প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ
অতি সংক্ষিপ্ত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
১. সংজ্ঞা লেখো:
(ক) দরিদ্রতা: দরিদ্রতা এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি তার জীবনের মৌলিক প্রয়োজনসমূহ যেমন—খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের সংমান করে উঠতে পারে না।
(খ) বেকার: অর্থনীতিতে বেকার বলতে সেইসব লোকদের বোঝায় যাদের কাজ করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো উপযুক্ত কর্মসংস্থান পায় না।
(গ) জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় যে সংখ্যক লোক বসবাস করে তাকেই জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
(ঘ) লিঙ্গ অনুপাত: প্রতি হাজার পুরুষের বিপরীতে মহিলার সংখ্যাকে লিঙ্গ অনুপাত বলা হয় ।
(ঙ) চরম দরিদ্রতা: যখন কোনো ব্যক্তি তার জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম কেলরিযুক্ত খাবার সংগ্রহে অক্ষম হয়, তখন তাকে চরম দরিদ্রতা বলে।
(চ) আপেক্ষিক দরিদ্রতা: সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষের তুলনায় কারো আয় বা জীবনযাত্রার মান নিম্ন হওয়ার অবস্থাকে আপেক্ষিক দরিদ্রতা বলে।
(ছ) সুস্থায়ী উন্নয়ন: যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বারা বর্তমান প্রজন্মের অভাবসমূহ দূর হতে পারে অথচ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভাব দূরীকরণের ক্ষমতার ক্ষেত্রে কোনো আপোস করা হয় না, তাকে সুস্থায়ী উন্নয়ন বলে।
(জ) সবুজ অর্থনীতি: যে অর্থনীতির মূল লক্ষ্য পরিবেশের বিপদাবস্থা এবং পরিস্থিতি-তন্ত্রের সমস্যা দূর করা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নকে প্রসারিত করা, তাকে সবুজ অর্থনীতি বলে।
২. দরিদ্রতার সীমারেখা কী? গ্রামাঞ্চলে এবং শহরাঞ্চলে দরিদ্রতার সীমারেখা কী?
উত্তর: দরিদ্রতার সীমারেখা হলো আয়ের বা ভোগের এমন এক নিম্নতম সীমা যা দেশের জনগণকে দরিদ্র ও অ-দরিদ্র এই দুই ভাগে ভাগ করে। ভারতের পরিকল্পনা আয়োগের কেলরি ভিত্তিক সংজ্ঞা অনুযায়ী—
গ্রামাঞ্চলে দৈনিক মাথাপিছু ন্যূনতম ২৪০০ কেলরি খাদ্য আহরণে অসমর্থ লোক দরিদ্র।
শহরাঞ্চলে দৈনিক মাথাপিছু ন্যূনতম ২১০০ কেলরি খাদ্য আহরণে অসমর্থ লোক দরিদ্র।
৩. ২০১১ সালের লোকগণনা অনুসারে ভারতবর্ষ এবং অসমের জনসংখ্যা কত?
উত্তর: ২০১১ সালের লোকগণনা অনুসারে ভারতের জনসংখ্যা ১২১ কোটি এবং অসমের জনসংখ্যা ৩ কোটি ১২ লাখ।
৪. বিশ্বের মোট আয়তনের কত শতাংশ ভারতবর্ষ অধিকার করে আছে?
উত্তর: বিশ্বের মোট আয়তনের ২.৪ শতাংশ ভারতবর্ষ অধিকার করে আছে।
৫. ভারতের সর্বাধিক লিঙ্গ অনুপাত রয়েছে এমন রাজ্যটির নাম কী? এবং তা কত?
উত্তর: ভারতের সর্বাধিক লিঙ্গ অনুপাত রয়েছে কেরালায়, সেখানে প্রতি হাজার পুরুষের বিপরীতে মহিলার সংখ্যা ১০৮৪ জন।
৬. অসমের জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?
উত্তর: ২০১১ সালের তথ্য অনুসারে অসমের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯৭ জন।
৭. প্রচ্ছন্ন বেকার কাকে বলে?
উত্তর: যারা দৃশ্যত নিযুক্ত কিন্তু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যাদের কোনো ভূমিকা নেই বা যাদের বাদ দিলেও মোট উৎপাদন কমে না, তাদের প্রচ্ছন্ন বেকার বলে। যেমন—একটি কাজ দুজন করতে পারলেও সেখানে পাঁচজন নিযুক্ত থাকলে অতিরিক্ত তিনজনই প্রচ্ছন্ন বেকার।
৮. মুদ্রাস্ফীতি কী?
উত্তর: অর্থনীতিতে এক নাগাড়ে সাধারণ মূল্যস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার অবস্থাকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে।
৯. মুদ্রাস্ফীতির কারণগুলো কী কী?
উত্তর: মুদ্রাস্ফীতির মূলত দুটি কারণ—
১. চাহিদাজনিত কারণ (জনগণের চাহিদা বৃদ্ধি)।
২. ব্যয়জনিত কারণ (উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি)।
১০. অবদমিত মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে?
উত্তর: যখন সরকার বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা যেমন—সরকারি বণ্টন ব্যবস্থা বা দর নির্ধারণের মাধ্যমে মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখে, তখন তাকে অবদমিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
১১. অবিধিবদ্ধ (অসংগঠিত) ক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা কত?
উত্তর: যেক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা ১০ জনের কম হয়, তাকে অবিধিবদ্ধ বা অসংগঠিত ক্ষেত্র বলা হয়।
১২. কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত নির্ণয় করো।
উত্তর: কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত = (মোট কর্মী সংখ্যা ÷ মোট জনসংখ্যা) × ১০০।
১৩. সুস্থায়ী উন্নয়নের সংজ্ঞা কোন আয়োগ কত সালে প্রবর্তন করেছিল?
উত্তর: ১৯৮৭ সালে Brundtland আয়োগ (পরিবেশ ও উন্নয়নের বিশ্ব আয়োগ) সুস্থায়ী উন্নয়নের ধারণার প্রবর্তন করে।
১৪. পরিবেশ চিন্তাবিদদের মূলমন্ত্র কী?
উত্তর: পরিবেশ চিন্তাবিদদের মূলমন্ত্র হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী প্রতিপালন করা এবং সম্পদের সুস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা।
দীর্ঘ উত্তর লেখো
১. ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো:
উচ্চ জন্মহার: উন্নত চিকিৎসার ফলে মৃত্যুহার কমলেও জন্মহার আগের মতোই বেশি।
নিরক্ষরতা: শিক্ষার অভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ বোঝে না।
দরিদ্রতা: দরিদ্র পরিবারগুলোতে উপার্জনের আশায় বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা থাকে।
সামাজিক অজ্ঞতা: বাল্যবিবাহ এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে পরিবার ছোট রাখার বিষয়ে অনীহা থাকে।
শিক্ষার অভাব: বিশেষ করে নারী শিক্ষার অভাবে পরিবার পরিকল্পনা সফল হচ্ছে না।
অনুপ্রবেশ: বিশেষ করে অসমের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ জনসংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে।
২. দরিদ্রতা কাকে বলে? দরিদ্রতার সীমারেখা কীভাবে দরিদ্রতা ব্যাখ্যা করে আলোচনা করো।
উত্তর: দরিদ্রতা হলো এমন এক অবস্থা যেখানে মানুষ তার খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়।
দরিদ্রতার সীমারেখা ব্যাখ্যা:
এটি একটি বণ্টন রেখা যা জনগণকে ‘দরিদ্র’ এবং ‘অ-দরিদ্র’ ভাগে ভাগ করে।
ভারতে এটি কেলরি গ্রহণের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। গ্রামে দৈনিক ২৪০০ কেলরি এবং শহরে ২১০০ কেলরি খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকলে তাকে দরিদ্র ধরা হয়।
এই সীমার নিচে থাকা মানুষজনকে ‘দারিদ্র্যসীমার নিচে’ (BPL) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
৩. মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে? মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মূল পদ্ধতিগুলো আলোচনা করো।
উত্তর: সাধারণ মূল্যস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার অবস্থাই হলো মুদ্রাস্ফীতি। এটি নিয়ন্ত্রণের মূল পদ্ধতিগুলো হলো:
মুদ্রা-নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ঋণের সুদের হার (Bank Rate) বাড়িয়ে দেয়, যাতে মানুষ কম ঋণ নেয় এবং বাজারে টাকার যোগান কমে।
রাজকোষীয় নীতি: সরকার সরকারি ব্যয় কমায় এবং করের পরিমাণ বাড়িয়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস করে।
উৎপাদন বৃদ্ধি নীতি: অব্যবহৃত সম্পদ ব্যবহার করে পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো হয়, যাতে চাহিদার বিপরীতে যোগান বৃদ্ধি পেয়ে দাম কমে।
৪. বেকার সমস্যা কাকে বলে? এটি কত প্রকার ও কী কী? এই সমস্যার মূল কারণগুলো উল্লেখ করো।
উত্তর: কাজ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থান না পাওয়াকে বেকার সমস্যা বলে।
বেকারের প্রকারভেদ:
১. গ্রাম্য বেকার: ঋতুজ বেকার (চাষের মরসুম শেষ হলে) এবং প্রচ্ছন্ন বেকার (অতিরিক্ত শ্রমিক)।
২. শহুরে বেকার: শিক্ষিত বেকার এবং শিল্পজনিত বেকার।
মূল কারণসমূহ:
দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
নিয়োগবিহীন উন্নয়ন (Job-less Growth)।
স্থবির কৃষি উন্নয়ন ও মন্থর শিল্পায়ন।
ত্রুটিপূর্ণ ও বৃত্তিমুখী শিক্ষার অভাবযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা।
৫. সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো:
(ক) ঋতুজনিত বেকার: কৃষিকাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ পায় এবং বাকি সময় বেকার থাকে। একে ঋতুজনিত বেকারত্ব বলে।
(খ) চাহিদাজনিত ও ব্যয়জনিত মুদ্রাস্ফীতি: যখন যোগানের তুলনায় পণ্যের চাহিদা বাড়ে তখন তাকে চাহিদাজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে। আবার কাঁচামাল বা মজুরি বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যে মুদ্রাস্ফীতি হয় তাকে ব্যয়জনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
(গ) সুস্থায়ী উন্নয়ন: বর্তমানের চাহিদা মেটানোর সময় ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশ ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার উন্নয়ন পদ্ধতিই হলো সুস্থায়ী উন্নয়ন।
(ঘ) সবুজ অর্থনীতি: এটি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং পরিস্থিতি-তন্ত্র রক্ষা করে উন্নয়ন করার অর্থনৈতিক ধারণা।
কি
(ঙ) মুক্ত এবং অবদমিত মুদ্রাস্ফীতি: বাজার যখন বাধাহীনভাবে দাম বাড়তে দেয় তাকে মুক্ত মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর সরকার হস্তক্ষেপ করে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখলে তাকে অবদমিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
