
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের জীবন, Chapter -11, class -6, SEBA, New Book
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারত এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের জীবন, Chapter -11, class -6, SEBA, New Book
অনুশীলনী – ১ (পৃষ্ঠা ৯৭)
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও-
* (ক) বৈচিত্র্য মানে কী?
Ans.একটি সমাজে বা দেশে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষার লোক বসবাস করেন। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-ব্যবহার, উৎসব-পার্বণ ইত্যাদি রয়েছে। মানুষের মধ্যে বিদ্যমান এই ভিন্নতাগুলোকেই বৈচিত্র্য বলা যেতে পারে।
* (খ) ঐক্য মানে কী?
Ans. ঐক্য বলতে একজনের অস্তিত্বকে ধ্বংস না করে প্রত্যেকের পরিচয় বজায় রেখে একসঙ্গে বসবাসকে বোঝায়।
* (গ) বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বলতে কী বোঝ?
Ans.বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য হল যখন বিভিন্ন মানুষ তাদের মতভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে একত্রিত হয়। যেমন, ভারতের বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষার মানুষ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছে।
২। ভারতের বৈচিত্র্যের অন্তরালের কারণগুলো উল্লেখ করো।
Ans. ভারতের বৈচিত্র্যের অন্তরালে প্রধান কারণগুলি হল:
* ভৌগোলিক ভিন্নতা: উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে মহাসাগর, পূর্বে অতিবৃষ্টি অঞ্চল এবং পশ্চিমে মরুভূমি—এই বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের খাদ্যাভ্যাস, সাজসজ্জা ইত্যাদিতে ভিন্নতা এনেছে।
* গোষ্ঠীগত ভিন্নতা: ভারতে ককেশীয়, অস্ট্রিক, মঙ্গোলীয় এবং নেগ্রিটোর মতো বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোক বসবাস করেন, যাদের শারীরিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়।
* ধর্মীয় ভিন্নতা: হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ ধর্মের জন্মস্থান ভারতে হওয়া ছাড়াও ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি ইত্যাদি নানা ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন।
* ভাষাগত ভিন্নতা: ভারতে সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ২২টি ভাষা সহ মোট ১২১টি ভাষা প্রচলিত আছে। এছাড়াও খাদ্যভ্যাস, রন্ধন প্রণালি, উৎসব-পার্বণ, সাজসজ্জা, পরম্পরা, গৃহ নির্মাণ শৈলী, জাতি, বর্ণ ইত্যাদির ভিত্তিতেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।
৩। ভারতের ভৌগোলিক বিভিন্নতার উদাহরণ দাও।
Ans. ভারতের ভৌগোলিক বিভিন্নতা অত্যন্ত স্পষ্ট। উত্তরে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে বিশাল মহাসাগর, পূর্বে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চল (মেঘালয়) এবং পশ্চিমে রয়েছে থর মরুভূমির মতো বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চল। এছাড়াও রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল, বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি ইত্যাদি। এই ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশ ভারতের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
অনুশীলনী – ২ (পৃষ্ঠা ৯৮)
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও-
* (ক) ভারতকে ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ বলা হয় কেন?
Ans. ভারত বিভিন্ন ধর্মের জন্মস্থান এবং এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি ইত্যাদি নানা ধর্মাবলম্বী মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যের ক্ষতি না করে প্রত্যেকে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রাখতে পারে, এই সহাবস্থানের জন্যই ভারতীয় সমাজকে ধর্মনিরপেক্ষতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
* (খ) মকর সংক্রান্তির সময় পালিত দুটি উৎসবের নাম লেখো।
Ans. মকর সংক্রান্তির সময় পালিত দুটি উৎসবের নাম হল অসমের মাঘ বিহু এবং তামিলনাডুর পোঙ্গল। (এছাড়াও গুজরাটে উত্তরায়ণ এবং পঞ্জাবে লোহরি) ।
* (গ) তোমার বসবাসের অঞ্চলটিতে কোন কোন ভাষাভাষীর মানুষ রয়েছেন?
Ans. (এই প্রশ্নের উত্তর স্থানভেদে ভিন্ন হবে। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী উত্তর দেবে। উদাহরণস্বরূপ, অসমে অসমীয়া, বাংলা, হিন্দি, বোড়ো, সিলেটি ইত্যাদি নানা ভাষাভাষীর মানুষ থাকতে পারেন।)
২। উৎসব-পার্বণের ক্ষেত্রে ভারতে কী ধরনের সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়?
Ans.ভারতে ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও বেশিরভাগ উৎসবই কৃষিভিত্তিক। যেহেতু দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি এবং এটি মূলত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল, তাই অঞ্চলভেদে ভিন্নতা থাকলেও চাষ পদ্ধতিতে এবং সংশ্লিষ্ট লোকউৎসবের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের মধ্যে মিল দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, মকর সংক্রান্তির সময় ফসল কাটা ও শীতের আগমন উপলক্ষে ভারতের প্রায় সমস্ত অঞ্চলে উৎসব পালিত হয়, যেমন – অসমের মাঘ বিহু, তামিলনাডুর পোঙ্গল, গুজরাটে উত্তরায়ণ এবং পঞ্জাবে লোহরি। এই উৎসবগুলোর উদযাপনের পদ্ধতি এবং পরিবেশিত খাদ্যের মধ্যেও যথেষ্ট মিল লক্ষ্য করা যায়। এই সাদৃশ্যগুলোই বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করতে সাহায্য করে।
