পাঠ – ২: পাখি আর মানুষ, Class 5, Chapter 2, Bengali, SEBA New Book, Bengali Medium

ক – পাঠভিত্তিক (পৃষ্ঠা ১১)
উত্তর দাও।
(ক) রাজা সর্বধনুর কী শখ ছিল?
উত্তর: রাজা সর্বধনুর শখ ছিল শিকার করা।
(খ) সর্বধনু রাজার প্রিয় খাদ্য কী ছিল?
উত্তর: সর্বধনু রাজার প্রিয় খাদ্য ছিল পাখির মাংস।
(গ) গল্পটিতে মানুষের উপকারী বন্ধু কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: গল্পটিতে পাখিকেই মানুষের উপকারী বন্ধু বলা হয়েছে।
(ঘ) কার সঙ্গে মধুকরের বিয়ে হয়েছিল?
উত্তর: মধুকরের বিয়ে হয়েছিল দূরান্তরের দেশের রাজার একমাত্র সন্তান মাধবীর সঙ্গে।
কে, কাকে, কখন এবং কেন বলেছিলেন, বুঝিয়ে লেখো।
(ক) “আসলে পাখিরা কৃষকের পরম বন্ধু। তাই জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য আপনি পাখি শিকার বন্ধ করুন।”
উত্তর:
* কে কাকে: মধুকর নামে এক যুবক রাজা সর্বধনুকে এই কথা বলেছিলেন।
* কখন ও কেন: যখন রাজা তির-ধনুক দিয়ে পাখি মেরে আহার করতেন, তখন মধুকর রাজাকে এই কাজে বাধা দিয়ে কথাটি বলেন। কারণ পাখিরা শস্যখেতের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে শস্য রক্ষা করে, তাই তারা কৃষকের বন্ধু।
(খ) “এই পাখিগুলো নিয়ে আপনার দেশে ফিরে যান। এদের নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করবেন।”
উত্তর:
* কে কাকে: মধুকর (যিনি তখন অন্য দেশের রাজা) ভিখারি রাজা সর্বধনুকে এই কথা বলেছিলেন।
* কখন ও কেন: যখন রাজা সর্বধনু দুর্ভিক্ষপীড়িত হয়ে ভিক্ষা করতে করতে মধুকরের রাজ্যে এসে উপস্থিত হন, তখন মধুকর তাকে চিনে ফেলেন। পরদিন মধুকর নিজের পরিচয় দিয়ে সর্বধনুকে এক খাঁচা পাখি উপহার দেওয়ার সময় এই কথা বলেন, যাতে সর্বধনুর দেশে আবার পাখিরা ফিরে আসে এবং দেশ শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে।
কারণ বলো ও লেখো।
(ক) সর্বধনুর রাজ্যে কেন বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: সর্বধনুর রাজ্যে পাখিরা চলে যাওয়ায় পোকা-মাকড়ের সংখ্যা খুব বেড়ে যায়। তারা শস্য ও গাছের লতা-পাতা সব খেয়ে ফেলে। এর ফলে সবুজ পাতার অভাবে গাছপালা শুকিয়ে যায় এবং গাছের অভাবে রাজ্যে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
(খ) পোকা-মাকড়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে সর্বধনুর রাজ্যে কী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: পোকা-মাকড়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে তারা শস্যখেতের সব শস্য এবং গাছের সব লতা-পাতা খেয়ে শেষ করে দিল। এর ফলে গাছপালা শুকিয়ে গেল, বৃষ্টি বন্ধ হলো এবং দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।
বুঝিয়ে লেখো।
(ক) রাজা সর্বধনু ভিক্ষা করতে করতে কার রাজ্যে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন? তারপর কী হয়েছিল?
উত্তর: রাজা সর্বধনু ভিক্ষা করতে করতে মধুকরের রাজ্যে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারপর মধুকর তাঁকে দেখেই চিনতে পারেন এবং আদর-আপ্যায়ন করে রাজপ্রাসাদে অতিথির সম্মান দেন।
(খ) পশু-পাখি, গাছপালার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কী?
উত্তর: পশু-পাখি, গাছপালা এবং মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য গাছপালা (অক্সিজেন, খাদ্য) এবং পশু-পাখির (খাদ্য, পরিবেশের ভারসাম্য) ওপর নির্ভরশীল। পাখিরা ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল রক্ষা করে। গাছপালা বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে, যেমনটি রাজা সর্বধনুর রাজ্যে হয়েছিল।
(গ) সর্বধনু উপহার স্বরূপ পাখিগুলো নিজের দেশে এনে খোলা আকাশে কেন ছেড়ে দিলেন?
উত্তর: সর্বধনু তার ভুলের প্রতিফল ভোগ করছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পাখিদের হত্যা করার ফলেই তার রাজ্যে দুর্ভিক্ষ এসেছে। মধুকরের উপদেশমতো পাখিগুলোকে খোলা আকাশে ছেড়ে দিলে তবেই তারা বংশবৃদ্ধি করবে, পোকা-মাকড় খাবে এবং দেশ আবার শস্য-শ্যামল হয়ে উঠবে। তাই তিনি পাখিগুলোকে খোলা আকাশে ছেড়ে দেন।
শূন্যস্থান পূর্ণ করো।
(ক) পাখিরা কৃষকের পরম বন্ধু।
(খ) তারা শস্যখেতের সব শস্য খেয়ে ফেলল।
(গ) দেশে দেখা দিল দুর্ভিক্ষ।
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ) (পৃষ্ঠা ১৩)
লিঙ্গ পরিবর্তন করো।
* রাজা – রানী
* যুবক – যুবতী
* বন্ধু – বান্ধবী
শব্দ ভেঙে দেখাও।
* মধুকরের – মধুকর + এর
* যুবকের – যুবক + এর
* মানুষের – মানুষ + এর
* পাখিগুলোকে – পাখিগুলো + কে
* রাজাকে – রাজা + কে
* দেশে – দেশ + এ
* আকাশে – আকাশ + এ
বিপরীত শব্দ লেখো।
* প্রজা – রাজা
* সরল – জটিল
* বন্ধু – শত্রু
* উচিত – অনুচিত
* সহজ – কঠিন
* ধনী- (পাঠ্যাংশে নেই, তবে ধনী-র বিপরীত গরিব)
* আদর – অনাদর
* খোলা – বন্ধ
* মন্দ – ভালো
বাক্য রচনা করো।
* আদর-আপ্যায়ন – রাজা সর্বধনুকে মধুকর খুব আদর-আপ্যায়ন করেছিলেন।
* পোকা-মাকড় – পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে শস্য রক্ষা করে।
* লালন-পালন – মধুকর রাজাকে পাখিগুলোকে সন্তানের মতো লালন-পালন করতে বলেছিলেন।
* লতা-পাতা – পোকারা গাছের সব লতা-পাতা খেয়ে শেষ করে দিল।
* দূর-দূরান্ত – মনের দুঃখে মধুকরও একদিন চলে গেলেন দূর-দূরান্তের দেশে।
* দিগ্-বিদিক – খাবারের জন্য প্রজারা দিগ্-বিদিক ভিক্ষা করতে বেরিয়ে পড়ল।
(পৃষ্ঠা ১৪)
পাঠ থেকে বেছে নিয়ে নীচের তালিকাটিতে বিশেষ্য, বিশেষণ ও সর্বনাম পদ লেখো।
* বিশেষ্য – পাখি, রাজা, মধুকর, দেশ, শস্য, গাছ, মাধবী, দুর্ভিক্ষ।
* বিশেষণ – উপকারী, অগ্নিশর্মা, সবুজ, দুষ্কর, একমাত্র, সরল, সৎ।
* সর্বনাম – তাঁর, তিনি, আমি, আপনি, আমার, তাদের, আপনার।
এবার তোমরা টা; টি; খানি; খানা; গাছা প্রত্যয় ব্যবহার করে এক একটি শব্দ তোমার খাতায় লেখো এবং সেই শব্দগুলো দিয়ে বাক্য রচনা করো।
* টা – (ছেলেটা) – ছেলেটা খেলতে গেছে।
* টি – (পাখিটি) – পাখিটি গাছের ডালে বসে আছে।
* খানি – (চিঠিখানি) – চিঠিখানি মন দিয়ে পড়ো।
* খানা – (বইখানা) – বইখানা আমার খুব প্রিয়।
* গাছা – (লাঠিগাছা) – দাদু লাঠিগাছা হাতে নিয়ে ঘোরেন।
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ (পৃষ্ঠা ১৫)
পশু-পাখি, গাছপালার সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের কথা আলোচনা করে লেখো।
উত্তর: পশু-পাখি, গাছপালা এবং মানুষের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ খাদ্যের জন্য সরাসরি গাছপালা ও পশুর ওপর নির্ভরশীল। গাছপালা আমাদের বৃষ্টিপাত, সবুজ পাতা ও অক্সিজেন দেয়। আবার পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে মানুষের ফসল রক্ষা করে। এই গল্পে আমরা দেখি, রাজা পাখি মেরে ফেলার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পোকা-মাকড় বেড়ে গিয়ে ফসল ও গাছপালা ধ্বংস করে, যার ফলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পশু-পাখি ও গাছপালার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বলো তো?
* (ক) অতি বৃষ্টিতে হয় – বন্যা
* (খ) অনাবৃষ্টিতে হয় – খরা
* (গ) খাদ্যাভাবে হয় – দুর্ভিক্ষ
* (ঘ) যে দেশে ফসল ভালো হয়, তাকে – সুজলা বা সুফলা দেশ বলা হয়।
