অম্ল ক্ষার ও লবন ,Chapter-5, Class-7,  Science, SEBA

অম্ল ক্ষার ও লবন ,Chapter-5, Class-7,  Science,SEBA

অম্ল ক্ষার ও লবন ,Chapter-5, Class-7,  Science,SEBA

অনুশীলনী (Excercises)
প্রশ্ন ১। অম্ল ও ক্ষারের পার্থক্যগুলো বর্ণনা করো।
উত্তর: অম্ল ও ক্ষারের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
* স্বাদ: অম্লের স্বাদ টক হয়, অন্যদিকে ক্ষারের স্বাদ তেতো হয়।
* স্পর্শ: ক্ষার স্পর্শ করলে পিচ্ছিল বা সাবানের মতো লাগে। অম্লের এমন কোনো নির্দিষ্ট স্পর্শ অনুভূতি নেই।
* লিটমাস পরীক্ষা: অম্ল নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। ক্ষার লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে।

প্রশ্ন ২। এমোনিয়া বাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পাওয়া যায় যেমন জানালা পরিস্কার করার দ্রবে। এটি লাল লিটমাসকে নীল রঙে পরিবর্তিত করে। এটির প্রকৃতি কি ধরনের?
উত্তর: আমরা জানি যে, ক্ষারকীয় পদার্থ লাল লিটমাসকে নীল রঙে পরিবর্তিত করে। যেহেতু এমোনিয়া লাল লিটমাসকে নীল করে, তাই এর প্রকৃতি হলো ক্ষারকীয় (Basic)। (পাঠ্যপুস্তকের সারণীতেও অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইডকে ক্ষার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

প্রশ্ন ৩। লিটমাস দ্রবের উৎসগুলোর নাম লিখো। এই দ্রবের ব্যবহার কী কী?
উত্তর: লিটমাস দ্রব লাইকেন (Lichen) নামক এক প্রকার (ছত্রাক-শৈবাল) থেকে পাওয়া যায়।
এটি একটি প্রাকৃতিক সূচক (Indicator) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো একটি দ্রব আম্লিক না ক্ষারকীয়, তা পরীক্ষা করার জন্য লিটমাস ব্যবহার করা হয়। এটি আম্লিক দ্রবে লাল এবং ক্ষারকীয় দ্রবে নীল বর্ণ ধারণ করে।

প্রশ্ন ৪। বিশুদ্ধ জল আম্লিক/ক্ষারকীয়/ প্রশমিত? এটা তুমি কী ভাবে পরীক্ষা করবে?
উত্তর: বিশুদ্ধ জল প্রশমিত (Neutral) প্রকৃতির।
এটি পরীক্ষা করার জন্য, আমরা লাল এবং নীল লিটমাস কাগজ ব্যবহার করতে পারি। বিশুদ্ধ জলে একটি লাল লিটমাস কাগজ এবং একটি নীল লিটমাস কাগজ ডোবালে, কোনোটিরই রঙের পরিবর্তন হবে না। যে দ্রব লাল বা নীল কোনো লিটমাসের রঙ পরিবর্তন করে না, তাকে প্রশম দ্রব বলে।

প্রশ্ন ৫। উদাহরণ সহ প্রশমন প্রক্রিয়াটি আলোচনা করো।
উত্তর: যে বিক্রিয়ায় কোনো অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Base) একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে উভয়ের ধর্ম (অম্লগুণ ও ক্ষারগুণ) নষ্ট করে এবং লবণ (Salt) ও জল (Water) উৎপন্ন করে, তাকে প্রশমন (Neutralization) প্রক্রিয়া বলে। এই প্রক্রিয়ায় সর্বদা তাপ উৎপন্ন হয়, যার ফলে মিশ্রণটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্রিয়া: অম্ল + ক্ষার = লবণ + জল (তাপ উৎপন্ন হয়)
উদাহরণ: হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (একটি অম্ল) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (একটি ক্ষার) সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) এবং জল উৎপন্ন করে।
HCl (Hydrochloric acid) + NaOH (Sodium hydroxide) = NaCl (Sodium chloride) + H₂O (Water)

প্রশ্ন ৬। শুদ্ধ হলে (T) এবং ভুল হলে (F) লিখো।
(ক) নাইট্রিক অ্যাসিড লাল লিটমাসকে নীল করে।
উত্তর: (F) (কারণ নাইট্রিক অ্যাসিড একটি অম্ল, এবং অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে)।
(খ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড নীল লিটমাসকে লাল করে।
উত্তর: (F) (কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি ক্ষার, এবং ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে)।
(গ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড একে অপরকে প্রশমিত করে লবণ এবং জল উৎপন্ন করে।
উত্তর: (T)
(ঘ) আম্লিক এবং ক্ষারকীয় দ্রবে সূচক বিভিন্ন রং দেখায়।
উত্তর: (T) (এটিই সূচকের সংজ্ঞা)।
(ঙ) ক্ষার থাকার জন্য দাঁতের ক্ষয় হয়।
উত্তর: (F)

প্রশ্ন ৭। সুনীলের দোকানে কয়েকটি ঠাণ্ডা পানীয় জলের বোতল আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেগুলো চিহ্নিত না করা। ক্রেতার চাহিদা মত তাকে সেগুলো দিতে হবে। একজন ক্রেতা আম্লিক, অপরজন ক্ষারকীয় এবং তৃতীয়জন প্রশমন পানীয় চাইল। সুনীল তাদের চাহিদা মতো কীভাবে পানীয়গুলো পরিবেশন করবে?

উত্তর: সুনীল সূচক (Indicator) ব্যবহার করে পানীয়গুলো শনাক্ত করতে পারবে। সে প্রতিটি পানীয়ের নমুনা পরীক্ষা করতে লাল ও নীল লিটমাস কাগজ ব্যবহার করতে পারে:
* আম্লিক পানীয়: যে পানীয়টি নীল লিটমাসকে লাল করবে, সেটি আম্লিক।
* ক্ষারকীয় পানীয়: যে পানীয়টি লাল লিটমাসকে নীল করবে, সেটি ক্ষারকীয়।
* প্রশমন পানীয়: যে পানীয়টি লাল বা নীল কোনো লিটমাসের রঙই পরিবর্তন করবে না, সেটি প্রশমন।
এভাবে পরীক্ষা করে সুনীল সঠিক ক্রেতাকে সঠিক পানীয় পরিবেশন করতে পারবে।

প্রশ্ন ৮। কেন ব্যাখ্যা করো-
(ক) আম্লিকতা দ্বারা আক্রান্ত হলে তোমরা অম্লনাশক টেবলেট খাও।
উত্তর: আমাদের পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে। কিন্তু এই অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলেই বদহজম বা আম্লিকতা (Acidity) হয়। অম্লনাশক ট্যাবলেটে ক্ষার থাকে (যেমন মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া, যাতে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড আছে)। এই ক্ষার পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লকে প্রশমিত করে, ফলে বদহজম থেকে আরাম পাওয়া যায়।

(খ) যখন পিঁপড়ে কামড় দেয় তখন কেলামিন দ্রব ব্যবহার করা হয়।
উত্তর: পিঁপড়ে কামড়ালে সেটি আমাদের ত্বকের মধ্যে ফরমিক অ্যাসিড (Formic acid) নামক একটি আম্লিক তরল প্রবেশ করিয়ে দেয়। এর ফলে জ্বালা বা যন্ত্রণা হয়। কেলামাইন দ্রব (যাতে জিঙ্ক কার্বোনেট থাকে) একটি ক্ষারকীয় পদার্থ। এটি ওই ফরমিক অ্যাসিডকে প্রশমিত করে, ফলে জ্বালা কমে যায়।

(গ) কারখানার বর্জ্যকে জলের সাথে মেশানোর পূর্বে প্রশমিত করা হয়।
উত্তর: অনেক কারখানার বর্জ্য পদার্থের মধ্যে ক্ষতিকারক অম্ল থাকে। এই আম্লিক বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে (যেমন নদী বা হ্রদ) মিশে গেলে তা জলের অম্লত্ব বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে জলজ প্রাণী (যেমন মাছ) মারা যেতে পারে। তাই, জলজ পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য, কারখানার বর্জ্য জলে ফেলার আগে তার মধ্যে ক্ষার জাতীয় পদার্থ মিশিয়ে সেগুলোকে প্রশমিত করা হয়।

প্রশ্ন ৯। তোমাদের তিন ধরনের তরল পদার্থ দেওয়া হল। এদের মধ্যে একটি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, অন্যটি সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এবং তৃতীয়টি চিনির দ্রব। সেগুলো কীভাবে শনাক্ত করবে? তোমার কাছে শুধু হলুদ সূচক আছে।
উত্তর: আমরা জানি হলুদ সূচক (Turmeric indicator) কেবল ক্ষারকীয় দ্রবের সংস্পর্শে এলে লাল বর্ণ ধারণ করে, কিন্তু আম্লিক বা প্রশমিত দ্রবে এর রঙ হলুদই থাকে।
* ধাপ ১ (ক্ষার শনাক্তকরণ): প্রথমে, তিনটি তরলের প্রত্যেকটির এক ফোঁটা করে হলুদ সূচকের উপর ফেলব। যে তরলটি হলুদ সূচককে লাল করবে, সেটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (ক্ষার)।
* ধাপ ২ (অন্য দুটি পৃথকীকরণ): অন্য দুটি তরল (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং চিনির দ্রব) হলুদের রঙ পরিবর্তন করবে না। এখন, এই শনাক্ত করা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবের কয়েক ফোঁটা ওই অজানা দুটি তরলের (অ্যাসিড এবং চিনির দ্রব) পৃথক নমুনার সাথে মেশাব।
* ধাপ ৩ (চূড়ান্ত পরীক্ষা): এই নতুন মিশ্রণ দুটিকে আবার হলুদ সূচক দিয়ে পরীক্ষা করব।
   * যে মিশ্রণটি (চিনির দ্রব + সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) হলুদ সূচককে লাল করবে, সেই অজানা তরলটি হলো চিনির দ্রব (কারণ চিনি প্রশমিত এবং ক্ষারের ধর্মকে নষ্ট করে না)।
   * যে মিশ্রণটি (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড + সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) হলুদ সূচকের রঙ পরিবর্তন করবে না (অর্থাৎ হলুদই থাকবে), সেই অজানা তরলটি হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (কারণ এটি ক্ষারের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করেছে, ফলে ক্ষারকীয় ধর্ম নষ্ট হয়ে গেছে)।
  
প্রশ্ন ১০। নীল লিটমাস কাগজ একটি দ্রবে ডুবানো হল। এটি নীলই রইল। এই দ্রবের প্রকৃতি কী রূপ বাখ্যা করো।
উত্তর: নীল লিটমাস কাগজ কেবল আম্লিক দ্রবে লাল হয়। যেহেতু কাগজটি নীলই রইল, এর মানে হলো দ্রবটি আম্লিক নয়।
সুতরাং, দ্রবটির প্রকৃতি ক্ষারকীয় বা প্রশমিত হতে পারে।
* কারণ, ক্ষারকীয় দ্রব নীল লিটমাসের রঙ পরিবর্তন করে না (কিন্তু লাল লিটমাসকে নীল করে)।
* আবার, প্রশমিত দ্রবও নীল বা লাল কোনো লিটমাসের রঙই পরিবর্তন করে না।
দ্রবটি ক্ষারকীয় না প্রশমিত, তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে ওই দ্রবে লাল লিটমাস কাগজ ডুবিয়ে দেখতে হবে।

প্রশ্ন ১১। নীচের উক্তিগুলো বিবেচনা করো-
(ক) অম্ল ও ক্ষার উভয়ই সকল ধরনের সূচকের রং পরিবর্তন করে।
(খ) যদি একটি সূচক অম্লের রং পরিবর্তন করে, তবে ক্ষারে তা সে করতে পারে না
(গ) যদি একটি সূচক ক্ষারের রং পরিবর্তন করে তবে অম্লের রং পরিবর্তন করতে পারে না।
(ঘ) অম্ল এবং ক্ষারের রং-এর পরিবর্তন সূচকের প্রকারের উপর নির্ভর করে।
উপরের উক্তিগুলোর মধ্যে কোনগুলো শুদ্ধ?
(i) চারটিই (ii) (ক) এবং (খ) (iii) (খ) এবং (গ) (iv) কেবল মাত্র (ঘ)
উত্তর: (iv) কেবল মাত্র (ঘ)

(ব্যাখ্যা:
* (ঘ) উক্তিটি শুদ্ধ, কারণ বিভিন্ন সূচক অম্ল ও ক্ষারে ভিন্ন ভিন্ন রং দেখায়। যেমন, লিটমাস অম্লে লাল ও ক্ষারে নীল হয়, কিন্তু জবাফুলের সূচক অম্লে গাঢ় গোলাপী এবং ক্ষারে সবুজ হয়।
* (ক), (খ), এবং (গ) উক্তিগুলি ভুল। যেমন, লিটমাস অম্ল ও ক্ষার উভয়েরই রং পরিবর্তন করে। আবার, ফেনলফথেলিন শুধু ক্ষারে রং পরিবর্তন করে (গোলাপী) কিন্তু অম্লে বর্ণহীন থাকে, এবং হলুদ শুধু ক্ষারে রং পরিবর্তন করে (লাল) কিন্তু অম্লে হলুদই থাকে।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *