আপনাদের পাঠ্যবইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘বৃক্ষরোপণ’ কবিতার যাবতীয় প্রশ্ন এবং ব্যাকরণ অংশের সমাধান নীচে দেওয়া হলো:
অধ্যায়: বৃক্ষরোপণ
কবি: অন্নদাশঙ্কর রায়
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
- ‘বৃক্ষরোপণ’ কবিতায় কবি কোন্ গাছটি রোপণ করছেন?
- উত্তর: গ) ছাতিম
- ‘উপকারের বদলে সে কাটবে তোমার ডালপালা’- এখানে ‘সে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- উত্তর: খ) মানুষকে
- কবিতার শেষে বাইশে শ্রাবণে কোন্ কবিকে স্মরণ করা হয়েছে?
- উত্তর: ঘ) প্রয়াণ দিবসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
(ক) বৃক্ষটি কে এবং কোথায় রোপণ করেছেন?
উত্তর: কবি অন্নদাশঙ্কর রায় নগরীর পথের ধারে বৃক্ষটি (ছাতিম গাছ) রোপণ করেছেন।
(খ) গাছটিকে ‘শিশু’ এবং ‘একলা’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: চারা গাছটি সদ্য রোপণ করা হয়েছে বলে তা আকারে খুব ছোট, তাই তাকে ‘শিশু’ বলা হয়েছে। এছাড়া পথের ধারে গাছটি সঙ্গীহীন অবস্থায় একা বেড়ে উঠবে বলে কবি একে ‘একলা’ বলেছেন।
** (গ) খরার দিনে এবং বর্ষাকালে পথিকরা গাছটি থেকে কী কী পাবে বলে কবি মনে করেছেন?**
উত্তর: কবি মনে করেন, খরার দিনে দ্বিপ্রহরে পথিকরা গাছের শীতল ছায়া পাবে এবং বর্ষাকালে গাছটি মাথার ওপর ছাতার মতো মেলে ধরে বৃষ্টির হাত থেকে পথিককে রক্ষা করবে।
(ঘ) কবিতায় কাকে ‘সহিষ্ণুতার মূর্তি’ বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: কবিতায় গাছকে ‘সহিষ্ণুতার মূর্তি’ বলা হয়েছে। কারণ, গাছ মানুষের উপকার করে, অথচ মানুষ সেই উপকারের বদলে গাছের ডালপালা কেটে তাকে কষ্ট দেয়। গাছ এই সমস্ত যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করে যায়।
৪. বড় প্রশ্নের উত্তর দাও:
(ক) বৃক্ষরোপণের জন্য কবি ২২ শে শ্রাবণ দিনটি বেছে নিয়েছেন কেন?
উত্তর: ২২ শে শ্রাবণ হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। কবিগুরু প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসতেন। তাই তাঁর প্রয়াণ দিবসে বৃক্ষরোপণের মতো মহৎ কাজ করে কবি দিনটিকে স্মরণীয় ও পবিত্র করে রাখতে চেয়েছেন।
(খ) ‘বৃক্ষরোপণ’ কবিতাটিতে কবি বৃক্ষের গুরুত্ব সম্পর্কে কী বলতে চেয়েছেন ব্যাখ্যা করো?
উত্তর: কবি এই কবিতায় গাছকে মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে তুলে ধরেছেন। গাছ আমাদের ছায়া দেয়, বৃষ্টির সময় আশ্রয় দেয় এবং নিঃস্বার্থভাবে উপকার করে যায়। মানুষ নিষ্ঠুরভাবে গাছের ডালপালা কাটলেও গাছ তা সহিষ্ণুতার সাথে সহ্য করে। কবি এই কবিতার মাধ্যমে পৃথিবীকে সবুজ রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
৬. শব্দ ও অর্থ মেলানো (বামদিকের সাথে ডানদিক):
শব্দ অর্থ জননী মাতা দ্বিপ্রহর দুপুর ধরণি পৃথিবী বরণ অভ্যর্থনা বাণী উপদেশ
ভাষা-অধ্যয়ন ও ব্যাকরণ:
৭. সম্বোধন-সূচক অব্যয় পদ ব্যবহার করে বাক্য রচনা:
- ওহে: ওহে ভাই, একবার শুনে যাও তো।
- ওরে: ওরে খোকা, রোদে দৌড়াদৌড়ি করিস না।
- ওগো: ওগো শুনছ, একবার এদিকে এসো।
৮. শব্দজাল সমাধান:
পাশাপাশি:
১) ছায়া (পথিক যা পায়)
২) বিছুটি (যে পাতা লাগলে চুলকায়)
৩) আম (যে পাতা ঘটে রাখা হয়)
৪) ঘোটক (ঘোড়ার অন্য নাম)
৫) বেল (শিব পুজোয় লাগে)
৬) তাম্বুল (খাওয়ার পর যা খাওয়া হয়)
৮) তেল (রান্নায় ও নাকে দেওয়া হয়)
৯) তাজা (টাটকা)
১০) কাশ (শরৎকালে নদীর ধারে দেখা যায়)
উপর-নীচ:
১) ছাতিম (সপ্তপর্ণী)
২) বিশ্ব (পৃথিবী)
৩) আমলকী (খাওয়ার পর জল খেলে মিষ্টি লাগে)
৬) তাল (যে পাতা দিয়ে পাখা তৈরি হয়)
৭) লঙ্কা (খেতে খুব ঝাল)
৮) তেজপাতা (খাদ্যের সুগন্ধ বৃদ্ধি করে)
৯) সবজি (আনাজ)
১৮. গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ (জেনে রেখো):
- বিশ্ব বন দিবস: ২১ মার্চ
- ধরিত্রী দিবস: ২২ এপ্রিল
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস: ৫ জুন
