সুস্বাস্থের জন্য খাদ্য , Chapter -3, Science, Class-6 ,SEBA
১. নীচে দেওয়া বস্তুগুলির মধ্যে অমিল বের করো এবং কারণ দেখাও।
(a) জওয়ার, বাজরা, রগি, ছোলা
* অমিল বস্তুটি: ছোলা।
* কারণ: জওয়ার, বাজরা এবং রগি হলো মিলেট (শস্যদানা)। কিন্তু ছোলা হলো একটি ডালজাতীয় শস্য।
(b) রাজমা, ছোলা, সয়াবিন, চাল
* অমিল বস্তুটি: চাল।
* কারণ: রাজমা, ছোলা এবং সয়াবিন হলো ডালজাতীয় শস্য এবং এগুলি প্রোটিনের উৎস। অন্যদিকে, চাল হলো একটি ধান জাতীয় শস্য, যা প্রধানত কার্বহাইড্রেট বা শ্বেতসারের উৎস।
২. ভারতবর্ষের প্রাচীন এবং আধুনিক রন্ধন প্রণালীর তুলনা করো।
ভারতবর্ষের প্রাচীন এবং আধুনিক রন্ধন প্রণালীর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
* প্রাচীন রন্ধন প্রণালী: পূর্বেকার দিনে মাটির উনুনে রান্না করা হতো। রান্নার পাত্র হিসাবে প্রধানত মাটি বা পিতলের পাত্র ব্যবহার করা হতো। খাদ্যবস্তু বা মশলা চূর্ণ করার জন্য শিল-পাটা, চাক্কি এবং ঢেঁকির মতো যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছিল।
* আধুনিক রন্ধন প্রণালী: বর্তমানে রান্নার জন্য আধুনিক গ্যাসস্টোভ, অভেন (মাইক্রোওয়েভ) এবং এয়ার ফ্রাইয়ারের মতো সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। মাটির পাত্রের পরিবর্তে প্রেসার কুকার ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কম সময়ে রান্না করা যায়। খাদ্যবস্তু চূর্ণ করার জন্য এখন বৈদ্যুতিক গ্রাইন্ডার ব্যবহৃত হয়।
প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি, উন্নত পরিবহন এবং উন্নত যোগাযোগের ফলেই রন্ধন প্রণালীর এই পরিবর্তনগুলি বিকশিত হয়েছে।
৩. সকল সুস্বাদু খাদ্য পুষ্টিকর নয় এবং সকল পুষ্টিকর খাদ্য সুস্বাদু নয়। আলোচনা করো।
এই উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক।
* সকল সুস্বাদু খাদ্য পুষ্টিকর নয়: এমন অনেক খাবার আছে যা খেতে খুব সুস্বাদু কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। উদাহরণস্বরূপ, আলুর চিপ্স, ক্যান্ডিবার (মিঠাই) এবং চিনিযুক্ত পানীয়। এই ধরনের খাদ্যকে ‘জাংক ফুড’ বলা হয়। এই খাবারগুলিতে অস্বাস্থ্যকর স্নেহপদার্থ (চর্বি) এবং শর্করার (চিনি) পরিমাণ খুব বেশি থাকে, কিন্তু ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং আঁশযুক্ত খাদ্যের পরিমাণ খুবই কম থাকে। অতিরিক্ত জাংক ফুড খেলে মেদবহুলতা এবং ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ হতে পারে।
* সকল পুষ্টিকর খাদ্য সুস্বাদু নয়: অন্যদিকে, অনেক পুষ্টিকর খাবার, যেমন কিছু শাক-সবজি বা মিলেট, সবার কাছে জাংক ফুডের মতো সুস্বাদু নাও লাগতে পারে। তবুও, এই খাবারগুলি আমাদের শরীরের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অপরিহার্য। একটি স্বাস্থ্যবান শরীর পাওয়ার জন্য আমাদের সুষম আহার খাওয়া উচিত এবং জাংক ফুড পরিহার করা উচিত।
৪. নীচে উল্লেখ করা তিনধরনের খাদ্য (a) বোতলে থাকা ফলের রস, (b) তাজা ফলের রস, (c) সতেজ ফল। তুমি কোন্টি খাবে এবং কেন খাওয়ার ইচ্ছে করে?
এই তিনটির মধ্যে আমি (c) সতেজ ফল খেতে পছন্দ করব।
কারণ: সতেজ ফল হলো আঁশযুক্ত খাদ্য বা রুক্ষাহারের (Roughage) একটি অন্যতম প্রধান উৎস। আঁশযুক্ত খাদ্য আমাদের শরীরকে কোনো পরিপোষক প্রদান না করলেও, এটি আমাদের খাদ্যের হজম না হওয়া অংশ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
বোতলে থাকা ফলের রসে (Canned juice) প্রায়ই অতিরিক্ত চিনি থাকে এবং তাজা ফলের রসে (Fresh juice) ফল পেষার সময় আঁশের (fiber) পরিমাণ কমে যায়। তাই, সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ এবং আঁশ পাওয়ার জন্য সতেজ ফল খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
৫. চিনি একটি শর্করাযুক্ত খাদ্য। চিনিতে আয়োডিন মিলালে নীল-কালো রঙের হয় না। এর সমর্থনে কারণ দেখাও।
আমাদের খাদ্যে থাকা কার্বহাইড্রেট প্রধানত শ্বেতসার (Starch) এবং শর্করা (Sugar) রূপে পাওয়া যায়।
পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ক্রিয়াকলাপ ৩.২ (শ্বেতসারের পরীক্ষা) অনুসারে, পাতলা আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করে কোনো খাদ্যে শ্বেতসারের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। যদি কোনো খাদ্যবস্তুতে শ্বেতসার উপস্থিত থাকে, তবেই তা আয়োডিন দ্রবণের সংস্পর্শে এসে কালচেনীল বা নীল-কালো বর্ণ ধারণ করে।
চিনি একটি শর্করাযুক্ত খাদ্য হলেও এটি শ্বেতসার নয়। যেহেতু আয়োডিন পরীক্ষাটি কেবল শ্বেতসারের জন্য নির্দিষ্ট, তাই চিনিতে আয়োডিন মেশালেও রঙের কোনো পরিবর্তন হয় না এবং এটি নীল-কালো হয় না।
৬. মিলেটগুলিকে পুষ্টিকর খাদ্য হিসাবে গণ্য করা হয়। আমরা কেবল মিলেট খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমূহ পাব কি? আলোচনা করো।
মিলেটকে পুষ্টিকর খাদ্য বলার কারণ:
মিলেটগুলিকে ‘পুষ্টিকর খাদ্যশস্য’ (Nutri-cereals) এবং ‘সুপারফুড’ (Superfood) হিসাবে গণ্য করা হয়। মিলেট হলো শক্তি এবং বিভিন্ন পরিপোষকের একটি প্রধান উৎস। এগুলি প্রোটিন, আঁশ (ফাইবার), ক্যালসিয়াম, লোহা (আয়রন), পটাসিয়াম এবং মেগনিসয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিপোষকগুলিতে সমৃদ্ধ। এগুলি পুষ্টিহীনতা দূর করতেও সহায়তা করে।
কেবল মিলেটই কি যথেষ্ট?
না, কেবল মিলেট খেলে আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে না। আমাদের শরীরের সঠিক বৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ‘সুষম আহার’ (Balanced Diet) প্রয়োজন। একটি সুষম আহারে কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশযুক্ত খাদ্য এবং জল—এই সবগুলি উপাদানই সঠিক পরিমাণে থাকা আবশ্যক।
মিলেট এই তালিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করলেও, সবগুলি পরিপোষক (যেমন ভিটামিন C বা ভিটামিন A, যা প্রধানত ফল ও শাক-সবজিতে পাওয়া যায়) সঠিক পরিমাণে একা সরবরাহ করতে পারে না। তাই, সুস্বাস্থ্যের জন্য মিলেটের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গ্রহণ করা অপরিহার্য।
৭. শুদ্ধ উত্তরের বৃত্তটি কালি দিয়ে পূর্ণ করো-
(i) নীচে দেওয়া কোন্ রোগটি ভিটামিন D-এর অভাবে হয়?
* (a) দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
* (b) বেরি বেরি
* (c) স্কার্ভি
* (d) রিকেট
(ii) নীচে দেওয়া কোন্ রোগটি ভিটামিন C-এর অভাবে হয়?
* (a) দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
* (b) স্কার্ভি
* (c) রিকেট
* (d) রক্তহীনতা
(iii) নীচে দেওয়া কোনটি ভিটামিন A-এর অভাবে হয়?
* (a) দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
* (b) হাড় এবং দাঁত ক্ষয় হওয়া
* (c) বেরি বেরি
* (d) স্কার্ভি
(iv) নীচে দেওয়া কোন রোগটি আয়রনের অভাবে হয়?
* (a) রক্তহীনতা
* (b) দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
* (c) বেরি বেরি
* (d) স্কার্ভি
৮. নীচে দেওয়া উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্যগুলির প্রতিটির দুটি করে নাম উল্লেখ করো।
* (a) স্নেহপদার্থ: ঘি, বাদাম
* (b) শ্বেতসার (কার্বহাইড্রেট): চাল, আলু
* (c) আঁশযুক্ত খাদ্য: তাজা ফলমূল, শাক-সবজি
* (d) প্রোটিন: ডাল, মাছ
