শাসন উৎখাত করে পুনরায় মোগল শাসন ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি, তবুও এর ফলাফল ছিল অত্যন্ত গভীর। এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মনে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং তাদের মধ্যে একতা ও দেশপ্রেমের ভাব জাগিয়ে তোলে। এই আন্দোলন থেকেই প্রথম জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় জীবন গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

২। ‘উডের প্রেরণপত্র’র মূল উদ্দেশ্য কী কী ছিল লেখো।

উত্তর: ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উডের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যগুলি ছিল:

* প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সুসংহত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

* নিম্ন পর্যায়ে দেশি ভাষায় এবং উচ্চ পর্যায়ে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া।

* মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দেওয়া এবং সরকারি অনুদানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

* প্রতিটি প্রদেশে পৃথক শিক্ষা বিভাগ খোলা।

৩। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা নেওয়া ৬টি কারণ লেখো।

উত্তর:ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির ৬টি মুখ্য কারণ হলো:

* পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব: ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয়রা ইউরোপীয় মহান চিন্তাবিদদের আদর্শ ও গণতন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হয়।

* যাতায়াতের উন্নতি: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও রেলপথ স্থাপনের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয় ও ঐক্য বৃদ্ধি পায়।

* সংবাদপত্রের ভূমিকা: দেশীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের শোষণ ও অবিচার সম্পর্কে জনমত গড়ে ওঠে।

* ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন: রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখের নেতৃত্বে কুসংস্কার দূর করে নতুন সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা।

* জাতীয় সংস্থা গঠন: ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ও পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনৈতিক চেতনা সংহত হওয়া।

* সিপাহি বিদ্রোহ: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন জাগরিত হওয়া।

৪। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে পাশ্চাত্য শিক্ষার চারটি প্রভাব নিয়ে লেখো।

উত্তর: পাশ্চাত্য শিক্ষার চারটি প্রভাব হলো:

* দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের ফলে ভারতীয়দের মনে যুক্তি দিয়ে সব কথা বিচার করার ক্ষমতা জন্মায় এবং অন্ধবিশ্বাস দূর হয়।

* গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রসার: রুশো, ভল্টেয়ার প্রমুখের রচনা পড়ে ভারতীয়রা জাতীয়তা, স্বশাসন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হয়।

* একতার ভাব: ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদেশের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান সহজ হয়, যা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে।

* মুক্তির স্বপ্ন: পরাধীনতার গ্লানি উপলব্ধি করে শিক্ষিত সমাজ দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

৫। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে যোগাযোগের উন্নতি কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল?

উত্তর: ব্রিটিশরা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে স্থলপথ, রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা উন্নত করেছিল। ১৮৩৯ সালের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড এবং ১৮৫৩ সালের রেলপথ স্থাপন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তকে যুক্ত করেছিল। এই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারতীয়দের মনে সংকীর্ণতা দূর করে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এর ফলে ভারতের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষের মেলামেশা ও মতবিনিময় সহজ হয়, যা জাতীয় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে শক্তিশালী করে তোলে।

৬। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান বিষয়ে লেখো।

উত্তর: রাজা রামমোহন রায়কে ‘আধুনিক ভারতের জন্মদাতা’ বলা হয়। তাঁর প্রধান অবদানসমূহ:

* ধর্ম সংস্কার: তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসভা’ (পরে ব্রাহ্মসমাজ) স্থাপন করে মূর্তিপূজা ও বহু ঈশ্বরবাদের বিরোধিতা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রচার করেন।

* সমাজ সংস্কার: তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। তিনি বাল্যবিবাহের বিরোধিতা এবং বিধবা বিবাহের সমর্থন করেন ।

* শিক্ষা বিস্তার: পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি ডেভিড হেয়ারের সঙ্গে মিলে ‘হিন্দু কলেজ’ স্থাপন করেন।

* রাজনৈতিক সচেতনতা: তিনি কার্যপালিকা ও ন্যায়পালিকা পৃথকীকরণ এবং ভারতীয়দের জন্য সমান অধিকারের দাবি জানিয়েছিলেন।

৭। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে দয়ানন্দ সরস্বতীর অবদান নিয়ে লেখো।

উত্তর: স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ১৮৭৫ সালে পাঞ্জাবে ‘আর্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অবদানের মধ্যে রয়েছে:

* তিনি ‘বেদে ফিরে যাও’ এই বাণীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।

* আর্য সমাজ বাল্যবিবাহ, জাতিভেদ প্রথা ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করেছিল।

* তিনি ‘শুদ্ধি’ আন্দোলনের মাধ্যমে অন্য ধর্মের লোকদের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফেরার সুযোগ দেন।

* তাঁর কর্মকাণ্ড ভারতে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।

৮। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে কেশবচন্দ্র সেনের অবদান নিয়ে লেখো।

উত্তর: কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ‘প্রার্থনা সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর অনুপ্রেরণায় এই সংস্থা সমাজ সংস্কারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রার্থনা সমাজ দক্ষিণ ভারতে সংস্কারমুখী এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে । এটি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, বিধবা বিবাহ ও নারী শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে মানুষের মনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও ঐক্যবোধ জাগিয়ে তুলেছিল।

৯। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে রামকৃষ্ণ পরমহংসের অবদান নিয়ে লেখো।

উত্তর: রামকৃষ্ণ পরমহংস ছিলেন একজন সহজ-সরল আধ্যাত্মিক সাধক, যিনি অতি সুন্দর উপমার মাধ্যমে ধর্মের ব্যাখ্যা দিতেন। তাঁর জীবন ও মতাদর্শের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে রামকৃষ্ণ মিশন। তিনি শিখিয়েছিলেন যে সব ধর্মের মূলে এক সত্য বর্তমান। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের মাধ্যমে সমগ্র ভারতে জাতীয় চেতনা, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করেছিল।

১০। ভারতীয় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে অ্যানি বেসান্তের অবদান নিয়ে লেখো।

উত্তর: মিসেস অ্যানি বেসান্ত আয়ারল্যান্ডের মহিলা হয়েও ভারতকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর অবদানসমূহ:

* তিনি থিওসফিক্যাল সোসাইটির মাধ্যমে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব প্রচার করেন।

* ১৯০৭ সালে তিনি বারাণসীতে ‘সেন্ট্রাল হিন্দু স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।

* ১৯১৬ সালে তিনি ‘হোম রুল লিগ’ গঠন করে স্ব-শাসনের দাবি তোলেন।

* তিনি ১৯১৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি নির্বাচিত হন।

১১। ‘আলিগড় আন্দোলন’ কী? এই আন্দোলনে কীভাবে মুসলিমদের আধুনিক চিন্তা-চর্চার পথ দেখিয়েছিল লেখো।

উত্তর:;স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে মুসলিম সমাজের আধুনিকায়নের যে আন্দোলন শুরু হয় তাকেই ‘আলিগড় আন্দোলন’ বলে।

* সৈয়দ আহমদ খান উপলব্ধি করেছিলেন যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ছাড়া মুসলমানদের উন্নতি সম্ভব নয়।

* তিনি ১৮৭৫ সালে ‘আলিগড় মোহমেডান অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

* এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুসলিম সমাজ ইংরেজি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও আধুনিক সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসে এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

১২। ‘সংবাদপত্র’র জন্ম কীভাবে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চিন্তার উদ্ভব ঘটিয়েছিল বর্ণনা করো।

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীতে আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলি জাতীয়তাবাদের বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে।

* ‘বঙ্গদর্শন’, ‘সঞ্জীবনী’, ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’র মতো কাগজগুলি ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক নীতি ও অবিচারের স্বরূপ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

* দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশদের অবহেলার তীব্র সমালোচনা করে সংবাদপত্রগুলি জনগণের মনে ইংরেজ বিরোধী মনোভাব ও জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলে।

* ১৮৭৮ সালের কুখ্যাত ‘প্রেস আইন’ সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চাইলেও ভারতীয়দের মধ্যে আত্মমর্যাদা রক্ষার জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

১৩। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর লেখো।

উত্তর: ১৮৮৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালেন অক্টোভিয়ান হিউমের উদ্যোগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়। হিউম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের দেশসেবায় এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান। ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইয়ের গকুল দাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে। উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এই সভার সভাপতিত্ব করেন এবং সারা ভারত থেকে ৭২ জন প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। এটিই ছিল প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন যা ভারতীয়দের অধিকারের দাবি পেশ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৫। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কার্যাবলি ও বিকাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: শুরুর দিকে জাতীয় কংগ্রেস ছিল একটি নরমপন্থী সংগঠন, যা আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে শাসনতন্ত্রে ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব চাইত। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ১৯০২ সালের ভারত পরিষদ আইনে ভারতীয়দের তেমন কিছু না দেওয়ায় কংগ্রেসের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং জাপানের কাছে রাশিয়ার পরাজয়ের মতো ঘটনা জাতীয়তাবাদীদের মনে সংগ্রামী চেতনার সঞ্চার করে। ১৯০৭ সালে সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেস ‘নরমপন্থী’ ও ‘চরমপন্থী’— এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। চরমপন্থীরা বালগঙ্গাধর তিলক ও অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে স্বরাজ ও স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের রাজনীতিকে আরও সজীব ও সক্রিয় করে তোলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *