বঙ্গ ভঙ্গ, Chapter -1
বঙ্গ ভঙ্গ
অনুশীলনী (Anushiloni) – প্রশ্ন ও উত্তর
—
অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও (Answer very briefly)
১। বঙ্গ বিভাজন কোন ভাইসরয়ের শাসনকালে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: বঙ্গ বিভাজন ভাইসরয় লর্ড নাথানিয়েল কার্জনের (Lord Nathaniel Curzon) শাসনকালে সংঘটিত হয়েছিল।
২। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের কোন তারিখে বঙ্গ বিভাজন কার্য সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর তারিখে বঙ্গ বিভাজন কার্য সংঘটিত হয়েছিল।
৩। বিদেশী পণ্য বর্জনের প্রস্তাব কোন সভায় গৃহীত হয়েছিল?
উত্তর: বিদেশী পণ্য বর্জনের প্রস্তাব কলকাতার কাসিম বাজারের টাউন হলে ৭ আগস্ট (১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে) অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় গৃহীত হয়েছিল।
৪। স্বদেশী আন্দোলনের সময় ‘যুগান্তর’ নামক সংবাদপত্র কে সম্পাদনা করেছিলেন?
উত্তর: স্বদেশী আন্দোলনের সময় ‘যুগান্তর’ নামক সংবাদপত্র ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদনা করেছিলেন।
৫। বঙ্গদেশে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ নামক অনুষ্ঠান কখন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: বঙ্গদেশে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ নামক অনুষ্ঠান ১১ মার্চ (১৯০৬) তারিখে গঠিত হয়েছিল।
৬। ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ নামক শিল্প-প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
উত্তর: ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ নামক শিল্প-প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
৭। কার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারতীয়দের জন্য ‘স্বরাজ’ দাবি করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল?
উত্তর: দাদাভাই নৌরজির পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত কলকাতা অধিবেশনে (১৯০৬) ভারতীয়দের জন্য ‘স্বরাজ’ দাবি করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল।
৮। বঙ্গদেশকে কখন একীকৃত করা হয়েছিল?
উত্তর: বঙ্গদেশকে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর তারিখে (দিল্লিতে অনুষ্ঠিত রাজ অভিষেক অনুষ্ঠানে কৃত ঘোষণা মর্মে) একীকৃত করা হয়েছিল।
—
সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (Answer briefly)
১। বঙ্গ বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হওয়া ‘পূর্ববঙ্গ ও অসম’ নামক প্রদেশটির সঙ্গে সংলগ্ন বঙ্গদেশের প্রধান তিনটি ভৌগোলিক অঞ্চল উল্লেখ করো।
উত্তর:
ঢাকা
চট্টগ্রাম
রাজশাহী প্রশাসনিক অঞ্চল
২। বঙ্গ বিভাজনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
ঐক্যবদ্ধ বঙ্গশক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করা।
জাতীয়তাবাদের বিকাশ রোধ করা।
হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করা।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে শক্তিশালী করা।
৩। বঙ্গ বিভাজন বিরোধী আন্দোলন কেন ‘স্বদেশী আন্দোলন’ নামে পরিচিত হল?
উত্তর:
বিদেশী পণ্য বর্জন এবং স্বদেশী পণ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
দেশীয় শিল্প ও আত্মনির্ভরতার প্রচার করা হয়েছিল।
তাই এই আন্দোলনটির নাম হয় ‘স্বদেশী আন্দোলন’।
৪। স্বদেশী আন্দোলন জাতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছে সে বিষয়ে আলোচনা করো।
উত্তর:
সরকারি শিক্ষানুষ্ঠান বর্জন ও ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ গঠন।
জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা — যেমন ‘বঙ্গ জাতীয় বিদ্যালয়’ ও ‘রংপুর জাতীয় বিদ্যালয়’।
‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠন (১১ মার্চ, ১৯০৬)।
‘বঙ্গ জাতীয় মহাবিদ্যালয়’ (১৫ আগস্ট, ১৯০৬) প্রতিষ্ঠা।
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (পরবর্তীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা।
৫। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের বিকাশ কীভাবে সম্ভবপর হয়েছিল?
উত্তর:
বিদেশী পণ্য বর্জনের ফলে স্বদেশী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
সূতাকাটা কল, তাঁত শিল্প, সাবান, তেল, বিস্কুট ইত্যাদি শিল্প স্থাপিত হয়।
‘স্বদেশী ভাণ্ডার’ (১৮৯৭) ও ‘ইন্ডিয়ান স্টোরস’ (১৯০৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।
‘বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিল’ (১৯০৬) ও ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ (১৯০৬) স্থাপিত হয়।
দেশীয় শিল্পের বিকাশে আত্মশক্তি ও জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি পায়।
৬। স্বদেশী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিল?
উত্তর:
উদারপন্থী নেতাদের উপাধি ও পদ প্রদান।
ছাত্রদের জন্য কার্লাইল নোটিস জারি (১০ অক্টোবর, ১৯০৫)।
মুসলমান সমাজে বিভেদ সৃষ্টি ও নবাব সলিমউল্লাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান।
মুসলিম লিগ গঠনে সহায়তা ও পৃথক নির্বাচনের সুবিধা (মর্লে-মিন্টো সংস্কার, ১৯০৯)।
৭। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি ফলাফল উল্লেখ করো।
উত্তর:
১। জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ।
২। জাতীয় শিক্ষার বিস্তার।
৩। স্বদেশী শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশ।
৮। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি অবদান উল্লেখ করো।
উত্তর:
১। গণআন্দোলন সম্পর্কে রাজনৈতিক শিক্ষা প্রদান।
২। জাতীয় কংগ্রেসে ‘স্বরাজ’ দাবির উত্থান।
৩। নারী অংশগ্রহণ ও সশস্ত্র বিপ্লবের সূচনা।
—
সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো (Write short notes)
(১) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ঐক্য ও সম্প্রীতির আহ্বান জানান। ১৬ অক্টোবর, ১৯০৫-এ তিনি রাখিবন্ধন উৎসব পালনের আহ্বান দেন। তিনি ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘একলা চলো রে’সহ বহু দেশাত্মবোধক গান রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ জাতীয় শিক্ষার প্রচার করেন ও ‘বঙ্গ জাতীয় বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও, ১৮৯৭ সালে তিনি ‘স্বদেশী ভাণ্ডার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশীয় শিল্প ও বস্ত্র উৎপাদনের প্রচার করেন।
(২) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল (ভগিনী নিবেদিতা)
মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন (১৮৬৪–১৯১১)। তিনি নারী ও যুবকদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করেন এবং তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম ও আত্মনির্ভরতার চেতনা বৃদ্ধি করেন। কলকাতায় তিনি ইয়ংমেন্স হিন্দু ইউনিয়ন, বিবেকানন্দ সোসাইটি প্রভৃতি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি নারীস্বনির্ভরতা ও দেশীয় শিল্পের প্রসার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বঙ্গমাতা’ চিত্রকে ‘ভারত মাতা’র রূপ প্রদান করে জাতীয় চেতনার প্রসার ঘটান।
৩) নবাব সলিমউল্লা
নবাব সলিমউল্লা খান ছিলেন ঢাকার একজন প্রভাবশালী নেতা এবং বঙ্গভঙ্গ কার্যসূচির প্রধান সমর্থক। তিনি লর্ড কার্জনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা অতি নগণ্য সুদে ধার গ্রহণ করেছিলেন, যাতে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনতা সমর্থিত হয়। ১৯০৬ সালে তাঁর আহ্বানে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সভায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম লিগ’ গঠিত হয়। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমান জনগণের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করা। নবাব সলিমউল্লার নেতৃত্বে মুসলিম লিগ পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজকে সুসংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করতে সক্ষম হয়।
(৪) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরি – অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী (১৮৮৫–১৯৬৭), যিনি “আসাম কেশরী” নামে পরিচিত, ছিলেন একজন বিশিষ্ট অসমীয়া কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও ভারতীয় স্বাধীনতা-আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তিনি অসমীয় ভাষা ও সংস্কৃতির গৌরব রক্ষা এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতে রচনা ও সাংগঠনমূলক কাজে নিবেদিত ছিলেন। তিনি “চেতনা” ও “ডেকা অসম” পত্রিকা সম্পাদক করা, নাটক রচনা ও প্রকাশ এবং “অসম সংরক্ষণী সভা”, “অসম জাতীয় মহাসভা” প্রতিষ্ঠার মতো সামাজিক-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ চালানোর মাধ্যমে Assamese জনসাধারণকে সুসংহত করেন।
