ভারতীয় সংবিধান, ইতিহাস, Class -8, SEBA

ভারতীয় সংবিধান এর ভিতরের এবং অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর

এখানে ভারতীয় সংবিধান এর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।
পৃষ্ঠা ৯৭-এর প্রশ্ন ও উত্তর

(ক) ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা ইংরেজদের দখলে কবে গিয়েছিল?
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহের পর, ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে ভারতবর্ষের শাসনভার ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে নিজেদের প্রত্যক্ষ অধীনে নিয়ে আসে।
(খ) ব্রিটিশ সরকার কত খ্রিস্টাব্দে ‘ভারত পরিষদ আইন’ গ্রহণ করে?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারত পরিষদ আইন’ (Indian Councils Act) প্রণয়ন করে।
(গ) মহাত্মা গান্ধি কখন একটি নিজস্ব সংবিধানের দাবী তুলেছিলেন?
উত্তর: মহাত্মা গান্ধি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষের জন্য ভারতীয়দের দ্বারা রচিত একটি নিজস্ব সংবিধানের দাবী তুলেছিলেন।
(ঘ) সংবিধান সভার সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: সংবিধান সভার সভাপতি ছিলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ।
(ঙ) সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ডঃ বি আর আম্বেদকর।
(চ) কোন দেশের সংবিধানের ভিত্তিতে আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় নির্দেশাত্মক নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: আয়ারল্যান্ডের সংবিধানের ভিত্তিতে আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় নির্দেশাত্মক নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পৃষ্ঠা ৯৯-এর ক্রিয়াকলাপ
প্রশ্ন: ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভাবধারা আমাদের সমাজে না থাকলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা দলগতভাবে আলোচনা করে লেখো।
উত্তর: ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভাবধারা আমাদের সমাজে না থাকলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।
* ন্যায় না থাকলে: সমাজে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে। ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য বাড়বে এবং সকল নাগরিক সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
* স্বাধীনতা না থাকলে: নাগরিকরা নিজেদের চিন্তা, মত প্রকাশ, বিশ্বাস এবং ধর্ম পালনের অধিকার হারাবে। এর ফলে তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
* সমতা না থাকলে: জাতি, ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হবে। আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে না এবং সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা দেবে।
* ভ্রাতৃত্ববোধ না থাকলে: দেশের বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি থাকবে না। একে অপরের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতার অভাব দেখা দেবে, যা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে দেবে।
অনুশীলনী (পৃষ্ঠা ১০২-১০৩)
১। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও-
(ক) ভারতীয় সংবিধানটি রচনা করতে কতদিন সময় লেগেছিল?
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানটি রচনা করতে মোট ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন সময় লেগেছিল।
(খ) কত খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় সংবিধানটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হয়?
উত্তর: ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি থেকে ভারতীয় সংবিধানটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হয়।
(গ) ভারতে সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়া কখন থেকে শুরু হয়?
উত্তর: ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে সংশোধিত ‘ভারত পরিষদ আইন’ গৃহীত হওয়ার পর থেকে ভারতে সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রবর্তন করা হয়।
(ঘ) ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ‘ভারত সরকার আইন’-এ কী ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ‘ভারত সরকার আইন’-এ প্রথমবারের মতো স্বায়ত্বশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল।
(ঙ) সংবিধানসভার খসড়া কমিটি কখন গঠন করা হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে আগস্ট সংবিধানসভার খসড়া কমিটি গঠন করা হয়।
২। শূন্য স্থান পূর্ণ কর-
(ক) ভারতীয় সংবিধানে ৩৯৫ টি অনুচ্ছেদ, ২২ টি অধ্যায়, ও ১২ টি অনুসূচি আছে।
(খ) ভারতীয় সংবিধান কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতাসমূহ তিনটি তালিকায় ভাগ করে দিয়েছে।
(গ) সংবিধানের ৪২তম সংশোধনের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবনায় সমাজবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(ঘ) সংবিধানের খসড়া কমিটিতে অসমের সদস্য ছিলেন সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা।
৩। উত্তর দাও-
(ক) ভারতীয় সংবিধানকে পৃথিবীর দীর্ঘতম সংবিধান বলা হয় কেন?
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানকে পৃথিবীর দীর্ঘতম সংবিধান বলা হয় কারণ এটি শুধু প্রশাসনের মূল নীতি নির্দেশ করে না, বরং নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া ইত্যাদি নানা বিষয় এতে লিখিত রূপে আছে। এছাড়াও, পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের সংবিধানের মূল্যবান ধারণাগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এটি দীর্ঘতম হয়েছে।
(খ) সংমিশ্রিত সংবিধান বলতে কী বোঝ?
উত্তর: সংমিশ্রিত সংবিধান বলতে এমন একটি সংবিধানকে বোঝায় যা নমনীয় এবং অনমনীয় উভয় বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ। ভারতীয় সংবিধানের কিছু বিষয়, যেমন নতুন রাজ্য গঠন বা রাজ্যের সীমা নির্ধারণ, সাধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই সংশোধন করা যায়, যা এর নমনীয় দিক। আবার, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি বা কেন্দ্র-রাজ্যের ক্ষমতা বিভাজনের মতো কিছু বিষয় সংশোধন করা বেশ কঠিন, যা এর অনমনীয় দিককে তুলে ধরে। এই দুই বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির জন্যই একে সংমিশ্রিত সংবিধান বলা হয়।
(গ) রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশাত্মক নীতির প্রধান উদ্দেশ্য সমূহ কী কী?
উত্তর: রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশাত্মক নীতির প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো ভারতবর্ষকে একটি প্রকৃত কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর মধ্যে রয়েছে:
* সকল নাগরিকের জীবন ধারণের মান উন্নত করা।
* অর্থনৈতিক সমতা স্থাপন করা।
* ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিঃশুল্ক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদান করা।
* গ্রামাঞ্চলের উন্নতি ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
* প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান ও কীর্তিস্তম্ভ সংরক্ষণ করা।
(ঘ) আমাদের সংবিধানের ‘নির্দেশাত্মক নীতি’ কোন দেশের সংবিধানের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: আমাদের সংবিধানের ‘নির্দেশাত্মক নীতি’ আয়ারল্যান্ডের সংবিধানের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৪। এক শব্দে প্রকাশ করো-
(ক) যে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমে থাকেন না – প্রজাতন্ত্র
(খ) বিদেশী শাসন থেকে যে রাষ্ট্র মুক্ত – সার্বভৌম
(গ) যে রাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই – ধর্মনিরপেক্ষ
(ঘ) যে রাষ্ট্র দেশের জনসাধারণের কল্যাণের স্বার্থে নিবেদিত – কল্যাণকামী রাষ্ট্র
৫। ‘ক’ অংশের সঙ্গে ‘খ’ অংশ মেলাও-
উত্তর:
| ‘ক’ | ‘খ’ |
| :— | :— |
| (ক) ব্রিটিশ সংবিধান থেকে | (ঙ) সংসদীয় গণতন্ত্র |
| (খ) কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান থেকে | (গ) যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা |
| (গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান থেকে | (ঘ) মৌলিক অধিকার |
| (ঘ) ফরাসি সংবিধান থেকে | (ক) স্বতন্ত্রতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ববোধ |
| (ঙ) আয়ারল্যান্ডের সংবিধান থেকে | (খ) রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতি |
(তথ্যসূত্র: পৃষ্ঠা ৯৭-এর সারণি)
৬। ভারতীয় সংবিধানের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নেয়। এরপর ব্রিটিশরা বিভিন্ন আইন, যেমন ১৮৬১ ও ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইন, প্রণয়ন করে। ১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধি প্রথম ভারতীয়দের জন্য নিজস্ব সংবিধানের দাবি তোলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দাবির মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪০ সালের ‘আগস্ট প্রস্তাবে’ এই দাবি মেনে নেয়। এর ফলস্বরূপ, ১৯৪৬ সালে ‘কেবিনেট মিশন’ এর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতের সংবিধান সভা গঠিত হয়।
৭। সংবিধান প্রণয়নে অসমের ভূমিকা কী ছিল লেখো।
উত্তর: ভারতীয় সংবিধান প্রণয়নে অসমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অসম থেকে সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা, গোপীনাথ বরদলৈ, ধরণীধর বসুমাতারি প্রমুখ ব্যক্তিরা অবদান রাখেন। সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা সংবিধানের খসড়া কমিটির সদস্য ছিলেন। গোপীনাথ বরদলৈ সংখ্যালঘু উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসেবে উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতীয় অঞ্চলগুলোর জন্য স্বায়ত্তশাসনের বিধান সংবলিত ষষ্ঠ অনুসূচি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৮। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত মূল আদর্শ সমূহ বর্ণনা করো।
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত মূল আদর্শগুলো হলো:
* সার্বভৌম: ভারত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
* সমাজতান্ত্রিক: রাষ্ট্রের সম্পদ যাতে মুষ্টিমেয় লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয় এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়, রাষ্ট্র সেই ব্যবস্থা করবে।
* ধর্মনিরপেক্ষ: রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করে না এবং সব ধর্মের মানুষ সমান স্বাধীনতা ভোগ করে।
* গণতান্ত্রিক: দেশের সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
* প্রজাতন্ত্র: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী বংশানুক্রমিক হন না, তিনি নির্বাচিত হন।
   এছাড়াও ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মতো মহান আদর্শের কথাও বলা হয়েছে।
৯। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো-
(ক) ড° ভীমরাও আম্বেদকর: ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর, যিনি বাবাসাহেব নামেও পরিচিত, ছিলেন ভারতীয় সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি। ভারতীয় সমাজ থেকে ‘অস্পৃশ্যতা’ দূর করে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সংবিধানে মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি নারীশিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।
(খ) ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ: ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন ভারতের সংবিধান সভার সভাপতি। তাঁর সভাপতিত্বেই সংবিধানটি গৃহীত হয় এবং তিনি খসড়া সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
(গ) সংসদীয় সরকার: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের নামমাত্র প্রধান। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। এই মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে। ভারতের সংবিধানে এই ধরনের সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১০। প্রকল্প:
উত্তর: এটি একটি শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম যা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা সম্পন্ন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *