প্রতিনিধি, Class 10, SEBA , New course,

প্রতিনিধি, Class 10

১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 
( ক ) শিবাজি কে ? 
উত্তরঃ মহারাষ্ট্রের মারাঠা রাষ্ট্রের প্রতিস্থাতা ছত্রপতি শিবাজি । 
( খ ) প্রতিনিধি কবিতার কবি কে ? 
উত্তরঃ কবি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । 
( গ ) শিবাজি কখন তাঁর গুরুকে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে দেখেছেন ? 
উত্তরঃ একদিন প্রভাতে শিবাজি তাঁর গুরুকে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে দেখেছেন । 
( ঘ ) শিবাজি বালাজির হাতে কী লিখে দিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ শিবাজি বালাজির হাতে চিঠি লিখে দিয়েছিলেন । 
( ঙ ) কোথা থেকে শিবাজি তাঁর গুরুকে ভিক্ষা করতে দেখেছেন ?
উত্তরঃ দুর্গদ্বার থেকে শিবাজি তাঁর গুরুকে ভিক্ষা করতে দেখেছেন ।
( চ ) গুরু শিবাজিকে , কাঁধে ঝুলি তুলে দিলেন কেন ? 
উত্তরঃ গুরু শিবাজিকে , ভিক্ষা করার জন্য কাঁধে ঝলি তুলে দিয়েছিলেন। 
( ছ ) শিবাজি তাঁর গুরুকে চিঠিতে কী দান করেছিলেন ? 
উত্তরঃ শিবাজি তাঁর গুরুকে চিঠিতে রাজ্য ও রাজধানী দান করেছিলেন।
( জ ) আলোচ্য কবিতায় শিষ্য গুরুর প্রসাদ কখন গ্রহণ করেছিলেন ? 
উত্তরঃ আলোচ্য কবিতায় শিষ্য মধ্যাহ্ন স্নানের পর গুরুর প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন ।
( ঝ ) গুরু তাঁর শিষ্যকে কী দিয়ে তাঁর পতাকা নির্মাণ করে নিতে বলেছেন ? 
উত্তরঃ গুরু তাঁর শিষ্যকে বৈরাগীর উত্তরীয় দিয়ে তাঁর পতাকা নির্মাণ করে নিতে বলেছেন । 
( ঞ ) কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ্য কবিতাটি গৃহীত হয়েছে ? 
উত্তরঃ  “ কথা ও কাহিনি ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে । 
২। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 
( ক ) কী উদ্দেশ্যে শিবাজি তাঁর গুরুর পদে রাজ্য ও রাজধানী দান করেছিলেন ? 
উত্তরঃ একদিন প্রভাতে শিবাজি দুর্গশীর্ষ থেকে দেখতে পান যে তাঁর গুরু দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন । শিবাজির ধারণা হলো তিনি যদি রাজ্য ও রাজধানী গুরুকে সমর্পণ করেন তবে গুরু রামদাস ভিক্ষা বন্ধ করে দেবেন । 
( খ ) প্রকৃত রাজার ধর্ম কী ? 
উত্তরঃ প্রকৃত রাজার আসল ধর্ম হলো সুষ্ঠুভাবে প্রজাপালন করা ।
( গ ) রাজর্ষি হওয়ার যোগ্যতা কারা পেতে পারেন ? 
উত্তরঃ যারা রিক্ত , ঐশ্বর্যহীন , সর্বত্যাগী, প্রকৃত রাজার এই গুণগুলি থাকলেই তিনি রাজর্ষি হবার গুণ ও যোগ্যতা পেতে পারেন । 
( ঘ ) রবীন্দ্রনাথ রচিত চারটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো । 
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ রচিত চারটি কাব্যগ্রন্থ হলো — বলাকা , খেয়া , নৈবেদ্য ও সোনার তরী ।
( ঙ ) রাজাকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি বলা হয় কেন ? 
উত্তরঃ রাজাকে নিজের রাজ্যে অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ , শত্রুর প্রতি তীক্ষ্ণদণ্ড , মিত্রের প্রতি সরল ব্যবহার সম্পন্ন এবং ব্রাহ্মণের প্রতি ক্ষমাশীল হতে হবে । রাজা গুণসম্পন্ন হলে সুশাসক ও আদর্শ রাজা বলে পরিচিত হন । তাই রাজাকে বলা হয় ঈশ্বরের প্রতিনিধি । 
( চ ) গুরু রামদাস কীভাবে শিষ্য শিবাজিকে পরীক্ষা করতে চেয়েছেন ? 
উত্তরঃ গুরু রামদাস পত্র পাঠ করে বুঝতে পারেন শিবাজি তাঁকে রাজ্য এবং রাজধানী দান করেছেন । গুরু শিবাজিকে জিজ্ঞাসা করেন তাঁর কীভাবে চলবে । তাঁর কী গুণ আছে । উত্তরে শিবাজি বলেন যে তিনি গুরুর দাসত্বে তাঁর প্রাণ আনন্দে দান করবেন । তখন গুরু রামদাস শিষ্যকে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে দিয়ে ভিক্ষা করতে নিয়ে যান । 
( ছ ) গুরু রামদাস তাঁর শিষ্যকে গুরুর নামে রাজ্যভার গ্রহণ করতে বললেন কেন ? 
উত্তরঃ রাজা শিবাজিকে ভিখারির বেশে দেখে প্রজাগণ কাঁপা হাতে লজ্জাভরে ভিক্ষা দেয় । অবশেষে গুরু নগরের এক প্রান্তে দিনের শেষে নদীতীরে ভিক্ষান্ন রন্ধন করে সারাদিনের ক্ষুধার্ত শিবাজিকে অন্ন প্রদান করেন । শিষ্য গুরুকে আরো কঠিন পরীক্ষা দিতে তৈরি বলে জানালেন । গুরু রামদাস শিষ্যের ত্যাগে অত্যন্ত প্রীত হয়ে পুনরায় তাঁকে রাজ্যভার অর্পণ করে গুরুর নামে রাজ্যশাসন করতে বললেন । 
( জ ) প্রকৃত রাজধর্ম কী তা বুঝিয়ে লেখো । 
উত্তরঃ প্রকৃত রাজধর্ম হলো — রাজা সকলের পালক , রক্ষক ও পরিচালক হবেন । তিনি অসামান্য গুণের অধিকারী হবেন। রাজা চরাচরকে সুষ্ঠুভাবে রক্ষা ও পালন করবেন । দেশ কাল পাত্র বিবেচনা না করে রাজা অন্যায়কারীর প্রতি দণ্ড প্রয়োগ করবেন । 
৩। শূন্যস্থান পূরণ করো । 
( ক ) ____ রাজার সাজে ____ , ____ মাঝে কে তুমি কর বাস । 
উত্তরঃ আমাবে ,  বসায়ে সংসার 
( খ ) ____ উত্তরীয় ____ করিয়া নিয়ো ।
উত্তরঃ বৈরাগীর  পতাকা ,
( গ ) অবশেষে ____ নগরের এক ____ নদীকূলে সারি । 
উত্তরঃ দিবসান্তে,  প্রান্তে ,
( ঘ ) দুর্গে ____ বাজে ক্ষান্ত দিয়া ____ বিশ্রাম ____ পুরবাসী। 
উত্তরঃ দ্বিপ্রহর ্‌কর্মকাজে্‌করিছে  ।
( ঙ ) ____ মা আমার লয়েছে ____ ভার সুখে আছে সর্ব ____।
উত্তরঃ অন্নপূর্ণা , বিশ্বের , চরাচর। 
( চ ) এ কেবল ____ জল ঢেলে _____ । বৃথা চেষ্টা ____ মিটাবারে । 
উত্তরঃ দিনেরাতে , ফুটা পাত্রে , তৃষ্ণা  । 
( ছ ) তোমারি ____ প্রাণ ____ করিব দান । ____ কহিলা নমি তাঁরে । 
উত্তরঃ দাসত্বে , আনন্দে । শিবাজি ।
৪। রচনাধর্মী উত্তর লেখো । 
( ক ) “ প্রতিনিধি ” কবিতাটির সারাংশ লেখো ।
উত্তরঃ ঈশ্বরের প্রতিনিধি হয়ে শিবাজির রাজ্যশাসনের দৃষ্টান্ত রবীন্দ্রনাথের হৃদয়কে যেমন নাড়া দিয়েছিল— তেমনি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল রামদাস স্বামীর ধর্ম আন্দোলন ।                    
           শনিবার সকাল শিবাজি দুর্গের উপরিভাগ থেকে দেখতে পান যে তাঁর গুরু সর্বময় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী বাধারে মুষ্টিভিক্ষা করছেন। দৃশ্যটি বর্তমান শিবাজিলেন তিনি গুরু রামদাসকে অপর্যাপ্ত দান করে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ভাবা দেখাবেন। শিবাজি একটি পত্র ফল বালাজির হাতে তুলে দেন। সর্বগ্রাসী সন্নসী গান গেয়ে পথ বের করান। তাঁর চিত্ত কামনা বাসনা শূন্য। রামদাস গান শেষ করে মধ্যাহ্নস্নান সেরে যখন দুর্গন্ধে বাস্তবে বালাজি গুরুকে প্রণাম করে রাজার চিঠিপত্রটি তাঁর চরণে মিলবে। গুরু আগ্রহভরে পত্র পড়ে বুঝলেন শিষ্য ছত্রপতি শিবাজি নিজের রাজ্য ও প্রশাসন তাঁর পদ্মে দান করেছেন। গুরুরাজের কাছে যাওয়ার পর দিন পরিচয় জানতে চান। তাঁর কী গুণ আছে! রাজ্য শহর নিয়ে তিনি কী করবেন ! 
প্রত্যুত্তরে শিবাজি বলেন যে তিনি গুরু দাসত্বে তাঁর আনন্দে দান করবেন। তখন গুরু তাঁর রামদাস শিষ্যকে ভিক্ষার ঝুলী কাঁধে দিয়ে নগরের পথ ভিক্ষা করতে যান। রাজাকে ভিখারির পোষাক প্রজা গণ কম্পিটিট হাতে অনুভবভারে ভিক্ষা দেয়। শেষ ভাগে নগরের একপ্রান্তে রান্নার পথের ধারে ভিক্ষায় পাওয়া চাল করেদিনের খুধা শিবাজিকে অন্নপ্রসাদ দান করেন। শিবাজি গুরু রামদাসকে জানান তিনি আরো কঠিন। পরীক্ষা দিতে। রামদাস শিষ্যের আপ্লায়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করে গুরুগুরুর রাষ্ট্র প্রশাসন করতে। রাজার রাজত্ব প্রজাদের সুশাসনের জন্য, অত্যাচারের জন্য নয়। এ – রাষ্ট্র তাঁর নয়। তিনি ঈশ্বরের একমাত্র মাত্র।
( খ ) কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো । 
উত্তরঃ  কবিতাটিতে রবীন্দ্রনাথ শিবাজির রাজর্ষি রূপটি ফুটিয়ে তোলেন । ঈশ্বরের প্রতিনিধি হয়ে শিবাজির রাজ্যশাসনের দৃষ্টান্ত রবীন্দ্রনাথের হৃদয়কে যেমন নাড়া দিয়েছিল— তেমনি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল রামদাস স্বামীর ধর্ম আন্দোলন । গুরু রামদাস ও শিষ্য শিবাজির মিলনে মহারাষ্ট্রের হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবন , মহাজাতির পুনর্গঠন । “ যে রাজ্য শিবাজি গুরু রামদাসকে দান করেছিলেন , গুরু শিষ্যকে সেই রাজ্যই শাসন করতে দিলেন , অন্ধ কর্তৃত্বে নয় , ঈশ্বরে প্রতিনিধি রূপে মাত্র ” । প্রতিনিধি কবিতায় শিবাজি শাসকের নয় , সেবকের ভূমিকায় প্রতিফলিত হয়েছেন ।
সন্ন্যাসীর ত্যাগ , বৈরাগ্য এবং বিশ্বমানবতার সঙ্গে একাত্মতার প্রতীক গৈরিক পতাকা শিবাজির রাজধর্মের অবলম্বন ছিল । তিনি এই আদর্শে গুরু রামদাস দ্বারা দীক্ষিত হয়েছেন । রবীন্দ্রনাথের কথায় ―
বৎস তবে এই লহ             মোর আশীর্বাদ সহ               
            আমার গেরুয়া গাত্রবাস
বৈরাগীর উত্তরীয়              পতাকা করিয়া নিয়ো 
            কহিলেন গুরু রামদাস । ” 
শিবাজির হিন্দুজাতি ও হিন্দুধর্মকে মুসলমান শাসন হইতে মুক্তিদান করিবার সংকল্প করিয়াছিলেন — সুতরাং ভারতের ইতিহাসকে নতুন করিয়া গড়িয়া তোলাই তাঁহার লক্ষ্যের বিষয় ছিল ইহাতে সন্দেহ নাই । বস্তুত তখন ভিতরে বাহিরে আঘাত পাইয়া সমস্ত ভারতবর্ষে নানা স্থানেই একটা যেন ধর্মচেষ্টার উদ্বোধন হইয়াছিল । হিন্দুধর্ম সমাজে তখন যে একটি জীবনচাঞ্চল্য ঘটিয়াছিল , বিশেষভাবে দাক্ষিণাত্যে তাহা নানা সাধুভক্তকে আশ্রয় করিয়া নব নব ধর্মোৎসাহে প্রকাশ পাইয়াছিল । সেইরূপ সচেতন অবস্থায় ঔরঙ্গ জেবের অত্যাচারে শিবাজির ন্যায় বীরপুরুষ যে ভারতবর্ষে ধর্মকে জয়যুক্ত করিবার ব্রত গ্রহণ কবিবেন তাহা স্বাভাবিক । 
শিবাজি যে সকল যুদ্ধ বিগ্রহে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন তাহা সোপান – পরম্পরার মতো , তাহা রাগারাগি লড়ালড়ি মাত্র নহে । তাহা সমস্ত ভারতবর্ষকে এবং দূর কালকে লক্ষ্য করিয়া একটি বৃহৎ আয়োজন বিস্তার করিতেছিল ; তাহার মধ্যে একটি বিপুল আনুপূর্বিকতা ছিল । রবীন্দ্রনাথের কবিতায় শিবাজির মহত্ত্ব ও আদর্শের উজ্জ্বল চিত্র প্রতিভাসিত হয়েছে । সেজন্য ‘ প্রতিনিধি ’ নামকরণটি সার্থক হয়েছে । 
( গ ) রাজা শিবাজির উপর গুরু রামদাসের প্রভাব আলোচনা করো ।
উত্তরঃ আপ্লুত ও সাধনাপূর্ণ ঐশ্বর্যহীন , রিক্তাই রাজর্ষি সামযোগ্য । গুরু রামদাস শিবাজিকে এই পাঠই শিখিয়েছেন। দেশ নিয়ে দেশের মানুষ আমাদের দেশের জন্য রাজ্য সরকার করাই উপযুক্তরাজের প্রধান আদর্শ। গুরু পাদুকা সিংহাসনে স্থাপন করে শিবাজি রাজ্য প্রশাসন। বৈরাগীর উত্তরীয় গেরুয়া রঙের । সেজন্য শিবাজির পতাকার রং ছিল গেরুয়া । 
ছত্রপতি শিবাজি আধুনিককালে হিন্দুদের জাতীয় বীর মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা । সম্রাট আকবরের মতন হিন্দু মুসলমান উভয়ের কাছে প্রিয় ছিলেন । এটা ঐতিহাসিক সত্য যে শিবাজি মুসলমান রাজশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন । কিন্তু সে সময় বহু বিখ্যাত মুসলমান শিবাজির বিপদে আপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন । তখন হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল না কোনো তিক্ততা । মোগল সম্রাট আকবরের অধীনে বহু হিন্দু উচ্চপদে আসীন ছিলেন । এ দৃষ্টান্ত বহু মুসলমান নবাব অনুসরণ করেছিলেন । আকবরের সময় হিন্দুদের সঙ্গে সম্রাটের যে সম্পর্ক ছিল , শিবাজির সময়েও মুসলমানদের সঙ্গে শিবাজির অনুরূপ সম্পর্ক ছিল । হিন্দুরা আকবরের প্রতি যে শ্রদ্ধা পোষণ করে থাকে , মুসলমানরাও শিবাজিকে সেরকম শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে থাকেন । 
শিবাজির মতন মহাপুরুষেরা শুধু যেসব জাতির উপকার করেছেন এমন নয় , তাঁরা মনুষ্যত্বের উদ্ধারসাধক । মানব সমাজের দাসত্ব পাশ মোচনকারী বলে পৃথিবীর সব দেশেই তাঁদের আবির্ভাব বাঞ্ছনীয় । জগতের মঙ্গলের জন্য শিবাজির মতন মহাপুরুষের জন্ম নেওয়া অবশ্যই দরকার । 
( ঘ ) ভারতের পুরাতন সংস্কৃতি অনুসারে ভারতীয় রাজধর্মের স্বরূপ আলোচনা করো । 
উত্তরঃ ধর্মশাস্ত্র প্রযোজকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ভগৱান মনু তাঁর সংহিতায় সপ্তম অধ্যায়ে আলোচ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলেছেন— 
রাজধর্মান্ প্রবক্ষ্যামি যথাবৃত্তো ভবেন্নপঃ । 
সম্ভবশ্চ যথা তস্য সিদ্ধিশ্চ পরমা যথা ৷৷ 
রাজধর্ম পর্যালোচনা করতে হলে সাধারণভাবে দেখা যায়, যা কিছু সৃষ্ট চেতন অচেতন পদ্ধতি বিদ্যমান, সকলেরই প্রয়োজন ।
সকলের পালক, রক্ষক, ব্যক্তি হবেন, তিনি নিশ্চয় আলোকসামান্য গুণের অধিকারী হবেন। সেজন্য ভগবান মনুরাজের গুণমানতাকর্ষের জন্য লেখক — ইন্দ্র , বায়ু , যম , সূর্য , অগ্নি , বরুন , চন্দ্র এবং কুবেরের ভূতসার অংশ নিয়ে ভগবান রাজাকে নির্মাণ করেছেন। এই সকল তেজস্বী দেবতার অংশ বলে রাজা সকলকে অভিভূত এবং সন্তপ্ত করতে পারেন, কিন্তু কোনো প্রাণীর দিকে দৃষ্টিপাত করতে না পারেন। 
রাজা স্বকীয় তেজে এবং প্রভাবে অগ্নি , বায়ু , সূর্য , চন্দ্র , যম , কুবের , বরুন এবং মহেন্দ্রের সঙ্গে তুলনীয় । সেজন্য তিনি পুরানো বালক , বৃদ্ধ — একই রকম হোন না কেন — তিনি সকলের পুজ্য। রাজার যেমন আলোকসামান্য প্রভাবই তার কর্মবিধিও অচিন্তনীয়। তিনি প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য ঈশ্বরের মতন বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। যেমন পক্ষের কাছের কাছে রাজা কখনো কখনো মিত্র, কখনো হত্তা, কখনো কখনো উদাসীন। রাজার এই একই অঙ্গে রূপ প্রদর্শনের বৈশিষ্ট্য কেবলমাত্র তাদের কাছেই নয়, প্রজাদের কাছেও প্রকট। 
রাজা সর্বোৎজোময়। তাঁর অনুগ্রহে প্রভূতও উন্নতি এবং ক্রোধে মৃত্যু। সেজন্য কখনো কোনো কারণে বিদ্বেষ পোষণ করা উচিত নয়। রাজার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ আত্মহন তুল্য। রাজরোষ অগ্নি অপেক্ষা কর। রাজার বিরুদ্ধাচরণ বশতঃ রাজরোষে পতিত হলে সেই মানুষের ধন, অধিকার, পশু সহ সবংশে চটি হয়। 
মনুরাজের দিব্যভ ও অলৌকিক প্রভাব উল্লেখ করে জীবকুলকে নির্দেশক — রাজার অভিলষিত কার্যের প্রত্যেকটি প্রবর্তিত হওয়া উচিত যেমন তাঁর অনভিলষ বিষয়গুলিকে সনে পরিহার করা উচিত। 
( ঙ ) গুরু রামদাসের গানের বিশেষত্ব উল্লেখ করুন। 
উত্তরঃ রামদাস ছিলেন মহারাষ্ট্রের মারাঠা জাতির জাতীয় বীর ছত্রপতি শিবাজির গুরুদেব। আপ্লুত ও সাধনাপূর্ণ ঐশ্বর্যহীন , রিক্তাই রাজর্ষি সামযোগ্য । গুরু রামদাস শিবাজিকে এই পাঠই শিখিয়েছেন। দেশ নিয়ে দেশের মানুষ আমাদের দেশের জন্য রাজ্য সরকার করাই উপযুক্তরাজের প্রধান আদর্শ।
       শনিবার সকাল শিবাজি দুর্গের উপরিভাগ থেকে দেখতে পান  যে তাঁর গুরু সর্বময় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী বাধারে মুষ্টিভিক্ষা করছেন।  শিবাজি ভাবলেন তিনি গুরু রামদাসকে অপর্যাপ্ত দান করে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি দেবেন। শিবাজি একটি পত্র ফল বালাজির হাতে তুলে দেন। সর্বত্যাগী সন্নসী গান গেয়ে পথ বেরন। তাঁর চিত্ত কামনা বাসনা শূন্য। রামদাস গান শেষ করে মধ্যাহ্নস্নান সেরে যখন দুর্গন্ধে বাস্তবে বালাজি গুরুকে প্রণাম করে রাজার চিঠিপত্রটি তাঁর চরণে মিলবে। গুরু আগ্রহভরে পত্র পড়ে বুঝলেন শিষ্য ছত্রপতি শিবাজি নিজের রাজ্য ও প্রশাসন তাঁর পদ্মে দান করেছেন। গুরু রাজার কাছে যাওয়ারপরিচয় জানতে চান। তাঁর কী গুণ আছে! রাজ্য শহর দিয়ে  তিনি কী করবেন ! 
প্রত্যুত্তরে শিবাজি বলেন যে তিনি গুরু দাসত্বে তাঁর আনন্দে দান করবেন। তখন গুরু তাঁর রামদাস শিষ্যকে ভিক্ষার ঝুলী কাঁধে দিয়ে নগরের পথ ভিক্ষা করতে যান। রাজাকে ভিখারির পোষাক প্রজা গণ কম্পিটিট হাতে অনুভবভারে ভিক্ষা দেয়। শেষ ভাগে নগরের একপ্রান্তে রান্নার পথের ধারে ভিক্ষায় পাওয়া চাল করেদিনের খুধা শিবাজিকে অন্নপ্রসাদ দান করেন। শিবাজি গুরু রামদাসকে জানান তিনি আরো কঠিন। পরীক্ষা দিতে। রামদাস শিষ্যের আপ্লায়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করে গুরুগুরুর রাষ্ট্র প্রশাসন করতে। রাজার রাজত্ব প্রজাদের সুশাসনের জন্য, অত্যাচারের জন্য নয়। এ – রাষ্ট্র তাঁর নয়। তিনি ঈশ্বরের একমাত্র মাত্র।
৫। ব্যাখ্যা লেখো। 
( ক ) “ এ কেবল শিশু রাত্রে জল ঢেলে ফুটপাত্রে    
                    বৃথা চেষ্টা তৃষ্ণা মিটাবারে। ” 
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। বিশ্বের কেউই নিজেতে সন্তুষ্ট নয়। অপরের সুখ স্বচ্ছন্দ্যের প্রতি লুব্ধ দৃষ্টি তাদের ব্যাকুল করে। আশা আকাঙ্খা যত বাড়তে থাকে ততই অসন্তোষ বাড়ে এবং মানুষ লভের বশীভূত হয়। আশা আকাঙ্ক্ষা অপরিমিত কিন্তু তা মেটাবার শক্তি একান্তই সীমিত এই সত্যটি মানুষ পাস করতে পারে।
      কবির শব্দ ‘যাহা চাই উল্টো করতে চাই, যাহা পাই ভুল চাই না। এই ভুলেরশুল দিতে গিয়ে মানুষ ঈর্ষাতুর হৃদয়ে পরের মা সুখকেও হিংসা করে। সে মনে করে অচেনা প্রস্তুতি রয়েছে তার সর্বোত্তম বাসনা নির্সননের উপায় – এই হা হুতাশ করে অলস প্রহর গোনে। সে মানব না মানবজীবনের ধারা ধারাসুমাস্তীর্ণ পথ দেখান , সুখ – শান্তি কোনো স্থানবিশেষেরও দান নয় — এটা মনের একটা বিশেষত্ব যা মানুষ অর্জন করে চিত্ত সংযমের দ্বারা। সাধ ও সাধের মধ্যে এই পরিচয়ের উত্তরের উত্তরে উত্তরে নিয়ে কথা হয়। তাকে হতাশা জর্জর অসূয়াতে করে শক্তিশালী ও অবসন্ন। 
(খ ) “অন্নপূর্ণা মা আমার লয়েছে সারা বিশ্ব     
                       সুখে আছে সর্বচরাচর। ” 
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মানুষ ভাবে ঈশ্বরকে দেখতে চাইছে। কোনো মানুষের কাছে তার কাছে বিরাজিত সাকার হয়েছে। সভ্যতার সঙ্গে মানুষের ঈশ্বর উপলব্ধি বদলিয়েছে — তিনি এখন মন্দির, মসজিদ বা গর্জায় নেই। তার উপস্থিতি ” অনেক সম্মুখে তোমার ” । একা মানুষ বিশ্বাস করে মানুষই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এই পার্থিবই রয়েছে স্বর্গ নরক। মানুষই ঈশ্বর , মানুষই শয়তান । যখন সে ষড়রিপুর কবলিত তখন তার মধ্যে শয়তানের বাস। আর যখন সে ষড়রিপু মুক্ত হওয়া সত্যসন্ধানী হয় তখন তার দেবতার অধিষ্ঠান হয়। 
যাঁরা বরণীয় মানুষ সেখানকার মনুষ্যত্বের জয় করেন। দারা লেখক “মানবীর তরে কবিতা কাঁটি যাচি না দেবতা” বা “সবার উপরে মানুষ সত্য, দেবতা আছে বা নাই। ” এক ও অনন্তকে মানুষের মধ্যে উপলব্ধি করার নামই ভালোবাসা । ভালোবাসাই যে অমৃতমন্ত্র যা মানুষের কাছে দেয়। পিতা ঈশ্বর পুত্র, মাতা চরিত্র, ক্রাউড, বধূ মূর্তি এমনকি ঈশ্বরও তাই দেবতা আমাদের কাছে। আমাদের পুরাতন কবিরাও বলে “দেবতারে প্রিয়েতা” —মানুষে এবং সর্বজীবে প্রেমই তাই ঈশ্বরকে ভালোবাসা। মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা , মানুষের লাগই ঈশ্বরের লাগতে পারে ।
( গ ) “ তোমার দাসত্বে আনন্দে করিব দান ‘ 
                       শিবাজি কহিলা নমি তারে। ” 
উত্তরঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
         জীবের মধ্যে জ্ঞানই শিব হয়ে বিরাজমান তাকে লাভ করতে সর্বাগ্রে জীবকে আপনমনে ভালবাসতে হবে। ভালোবাসাই ঈশ্বরের ভালোবাসা। এরই অভাবে আমাদের সত্যের নষ্ট হয়ে যায়। জন্তুর ব্যবহার কিছু কিছু আসে না, কিন্তু মানুষের ব্যবহার করে আর কিছু নেই। মঠ মন্দির – মসজিদ – গির্জা করে আভিজাত্য করা যায় , অহংকারে মত্ত হতে পারে , কিন্তু হৃদয়ে প্রেমের অভাবে তা দেবালয় দেখায় না । মানুষ ভাবে ঈশ্বরকে দেখতে চাইছে। কোনো মানুষের কাছে তার কাছে বিরাজিত সাকার হয়েছে। সভ্যতার সঙ্গে মানুষের ঈশ্বর উপলব্ধি বদলিয়েছে — তিনি এখন মন্দির, মসজিদ বা গর্জায় নেই। তার উপস্থিতি ” অনেক সম্মুখে তোমার ”
( ঘ ) “ হে ভবেশ , হে শঙ্কর সকলে দিয়েছ ঘরে 
                      আমারে দিয়েছ শুধু পথ। ” 
উত্তরঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
    মঠ মন্দির – মসজিদ – গির্জা করে আভিজাত্য করা যায় , অহংকারে মত্ত হতে পারে , কিন্তু হৃদয়ে প্রেমের অভাবে তা দেবালয় দেখায় না । মানুষ ভাবে ঈশ্বরকে দেখতে চাইছে। কোনো মানুষের কাছে তার কাছে বিরাজিত সাকার হয়েছে। সভ্যতার সঙ্গে মানুষের ঈশ্বর উপলব্ধি বদলিয়েছে — তিনি এখন মন্দির, মসজিদ বা গর্জায় নেই। তার উপস্থিতি ” অনেক সম্মুখে তোমার ” ।
ঈশ্বর সব জীবের মধ্য দিয়ে সর্বস্থানে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। জীবের গভীরতাই দেখতে শিব হয়ে বিরাজমান তাঁকে লাভ করতে অনেক সর্বজনীন সেজন্য জীবকে আপন করে ভালোবাসতে হবে। 
( ঙ ) “ বৈগির উত্তরীয় পতাকা নিয়ো’ 
                   কহিন গুরু রামদাস। ” 
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
           শনিবার সকাল শিবাজি দুর্গের উপরিভাগ থেকে খারাপন যে তাঁর গুরু সর্বময় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী বাধারে মুষ্টিভিক্ষা করছেন। দৃশ্যটি বর্তমান শিবাজিলেন তিনি গুরু রামদাসকে অপর্যাপ্ত দান করে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ভাবা দেখাবেন। শিবাজি একটি পত্র ফল বালাজির হাতে তুলে দেন। সর্বত্যাগী সন্নসী গান গেয়ে পথ বেরন। তাঁর চিত্ত কামনা বাসনা শূন্য। রামদাস গান শেষ করে মধ্যাহ্নস্নান সেরে যখন দুর্গন্ধে বাস্তবে বালাজি গুরুকে প্রণাম করে রাজার চিঠিপত্রটি তাঁর চরণে মিলবে। গুরু আগ্রহভরে পত্র পড়ে বুঝলেন শিষ্য ছত্রপতি শিবাজি নিজের রাজ্য ও প্রশাসন তাঁর পদ্মে দান করেছেন।
৬। তাৎপর্য লেখো। 
( ক ) ওহে ত্রিভুবনপতি, আপনার মতি  
                     দেখতে সুবিধা তব নাহি। 
উত্তরঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
           মানুষ ভাবে ঈশ্বরকে দেখতে চাইছে। কোনো মানুষের কাছে তিনি নিরাকার , আবার তাঁর কাছে বিরাজিত সাকার হয়েছে। সভ্যতার সঙ্গে মানুষের ঈশ্বর উপলব্ধি বদলিয়েছে — তিনি এখন মন্দির, মসজিদ বা গর্জায় নেই। তাঁর উপস্থিতি ” অনেক সম্মুখে তোমার ” । এ কাল মানুষ বিশ্বাস করে মানুষই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এই পার্থিবই রয়েছে স্বর্গ – নরক। মানুষ যখন ষড়িপু মুক্ত হওয়া সত্যসন্ধানী হয়। তখন তার দেবতার অধিষ্ঠান হয়। দেশ সব বিস্ময়ের সঙ্কোচন, তমসার ওপারের সাক্ষাত্কার জ্যতির্ময়ী তিনি আমাদের পরম নিয়ন্ত্রক।
(খ ) “ গুরু কহে , তবে শোন করি কঠিন পণ 
                     অনুরূপ দিতে হবে। ” 
উত্তরঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
           শনিবার সকাল শিবাজি দুর্গের উপরিভাগ থেকে দেখতে পান যে তাঁর গুরু সর্বময় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী বাধারে মুষ্টিভিক্ষা করছেন।  শিবাজি বলেন যে তিনি গুরু দাসত্বে তাঁর আনন্দে দান করবেন। তখন গুরু তাঁর রামদাস শিষ্যকে ভিক্ষার ঝুলী কাঁধে দিয়ে নগরের পথ ভিক্ষা করতে যান। রাজাকে ভিখারির পোষাক প্রজা গণ কম্পিটিট হাতে অনুভবভারে ভিক্ষা দেয়। শেষ ভাগে নগরের একপ্রান্তে রান্নার পথের ধারে ভিক্ষায় পাওয়া চাল করেদিনের খুধা শিবাজিকে অন্নপ্রসাদ দান করেন। শিবাজি গুরু রামদাসকে জানান তিনি আরো কঠিন। পরীক্ষা দিতে। রামদাস শিষ্যের আপ্লায়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করে গুরুগুরুর রাষ্ট্র প্রশাসন করতে। রাজার রাজত্ব প্রজাদের সুশাসনের জন্য, অত্যাচারের জন্য নয়। এ – রাষ্ট্র তাঁর নয়। তিনি ঈশ্বরের একমাত্র মাত্র।
( গ ) অতুল ঐশ্বরে রত , তাঁর ভিখারি ব্রত 
                  এ যে জানে জলে ভাসে শিলা।
উত্তরঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রতিনিধি” নামক কবিতা থেকে সংগৃহীত ।
      শিবাজি দুর্গের উপরিভাগ থেকে দেখতে পান  যে তাঁর গুরু সর্বময় গেরুয়াবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী বাধারে মুষ্টিভিক্ষা করছেন।  শিবাজি ভাবলেন তিনি গুরু রামদাসকে অপর্যাপ্ত দান করে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি দেবেন।শিবাজি নিজের রাজ্য ও প্রশাসন তাঁর পদ্মে দান করেছেন। গুরু তাঁর রামদাস শিষ্যকে ভিক্ষার ঝুলী কাঁধে দিয়ে নগরের পথ ভিক্ষা করতে যান। রাজাকে ভিখারির পোষাক প্রজা গণ কম্পিটিট হাতে অনুভবভারে ভিক্ষা দেয়। শেষ ভাগে নগরের একপ্রান্তে রান্নার পথের ধারে ভিক্ষায় পাওয়া চাল করেদিনের খুধা শিবাজিকে অন্নপ্রসাদ দান করেন। শিবাজি গুরু রামদাসকে জানান তিনি আরো কঠিন। পরীক্ষা দিতে। রামদাস শিষ্যের আপ্লায়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করে গুরুগুরুর রাষ্ট্র প্রশাসন করতে। রাজার রাজত্ব প্রজাদের সুশাসনের জন্য, অত্যাচারের জন্য নয়। এ – রাষ্ট্র তাঁর নয়। তিনি ঈশ্বরের একমাত্র মাত্র।
৭। ব্যাকরণ: 
( ক ) প্রতিশব্দ লেখো : 
উত্তরঃ ঘুম — নিদ্রা, তন্দ্রা। 
রবি — সূর্য, অরুণ, ভানু। 
তৃণ — ঘাস। 
মন্দির — দেবালয় , দেবগৃহ। 
সন্ধ্যা — সাঁঝ।
বিভাবরী — রাত্রি, যামিনী, নিশা। 
নিখিল — সমগ্র। 
(খ) সন্ধি বিচ্ছেদ করো : 
উত্তরঃ মহাকাশ = মহা + আকাশ। 
কেন্দ্র = দেব + ইন্দ্র। 
চন্দ্রাতপ = চন্দ্র + অতপ। 
(গ ) শব্দ লিখুন — 
মিটাবারে , চরাচর , বাধারে বাধারে , সমাপন , দাসত্ব , থরথর , পরবর্তী , পুরবাসী । 
উত্তরঃ মিটাবারে — বৃথা চেষ্টা তৃষ্ণা মিটাবাবে। 
চরাচর — চর্বতী ঈশ্বর বিরাজমান। 
বাধারে বাধাবে — শিবাজি বাধারে ভিক্ষার। 
সমাপন — সব যুদ্ধই সমাপন প্রয়োজন। 
দাসত্ব — এর দাসত্ব করা অনুচিত। 
থরথর — ভূমিকম্পে সমস্ত এলাকা থরথর করে কেঁপে উঠল। 
সাধারণ — শিবাজি সমগ্র মারাঠা যুদ্ধ ছিল। 
পুরবাসী — পুরবাসী গণক কম্পিউটার হাতে ভিক্ষা দিল। 
(ঘ) পদ পরিবর্তন—
উত্তরঃ অধুনা — ধর্ম। 
অগ্নি — আগ্নেয়। 
আপনি — ঠিক করুন। 
অন্তর — সম্পূর্ণ। 
দেব – দৈব। 
তপ্ত — তাপ। 
উল্লাস — উল্লসিত। 
মন— 
সন্ধ্যা – সন্ধ্যা। 
তরুণ — তারুণ্য। 
মন্ত — ম্রিণা৷ 
দূর-দূরত্ব। 
আগুন — অগ্নি, আগ্নেয়। 
বৈরাগি — বৈরাগ্য। 
ঘুম — ঘুমন্ত। 
অলস — অলসতা। 
চন্দ্ৰ চন্দ্ৰ। 
৮। নিজে করো — 
উচিত , ভ্রম , শীত , নিয়ম , মহত্ব , এক , উদার , সংযম , মোহ , নৈশ । 
উত্তরঃ উচিত — ঔচিত্য। 
ভ্রম — ভ্রান্তি। 
শীত—শৈত্য। 
নিয়ম — নীতি। 
এক — একই। 
মহত্ব — মহান। 
উদার — উদারতা। 
মোহ — মোহনা। 
নৈশ – নিশি। 
( ঙ ) উপস্থিতি পরিবর্তন করা । 
১। উপস্থিতি কতটা ও কী কী? 
উত্তরঃ উপস্থিতি দুই প্রকার — প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতি। 
( ১ ) ” 
পরোক্ষ উপস্থিতি — অনিল বলে যে সে লোককে দেখা যাচ্ছে। 
( ২ ) প্রত্যক্ষ উপস্থিতি — রাম বলা , “ আমি আজ না । ” 
পরোক্ষ প্রমাণী — রাম জানাল যে আজ যাবে না।
( ৩ ) প্রত্যক্ষ উপস্থিতি — শিক্ষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *