ইতিহাস রচনায় সময় গণনা,উৎস এবং ভারতবর্ষ, Ch -6,

Next Chapter 

ইতিহাস রচনায় সময় গণনা,উৎস এবং ভারতবর্ষ, Chapter -6,Class -6, SEBA

 

ইতিহাস রচনায় সময় গণনা,উৎস এবং ভারতবর্ষ, Chapter -6,Class -6, SEBA


অনুশীলনী – ১ (পৃষ্ঠা ৫১)
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও-
* (ক) শঙ্করদেবের জন্মের বছর থেকে শুরু হওয়া বর্ষপঞ্জিকাকে কী বলা হয়?
  Ans. শঙ্করদেবের জন্মের বছর থেকে শুরু হওয়া বর্ষপঞ্জিকাকে শংকরাব্দ বলা হয়।
* (খ) ভাস্করাব্দ কোন রাজার রাজ্যাভিষেকের বছর থেকে শুরু হয়?
  Ans. ভাস্করাব্দ রাজা ভাস্করবর্মনের সিংহাসনে আরোহণের বছর থেকে শুরু হয়।
* (গ) মুসলমানদের পরম্পরাগত বর্ষপঞ্জিকার নাম কী?
  Ans. মুসলমানদের পরম্পরাগত বর্ষপঞ্জিকার নাম হিজরি।
* (ঘ) গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরুর বছরটি কোন বিশেষ ব্যক্তির জন্ম থেকে গণনা করা হয়?
Ans.  গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরুর বছরটি যিশুখ্রিস্টের জন্ম থেকে গণনা করা হয়।
* (ঙ) এক দশক বলতে কী বোঝ?
Ans.  এক দশক বলতে ১০ বছরের সময়কাল বোঝায়।
* (চ) একত্রে ১০০০ বছর বর্ণনা করতে কোন শব্দটি ব্যবহার করা হয়?
Ans.  একত্রে ১০০০ বছর বর্ণনা করতে সহস্রাব্দ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
২। ইতিহাস এবং গল্পের মধ্যে পার্থক্য কী?
Ans.ইতিহাস হল অতীতে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ। ইতিহাসবিদরা ইতিহাস রচনার সময় সত্যতা এবং ধারাবাহিকতার উপর সর্বাধিক জোর দেন। অন্যদিকে, গল্প বা রূপকথা বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি না-ও করতে পারে, এটি কাল্পনিকও হতে পারে।
৩। ইতিহাস রচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কী?
Ans.ইতিহাস রচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল উৎস এবং ধারাবাহিকতা।
অনুশীলনী – ২ (পৃষ্ঠা ৫৩)
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও-
* (ক) ইতিহাস অধ্যয়নের উৎস বলতে কী বোঝায়?
Ans.  যেসব উপাদান বা মাধ্যম থেকে অতীতের ঘটনা, জীবনযাত্রা বা সময়কাল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় এবং যা ব্যবহার করে ইতিহাস রচনা করা হয়, সেগুলোকে ইতিহাস অধ্যয়নের উৎস বলে। যেমন – পুরোনো বই, ছবি, নথি-পত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক অবশিষ্টাংশ, শিলালিপি, মুদ্রা, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী, মৌখিক বিবরণ ইত্যাদি।
* (খ) ইতিহাস অধ্যয়নের দুটি উৎসের নাম লেখো।
Ans.  ইতিহাস অধ্যয়নের দুটি উৎস হল – প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস (যেমন – মুদ্রা, স্থাপত্য, মূর্তি) এবং সাহিত্যিক উৎস (যেমন – বেদ, পুরাণ, ভ্রমণকারীর টীকা)।
* (গ) এপিগ্রাফিস্টরা কী অধ্যয়ন করেন?
  Ans. এপিগ্রাফিস্টরা প্রাচীন শিলালিপি (যেমন – পাথরের বা ধাতুর পাতে খোদাই করা লেখা) অধ্যয়ন করেন।
* (ঘ) জীবাশ্মের বিষয়ে অধ্যয়ন করা লোকদের কী বলে?
Ans.  জীবাশ্মের বিষয়ে অধ্যয়ন করা লোকদের জীবাশ্মবিদ বলে।
* (ঙ) নৃতত্ত্ববিদরা কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন?
Ans.   নৃতত্ত্ববিদরা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া শিল্পকর্ম পরীক্ষা করে অতীতের মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ পুনঃঅধ্যয়ন করেন।
২। ইতিহাসবিদরা উৎসসমূহের সত্যতা কীভাবে নিরূপণ করেন?
Ans.ইতিহাসবিদরা অতীতের কোনো বিষয় অধ্যয়ন করার সময় বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রথমে সেগুলোকে তুলনা করেন। কখনও একটি উৎস অন্য উৎসের তথ্যকে সমর্থন করে, আবার কখনও সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্যও পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, কোন তথ্যটি অধিক নির্ভরযোগ্য, তা নির্ধারণ করার জন্য ইতিহাসবিদদের সেই সময়ের অন্যান্য বিভিন্ন উৎস খুঁজে বের করতে হয় এবং বিচার-বিশ্লেষণ করতে হয়।
৩। ইতিহাস রচনার অন্যন্য বিষয়ের ভূমিকা বর্ণনা করো।
Ans.ইতিহাস শুধুমাত্র অতীতের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা নয়, এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। তাই ইতিহাস রচনায় অন্যান্য অনেক বিষয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। যেমন –
* প্রত্নতত্ত্ব: প্রাচীন স্থান খনন করে সেখানকার অবশিষ্টাংশ (যেমন – ঘরবাড়ি, সরঞ্জাম, হাড়) অধ্যয়ন করে সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভাস, শারীরিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি জানা যায়।
* নৃতত্ত্ব: প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া শিল্পকর্ম পরীক্ষা করে অতীতের মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ বোঝা যায়।
* জীবাশ্মবিদ্যা: শিলায় সংরক্ষিত প্রাচীন জীবনের প্রমাণ বা জীবাশ্ম অধ্যয়ন করা হয়।
* এপিগ্রাফি: প্রাচীন শিলালিপি থেকে তথ্য আবিষ্কার করা হয়।
* সাহিত্য ও ভাষা: প্রাচীন সাহিত্য ও ভাষার বিশেষজ্ঞরা লিখিত উৎসগুলো বিশ্লেষণ করেন।
* বিজ্ঞান: প্রাচীন জলবায়ুর অধ্যয়ন, প্রাপ্ত সামগ্রীর রাসায়নিক বিশ্লেষণ, প্রাচীন মানুষের জিনতত্ত্বের অধ্যয়ন ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক গবেষণাও অতীতের অনেক নতুন তথ্য জানতে সাহায্য করে।
অনুশীলনী – ৩ (পৃষ্ঠা ৫৫)
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও-
* (ক) সপ্তসিন্ধু বলতে ভারত উপমহাদেশের কোন অঞ্চলটিকে বোঝানো হয়েছিল?
Ans.  প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদে ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে সপ্ত সিন্ধু বলা হয়েছে, যার অর্থ ‘সাত নদীর দেশ’।
* (খ) ভারত উপমহাদেশ বলতে বর্তমান কোন অঞ্চলকে বোঝায়?
Ans.  ভারত উপমহাদেশ বলতে বর্তমানে ভারতকে ধরে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপালকে একসঙ্গে বোঝানো হয়।
* (গ) অশোক ভারতকে বোঝাতে শিলালিপিতে কোন শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন?
Ans.  সম্রাট অশোক তাঁর শিলালিপিতে সমগ্র ভারতকে বোঝাতে ‘জম্মুদ্বীপ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
* (ঘ) প্রাচীন গ্রিকরা ভারতকে বর্ণনা করতে কোন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন?
  Ans. প্রাচীন গ্রিকরা এই অঞ্চলটিকে ‘ইন্দ্রই’ বা ‘ইন্ডাইক’ নামে অভিহিত করেছিলেন।
* (ঙ) প্রাচীন চীনারা ভারতকে কী বলতেন?
Ans.  প্রাচীন চীনারা ভারতকে ‘য়িন্তু’ বা সিন্ধুর পারে ‘য়িন্দু’ বলে উল্লেখ করতেন। এছাড়া বুদ্ধের দেশ হিসেবে সম্মান জানাতে ‘তিয়ানঝু’ শব্দটিও ব্যবহার করতেন।
* (চ) ভারতের কোন অঞ্চলটিকে ‘ভারতম’ বলা হতো?
  Ans. দক্ষিণ ভারতে ‘ভারতম’ নামটি প্রচলিত ছিল। প্রাচীন তামিল সাহিত্যে, দক্ষিণে কন্যাকুমারী থেকে উত্তরে হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটি এই নামে পরিচিত ছিল।
২। ‘ভারত’ শব্দটি কীভাবে এসেছে তা বর্ণনা করো।
Ans.’ভারত’ নামটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা দেওয়া হয়নি বা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতে সমগ্র উপমহাদেশকে বোঝাতে পৌরাণিক রাজা ভরতের নামে ‘ভারতবর্ষ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ‘ভারতবর্ষ’ নামের ‘ভারত’ অংশটি উত্তর ভারতে এবং এর রূপ ‘ভারতম’ দক্ষিণ ভারতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত এই নামটিই বর্তমানে পরিচিতি লাভ করেছে।
৩। ইণ্ডিয়া নামের উৎপত্তি বর্ণনা করো।
Ans.ভারত সম্পর্কে বিদেশিরা প্রথম জানতে পারে পারস্যদের কাছ থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে পারস্য সম্রাট সিন্ধু নদীর তীরবর্তী অঞ্চল জয় করেন। পারস্যরা ‘সিন্ধু’ শব্দটিকে তাদের উচ্চারণে ‘হিন্দু’ বা ‘হিন্দ’ বলে উল্লেখ করতেন। পরবর্তীকালে, প্রাচীন গ্রিকরা পারস্যদের কাছ থেকে এই অঞ্চলের কথা জানতে পারেন। গ্রিক ভাষায় ‘হ’ ধ্বনি না থাকায়, তারা ‘হিন্দ’ থেকে ‘হ’ বাদ দিয়ে এটিকে ‘ইন্দ্রই’ বা ‘ইন্ডাইক’ নামে অভিহিত করেন। মনে করা হয়, এই ‘ইন্ডাইক’ থেকেই পরবর্তীকালে ‘ইন্ডিয়া’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *