পাঠ – ৭: নীল পাহাড়ের দেশে, Class 5, Chapter 7, Bengali, SEBA New Book, Bengali Medium

কবি – অরূপ মন্ডল
ক – পাঠভিত্তিক (পৃষ্ঠা ৫৫)
কবিতাটি গল্পের মতো সাজিয়ে নিজের মতো করে বলো।
উত্তর: আমরা ঠাকুরমায়ের কাছে গল্পে শুনি যে, নীল পাহাড়ের দেশে এক রাজকন্যা থাকে। কিন্তু তাকে রাক্ষসী আর খোক্কশেরা পাহারা দেয়। সেই দেশে পদ্মফুলে ভরা গোল দিঘি আর শ্বেত পাথরের বাড়ি আছে। রাজকন্যার শাড়িতে পান্না আর হীরের চুমকি বসানো। তার গায়ের রঙ বকের মতো সাদা, চুল মেঘের মতো কালো আর ঠোঁট আলতা রঙে রাঙানো। সে হাসলে মুক্তো ঝরে আর কাঁদলে গোলাপ ফোটে। রাজকন্যা একলা থাকে বলে তার মনে খুব দুঃখ। কবি ভাবেন, সাত সাগর পেরিয়ে সেখানে যাওয়া কি সম্ভব? যাদের থাবায় নখ আর দাঁতে বিষ আছে, সেই দৈত্য-দানবের সাথে লড়াই করা কি সহজ? তাই কবি ঠিক করেছেন, তিনি বরং তার দাদার মতো আরেকটু বড়ো হয়ে, ঢাল-তলোয়ার সঙ্গে নিয়ে একাই সেখানে যাবেন। রঙিন মেঘের ভেলায় চড়ে তিনি অবশেষে স্বপ্নে আঁকা সেই রাজকন্যার নীল পাহাড়ের দেশে পৌঁছে যাবেন।
নীচের শব্দগুলোর অর্থ পাশের লেখা থেকে এনে শিক্ষক/শিক্ষয়িত্রীর সহায্যে মিলিয়ে লেখো।
* শ্বেত – সাদা
* দানো – দানব
* খোক্কশ – কাল্পনিক প্রাণীবিশেষ
* চুমকি – সোনা-রুপোর চকমকে ছোটো ছোটো পাত
* ভেলা – কলাগাছের কাণ্ড কিংবা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি ছোটো জলযান
উত্তর দাও।
(ক) নীল পাহাড়ের দেশে কে থাকে?
উত্তর: নীল পাহাড়ের দেশে রাজকন্যা থাকে।
(খ) এসব কথা আমরা কার কাছ থেকে শুনতে পাই?
উত্তর: এসব কথা আমরা ঠাকুরমায়ের কাছে গল্পে শুনতে পাই।
(গ) রাজকন্যের শাড়িতে কী বসানো আছে?
উত্তর: রাজকন্যের শাড়িতে পান্না আর হীরের চুমকি বসানো আছে।
(ঘ) রাজকন্যে হাসলে কী ছড়ায়?
উত্তর: রাজকন্যে হাসলে মুক্তো ছড়ায়।
(ঙ) কীভাবে নীল পাহাড়ের দেশে পৌঁছা যায়?
উত্তর: রঙিন মেঘের ভেলায় চেপে নীল পাহাড়ের দেশে পৌঁছা যায়।
বুঝে লেখো।
তার চে’ বরং দাদার মতো একটু বড়ো হলে
ঢাল তলোয়ার সঙ্গে নিয়ে একাই যাবো চলে।
উত্তর: কবি মনে করেন যে নীল পাহাড়ের দেশে রাজকন্যাকে পাহারা দেয় বিষদাঁত আর নখওয়ালা ভয়ঙ্কর দৈত্য-দানব। তাদের সাথে লড়াই করা খুব কঠিন। তাই কবি ভাবছেন, এখন তিনি ছোট, তাই লড়াই করতে পারবেন না। তিনি তার দাদার মতো আরেকটু বড়ো হলে, নিজের শক্তি বাড়বে, তখন ঢাল-তলোয়ারের মতো অস্ত্র নিয়ে একাই সেই দৈত্য-দানবদের সাথে লড়ে রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে যাবেন।
(পৃষ্ঠা ৫৬)
‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মিলিয়ে লেখো।
* (ক) রাক্ষসী আর খোক্কশেরা – পাহারা দেয় তাকে।
* (খ) পদ্মফোটা গোল দিঘি আর – শ্বেত পাথরের বাড়ি।
* (গ) বক-সাদা রঙ, মেঘ-কালো চুল, – আলতা রাঙা ঠোঁটে।
* (ঘ) থাবায় যাদের নখ রয়েছে, – বিষ রয়েছে দাঁতে।
* (ঙ) একলা থাকা রাজকন্যের – দুঃখ মনে ভারি।
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ) (পৃষ্ঠা ৫৬)
কবিতাটিতে যে শব্দগুলোর ওপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) আছে সেই শব্দগুলো খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর:
* কাঁদলে
* দাঁতে
* পৌঁছে
শুদ্ধ শব্দ বসিয়ে নীচের বাক্যগুলো পূর্ণ করো।
* (ক) আমি রোজ স্কুলে যাই।
* (খ) রতন রোজ বিকেলে ফুটবল খেলে।
* (গ) গোলাপ ফুলের পাপড়ি টকটকে লাল।
* (ঘ) বড়ো হলে নীল পাহাড়ের দেশে যাবো।
* (ঙ) আজ ঠাকুরমায়ের কাছে গল্প শুনবো।
(পৃষ্ঠা ৫৭)
কবিতার পংক্তিগুলো থেকে বিশেষ্য পদগুলো বেছে বের করো।
“একলা থাকা রাজকন্যের দুঃখ মনে ভারি
সাতটি সাগর পেরিয়ে সেথায়, যেতে কি আর পারি?
থাবায় যাদের নখ রয়েছে, বিষ রয়েছে দাঁতে
লড়াই করে পারবো কি সেই দৈত্য দানোর সাথে?
তার চে’ বরং দাদার মতো একটু বড়ো হলে
ঢাল তলোয়ার সঙ্গে নিয়ে একাই যাবো চলে”
উত্তর: রাজকন্যে, দুঃখ, মন, সাগর, থাবা, নখ, বিষ, দাঁত, লড়াই, দৈত্য, দানো, দাদা, ঢাল, তলোয়ার।
বাক্য রচনা করো।
* সাগর – সাত সাগর তেরো নদীর পারে রাজকন্যার দেশ।
* শ্বেত – রাজকন্যার বাড়িটি শ্বেত পাথরের তৈরি।
* গোলাপ – রাজকন্যা কাঁদলে গোলাপ ফোটে।
* স্বপ্ন – কবি স্বপ্নে আঁকা নীল পাহাড়ের দেশে যেতে চান।
* রাজকন্যে – নীল পাহাড়ের দেশে একলা রাজকন্যে থাকে।
* রাক্ষস – রাক্ষস আর খোক্কশেরা রাজকন্যাকে পাহারা দেয়।
* হীরা – রাজকন্যার শাড়িতে হীরা বসানো আছে।
এসো, কবিতাটি থেকে নীচের শব্দগুলোর জোড়া শব্দ খুঁজে লিখি।
* ঢাল- তলোয়ার
* দৈত্য- দানো
* হাসি- কাঁদলে (বা কান্না)
* রাক্ষস- খোক্কশ
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ (পৃষ্ঠা ৫৮-৫৯)
(এই পৃষ্ঠাগুলিতে ‘রামগরুড়ের ছানা’, ‘খোকার নাচন’, ‘ফড়িংবাবুর বিয়ে’, ‘ধানের খেতে’ এবং ‘শিশুর সঙ্কল্প
‘ কবিতাগুলি আবৃত্তি করার জন্য দেওয়া হয়েছে, কোনও অনুশীলনমূলক কাজ নেই।)
