অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো (প্রথম অধ্যায়)
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
১. অর্থনীতি শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
উত্তর: অর্থনীতি (Economics) শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে।
২. অর্থনীতি শব্দটি কোন শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: এটি গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৩. অর্থবিজ্ঞানের পিতৃস্বরূপ কে?
উত্তর: আদাম স্মিথ (Adam Smith) হলেন অর্থবিজ্ঞানের পিতৃস্বরূপ।
৪. অর্থবিজ্ঞানের সম্পদ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি কার?
উত্তর: সম্পদ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি আদাম স্মিথের।
৫. অর্থবিজ্ঞানের কল্যাণ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি কার?
উত্তর: কল্যাণ-ভিত্তিক সংজ্ঞাটি আলফ্রেড মার্শেলের।
৬. অর্থবিজ্ঞানের দুষ্প্রাপ্যতার সংজ্ঞাটি কার?
উত্তর: দুষ্প্রাপ্যতার সংজ্ঞাটি লায়নেল রবিন্সের।
৭. আদাম স্মিথ কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: আদাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘An Enquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ গ্রন্থে সংজ্ঞাটি দিয়েছেন।
৮. আলফ্রেড মার্সেল কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তর: আলফ্রেড মার্সেল ১৮৯০ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘Principles of Economics’ গ্রন্থে সংজ্ঞা দিয়েছেন।
৯. লায়নেল রবিন্স কোন গ্রন্থে এবং কখন অর্থনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লায়নেল রবিন্স ১৯৩২ সালে প্রকাশিত ‘An Essay on the Nature and Significance of Economic Science’ গ্রন্থে সংজ্ঞাটি দিয়েছেন।
১০. কে আদাম স্মিথের সংজ্ঞাটিকে ‘যক্ষের বাণী’ বলেছেন?
উত্তর: পরবর্তী কালের সমাজবিজ্ঞানী কার্লাইল এবং রাস্কিন এই সংজ্ঞাটিকে ‘যক্ষের বাণী’ (Gospel of the Mammon) বলে সমালোচনা করেছেন।
১১. দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তর: সেমুয়েলসন এবং নর্ডহাস দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন।
১২. কোনো বস্তুর মানুষের অভাব পূরণ করতে পারার ক্ষমতাকে কী বলা হয়?
উত্তর: কোনো বস্তুর অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে ‘উপযোগিতা’ (Utility) বলা হয়।
১৩. উৎপাদনের উৎপাদিত উপায়কে কী বলা হয়?
উত্তর: উৎপাদনের উৎপাদিত উপায়কে ‘মূলধন’ (Capital) বলা হয়।
১৪. ‘Micro’ এবং ‘Macro’ শব্দ দুইটি কোন শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘Micro’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Mikros’ এবং ‘Macro’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Makros’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
১. আদাম স্মিথের সংজ্ঞাটি লেখো।
উত্তর: আদাম স্মিথের মতে, “অর্থবিজ্ঞান হল সম্পদের বিজ্ঞান” (Economics is the Science of Wealth)।
২. মার্সেলের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।
উত্তর: আলফ্রেড মার্শেলের মতে, “মানব জাতির দৈনন্দিন জীবনের কার্যগুলো অধ্যয়নই হল অর্থনীতি”। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কার্যাবলির সেই অংশটি আলোচনা করে যা পার্থিব কল্যাণ সাধন ও তার ব্যবহারের সাথে যুক্ত।
৩. রবিন্সের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।
উত্তর: লায়নেল রবিন্সের মতে, “যে বিজ্ঞান মানুষের আচরণকে মানুষের অপরিসীম অভাব এবং এর বিপরীতে বিকল্পভাবে ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের মধ্যকার সম্পর্ককে অধ্যয়ন করে, তাই অর্থনীতি”।
৪. সেমুয়েলসন এবং নর্ডহাসের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।
উত্তর: তাঁদের মতে, দুষ্প্রাপ্যতার বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে সম্পদের সর্বোত্তম দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য সমাজ গঠন করাই হল অর্থনীতির মূল বিষয়বস্তু।
৫. রবিন্সের অর্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটির মৌলিক ধারণাগুলো কী কী?
উত্তর: রবিন্সের সংজ্ঞায় তিনটি মৌলিক ধারণা পাওয়া যায়:
* মানুষের অভাব অসীম।
* অভাব পূরণের উপায় বা সম্পদ সীমিত।
* সীমিত সম্পদগুলো বিকল্প ব্যবহারযোগ্য।
৬. ব্যষ্টিবাদী অর্থবিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যাবলি স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা হয় (যেমন একজন ক্রেতা বা একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান), তাকে ব্যষ্টিবাদী অর্থনীতি (Micro-Economics) বলে।
৭. সমষ্টিবাদী অর্থবিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের যে শাখায় কোনো দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক বা সমষ্টিগত দিক যেমন মোট জাতীয় আয়, দেশের জনসংখ্যা, নিয়োগ ইত্যাদি আলোচনা করা হয়, তাকে সমষ্টিবাদী অর্থনীতি (Macro-Economics) বলে।
৮. আর্থিক বস্তু ও অন-আর্থিক বস্তুর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: আর্থিক বস্তু বলতে সেই সব জিনিস বোঝায় যেগুলোর যোগান চাহিদার তুলনায় সীমিত এবং যেগুলোর নির্দিষ্ট দাম থাকে (যেমন খাদ্য, বিদ্যুৎ)। অন্যদিকে, অন-আর্থিক বা মুক্ত বস্তু হলো প্রকৃতির অঢেল দান যেগুলোর জন্য কোনো দাম দিতে হয় না (যেমন সূর্যের আলো, বাতাস)।
৯. রাষ্ট্রীয় আয় কাকে বলে?
উত্তর: একটি দেশের একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে উৎপাদিত সকল প্রস্তুত দ্রব্য বা সেবাসামগ্রীর মোট মুদ্রা মূল্যকেই রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় আয় (National Income) বলা হয়।
১০. মাথাপিছু আয়ের সূত্রটি কী?
উত্তর: মাথাপিছু আয়ের সূত্রটি হলো—
মাথাপিছু আয় = একটি দেশের মোট রাষ্ট্রীয় আয় ÷ দেশের মোট জনসংখ্যা।
দীর্ঘ উত্তর লেখো
১. অর্থবিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সুস্থ গণতন্ত্রে সচেতন নাগরিক হওয়ার জন্য অর্থনীতি পাঠ জরুরি। একজন করদাতা হিসেবে জানা দরকার সরকার কীভাবে কর সংগ্রহ ও ব্যয় করছে। একজন সমাজ সংস্কারককে দারিদ্র্যের অর্থনৈতিক কারণ বুঝতে হয়। সচেতন গ্রাহক হিসেবে বাজারের মূল্যবৃদ্ধির কারণ, বিশ্বায়ন বা অর্থনৈতিক বিকাশের সুফল-কুফল বুঝতেও অর্থনীতির জ্ঞান অপরিহার্য।
২. অর্থবিজ্ঞানের কোন সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লায়নেল রবিন্সের সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। কারণ তাঁর সংজ্ঞাটি তিনটি চিরন্তন সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি— অসীম অভাব, সীমিত সম্পদ এবং সম্পদের বিকল্প ব্যবহার। এটি শুধুমাত্র সম্পদ বা বস্তুগত কল্যাণে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের অর্থনৈতিক আচরণের প্রকৃত স্বরূপ এবং পছন্দের সমস্যার (Problem of Choice) সমাধান নিয়ে আলোচনা করে।
৩. অর্থবিজ্ঞানের পরিসর সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: অর্থবিজ্ঞানের পরিসর বা পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এর অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়গুলো হলো:
* ভোগকার্য: মানুষের অভাব দূর করার কার্যাবলি।
* উৎপাদন: প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা পরিসেবা সৃষ্টি করা।
* বণ্টন: উৎপাদিত সামগ্রী উপভোক্তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া।
* বিনিময়: ব্যক্তি বা দেশের মধ্যে পণ্যের আদান-প্রদান।
* মুদ্রা ও রাজস্ব বিজ্ঞান: বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে টাকা এবং সরকারি আয়-ব্যয়।
* কল্যাণ ও পরিবেশ অর্থনীতি: সমাজের ভালো মন্দ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে আলোচনা।
