পাঠ – ১৪: বড়ো কে? Class 5, Chapter 14,

 

পাঠ – ১৪: বড়ো কে? Class 5, Chapter 14, Bengali, SEBA New Book, Bengali Medium

Next Chapter 

কবি – হরিশচন্দ্র মিত্র

ক – পাঠভিত্তিক (পৃষ্ঠা ১১৭)

উত্তর লেখো।

(ক) এই কবিতার কবির নাম কী?

উত্তর: এই কবিতার কবির নাম হরিশচন্দ্র মিত্র।

(খ) কবির মতে বড়ো কে?

উত্তর: কবির মতে, লোকে যাকে বড়ো বলে, তিনিই বড়ো হন।

(গ) বড়ো কাদের বলা হয়?

উত্তর: গুণেতে যিনি বড়ো হন, তাঁকেই বড়ো বলা হয়।

(ঘ) কীসে বড়ো হলে সংসারে বড়ো হওয়া যায়?

উত্তর: গুণেতে বড়ো হলে সংসারে বড়ো হওয়া যায়।

(ঙ) বড়ো হতে গেলে কী করতে হবে?

উত্তর: বড়ো হতে গেলে ছোটো হতে হবে, অর্থাৎ নম্র বা বিনয়ী হতে হবে।

(পৃষ্ঠা ১১৮)

কবি কেন সংসারে বড়ো হওয়া কঠিন বলেছেন?

উত্তর: কবি বলেছেন যে, নিজেকে ‘বড়ো’ বললেই বড়ো হওয়া যায় না। সংসারে真正 বড়ো বা মহান হতে গেলে বিনয়ী (‘ছোটো’) হতে হয় এবং গুণের অধিকারী হতে হয়। এই গুণ অর্জন করা এবং বিনয়ী থাকা কঠিন, তাই কবি সংসারে বড়ো হওয়াকে কঠিন ব্যাপার বলেছেন।

কবিতার পঙ্ক্তিগুলো ব্যাখ্যা লেখো।

(ক) আপনাকে বড়ো বলে, বড়ো সেই নয়

লোকে যারে বড়ো বলে, বড়ো সেই হয়।

ব্যাখ্যা: এই পংক্তিগুলির অর্থ হলো, কোনো মানুষ নিজেই নিজেকে ‘বড়ো’ বলে দাবি করলে সে বড়ো বা মহান হয়ে যায় না। প্রকৃত বড়ো বা মহান সেই ব্যক্তি, যাঁকে অন্য সব মানুষ তাঁর গুণ ও আচরণের জন্য ‘বড়ো’ বলে স্বীকার করে নেয়।

(খ) গুণেতে হইলে বড়ো, বড়ো বলে সবে

বড়ো যদি হতে চাও, ছোটো হও তবে।

ব্যাখ্যা: এই পংক্তিগুলির অর্থ হলো, মানুষ যখন গুণের অধিকারী হয়, তখনই সকলে তাকে বড়ো বলে সম্মান করে। তাই কবি উপদেশ দিয়েছেন যে, জীবনে যদি প্রকৃত বড়ো বা মহান হতে চাও, তবে আগে ‘ছোটো’ হতে হবে, অর্থাৎ বিনয়ী ও নম্র হতে হবে। বিনয়ই মানুষকে বড়ো করে তোলে।

খ – ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ) (পৃষ্ঠা ১১৮)

কবিতাটিতে কবির নামে যে যুক্তবর্ণগুলো আছে সেগুলো ভেঙে দেখাও।

* হরিশচন্দ্র

* শ্চ = শ + চ

* ন্দ্র = ন + দ + র

* মিত্র

* ত্র = ত + র

(পৃষ্ঠা ১১৯)

‘যা’, ‘খা’, ‘দে’ ক্রিয়াগুলোতে (অনুজ্ঞা) বিভক্তি যোগ করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালের রূপ লেখো।

* যা:

* বর্তমান: তুই যা, তুমি যাও, আপনি যান।

* ভবিষ্যৎ: তুই যাস, তুমি যেয়ো, আপনি যাবেন।

* খা:

* বর্তমান: তুই খা, তুমি খাও, আপনি খান।

* ভবিষ্যৎ: তুই খাস, তুমি খেয়ো, আপনি খাবেন।

* দে:

* বর্তমান: তুই দে, তুমি দাও, আপনি দেন।

* ভবিষ্যৎ: তুই দিস, তুমি দিয়ো, আপনি দেবেন।

নীচের শব্দগুলো দিয়ে বাক্য রচনা করো।

* সংসার: সংসারে বড়ো হওয়া কঠিন ব্যাপার।

* কঠিন: কোনো কাজই কঠিন নয় যদি চেষ্টা করা যায়।

* গুণ: গুণেতে বড়ো হলেই সবাই ভালোবাসে।

* লোক: লোকে যারে বড়ো বলে, বড়ো সেই হয়।

নীচের শব্দগুলোর বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।

* আপন – পর

* কঠিন – সহজ

* গুণ – দোষ

* ছোটো – বড়ো

গ – জ্ঞান-সম্প্রসারণ (পৃষ্ঠা ১২০)

তোমার মন ভালো রাখার জন্য তুমি কী কী কাজ করবে, দলে আলোচনা করে লেখো। (গান, প্রার্থনা ইত্যাদি)

উত্তর: আমার মন ভালো রাখার জন্য আমি নানা রকম কাজ করতে পারি। যেমন:

১. আমি আমার পছন্দের গান শুনতে পারি বা নিজেই গাইতে পারি।

২. মন শান্ত করার জন্য কিছুক্ষণ চুপ করে বসে প্রার্থনা করতে পারি।

৩. আমার বন্ধুদের সাথে গল্প করতে পারি বা খেলতে পারি।

৪. সুন্দর কোনো গল্পের বই পড়তে পারি বা ছবি আঁকতে পারি।

৫. বাগানে গাছের যত্ন নিতে পারি বা কিছুক্ষণ প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে আসতে পারি।

(এই পৃষ্ঠায় কবি কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি আবৃত্তি করার জন্য দেওয়া হয়েছে, কোনো প্রশ্ন নেই।)

(পৃষ্ঠা ১২১)

কবি লিখেছেন— ‘তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ।’

দেশের কল্যাণের জন্য তোমরা কী করবে লেখো।

উত্তর: দেশের কল্যাণের জন্য আমি প্রথমে নিজেকে ‘আদর্শ ছেলে’ বা ‘মানুষের মতো মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলব। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা শিখব, নিজের শরীর সুস্থ রাখব এবং বাবা-মায়ের কথা মেনে চলব। আমি কখনো মিথ্যা কথা বলব না এবং দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। আমি বড়ো হয়ে এমন কাজ করব যাতে দেশের ও দশের উপকার হয়।

কবি হরিশচন্দ্র মিত্র বলেছেন— “বড়ো হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার / সংসারে সে বড়ো হয়, বড়ো গুণ যার।”

কবি কুসুমকুমারী দাশ বলেছেন— “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে / কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে।”

ওপরের পঙ্ক্তিগুলোর ভিত্তিতে তুমি কীভাবে বড়ো হলে আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে সেই বিষয়ে তোমার খাতার পাঁচটি বাক্য লেখো।

উত্তর:

১. আমি শুধু কথায় নয়, বরং ভালো কাজ করে বড়ো হতে চেষ্টা করব।

২. জীবনে বড়ো হওয়ার জন্য আমি বিনয়ী ও নম্র আচরণ করব।

৩. আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করে নিজের জ্ঞান ও গুণ বৃদ্ধি করব।

৪. আমি সবসময় সত্যি কথা বলব এবং দেশের কল্যাণে কাজ

করব।

৫. আমি আমার শরীর ও মনকে সুস্থ ও সবল রাখব যাতে দেশের সেবা করতে পারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *