অসমের প্রাকৃতিক সম্পদ
পৃষ্ঠা ৯১ (পাঠ – ১১ অসমের প্রাকৃতিক সম্পদ)
ক্রিয়াকলাপ: তালিকা পূরণ
প্রশ্ন: নীচের বস্তুগুলোর তালিকাটিতে দেওয়া ভাগ অনুসারে লেখো –
উত্তর:
| খেত থেকে পাওয়া | বন থেকে পাওয়া | জল থেকে পাওয়া |
|—|—|—|
| সরিষা | গন্ডার | মাছ |
| ধান | সেগুন | শুশক |
| নারিকেল | নাগকেশর | পদ্মফুল |
| চা-পাতা | তিতাচাঁপা | তিমি |
| আখ | ভালুক | |
| আনারস | অজগর | |
| সুপারি | বানর | |
| শাক | বাঁশ-বেত | |
| পান | | |
| পেঁপে | | |
পৃষ্ঠা ৯৩ (বনজ সম্পদ)
ক্রিয়াকলাপ: তালিকা পূরণ
প্রশ্ন: এসো, আগের পৃষ্ঠায় দেওয়া ছবি দেখে বনজসম্পদসমূহকে নীচে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ভাগ করি-
উত্তর: (পৃষ্ঠা ৯২-এর ছবি অনুযায়ী)
| | উদ্ভিদ | | প্রাণী |
|—|—|—|—|
| ১। | বনসোম | ১। | দেওহাঁস |
| ২। | শাল | ২। | গন্ডার |
| ৩। | সেগুন | ৩। | হাতি |
ক্রিয়াকলাপ: দলগতভাবে আলোচনা
প্রশ্ন: বনজ সম্পদ আমাদের কিভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: বনজ সম্পদ আমাদের নানাভাবে সাহায্য করে:
আমরা জঙ্গল থেকে মূল্যবান কাঠ, খড়, বাঁশ ও বেত পাই।
কাঠ, বাঁশ ও বেত দিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করি।
এইসব আসবাবপত্রের ব্যবসা করে অনেক লোক জীবিকা নির্বাহ করে।
অনেক প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডলের দূষণ দূর করে আমাদের সাহায্য করে।
পৃষ্ঠা ৯৫ (খনিজ সম্পদ)
ক্রিয়াকলাপ: তালিকা পূরণ
প্রশ্ন: আগের পৃষ্ঠার ছবিটি লক্ষ করে আমরা কী কী কাজে খনিজ সম্পদ ব্যবহার করি লেখো।
উত্তর: (পৃষ্ঠা ৯৪-এর ছবি এবং পৃষ্ঠা ৯৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে)
| খনিজ সম্পদের নাম | কী কী কাজে ব্যবহার করা হয় |
|—|—|
| খনিজ তেল (পেট্রোলিয়াম) | পরিশোধিত করে কেরোসিন (স্টোভ জ্বালাতে), পেট্রোল ও ডিজেল (মোটরগাড়ি চালাতে) উৎপাদন করা হয়। এছাড়া মোম, ভেসেলিন, আলকাতরা, ন্যাপথালিন ইত্যাদি তৈরি করা হয়। |
| প্রাকৃতিক গ্যাস | ইন্ধন হিসাবে (রান্নার কাজে, কল-কারখানায়) ব্যবহার করা হয়। |
| কয়লা | রেলগাড়ি, কল-কারখানা ইত্যাদি চালানোর জন্য ইন্ধন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। |
| চুনাপাথর | সিমেন্ট প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। |
ক্রিয়াকলাপ: ভেবে লেখো
প্রশ্ন: যান-বাহনের জন্য আমাদের কী কী ইন্ধন লাগে?
উত্তর: যান-বাহনের জন্য আমাদের পেট্রোল, ডিজেল এবং কয়লা (রেলগাড়ির জন্য) ইন্ধন লাগে।
প্রশ্ন: গ্যাস স্টোভ জ্বালাতে কোন ইন্ধনের প্রয়োজন?
উত্তর: গ্যাস স্টোভ জ্বালাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LPG) প্রয়োজন।
প্রশ্ন: কল-কারখানা চালাতে কী কী ইন্ধন লাগে?
উত্তর: কল-কারখানা চালাতে কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ইন্ধন লাগে।
প্রশ্ন: খনিজ তেল না হলে আমাদের কী অসুবিধা হবে?
উত্তর: খনিজ তেল না হলে আমাদের অনেক অসুবিধা হবে। আমরা মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি চালাতে পারব না। কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল পাওয়া যাবে না। এছাড়া মোম, ভেসেলিন, আলকাতরা, ন্যাপথালিন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসও তৈরি করা যাবে না।
পৃষ্ঠা ৯৬ (জলজ সম্পদ)
ক্রিয়াকলাপ: ছবি পর্যবেক্ষণ
প্রশ্ন: ওপরের ছবিটিতে কী কী দেখছো বলো?
উত্তর: ছবিটিতে একটি জলাশয় (নদী বা বিল) দেখা যাচ্ছে, যেখানে মাছ, কচ্ছপ, কুমির এবং শুশক (ডলফিন) রয়েছে।
ক্রিয়াকলাপ: জেনে লেখো
প্রশ্ন: তোমাদের অঞ্চলে প্রবাহিত নদী বা উপনদীর নাম। (যদি থাকে)
উত্তর: (আপনার হাইলাকান্দি জেলার অবস্থানের ভিত্তিতে উত্তরটি হলো) আমাদের অঞ্চলে প্রবাহিত নদী হলো বরাক, ধলেশ্বরী, কাটাখাল ইত্যাদি।
প্রশ্ন: নদী থেকে আমরা কী কী সুবিধা পেয়ে থাকি?
উত্তর: নদী থেকে আমরা বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকি:
* নদীর জল আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি।
* নদীর জল খালের মাধ্যমে শস্যখেতে সেচের কাজে লাগানো হয়।
* নদীতে নৌকা, জাহাজ ইত্যাদি চালিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা হয়।
* নদীর প্রচণ্ড জলস্রোতের দ্বারা টারবাইন ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করা হয়।
* নদী থেকে আমরা মাছ, কচ্ছপ ইত্যাদি জলজ সম্পদ পাই।
পৃষ্ঠা ৯৭ (অনুশীলনী – পাঠ ১১)
১। উত্তর লেখো-
(ক) প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রকৃতি থেকে পাওয়া যে সমস্ত বস্তু (যেমন— বায়ু, জল, খনিজ পদার্থ, অরণ্য) আমাদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে, সেগুলোকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
(খ) খনিজ সম্পদ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভূ-গর্ভে (মাটির নীচে) পাওয়া পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি সম্পদগুলোই হলো খনিজ সম্পদ।
(গ) অসমের প্রধান খনিজ সম্পদসমূহ কী কী?
উত্তর: অসমের প্রধান খনিজ সম্পদসমূহ হলো পেট্রোলিয়াম (খনিজ তেল), প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং চুনাপাথর।
(ঘ) অসমকে কি কারণে ‘তরল সোনার রাজ্য’ বলা হয়?
উত্তর: অসম ভারতের মধ্যে খনিজ তেলে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি রাজ্য, এই কারণে অসমকে ‘তরল সোনার রাজ্য’ বলা হয়।
(ঙ) জলজ সম্পদ কী?
উত্তর: জলে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ (যেমন— মাছ, কচ্ছপ, কুমির, শুশক) আমাদের জলজ সম্পদ।
(চ) অসমের তিন প্রকার কৃষিজাত সম্পদের নাম লেখো।
উত্তর: অসমের তিন প্রকার কৃষিজাত সম্পদ হলো ধান, পাট এবং সরিষা।
(ছ) তিন প্রকার বনজ সম্পদের নাম লেখো।
উত্তর: তিন প্রকার বনজ সম্পদ হলো সেগুন (উদ্ভিদ), গন্ডার (প্রাণী) এবং হাতি (প্রাণী)।
২। আমরা কেনো প্রাকৃতিক সম্পদগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করবো?
উত্তর: সব প্রাকৃতিক সম্পদই অতি মূল্যবান। তাই এই সম্পদগুলো যাতে প্রকৃতি থেকে নিঃশেষ না হয়ে যায়, তার জন্য এগুলো আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
৩। শুদ্ধ উত্তরে ‘✓’ চিহ্ন দাও-
(ক) আলকাতরা কয়লাখনিতে পাওয়া যায়।
উত্তর: (অশুদ্ধ)
(খ) চুনাপাথর একটি বনজ সম্পদ।
উত্তর: (অশুদ্ধ)
(গ) প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। ✓
(ঘ) অসমের কার্বি আংলং জিলাতে খনিজ তেল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
উত্তর: (অশুদ্ধ)
(ঙ) ভূ-গর্ভ থেকে আহরিত খনিজ তেল সরাসরিভাবে ব্যবহার করতে পারা যায়।
উত্তর: (অশুদ্ধ)
৪। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মেলাও-
উত্তর: কয়লা → খনিজ সম্পদ
* হাতি → বনজ সম্পদ
* মাছ → জলজ সম্পদ
* খনিজ তেল → তরল সোনা
