কলা,Chapter-6, Class -9, SEBA, Science


কলা,Chapter-6

এখানে অনুশীলনীর (Anushiloni) সমস্ত প্রশ্ন এবং উত্তরগুলি দেওয়া হলো:
অনুশীলনী
১. ‘কলা’র সংজ্ঞা লেখ।
উত্তর: গঠনগত এবং কার্যগত দিক দিয়ে এক বা অভিন্ন কোষসমষ্টিকে কলা (Tissue) বলা হয়।
২. কত ধরনের উপাদান মিলে জাইলেম কলা গঠিত হয়? নাম লেখ।
উত্তর: জাইলেম কলা চার রকম কোষ বা উপাদান দিয়ে গঠিত হয়। এগুলির নাম হলো:
১. ট্রাকিড
২. বাহিকা
৩. জাইলেম প্যারেনকাইমা
৪. জাইলেম তন্ত্র (বা ফাইবার)
৩. উদ্ভিদের সরলকলা ও জটিল কলার পার্থক্য লেখ।
উত্তর: উদ্ভিদের সরল কলা এবং জটিল কলার মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
* সরল কলা: এই প্রকার স্থায়ী কলা কেবল এক ধরনের আকৃতির কোষ দিয়ে গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ— প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা এবং স্ক্লেরেনকাইমা।
* জটিল কলা: এই প্রকার স্থায়ী কলা বিভিন্ন ধরনের কোষ দিয়ে গঠিত হয়। এই সকল কোষ সমন্বিত হয়ে একই কাজ সম্পন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ— জাইলেম এবং ফ্লোয়েম।
৪. কোষপ্রাচীরের ওপর ভিত্তি করে প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা এবং স্ক্লেরেনকাইমার পার্থক্য লেখ।
উত্তর: কোষপ্রাচীরের ওপর ভিত্তি করে প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা এবং স্ক্লেরেনকাইমার পার্থক্য:
* প্যারেনকাইমা: এদের কোষপ্রাচীর পাতলা হয়।
* কোলেনকাইমা: এদের কোষপ্রাচীর সজীব এবং কোষের কোণগুলো স্থূল (মোটা) হতে দেখা যায়।
* স্ক্লেরেনকাইমা: এদের কোষপ্রাচীর লিগনিন নামক রাসায়নিক পদার্থ যুক্ত হওয়ায় খুব স্থূল এবং শক্ত হয়।
৫. পত্ররন্ধ্রের কাজ কি কি?
উত্তর: পত্ররন্ধ্রের প্রধান কাজগুলি হলো:
১. পরিবেশের সাথে গ্যাসের আদান-প্রদান করা (যেমন সালোকসংশ্লেষণের জন্য কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ)।
২. প্রস্বেদন (Transpiration) প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ দেহ থেকে অতিরিক্ত জল বাষ্পের আকারে বের করে দেওয়া।
৬. তিন ধরনের পেশীতন্ত্রের পার্থক্য চিত্রসহকারে দেখাও।
উত্তর: তিন ধরনের পেশীতন্ত্র হলো সরেখ পেশী, মসৃণ পেশী এবং হৃৎপেশী। পাঠ্যপুস্তকের চিত্র 6.11 (a), (b) এবং (c) -তে এদের চিত্র দেখানো হয়েছে।
এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:
| বৈশিষ্ট্য | সরেখ পেশী (Striated) | মসৃণ পেশী (Smooth) | হৃৎপেশী (Cardiac) |
|—|—|—|—|
| কোষের আকৃতি | লম্বা, নলাকার, শাখাহীন। | লম্বা, মাকুর আকারের। | বেলনাকার বা নলাকার (এবং শাখান্বিত)। |
| নিউক্লিয়াস | বহু নিউক্লিয়াস যুক্ত। | একটিমাত্র নিউক্লিয়াসযুক্ত। | একটি নিউক্লিয়াস যুক্ত। |
| দাগ (Striations) | আড়াআড়ি কালো-সাদা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। | কোনো দাগ থাকে না (অরেখ)। | (দাগযুক্ত, যদিও পাঠ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, চিত্র 6.11c তে দৃশ্যমান) |
| কার্য | ঐচ্ছিক পেশী (ইচ্ছেমতো সঞ্চালন করা যায়)। | অনৈচ্ছিক পেশী (ইচ্ছেমতো সঞ্চালন করা যায় না)। | অনৈচ্ছিক পেশী (ছন্দোময় সংকোচন ও প্রসারণ ঘটায়)। |
৭. হৃৎপেশীর নির্দিষ্ট কাজ কি?
উত্তর: হৃৎপেশীর নির্দিষ্ট কাজ হলো সমগ্র জীবন ধরে ছন্দোময় সংকোচন ও প্রসারণ ঘটানো, যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন করে।
৮. আকৃতি এবং অবস্থান বিচার করে সরেখ, অরেখ এবং হৃদপেশীর পার্থক্য বোঝাও।
উত্তর:
| পেশীর ধরন | আকৃতি | অবস্থান |
|—|—|—|
| সরেখ পেশী | এই কলার প্রতিটি কোষ লম্বা, নলাকার, শাখাহীন এবং বহু নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়। | এই পেশী সাধারণত হাড় বা অস্থির সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেমন— হাত ও পায়ের পেশী। |
| অরেখ (মসৃণ) পেশী | এই পেশীর কোষ লম্বা, মাকুর আকারের এবং একটিমাত্র নিউক্লিয়াসযুক্ত হয়। | পৌষ্টিক নালী, রক্তের নলিকা, চোখের মনি, মূত্রাশয় এবং ফুসফুসে এই ধরনের পেশী পাওয়া যায়। |
| হৃৎপেশী | এই পেশীর কোষ বেলনাকার বা নলাকার এবং একটি নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়। | এই পেশী শুধুমাত্র হৃৎপিণ্ডে পাওয়া যায়। |
৯. স্নায়ুকোষের লেবেল করা চিত্র আঁক।
উত্তর: (পাঠ্যপুস্তকের চিত্র 6.12 দ্রষ্টব্য)
একটি স্নায়ুকোষ বা নিউরোনের লেবেল করা প্রধান অংশগুলি হলো:
* কোষদেহ: এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম থাকে।
* ডেনড্রাইট: কোষদেহ থেকে বের হওয়া ছোট ছোট, শাখাযুক্ত অংশ।
* এ্যাক্সন: কোষদেহ থেকে বের হওয়া একটি লম্বা অংশ।
* স্নায়ু কোষের শেষাংশ: এ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত।
১০. নীচের বাক্যগুলো পড়ে নাম লেখ-
(a) আমাদের মুখ গহ্বরের ভেতরের ত্বক বা আবরনের কলা।
উত্তর: শল্কী অধিচ্ছদ কলা (বা সরল শল্কী উপকলা)।
(b) মানুষের দেহে পেশীকে অস্থির সঙ্গে যুক্তকরে যে কলা।
উত্তর: টেণ্ডন (Tendon)।
(c) উদ্ভিদের দেহে যে কলা খাদ্য সংবহন করে।
উত্তর: ফ্লোয়েম কলা।
(d) আমাদের দেহে যে কলা চর্বী সংরক্ষন করে।
উত্তর: এ্যাডিপোজ কলা (Adipose tissue)।
(e) ম্যাট্রিক্স তরল সহ যোগ কলা।
উত্তর: রক্ত।
১১. নীচের অঙ্গে যে সব কলা থাকে তাদের নাম বল ত্বক, গাছের ছাল, অস্থি, বৃক্ক নলীকার ভেতরের ত্বক, সংবহন কলা।
উত্তর:
* ত্বক: স্তরীভূত শল্কী অধিচ্ছদ কলা।
* গাছের ছাল: কর্ক কলা।
* অস্থি: অস্থি কলা (একটি বিশেষ ধরনের যোগ কলা)।
* বৃক্ক নলীকার ভেতরের ত্বক: ঘনাকৃতি উপকলা (অধিচ্ছদীয় কলা)।
* সংবহন কলা (সংবহনী বাণ্ডিল): জাইলেম এবং ফ্লোয়েম কলা।
১২. প্যারেনকাইমা কলা যে অঞ্চলে পাওয়া যায় সেই অঞ্চলের নাম কি?
উত্তর: প্যারেনকাইমা কলা উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়। এটি উদ্ভিদের কাণ্ড, মূল, পাতা, ফুল ও ফলে মৌলিক আবরণকারী কলা হিসেবে থাকে। কাণ্ড ও মূলের প্যারেনকাইমা খাদ্য ও জল সঞ্চয় করে। এছাড়া জটিল কলা জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যেও এরা উপস্থিত থাকে।
১৩. উদ্ভিদের বহিস্তকের কাজ কি?
উত্তর: উদ্ভিদের বহিস্তকের প্রধান কাজ হলো উদ্ভিদকে রক্ষা করা। এটি উদ্ভিদকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়া থেকে (প্রস্বেদন হ্রাস করে), বাইরের আঘাত থেকে এবং পরজীবী বা ছত্রাকের আক্রমণ থেকে বাঁচায়। মূলের বহিঃস্তকীয় কোষ (মূলরোম) জল শোষণে সাহায্য করে।
১৪. কর্ক কিভাবে রক্ষনকারী কলা হিসাবে কাজ করে।
উত্তর: কর্ক কোষগুলি মৃত হয় এবং কোষ মধ্যবর্তী অঞ্চল ছাড়া ঘনভাবে সজ্জিত থাকে। এদের কোষপ্রাচীরে ‘সুবেরিন’ নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়। এই সুবেরিন স্তরটি কোষগুলোকে গ্যাস বা জল চলাচলে বাধা দেয়। এইভাবে কর্ক উদ্ভিদকে বাইরের আঘাত এবং জলের অপচয় থেকে রক্ষা করে।
১৫. নীচের তালিকা সম্পূর্ণ কর:
উত্তর: তালিকাটির শূন্যস্থান পূরণ করা হলো:
* স্থায়ী কলা
   * ১. সরল
     * (A) প্যারেনকাইমা
     * (B) কোলেনকাইমা
     * (C) স্ক্লেরেনকাইমা
   * ২. জটিল
     * (D) জাইলেম
     * (E) ফ্লোয়েম
     *

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *