মালেগড় , Chapter -15,Class-7, SEBA 

মালেগড় , Chapter -15,Class-7, SEBA

পাঠ-১৫: মালেগড়
– অসিত চক্রবর্তী
ক- পাঠভিত্তিক
৩। উত্তর বলো:
ক) মালেগড় কবিতাটির রচয়িতা কে?
উত্তর: মালেগড় কবিতাটির রচয়িতা হলেন অসিত চক্রবর্তী। 
খ) কারা বাইরে ভারী বুটে হেঁটেছিলেন?
উত্তর: বাইরে বিদ্রোহী সিপাহি ও ব্রিটিশ সেনারা ভারী বুট পরে হাঁটছিলেন (কবিতার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী যুদ্ধের সময় সৈন্যদের হাঁটার শব্দ বোঝানো হয়েছে)। 
গ) বিদ্রোহী সিপাহির সঙ্গে ব্রিটিশ সৈন্যের কোথায় যুদ্ধ হয়েছিল?
উত্তর: বিদ্রোহী সিপাহির সঙ্গে ব্রিটিশ সৈন্যের যুদ্ধ হয়েছিল করিমগঞ্জ জেলার লাতুগ্রামের কাছে অবস্থিত ‘মালেগড়’ নামক একটি টিলায়। 
ঘ) কবিতাটিতে কারা মৃত্যুকে ভয় করে না বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটিতে বাকি বিদ্রোহী সিপাহিদের কথা বলা হয়েছে, যারা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে বা ভয় না পেয়ে মণিপুরের দিকে ছুটে গিয়েছিল। 
৪। উত্তর লেখো:
(ক) বিদ্রোহী সিপাহি ঘুরে হাট, ধপাধপ্ লাগে কপাট – এখানে কপাট লাগানোর কারণ কী বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: লাতু বাজারে বিদ্রোহী সিপাহিদের আনাগোনা এবং যুদ্ধের উত্তেজনায় সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল। বাইরে ভারী বুটের শব্দ এবং যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে লাতুবাসী তাদের দোকানপাট ও ঘরবাড়ির দরজা বা কপাট ধপাধপ্ বন্ধ করে দিচ্ছিল। 
(খ) ‘তারপর যা ইতিহাস’ – এখানে কোন ইতিহাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? সেই ইতিহাসটি কি?
উত্তর: এখানে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় মালেগড় টিলায় সংঘটিত যুদ্ধের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই ইতিহাসটি হলো— মালেগড় টিলায় ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহী সিপাহিদের তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মেজর বিং সহ ছয়জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হন এবং ২৬ জন বিদ্রোহী সিপাহি শহিদ হন। 
(গ) কবি কাদের ‘ফুল দিয়ে মালা দিয়ে’ প্রণাম করতে চান? এবং কেন?
উত্তর: কবি মালেগড় টিলায় যে সব বিদ্রোহী সিপাহি দেশের জন্য যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নিজেদের নাম ইতিহাসে লিখে গেছেন, তাঁদের ফুল দিয়ে ও মালা দিয়ে প্রণাম করতে চান।
কারণ, তাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন বা শহিদ হয়েছেন। 
(ঘ) ‘মালেগড় আজ গর্ব’ – কবির মালেগড়কে নিয়ে গর্ব করার কারণ কী?
উত্তর: মালেগড় টিলায় ১৮৫৭ সালে সিপাহিরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেছিল। তাদের এই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সাক্ষী হয়ে আছে মালেগড়, তাই এটি কবির কাছে তথা আমাদের সকলের কাছে গর্বের স্থান। 
৫। কবিতাটির মূল বক্তব্য গদ্যে প্রকাশ করো।
উত্তর: ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ঢেউ অসমের বরাক উপত্যকাতেও এসে লাগে। করিমগঞ্জের লাতু এলাকার মালেগড় টিলায় ব্রিটিশ সেনাদের সাথে বিদ্রোহী সিপাহিদের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধের আতঙ্কে লাতু বাজারের মানুষজন ভীত হয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধে মেজর বিং সহ ইংরেজ সৈন্যরা নিহত হয়, অন্যদিকে ২৬ জন বীর সিপাহি শহিদ হন। অবশিষ্ট সিপাহিরা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মণিপুরের দিকে অগ্রসর হয়। মালেগড়ের মাটিতে মিশে থাকা শহিদদের এই রক্ত ও আত্মত্যাগ আমাদের গর্বের বিষয়। কবি সেই বীর শহিদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন।
৬। ‘ক’ অংশের শব্দগুলো ‘খ’ অংশের অর্থের সঙ্গে মেলাও-
কপাট – দরজা 
বিদ্রোহী – যে বিদ্রোহ করে 
আত্মোৎসর্গ – আত্মবলিদান 
বনবাদাড় – বনজঙ্গল/ঝোপ-জঙ্গল 
মেজর – সেনানীর পদবিশেষ 
উল্লাস – আনন্দ 
গর্ব – অহংকার 
সিপাহি – সৈন্য 
এলার্ট – সতর্ক 
৭। নীচের শূন্যস্থানগুলো পূর্ণ করো-
তারপর যা ইতিহাস
মেজর নিয়ে ছয়টি লাশ,
বিদ্রোহী সিপাহির উল্লাস
লাতুবাসী রুদ্ধশ্বাস। 
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
৮। উদাহরণের মতো বিশেষ্য থেকে বিশেষণ পদে পরিবর্তন করো।
ইতিহাস – ঐতিহাসিক
স্বদেশ – স্বদেশি
দেশপ্রেম – দেশপ্রেমিক
ঘর – ঘরোয়া
পরদেশ – পরদেশি
রক্ত – রক্তিম/রক্তাক্ত
বিদ্রোহ – বিদ্রোহী
বিদেশ – বিদেশি
সেনা – সৈনিক/সামরিক
পাহাড় – পাহাড়ি
 
৯। তোমরা পাঠে ‘আপন’ (নিজ) শব্দটি পেয়েছ, সেটির সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ হচ্ছে ‘আপন’ (দোকান) তোমরা সেরকম আরও পাঁচজোড়া শব্দ ভেবে লেখো।
উত্তর:
১. কুল (বংশ) – কূল (নদীর তীর)
২. নীর (জল) – নীড় (পাখির বাসা)
৩. দিনা (দিবস) – দীনা (দরিদ্র নারী)
৪. শব (মৃতদেহ) – সব (সকল)
৫. আশ (প্রত্যাশা/ভরসা) – আঁশ (মাছের আঁশ) 
১০। পাঠ থেকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ খুঁজে বের করে লেখো।
উত্তর: ধপাধপ্, চুপচাপ। 
১১। হাট শব্দের বিভিন্ন প্রয়োগে বাক্য রচনা করো।
হাট-বার (সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনের বাজার): রবিবার আমাদের গ্রামের হাট-বার।
হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা প্রকাশ): চোর ধরা পড়ার পর পুলিশ সবার সামনে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিল।
চাঁদের হাট (জ্ঞানী গুণীজনের বা সুন্দর মানুষের সমাবেশ): আজকের অনুষ্ঠানে যেন চাঁদের হাট বসেছে।
হাট খোলা (পুরোপুরি খোলা): লোকটি খুব হাট খোলা স্বভাবের, কোনো কিছু লুকিয়ে রাখে না। 
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ
১৩। দলে আলোচনা করে বলো।
(ক) ‘বনবাদাড়’ সংরক্ষণ কীভাবে করবে?
উত্তর: নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে। বনের পশুপাখি যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে আইন করে বনভূমি রক্ষা করতে হবে।
(খ) বন-জঙ্গল কাটার ফলে আমাদের কী কী অসুবিধা হতে পারে?
উত্তর: বন-জঙ্গল কাটার ফলে পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেবে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। বন্যা ও খরা দেখা দিতে পারে। বন্য প্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারাবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
ঘ- প্রকল্প
১৫। তোমাদের আশ-পাশে খাল বিল ভরাট করে, পাহাড় কেটে মানুষেরা ঘর-বাড়ি তৈরি করার ফলে বর্তমানে কী কী অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।
উত্তর: বর্তমানে মানুষেরা নিজেদের প্রয়োজনে নির্বিচারে খাল-বিল ভরাট করছে এবং পাহাড় কাটছে। এর ফলে বৃষ্টির জল সরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা বা কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড় কাটার ফলে ভূমিস্খলনের ঘটনা বাড়ছে, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এছাড়া খাল-বিল ভরাট করার ফলে অনেক জলজ প্রাণী ও মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিবেশের এই অবক্ষয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *