ভারত – পরিচয় এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, Ch -5, Class -6,

Next Chapter 

ভারত – পরিচয় এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, Chapter -5, Class -6, SEBA, New Syllabus

ভারত – পরিচয় এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, Chapter -5, Class -6, SEBA, New Syllabus

অনুশীলনী – ১ (পৃষ্ঠা ৪১)
১। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো-
* (ক) ভারতের মোট মাটিকালি কত?
  Ans. ভারতের মাটিকালি (Surface Area) ৩২,৮৭,৭৮২ বর্গ কিলোমিটার।
* (খ) ভারত এবং শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করা প্রণালিটির নাম কী?
Ans.  মান্নার উপসাগর ও পক্ প্রণালি শ্রীলঙ্কাকে ভারত থেকে পৃথক করেছে।
* (গ) ভারতবর্ষের মাঝখানে অবস্থিত পর্বতটির নাম কী?
  Ans. সাধারণত দেশটির প্রায় মাঝখানে অবস্থিত বিন্ধ্য পর্বতকে উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের সীমা বলে ধরা হয়।
* (ঘ) উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের সীমানা কী?
Ans.  সাধারণত দেশটির প্রায় মাঝখানে অবস্থিত বিন্ধ্য পর্বতকে উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের সীমা বলে ধরা হয়।
* (ঙ) একটি দেশের চারিসীমা বলতে কী বোঝ?
Ans.  কোনো দেশের চারদিকে অর্থাৎ দেশটির রাজনৈতিক সীমানায় অবস্থিত দেশ বা সাগর-মহাসাগর অথবা পর্বত-পাহাড় ইত্যাদি ভূ-প্রকৃতিগুলোর নাম উল্লেখ করে দেশটির চারসীমা প্রকাশ করা হয়।
২। ভারতের চারিসীমা লেখো।
Ans.ভারতের উত্তর সীমায় আছে চীন, নেপাল এবং ভুটান। উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। পূর্বদিকে আছে বাংলাদেশ ও মায়ানমার, সঙ্গে বঙ্গোপসাগর। দক্ষিণ দিকে আছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও ভারত মহাসাগর। ভারতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত আরব সাগর।
অনুশীলনী – ২ (পৃষ্ঠা ৪৭-৪৮)
১। নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো-
* (ক) ভারতের সীমার প্রাচীর কী?
   Ans.হিমালয় পর্বতকে ভারতের সীমান্তের প্রাচীর বলা হয়।
* (খ) ভারতের দুটি বন্দর-নগরের নাম লেখো।
   Ans.ভারতের দুটি বন্দর-নগরের নাম হল মুম্বাই এবং চেন্নাই। (গোয়াও একটি বন্দর-নগর)
* (গ) ভারতের উপকুলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী লোকদের প্রধান বৃত্তি কী?
  Ans. উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রধান বৃত্তি সাগরের মাছ ধরা। (কিছু স্থানে ধান চাষও করা হয়)
* (ঘ) জারোয়ারা কোথায় বসবাস করে?
Ans.  জারোয়া জনগোষ্ঠীয় মানুষেরা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাস করে।
২। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো –
* (ক) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল
Ans.  উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল হিমালয় পর্বতমালা এবং তার সংলগ্ন ছোটো-বড়ো পাহাড়-পর্বত নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চল কাশ্মীর থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। হিমালয় পর্বতকে উচ্চতা অনুসারে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়- উচ্চ হিমালয়, নিম্ন হিমালয় ও বহিঃ হিমালয়। পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চ হিমালয়ের অন্তর্গত। নিম্ন হিমালয়ে জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্রগুলি অবস্থিত। বহিঃ হিমালয়ের উপত্যকাগুলোকে “ডুন” বলা হয়। এই পার্বত্য অঞ্চল ভারতের জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে, মৌসুমি বাতাসকে বাধা দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং শীতল বাতাস থেকে রক্ষা করে। গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্রের মতো প্রধান নদীগুলোর উৎস এখানেই। এই অঞ্চল বনজ সম্পদ, পর্যটন উদ্যোগ ও খনিজ সম্পদেও সমৃদ্ধ।
* (খ) উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল
  Ans. হিমালয়ের পাদদেশ এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমির মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ২৪০০ কি.মি. দৈর্ঘ্য ও ৯৫০ থেকে ৩০০ কি.মি. প্রস্থের সমতল অঞ্চলটিকে উত্তরের সমভূমি অঞ্চল বলা হয়। এটি প্রধানত সিন্ধু, গঙ্গা, যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র ও এদের উপনদীগুলোর পলিমাটি দিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলটি পঞ্জাব, হারিয়ানা, উত্তর-প্রদেশ, দিল্লি, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম পর্যন্ত বিস্তৃত। পলি মাটি দিয়ে গঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর এবং কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে গম, ধান, আখ, পাট এবং বিভিন্ন তৈলবীজ চাষ করা হয়। এই উর্বরতার জন্যই এটি দেশের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
* (গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চল
  Ans. গঙ্গা সমভূমির দক্ষিণে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত ত্রিভূজাকৃতি ভূ-ভাগকেই দাক্ষিণাত্য মালভূমি বলা হয়। তিনদিক সাগর-মহাসাগরে বেষ্টিত হওয়ায় একে দ্বীপ মালভূমি-ও বলা হয়। নর্মদা নদী এই অঞ্চলকে দাক্ষিণাত্য মালভূমি এবং মধ্যভারতের উচ্চভূমি—এই দু-ভাগে বিভক্ত করেছে। এর উত্তর অংশে আরাবলি, বিন্ধ্য, সাতপুরা, মহাদেব, মহাকাল ও রাজমহল পাহাড় অবস্থিত। গোদাবরী, কাবেরী, তুঙ্গভদ্রা এবং কৃষ্ণা এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য নদী। এই অঞ্চল তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাডু এবং মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ছোটোনাগপুর মালভূমিতে প্রচুর লৌহ-আকর এবং কয়লা পাওয়া যায়। আগ্নেয়গিরির লাভা দিয়ে গঠিত কালো মাটি কার্পাস চাষের জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চলে হুন্দ্রু, জগ ইত্যাদির মত বিখ্যাত জলপ্রপাতও রয়েছে।
* (ঘ) উপকুলীয় নিম্নভূমি অঞ্চল
Ans.  ভারতের উপকূলীয় নিম্নভূমি অঞ্চলের পূর্বদিকে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতের সঙ্গে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর রয়েছে। এই উপকূল অঞ্চলটি যথেষ্ট লম্বা। এর বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন- ওড়িশার উৎকল উপকূল, কেরালার মালাবার উপকূল ইত্যাদি। পূর্ব উপকূলটি তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত এবং পশ্চিম উপকূলটি সংকীর্ণ। মুম্বাই, গোয়া, চেন্নাই ইত্যাদি বন্দর-নগর এখানেই গড়ে উঠেছে। এই বন্দরগুলো দিয়েই ভারতের অধিকাংশ বহির্বাণিজ্য সম্পাদিত হয়। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রধান বৃত্তি মাছ ধরা, যদিও কিছু স্থানে ধান চাষও হয়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *