চলো গাছের চারা রোপণ করি
চলো গাছের চারা রোপণ করি পাঠভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর , পাঠ -3
১। শুদ্ধ উত্তর বের করে বৃত্তটি পূর্ণ করো।
১. নাটিকার প্রথম দৃশ্যে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে কে ছবি আঁকছিল?
মনন
২. সুমনা সবাইকে হাতে হাতে দা, কোদাল, শাবল, হাতুড়ি প্রভৃতি কেন নিয়ে আসতে বলেছিল?
গাছের চারা রোপণ করার জন্য
২। তুমি ওপরের দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটি কেন শুদ্ধ বলে বেছে নিয়েছ? সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলো।
আমি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর শুদ্ধ বলে বেছে নিয়েছি কারণ চারাগাছ রোপণের জন্য গর্ত খোঁড়া এবং মাটি আলগা করার প্রয়োজন হয়। দা, কোদাল, শাবল, হাতুড়ি ইত্যাদি যন্ত্রগুলো সেই কাজগুলো করার জন্যই ব্যবহার করা হয়।
৩। শব্দার্থ
প্রদর্শনী: দেখানো বা প্রদর্শন করার স্থান/ব্যবস্থা
মহোৎসব: বড়ো উৎসব
শীতল: ঠান্ডা
কায়া: শরীর
ধরণি: পৃথিবী
শাবল: গর্ত বা মাটি খোঁড়ার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের লম্বা যন্ত্র
৪। পাঠটির দ্বিতীয় ছবিতে কাহিনির কোন কোন অংশ প্রকাশ পেয়েছে আলোচনা করে নীচের বাক্সে লিপিবদ্ধ করো।
শিশুরা গাছের চারা রোপণ করার জন্য শোভাযাত্রার মতো সারিবদ্ধভাবে যাচ্ছে।
শিশুদের হাতে গাছের চারা, শাবল, বালতি, মগ ইত্যাদি সরঞ্জাম দেখা যাচ্ছে।
তারা সকলে একসঙ্গে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছে।
তারা খুশিতে ঘুরে ঘুরে নাচছে বা চিৎকার করছে।
তারা ‘বন মহোৎসব’ পালনের জন্য খেলার মাঠে যাচ্ছে।
৫। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
(ক) মনন কেন ছবি এঁকেছিল?
Ans.মনন ‘বন মহোৎসব সপ্তাহ’ উপলক্ষে ছবিটি এঁকেছিল, যা সে প্রদর্শনীতে দেবে।
(খ) গাছ আমাদের কী কী দেয় বলে মনন বলেছিল?
Ans.মনন বলেছিল যে গাছ আমাদের ফুল দেয়, ফল দেয়, এমনকি ছায়াও দেয়।
(গ) আকাশি যে-ছবিটি এঁকেছিল সেখানে লাল রং দিয়ে কী বোঝানোর চেষ্টা করেছিল?
Ans.আকাশি তার ছবিতে গাছের কেটে ফেলা অংশ এবং চোখ-মুখের নীচের আঠার শক্ত ফোঁটাগুলিতে লাল রং দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে কেটে ফেলা গাছটির বুক চিঁড়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
(ঘ) ‘বন মহোৎসব’ সপ্তাহের সমাপ্তি সভা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
Ans.’বন মহোৎসব’ সপ্তাহের সমাপ্তি সভা জেলা গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত হবে।
(ঙ) পবন কাকাবাবু মননদের কী খাওয়াবেন বলেছিলেন?
Ans.পবন কাকাবাবু মননদের ছোলা আর নারকেল খাওয়াবেন বলেছিলেন।
(চ) ‘গাছের প্রাণ আছে’- এই কথাটি যিনি বলেছিলেন সেই বিজ্ঞানীর নাম কী?
Ans.’গাছের প্রাণ আছে’- এই কথাটি যিনি বলেছিলেন সেই বিজ্ঞানীর নাম হলো আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু।
৬। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলির বিস্তারিত উত্তর দাও
(ক) মনন তার ছবির মাধ্যমে কী ভাব ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিল?
Ans . মনন তার ছবির মাধ্যমে এই ভাব ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিল যে গাছেরা আমাদের খুব আদরের, খুব কাছের মানুষের মতো। তারা ফুল, ফল ও ছায়া দেয়। তাই সে তার ছবিতে গাছের ডালকে দু-খানা হাতের মতো এবং পাতাগুলিকে চুলের মতো দেখিয়েছিল। ছবির নীচে ছায়ায় একজন মানুষ বসে থাকবে এবং গাছের উপরে একঝাঁক উড়ন্ত পাখি থাকবে।
(খ) গাছের চারাগুলি রোপণ করার পর সেগুলির পরিণতি কী হবে বলে সুমনার শঙ্কা প্রকাশ করেছিল? তার এই শঙ্কা কে, কীভাবে দূর হবে বলেছিল?
Ans.গাছের চারাগুলি রোপণ করার পর সেগুলির পরিণতি কী হবে বলে ঋতুপর্ণ শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। ঋতুপর্ণের শঙ্কা ছিল যে চারাগুলি গোরু-ছাগল এসে খেয়ে ফেলবে।
ঋতুপর্ণের এই শঙ্কা সুমনা দূর হবে বলেছিল। সুমনা বলেছিল যে ক্লাবের নবীনদা, দীপদা, বাবুলদারা আছেন, তাঁরা বাঁশের বেড়া দিয়ে চারাগুলিকে ঘেরাও করে দেবেন।
(গ) মননরা কীভাবে গাছের চারা রোপণ করার পরিকল্পনা করেছিল?
Ans.তারা আজ বিকেলে খেলার মাঠের চারিদিকে গাছের চারা রোপণ করবে।
তারা বিভিন্ন গাছতলায় খোঁজ করলে আমলকী, হরিতকী, তেঁতুল, কুল, কাঞ্চনফুলের চারা পাবে।
চারা রোপণের জন্য দা, কোদাল, শাবল, হাতুড়ি ইত্যাদি নিয়ে আসবে।
শুকনো গোবর গুঁড়ো এনে চারাগুলির গোড়ায় দেবে।
মগ ও বালতি করে জল এনে চারাগুলির গোড়ায় জল দেবে।
ক্লাবের নবীনদা, দীপদা, বাবুলদারা বাঁশের বেড়া দিয়ে চারাগুলি ঘেরাও করে দেবেন যাতে গোরু-ছাগল না খেতে পারে।
তারা বেলা তিনটার সময় সিঁদূরে আমগাছের তলায় একত্রিত হবে।
৭। কে, কাকে বলেছিল লেখো
(ক) “আমাদের ছোটো ছোটো ভাই-বোনেরা, মানে শিশুশ্রেণির ছেলে-মেয়েরা নেচে নেচে একটা গান গাইবে তো।”
Ans. ঋতুপর্ণ বলেছিল। মননকে বলেছিল
(খ) “তোমাদের বাড়িতে যে শুকনো গোবর গুঁড়ো করে রাখা আছে, সেখান থেকে ব্যাগ ভর্তি করে গোবর নিয়ে আসতে হবে।”
Ans.কথাটি মনন বলেছিল
কথাটি ঋতুপর্ণকে বলেছিল।
৮। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ মেলাই
মালতি পিসিমণি – কয়েকটা বিলিতি পেয়ারার চারা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শনিবার জেলা গ্রন্থাগারে – ‘বন মহোৎসব’ সপ্তাহের সমাপ্তি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষক বলবেন – শ্রদ্ধেয় নাগরিকবৃন্দ, আজ থেকে ‘বন মহোৎসব’ শুরু হয়েছে।
পবন কাকাবাবু – আমাদের ছোলা আর নারকেল খাওয়াবেন।
জগৎ কাকাবাবুর স্ত্রী – এককাঁদি গাছপাকা কলা পাঠিয়ে দেবেন।
৯। নাটিকাটিতে যে-চরিত্রগুলো আছে, সেই নাম খুঁজে বের করে একটি তালিকা প্রস্তুত করো
মনন
সুমনা
ঋতুপর্ণ
আকাশি
বর্ণালি দিদিমণি
নবীনদা
দীপদা
বাবুলদা
জুনেদ
রিমঝিম
শায়েরা
মনাহশ্রী
বুধুয়া
মালতি পিসিমণি
রঘুমামা
রূপক
মানিক জ্যাঠামশাই
রামদয়াল দাদু
পবন কাকাবাবু
জগৎ কাকাবাবুর স্ত্রী
খুকুমণি
লক্ষ্মী
মনুদিদি
ঘোষক
পদ শ্রেণিবিভাগ ও অন্যান্য (Page 8)
১০। পদ শ্রেণিবিভাগ
বিশেষ্য: মনন, চোখ, বাসস্থান, বেড়া
বিশেষণ: ভালো
সর্বনাম: সে, আমি, তারা, আমরা
অব্যয়: এবং, যদি
ক্রিয়া: দাও, এসো, করো
১১। শব্দগুলি বহুবচনে প্রকাশ করো
ছবি – ছবিগুলি/ছবিগুলো
আম – আমগুলি/আমগুলো
গাছ – গাছগুলি/গাছগুলো/গাছেরা
পাখি – পাখিগুলি/পাখিগুলো/পাখিরা
দিদি – দিদিরা/দিদিগণ
জ্যাঠা – জ্যাঠারা/জ্যাঠামশাইরা
সে – তারা
১২। বাক্য রচনা করো
প্রদর্শনী: মনন বন মহোৎসবের ছবিটি প্রদর্শনীতে দেবে।
খেলার মাঠ: মননরা খেলার মাঠের চারিদিকে চারাগাছ রোপণ করবে।
ধরণি: সবুজের ঢেউ তুলে আমরা ধরণির বুকে সুখ চাই।
গ্রন্থাগার: বন মহোৎসবের সমাপ্তি সভা জেলা গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত হবে।
চারাগাছ: ক্লাব সদস্যেরা চারাগাছ রক্ষা করার জন্য বেড়া দিয়ে দেবে।
বৈজ্ঞানিক: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ছিলেন।
১৩। তোমার পাঠটি থেকে দ্বিরুক্ত শব্দগুলি খুঁজে বের করো
মেলে মেলে
ছোটো ছোটো
দল দলে
রঙে-রসে-ফুলে-ফলে
জ্ঞান সম্প্রসারণ (Page 9)
১৫। গানটিতে বেগুনের পরিবর্তে বাদাম, ছোলা, আলু ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার
নারকেল-ছোলা গাছপাকা কলা, কী মজা বাদাম ভাজা।
নারকেল-ছোলা গাছপাকা কলা, কী মজা ছোলা ভাজা।
নারকেল-ছোলা গাছপাকা কলা, কী মজা আলু ভাজা।
১৬। ঋতুপর্ণের সংলাপের পর সুমনা ও তার সঙ্গীদের সম্ভাব্য সংলাপ
ঋতুপর্ণ: সত্যিই যেন গাছেরও জীবন আছে,… প্রাণ আছে।
সুমনা: হ্যাঁ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এই কথা বলেছিলেন! সেই জন্যই তো আকাশি গাছ কাটার দৃশ্যে রক্ত দেখিয়েছে।
মনন: ঠিক বলেছিস। তাই তো আমরা বলছি, ‘গাছে ফুটুক ফুল, মুকুল দলে দলে, পৃথিবী সাজাব রঙে-রসে-ফুলে-ফলে’।
জুনেদ: চলো, চলো, আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি চারা রোপণ করে আসি। গাছ আমাদের এতকিছু দেয়, আমরাও তাদের বাঁচাই!
