পাঠ – ১০: তিনটি মাছের কাহিনি, Class 5, Chapter 10, Bengali, SEBA New Book, Bengali Medium

ক – পাঠভিত্তিক (পৃষ্ঠা ৮৪)
উত্তর দাও।
(ক) ‘তিনটি মাছের কাহিনি’র মাছগুলোর নাম কী কী?
উত্তর: ‘তিনটি মাছের কাহিনি’র মাছগুলোর নাম হলো অনাগতবিধাতা, প্রত্যুৎপন্নমতি এবং যদ্ভবিষ্য।
(খ) অনাগতবিধাতা কেন শঙ্কিত হয়েছিল?
উত্তর: অনাগতবিধাতা জেলেদের কথা বলতে শুনেছিল যে, তারা পরের দিন সকালে এসে সেই বিলের সব মাছ মেরে ফেলবে, এই কথা শুনে সে শঙ্কিত হয়েছিল।
(গ) অনাগতবিধাতার কথা কে সমর্থন করেছিল?
উত্তর: অনাগতবিধাতার কথা প্রত্যুৎপন্নমতি সমর্থন করেছিল।
(ঘ) কে বিপদের কথা না ভেবে একগুঁয়েমি করে মৃত্যুকে বরণ করে নিল?
উত্তর: যদ্ভবিষ্য বিপদের কথা না ভেবে একগুঁয়েমি করে মৃত্যুকে বরণ করে নিল।
(ঙ) জেলেরা পুকুরে কী দিয়ে মাছ মারে?
উত্তর: জেলেরা পুকুরে (বিলে) জাল ফেলে মাছ মারে।
বলো ও লেখো। নীচের কথাগুলো কে, কী উদ্দেশ্যে কাকে বলেছিল?
(ক) “আপনি সত্য কথাই বলেছেন। আমি মনে করি যত শীঘ্র সম্ভব এই বিল ছেড়ে অন্য কোনো খাল-বিলে চলে যাওয়া উচিত।”
উত্তর: এই কথাটি প্রত্যুৎপন্নমতি, অনাগতবিধাতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল। অনাগতবিধাতার বিল ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করে নিজের প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সে এই কথাটি বলেছিল।
(খ) “অন্যের মুখের কথাতেই বাবা-ঠাকুর্দার এই স্থান পরিত্যাগ করে যাওয়া আমাদের জন্য খুব যুক্তিযুক্ত কাজ হবে না।”
উত্তর: এই কথাটি যদ্ভবিষ্য, অনাগতবিধাতা ও প্রত্যুৎপন্নমতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল। সে বোঝাতে চেয়েছিল যে ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, তাই শুধু জেলেদের কথার ভয়ে পৈতৃক বাসস্থান ছেড়ে যাওয়া ঠিক নয়।
(গ) “কাল সকালে জেলেরা এসে বিলের সব মাছ মেরে শেষ করে ফেলবে।”
উত্তর: এই কথাটি অনাগতবিধাতা, বিলের অন্য সব মাছদের উদ্দেশ্য করে বলেছিল। জেলেদের কথা শুনে সে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করতে এবং বিল ছেড়ে চলে যেতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছিল।
নিজের ভাষায় বলো ও লেখো। মাছের কথাগুলো নিজের মতো করে লেখো।
উত্তর:
* অনাগতবিধাতা: সে বলেছিল যে জেলেরা কাল এসে সব মাছ মেরে ফেলবে। তাই বিপদ আসার আগেই আমাদের সুরক্ষিত স্থানে চলে যাওয়া উচিত।
* প্রত্যুৎপন্নমতি: সে অনাগতবিধাতার কথা সমর্থন করে বলে যে, প্রাণ বাঁচানোর উপায় থাকতেও এখানে মরে থাকা ঠিক নয়, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
* যদ্ভবিষ্য: সে বলেছিল যে আয়ু শেষ হলে অন্য জায়গায় গেলেও মৃত্যু হবে। তাই শুধু অন্যের মুখের কথায় ভয় পেয়ে বাবা-ঠাকুর্দার স্থান ছেড়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়, সে কোথাও যাবে না।
নীচের শব্দগুলোর অর্থ শব্দ-সম্ভার বা অভিধান থেকে দেখে লেখো।
* অনাগতবিধাতা – যে ভবিষ্যতের বিপদ আগে থেকে ভেবে ব্যবস্থা নেয়।
* প্রত্যুৎপন্নমতি – যার তৎক্ষণাৎ বুদ্ধি আসে বা উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন।
* যদ্ভবিষ্য – যা হবার তা হবে বা ভাগ্যে যা আছে।
* হাতছানি – ইশারা দিয়ে ডাকা।
* মুহূর্ত – ক্ষণকাল।
* যুক্তিযুক্ত – উচিত।
* সুরক্ষিত – ভালোভাবে রক্ষিত।
* একগুঁয়ে – গোঁয়ার, যে নিজের কথা ছাড়ে না।
* বিনাশ – ধ্বংস বা নাশ।
(পৃষ্ঠা ৮৫)
পাঠটি ভালো করে পড়ে নীচের অসম্পূর্ণ বাক্যগুলো সম্পূর্ণ করো।
(ক) জেলেদের কথা শুনে অনাগতবিধাতার – মাথায় বজ্রপাত হল।
(খ) যদ্ভবিষ্যের এধরনের একগুঁয়ে মনোভাব দেখে তাকে ছেড়েই – অনাগতবিধাতা ও প্রত্যুৎপন্নমতি সপরিবার অন্য বিলে চলে গেল।
(গ) – বিপদের পূর্বেই সাবধানতা অবলম্বন করে অনাগতবিধাতা এবং প্রত্যুৎপন্নমতি সুখে বেঁচে থাকল।
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
এসো, যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে…
* ন্ন (ন-এ ন) – ন + ন
* ন্ম (ন-এ ম) – ন + ম
* শ্চ (শ-এ চ) – শ + চ
* ন্ধ (ন-এ ধ) – ন + ধ
* ন্দ (ন-এ দ) – ন + দ
* স্থ (স-এ থ) – স + থ
(পৃষ্ঠা ৮৬)
উদাহরণের মতো ‘অ’ যোগ করে বিপরীত অর্থের শব্দ গঠন করো।
* সুরক্ষিত – অসুরক্ষিত
* সংলগ্ন – অসংলগ্ন
* ঘটন – অঘটন
* বোধ – অবোধ
* পরিচিত – অপরিচিত
* নিশ্চিত – অনিশ্চিত
* চেতন – অচেতন
বাক্য রচনা করো।
* হাতছানি – বিপদ আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
* একগুঁয়ে – যদ্ভবিষ্য তার একগুঁয়ে মনোভাবের জন্য মারা পড়ল।
* যুক্তিযুক্ত – যদ্ভবিষ্য বিল ছেড়ে যাওয়াকে যুক্তিযুক্ত কাজ বলে মনে করেনি।
* মৃত্যুমুখ – সুরক্ষিত ঘরে থেকেও মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে।
* বজ্রপাত – জেলেদের কথা শুনে অনাগতবিধাতার মাথায় বজ্রপাত হল।
* সুরক্ষিত – অনাগতবিধাতা সুরক্ষিত স্থানে চলে গিয়ে বেঁচে থাকল।
…খণ্ড ‘ৎ’ ব্যবহৃত আরও কিছু শব্দ সংগ্রহ করে লেখো।
উত্তর: হঠাৎ, শরৎ, বিদ্যুৎ, জগৎ, ভবিষ্যৎ, সংবৎ, উৎপাত।
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ (পৃষ্ঠা ৮৭)
দলে আলোচনা করে বলো ও লেখো।
* যদি মাছ শেষ হয়ে যায়? – বিলের মাছ শেষ হয়ে গেলে জেলেরা আর মাছ ধরতে পারবে না, যার ফলে তাদের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরাও মাছ খেতে পাব না।
* বিলের জল যদি শুকিয়ে যায়? – বিলের জল শুকিয়ে গেলে সব মাছ মারা যাবে এবং জলজ উদ্ভিদও মরে যাবে।
* বিল যদি মাছে ভরে যায়? – বিল মাছে ভরে গেলে খুব ভালো হয়। জেলেরা অনেক মাছ পাবে, আমরাও কম দামে মাছ খেতে পারব।
কী করে সমাধান করবে দলে আলোচনা করে লেখো।
* বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হোঁচট খেয়ে পায়ে… (রক্ত বেরোলে) – প্রথমে ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার জল দিয়ে ধুতে হবে। তারপর ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে এবং বাড়িতে জানাতে হবে।
* সামনে সাপ বা কুকুর দেখতে পেলে – ভয় না পেয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। সাপ বা কুকুরকে ঢিল ছোড়া বা উত্তেজিত করা উচিত নয়। তারা নিজেদের পথে চলে গেলে তারপর সাবধানে এগিয়ে যেতে হবে।
* শ্রেণিতে দুজন ছেলের মধ্যে ঝগড়া হলে – প্রথমে তাদের ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করব। কেন ঝগড়া করছে তা শুনে তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেওয়ার চেষ্টা করব। না পারলে শিক্ষককে জানাব।
‘মাছ’ শব্দে যে দুটি বর্ণ আছে সেই বর্ণ দুটি দিয়ে কয়টি শব্দ গঠন করতে পারবে তা দলে আলোচনা করো আর নীচের তালিকায় লেখো।
* মা – মাছ, মাস, মা, ماما, মাটি, মালা, মামা, মাথা।
* ছ – ছয়, ছক, ছয়, ছবি, ছাতা, ছাত্র, ছায়া, ছাগল।
মাছের বিষয়ে কয়েকটি বাক্য লেখো।
উত্তর: মাছ একটি জলচর প্রাণী। মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। মাছ আমাদের একটি প্রিয় খাদ্য। রুই, কাতলা, ইলিশ ইত্যাদি নানা ধরনের মাছ পাওয়া যায়।
(পৃষ্ঠা ৮৮)
ছবিটি দেখে কে কী করছে বলো।
উত্তর: এটি একটি মাছের বাজারের ছবি। একজন বিক্রেতা (সবুজ গেঞ্জি পরা) বঁটি দিয়ে মাছ কাটছেন। আরেকজন বিক্রেতা (কমলা গেঞ্জি পরা) ক্রেতাকে মাছ দেখাচ্ছেন। একজন মহিলা ক্রেতা মাছ পছন্দ করছেন। বাজারে অনেকে মাছ কেনা-বেচা করছেন।
নীচের বাক্যটির অর্থ বুঝে লেখো।
(বাক্যটি অসম্পূর্ণ, “সাবধানতার…”)
(পাঠের মূলভাব অনুযায়ী বাক্যটি হতে পারে “সাবধানতাই সুরক্ষার উপায়”)
উত্তর: (পাঠের মূলভাব অনুসারে) জীবনের প্রতি পদক্ষেপে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যারা বিপদ আসার আগেই সাবধান হয়, যেমন অনাগতবিধাতা ও প্রত্যুৎপন্নমতি, তারা সুখে বেঁচে থাকে। আর যারা বিপদের কথা না ভেবে একগুঁয়েমি করে, যেমন যদ্ভবিষ্য, তাদের বিনাশ হয়।
নীচের ধাঁধাগুলোর উত্তর দাও।
(ক) লম্বা কেশর ফুলিয়ে তোলা… নামট পশুরাজ।
উত্তর: সিংহ।
(খ) আয় আয় তুতু… হাসবে সোনার খুকু!
উত্তর: বিড়াল।
(পৃষ্ঠা ৮৯)
(এই পৃষ্ঠায় যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘বিড়াল ও ইঁদুর’ কবিতাটি আবৃত্তি ও অভিনয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘ – প্রকল্প (পৃষ্ঠা ৮৯)
অসমে মাছের নামে অনেক স্থানের নাম আছে। তোমাদের জেলায় মাছের নামে যে স্থান আছে সেগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: (এটি একটি প্রকল্পমূলক কাজ। ছাত্রছা
ত্রীদের নিজেদের জেলার ওপর ভিত্তি করে করতে হবে। পাঠে দেওয়া উদাহরণটি হলো – কাওইমারি (জেলা- বরপেটা))
