হে ভারতের শ্রমজীবী,Chapter -14,Class -7, SEBA

হে ভারতের শ্রমজীবী’ পাঠের প্রশ্নাবলী ও তার সমাধান নিচে দেওয়া হলো।

পাঠ-১৪: হে ভারতের শ্রমজীবী (স্বামী বিবেকানন্দ)
নিচে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনী বা ক্রিয়াকলাপের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো দেওয়া হলো:
ক- পাঠভিত্তিক ক্রিয়া
২। পাঠটির মূলভাব নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: ‘হে ভারতের শ্রমজীবী’ প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের বন্দনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সভ্যতার যা কিছু উন্নতি—বড় বড় শহর, অট্টালিকা, সম্পদ—সবই এই শ্রমজীবী মানুষের হাড়ভাঙা খাটুনির ফল। অথচ, সমাজের ধনিক শ্রেণি বা তথাকথিত উচ্চবিত্তরা তাঁদের অবজ্ঞা করে। যুদ্ধ বা বড় কোনো কাজে অনেকেই বীরের সম্মান পায়, কিন্তু এই গরিব শ্রমজীবীরা দিনরাত মুখ বুজে যে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা এক নীরব বীরত্ব। স্বামীজী এই চির-উপেক্ষিত শ্রমজীবীদেরই প্রকৃত ধন্য বলে মনে করেছেন এবং তাঁদের প্রণাম জানিয়েছেন।
৩। উত্তর বলো ও লেখো:
প্রশ্ন (ক): এই পাঠে তোমরা কোন কোন দেশের নাম পেয়েছ?
উত্তর: এই পাঠে বাবিল (ব্যাবিলন), ইরান, আলেকজেন্দ্রিয়া, গ্রিস, রোম, ভিনিস, জেনোয়া, বোগদাদ (বাগদাদ), সমরকন্দ, স্পেন, পোর্তুগাল, ফ্রান্স (ফরাসি), ডেনমার্ক (দিনেমার), হল্যান্ড (ওলন্দাজ) এবং ইংল্যান্ডের (ইংরেজ) নাম পাওয়া গেছে। 
প্রশ্ন (খ): কাদের কেউ বাহবা দেয় না?
উত্তর: সমাজের সাধারণ শ্রমজীবী গরিব মানুষদের পরিশ্রমের জন্য কেউ বাহবা দেয় না। 
প্রশ্ন (গ): কারা দিনরাত মুখ বুজে নিজের কর্তব্য পালন করে চলেছেন?
উত্তর: ভারতের গরিব শ্রমজীবী মানুষেরা দিনরাত মুখ বুজে তাঁদের কর্তব্য পালন করে চলেছেন। 
প্রশ্ন (ঘ): কখন একজন কাপুরুষও বীর হয়ে যান?
উত্তর: যখন বড় কোনো কাজের দায়িত্ব আসে অথবা দশ হাজার লোকের বাহবার সামনে দাঁড়াতে হয়, তখন একজন কাপুরুষও বীর হয়ে যান এবং অক্লেশে প্রাণ দিতে পারেন। 
প্রশ্ন (ঙ): স্বামীজী কেন শ্রমজীবী লোকেদের বন্দনা করেছেন?
উত্তর: শ্রমজীবী মানুষের নীরব ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই মানবজাতির সমস্ত উন্নতি সাধিত হয়েছে। তাঁরা কোনো নাম-যশ বা বাহবা না চেয়েই নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্য পালন করে যান। তাঁদের এই সহিষ্ণুতা, প্রীতি এবং নির্ভীক কাজের জন্যই স্বামীজী তাঁদের বন্দনা করেছেন। 
৪। পাঠটি পড়ে শূন্যস্থান পূর্ণ করো:
(ক) লোকজয়ী ধর্মবীর, রণবীর, কাব্যবীর সকলের চোখের উপর, সকলের পূজ্য; কিন্তু কেউ যেখানে দেখে না, কেউ যেখানে একটা বাহবা দেয় না, যেখানে সকলে ঘৃণা করে, সেখানে বাস করে অপার সহিষ্ণুতা, অনন্ত প্রীতি ও নির্ভীক কার্যকারিতা; আমাদের গরীবরা ঘরদুয়ারে দিনরাত যে মুখ বুজে কর্তব্য করে যাচ্ছে। 
৫। সত্য/অসত্য লেখো:
(ক) পিতৃপুরুষের ডাকের চোটে গগন ফাটছে। — সত্য 
(খ) শ্রমজীবীদের গুণগান সবাই করে। — অসত্য 
(গ) শ্রমজীবীরা দিনরাত মুখ বুজে কর্তব্য করে যাচ্ছেন। — সত্য 
(ঘ) ভারতের চির উন্নত শ্রমজীবীদের সবাই প্রণাম করেন। — অসত্য (পাঠ অনুসারে তারা ‘চিরপদদলিত’ এবং লেখক তাদের প্রণাম জানিয়েছেন, সবাই নয়)। 
৬। উদাহরণের মতো শব্দ গঠন করো এবং যে নতুন শব্দ পেলে সেটির অর্থ অভিধান বা শব্দ-সম্ভার দেখে লেখো:
কাল + জয়ী = কালজয়ী (যিনি কাল বা সময়কে জয় করেছেন/চিরস্মরণীয়)
রণ + জয়ী = রণজয়ী (যিনি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন)
ধর্ম + বীর = ধর্মবীর (ধর্ম রক্ষায় বা পালনে যিনি বীর)
কর্ম + বীর = কর্মবীর (কর্মে যিনি অত্যন্ত দক্ষ বা কর্মঠ)
রণ + বীর = রণবীর (যুদ্ধে যিনি বীর বা পারদর্শী)
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
৭। এখন তোমরা কোনটি কী ধরনের শব্দ বলো:
শির: তৎসম শব্দ
অনন্ত: তৎসম শব্দ
দর্শন: তৎসম শব্দ
সন্ধ্যা: তৎসম শব্দ
অক্লেশ: তৎসম শব্দ
বীরত্ব: তৎসম শব্দ
স্কুল: বিদেশী শব্দ (ইংরেজি)
ঐশ্বর্য: তৎসম শব্দ
দীপ্ত: তৎসম শব্দ
টেবিল: বিদেশী শব্দ (ইংরেজি)
আয়না: বিদেশী শব্দ (ফারসি)
হস্ত: তৎসম শব্দ
কর্ম: তৎসম শব্দ
গেরাম: অর্ধতৎসম শব্দ (গ্রাম > গেরাম)
পাতা: তদ্ভব শব্দ (পত্র > পত্ত > পাতা)
৮। এককথায় প্রকাশ করো:
(ক) যার অন্ত নেই — অনন্ত
(খ) যার স্বার্থ নেই — নিঃস্বার্থ
(গ) যার ভয় নেই — নির্ভীক
(ঘ) যে পূজার যোগ্য — পূজ্য
৯। নীচে বাঁদিকের শব্দের বিপরীত শব্দ ডান দিকের শব্দ-সম্ভার থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:
বীরত্ব — কাপুরুষত্ব
সহিষ্ণুতা — অসহিষ্ণুতা
প্রীতি — অপ্রীতি
স্বার্থপর — পরার্থপর (বা নিঃস্বার্থ, কিন্তু বক্সে ‘পরার্থপর’ আছে)
১০। নীচের শব্দগুলো বর্ণের ক্রম রক্ষা করে লেখো (অভিধান ক্রমে):
(শব্দগুলো: পিতৃ, গুণ, শ্রম, উন্নতি, ঐশ্বর্য, মনুষ্য, বীর, পুরুষ, ঘৃণা, কার্য, ভারত, দর্শন)
উত্তর:
১. উন্নতি
২. ঐশ্বর্য
৩. কার্য
৪. গুণ
৫. ঘৃণা
৬. দর্শন
৭. পিতৃ
৮. পুরুষ
৯. বীর
১০. ভারত
১১. মনুষ্য
১২. শ্রম
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ
১২। অনেক শ্রমজীবী আছেন যাদের শ্রমের ফল আমরা উপভোগ করি কিন্তু তাঁদের কথা একবারও ভাবিনা। সেরকম তিনজন শ্রমজীবীর কথা উল্লেখ করে তাঁদের বিষয়ে এক একটি বাক্য লেখো।
উত্তর:
১. কৃষক: রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকরা ফসল ফলায় বলেই আমরা দুবেলা ভাত খেতে পাই।
২. পরিচ্ছন্নতা কর্মী: তাঁরা প্রতিদিন আমাদের রাস্তাঘাট ও নর্দমা পরিষ্কার রাখেন বলেই আমরা সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বাস করতে পারি।
৩. রিকশাচালক: তাঁরা কায়িক পরিশ্রম করে আমাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেন, যা আমাদের যাতায়াতকে সহজ করে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *