সম্পদ ,  শ্রেণী -০৭ ,সমাজ বিজ্ঞান , SEBA

পাঠ-৫: সম্পদ (পৃষ্ঠা ৫৬-৫৭) https://utsaho.in/3395-2/ ‎Edit

 

অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ৫৭)

 

 

১। সম্পদ বলতে কী বোঝো? সম্পদের প্রধান ভাগ কয়টি এবং কী কী? লেখো।

উত্তরঃ   সম্পদ হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন পূরণের জন্য কোনো উৎস থেকে আহরণ করা বস্তু সামগ্রীসমূহ।

               সম্পদের প্রধান ভাগ তিনটি: ১. প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন: বায়ু, জল, মাটি, কয়লা)। ২. মানব সম্পদ (যেমন: মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, দক্ষতা)। ৩. মানবসৃষ্ট সম্পদ (যেমন: ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা)।


 

২। ‘মানব শ্রেষ্ঠতম জৈবিক সম্পদ।’ যুক্তি সহকারে লেখো (১০০টি শব্দের মধ্যে)

 

মানুষকে শ্রেষ্ঠতম জৈবিক সম্পদ বলা হয় কারণ:

  • মানুষ হলো বুদ্ধিমত্তা ও সীমাহীন জ্ঞানের অধিকারী
  • মানুষ জ্ঞান ও কৌশলের সাহায্যে প্রকৃতিতে পাওয়া বিভিন্ন উপাদানগুলোকে সম্পদে পরিণত করতে পারে এবং সেগুলোর উপযুক্ত ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে পারে।
  • মানুষ নিজে সম্পদের সৃষ্টি এবং রূপান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নতিতে সাহায্য করে।
  • ব্যক্তির কর্মদক্ষতা, কৌশল ও উৎপাদন ক্ষমতা একটি দেশের মানুষের দ্বারা সৃষ্ট সম্পদের প্রধান কারক, যা অন্য কোনো সম্পদের মধ্যে নেই

 

৩। তোমার জানা প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ কী কী? সেইগুলোর সংরক্ষণের ব্যবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

 

প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ:

  • অক্ষয় সম্পদ: বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি।
  • নবীকরণক্ষম সম্পদ: মাটি, জল, অরণ্য, বন্য জীবজন্তু।
  • অ-নবীকরণক্ষম সম্পদ: খনিজ পদার্থ, জীবাশ্ম ইন্ধন (কয়লা, খনিজ তেল)।

সংরক্ষণের ব্যবস্থা:

  • জল: বৃষ্টির জল জমা করে এবং ঘরোয়া ও ঔদ্যোগিক ক্ষেত্রে জল ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া।
  • শক্তি: সৌরশক্তি, পরমাণুশক্তি ইত্যাদি বৈকল্পিক শক্তির ব্যবহার করা।
  • ভূমি (মাটি): প্রাকৃতিকভাবে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করা এবং ঢালু জমিতে খাঁজ কেটে ভূমির ক্ষয়রোধ করা।
  • জীবাশ্ম ইন্ধন: যতদূর সম্ভব কম পরিমাণে জীবাশ্ম ইন্ধন ব্যবহার করা।

 

৪। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বলতে কী বোঝো? দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রয়োজন কেন লেখো।

উত্তরঃ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন হলো বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয়ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয়তা পূরণের ব্যবস্থা।

প্রয়োজনীয়তা:

  • দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রয়োজন কারণ প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের অত্যধিক ব্যবহার হচ্ছে।
  • এই অত্যধিক ব্যবহার ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সাংঘাতিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
  • ভবিষ্যতেও যাতে এই সীমিত সম্পদরাজির ব্যবহার করা যায়, তার জন্য সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

৫। পার্থক্য লেখো

 

(ক) নবীকরণক্ষম সম্পদ এবং অ-নবীকরণক্ষম সম্পদ

নবীকরণক্ষম সম্পদ (Renewable Resource) অ-নবীকরণক্ষম সম্পদ (Non-Renewable Resource)
প্রকৃতি এটিকে নবীকরণ করতে থাকে বলে এই সম্পদ সবসময় ব্যবহার করা গেলেও শেষ হয় না।

একবার আহরণ করে ব্যবহার করার পর এই সম্পদ পুনরায় সৃষ্টি হয় না

উদাহরণ: মাটি, জল, বায়ু, অরণ্য।

উদাহরণ: খনিজ পদার্থ, জীবাশ্ম ইন্ধন (কয়লা, খনিজ তেল)।

(খ) সর্বব্যাপী সম্পদ এবং স্থানভিত্তিক সম্পদ

সর্বব্যাপী সম্পদ (Ubiquitous Resource) স্থানভিত্তিক সম্পদ (Localized Resource)
সাধারণত সব জায়গায় পাওয়া যায়

সব স্থানে পাওয়া যায় না, একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ এবং অবস্থায় পাওয়া যায়।

উদাহরণ: আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহৃত বায়ু

উদাহরণ: আকরিক লৌহ, কয়লা, তামা।

(গ) প্রকৃত সম্পদ এবং সম্ভাবনাপূর্ণ সম্পদ

প্রকৃত সম্পদ (Actual Resource) সম্ভাবনাপূর্ণ সম্পদ (Potential Resource)
মানুষ সদ্ব্যবহার করে এবং কাজে লাগিয়ে প্রকৃতি থেকে ইতিমধ্যে যেসব সম্পদ আহরণ করেছে।

যেসব সম্পদ ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সাহায্য করার সম্ভাবনা বেশি এবং বর্তমানে এর ব্যবহার সেরকম সম্ভাবনার আভাস দেয়।

এই ধরনের সম্পদ মজুত থাকার পরিমাণ অনুমান করা যায়

এই শ্রেণির সম্পদ মজুত থাকার পরিমাণ নিশ্চিত করে জানা সম্ভব না-ও হতে পারে

উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

উদাহরণ: ব্রহ্মপুত্র নদীর জলবিদ্যুৎ শক্তি, বনৌষধি উদ্ভিদ।

 

৬। শুদ্ধ উত্তরটিতে () চিহ্ন দাও:

 

প্রশ্ন শুদ্ধ উত্তর
(ক) সম্পদ হতে হলে নীচের কোন্টির প্রয়োজন হয় না? (i) পরিমাণ () (ii) প্রয়োজন পূরণে সমর্থ সামগ্রী (iii) ব্যবহারের জন্য উপযোগী
(খ) নীচের কোন্টি মানবসৃষ্ট সম্পদ নয়? (i) পাহাড়-পর্বত () (ii) বাসগৃহ (iii) জলবিদ্যুৎ

 

৭। তোমার বাসস্থানের চারদিকে অবস্থিত প্রাণী এবং উদ্ভিদের তালিকা প্রস্তুত করো এবং সেগুলো কেন সংরক্ষণের প্রয়োজন তা লেখো।

 

(এটি একটি ব্যক্তিগত এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রশ্ন। উদাহরণস্বরূপ উত্তর দেওয়া হলো।)

বাসস্থানের চারপাশের প্রাণী ও উদ্ভিদের তালিকা (উদাহরণ)

উপাদান নাম (উদাহরণ)
উদ্ভিদ আম গাছ, বাঁশ ঝাড়, সরষে গাছ, তুলসী গাছ
প্রাণী পাখি (কাক, চড়ুই), গরু, ছাগল, কেঁচো, প্রজাপতি

সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:

এই স্থানীয় প্রাণী ও উদ্ভিদগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজন কারণ:

  •  

    পরিবেশের ভারসাম্য: তারা পরিস্থিতিতন্ত্রের (Ecosystem) একটি অংশ এবং খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে সাহায্য করে । যেমন, কেঁচো মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

  •  

    মানব সম্পদ হিসেবে গুরুত্ব: বাঁশ ও আম গাছ অর্থনৈতিক সম্পদ এবং ফলমূল খাদ্যের যোগান দেয়। তুলসী গাছ হলো বনৌষধি সম্পদ

  • জীববৈচিত্র্য: এগুলি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, যা পরিবেশের স্থিতিশীলতা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  •  

    ভবিষ্যৎ প্রয়োজন: সম্পদগুলোর সদ্ব্যবহার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়


 

৮। নীচের তালিকাটির সাহায্যে স্থানীয় সম্পদের সংরক্ষণের পরিকল্পনা করি এসো:

 

(এটি একটি প্রকল্প ভিত্তিক কাজ, যা স্থানীয় তথ্য ও আলোচনা সাপেক্ষে পূর্ণ করতে হবে। নিচে উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হলো।)

সম্পদের উপাদানসমূহ কীভাবে সংরক্ষণ করব? কার সাহায্য বা সহযোগিতা নিয়ে করব? কী কাজে আসবে?
সর্বজনীন পুকুর, বিল, জলাশয় ইত্যাদি জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা, পানা পরিষ্কার করা, মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা। স্থানীয় যুব সমাজ, পঞ্চায়েত, মীন বিভাগ। জলসেচ, মীনপালন, ভূ-গর্ভের জল বৃদ্ধি, পর্যটন।
ঐতিহ্যমূলক স্থান (নাম উল্লেখ করবে) স্থানটির নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখা, জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, জ্ঞান আহরণ, পর্যটন।
কাছের পাহাড়, নদী পাহাড়ের মাটি কাটা ও নদীর পাড় ভাঙন রোধে বৃক্ষরোপণ করা। বন বিভাগ, স্থানীয় কৃষিজীবী, নদী পারের অধিবাসী। ভূমির ক্ষয়রোধ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, বনজ সম্পদ বৃদ্ধি।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। পিতা-মাতা, সমাজসেবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি, কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিকাশ।
সৃষ্টিশীল কাজ-কর্ম (কাজ-কর্মের উল্লেখ করবে) বাঁশ-বেতের হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ও বাজার তৈরি করা। ক্ষুদ্র উদ্যোগ বিভাগ, কারিগরি প্রশিক্ষক, মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। মানব সম্পদের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, আর্থিক মূল্য আহরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *