ভালো থেকো, Chapter -11,Class-7, SEBA

ভালো থেকো, Chapter -11,Class-7, SEBA

পাঠ-১১: ভালো থেকো (হুমায়ুন আজাদ)
নিচে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনী বা ক্রিয়াকলাপের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো দেওয়া হলো:
ক- পাঠভিত্তিক ক্রিয়া
২। উত্তর দাও:
প্রশ্ন (ক): কবি ‘ভালো থেকো’ কবিতাটিতে কোন ফুলকে ভালো থাকতে বলেছেন?
উত্তর: কবি ‘ভালো থেকো’ কবিতাটিতে মিষ্টি বকুল ফুলকে ভালো থাকতে বলেছেন। 
প্রশ্ন (খ): ভাটিয়ালি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভাটিয়ালি হলো মাঝি-মাল্লাদের গাওয়া এক ধরনের লোকগান। সাধারণত নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা বেয়ে যাওয়ার সময় মাঝিরা যে সুরেলা গান গায়, তাকেই ভাটিয়ালি গান বলে। 
প্রশ্ন (গ): কোন মাসের কোকিলকে কবি ভালো থাকতে বলেছেন?
উত্তর: কবি মাঘ মাসের কোকিলকে ভালো থাকতে বলেছেন। 
প্রশ্ন (ঘ): কবিতাটিতে উল্লেখিত দুটি সবজির নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: কবিতাটিতে উল্লেখিত দুটি সবজির নাম হলো— লাউ ও কুমড়ো। 
প্রশ্ন (ঙ): ‘লাল ছেলেবেলা’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ‘লাল ছেলেবেলা’ বলতে কবি শৈশবের আনন্দময়, রঙিন ও প্রাণবন্ত দিনগুলোর কথা বুঝিয়েছেন। ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো সব সময় মধুর ও উজ্জ্বল হয়, তাই একে লাল বা রঙিন হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। 
৩। অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো:
প্রশ্ন: ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাঁশি।
উত্তর: গ্রামবাংলার প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সবুজ মাঠ এবং সেই মাঠে গরু চরাতে যাওয়া রাখালের বাঁশির সুর। কবি প্রকৃতির এই সুন্দর রূপটি যেন চিরকাল অটুট থাকে, সেই কামনা করেছেন। মাঠ শস্যে ভরে থাকুক এবং রাখালের বাঁশি আনন্দে বেজে উঠুক— এটাই কবির প্রত্যাশা।
প্রশ্ন: ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
উত্তর: গ্রামের গৃহস্থালির চালে বা মাচায় লাউ ও কুমড়ো যখন ঝুলে থাকে, তখন তা দেখতে অনেকটা হাসিমুখের মতো মনে হয়। এটি সচ্ছলতা ও গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতীক। কবি চান গ্রামের এই সজীবতা ও আনন্দের দৃশ্য যেন কখনো হারিয়ে না যায়। 
৪। শূন্যস্থান পূর্ণ করো:
প্রশ্ন (ক): ভালো থেকো চর, ছোটো ________ ভালো থেকো।
উত্তর: ভালো থেকো চর, ছোটো কুড়ে ঘর, ভালো থেকো। 
প্রশ্ন (খ): ভালো থেকো গাছ, ________ ভালো থেকো।
উত্তর: ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো। 
প্রশ্ন (গ): ভালো থেকো বক, ________ ।
উত্তর: ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল। 
প্রশ্ন (ঘ): ভালো থেকো ________ মাঘের কোকিল।
উত্তর: ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল। 
প্রশ্ন (ঙ): ভালো থেকো মেলা, ________ ভালো থেকো।
উত্তর: ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো। 
৫। ‘ভালো থেকো’ কবিতাটিতে পরিবেশ-সচেতনতার যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিজের মতো করে উল্লেখ করো।
উত্তর: ‘ভালো থেকো’ কবিতায় কবি হুমায়ুন আজাদ প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমতবোধ প্রকাশ করেছেন। তিনি শুধু মানুষকে নয়; গাছপালা, পশুপাখি, নদী, বিল, মাঠ, বাতাস এমনকি লাউ-কুমড়োকেও ভালো থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবেশের এই উপাদানগুলো ভালো থাকলেই পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য থাকবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৃতির প্রতিটি কণা যে গুরুত্বপূর্ণ, কবি তাঁর শুভকামনার মাধ্যমে সেই সচেতনতাই তুলে ধরেছেন। 
খ- ভাষা-অধ্যয়ন
৬। পদ পরিবর্তন করো:
আকাশ (বিশেষ্য) – আকাশী (বিশেষণ)
মাঠ (বিশেষ্য) – মেঠো (বিশেষণ)
নীল (বিশেষণ) – নীলিমা (বিশেষ্য)
জল (বিশেষ্য) – জলীয় (বিশেষণ)
৭। বিশেষ্য বা নামবাচক পদ বলতে কী বোঝো? কবিতাটিতে উল্লেখিত বিশেষ্য পদের উল্লেখ করো।
উত্তর: যে পদ দিয়ে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, গুণ বা অবস্থার নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
[cite_start]কবিতাটিতে উল্লেখিত কয়েকটি বিশেষ্য পদ হলো: বকুল, ধান, মেঘ, তারা, পাখি, পাতা, চর, কুড়ে ঘর, চিল, আকাশ, শিশির, জল, নদী, গাছ, মাছ, কাক, মাঠ, বাঁশি, লাউ, কুমড়ো, আম, গ্রাম, ঘাস, বাতাস, রোদ, কোকিল, বক, বিল, নাও, মেলা, ছেলেবেলা [cite: 6-12]।
৮। নীচে কয়েকটি বিশেষ্যের বিশেষণ পদ দেওয়া হলো, সেগুলো দিয়ে বাক্য রচনা করো:
প্রশ্ন (ক): সবুজ পাতা
উত্তর: বসন্তকালে গাছে গাছে নতুন সবুজ পাতা গজায়।
প্রশ্ন (খ): নীল আকাশ
উত্তর: শরতের নীল আকাশ দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
প্রশ্ন (গ): শ্যামলা গাই
উত্তর: রাখাল মাঠে শ্যামলা গাই চড়াচ্ছে।
প্রশ্ন (ঘ): কালো মেঘ
উত্তর: আষাঢ় মাসে আকাশে কালো মেঘ জমে থাকে।
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ
৯। তোমাদের চারপাশের পরিবেশ বৃক্ষ-ছেদনের ফলে যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে তা নিজের ভাষায় ব্যক্ত করো।
উত্তর: আমাদের চারপাশে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। গাছের অভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ছায়া কমে যাচ্ছে। পাখিরা তাদের আশ্রয়স্থল হারাচ্ছে, ফলে অনেক পাখি এখন আর দেখা যায় না। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চারপাশ একদিন মরুভূমিতে পরিণত হবে এবং মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।
১৩। ধাঁধা ভাঙো
প্রশ্ন (ক):
খালবিল শুকিয়ে গেল,
গাছের মাথায় জল ধরল।
উত্তর: ডাব বা নারিকেল ।
প্রশ্ন (খ):
রাজার লাঠি
ঘন ঘন গাঁঠি।
উত্তর: আখ বা ইক্ষু।
ঘ- প্রকল্প (সংক্ষিপ্ত উত্তর)
(এই অংশটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের করার জন্য, তবে নমুনা উত্তর দেওয়া হলো)
১৪। তোমার চারপাশে যেসব গাছপালা আছে সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করো। যদি তোমার চারপাশের গাছগুলো না থাকত, তবে কী হত?
গাছের তালিকা: আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, জবা ইত্যাদি।
গাছ না থাকলে যা হতো: গাছ না থাকলে আমরা অক্সিজেন পেতাম না, ফলে শ্বাস নেওয়া অসম্ভব হতো। চারদিক উত্তপ্ত হয়ে উঠত, ছায়া পাওয়া যেত না এবং ফুল-ফলের অভাব দেখা দিত। এক কথায়, গাছ ছাড়া পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব টিকে থাকত না।
১৫। ‘গাছ সংরক্ষণের জন্য পাঁচটি শ্লোগান প্রস্তুত করো।
১. গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান।
২. একটি গাছ, একটি প্রাণ।
৩. গাছ কাটলে ক্ষতি হবে, গাছ লাগালে লাভ হবে।
৪. সবুজ পৃথিবী, সুস্থ জীবন।
৫. আগামী প্রজন্মের জন্য গাছ রক্ষা করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *