তোতা কাহিনী
তোতা কাহিনী — প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ
(লেখক: সৈয়দ মুজতবা আলী)
—
১। সঠিক উত্তর বেছে নাও। (Choose the correct answer)
প্রশ্ন ক: কোরান কোন ভাষায় রচিত?
উত্তর: কোরান আরবি ভাষায় রচিত।
প্রশ্ন খ: ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটির লেখক কে?
উত্তর: ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটির লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।
প্রশ্ন গ: সদাগর কোন দেশের লোক ছিলেন?
উত্তর: সদাগর ইরান দেশের লোক ছিলেন।
—
২। শূন্যস্থান পূর্ণ করো। (Fill in the blanks)
প্রশ্ন ক: রুমী তাঁর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা __________ বর্ণনা করেছেন।
উত্তর: রুমী তাঁর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা মসনবি-তে বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন খ: সে তোতা জ্ঞানে __________, রসে __________।
উত্তর: সে তোতা জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস।
প্রশ্ন গ: ঘোড়া চুরির পর আর __________ মেরে কি লভ্য!
উত্তর: ঘোড়া চুরির পর আর আস্তাবলে তালা মেরে কি লভ্য!
—
৩। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। (Brief Answers)
প্রশ্ন ক: ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটি মৌলানা জালালউদ্দীন রুমীর রচিত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ মসনবি-এর অন্তর্গত একটি গল্প।
প্রশ্ন খ: ‘গোপীজন বল্লভ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘গোপীজন বল্লভ’ বলতে শ্রীহরি বা শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন গ: তোতার পাণ্ডিত্যকে লেখক কার সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: তোতার পাণ্ডিত্যকে লেখক ম্যাক্সম্যুলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন ঘ: তোতাটি কোন দেশের খাঁচায় বন্দী ছিল?
উত্তর: তোতাটি ইরান দেশের খাঁচায় বন্দী ছিল।
প্রশ্ন ঙ: সদাগরের দিলের দোস্ত কে?
উত্তর: সদাগরের দিলের দোস্ত ছিল ভারতীয় তোতাটি।
—
৪। চার বা পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও। (Answer in four/five sentences)
প্রশ্ন ক: মৌলানা রুমী সম্বন্ধে পারস্য দেশের গুণী-জ্ঞানীরা কী মনোভাব পোষণ করতেন?
উত্তর: পারস্য দেশের গুণী-জ্ঞানীরা মৌলানা জালালউদ্দীন রুমী সম্বন্ধে অত্যন্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। তাঁরা বলতেন, যদি আল্লা কোরানকে আরবি ভাষায় না করে ফার্সিতে প্রকাশ করতেন, তবে রুমীর মসনবি গ্রন্থই কোরান নামে পরিচিত হতো। এর থেকে বোঝা যায়, তাঁরা রুমীর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও সাহিত্যকে ঈশ্বরপ্রদত্ত বাণীর সমতুল্য মনে করতেন।
প্রশ্ন খ: সদাগর ভারতীয় তোতার বর্ণনা কীভাবে করেছেন?
উত্তর: সদাগর ভারতীয় তোতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সে জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভেলেন্টিনো এবং পাণ্ডিত্যে ম্যাক্সম্যুলারের মতো। তোতাটি ছিল অত্যন্ত রসিক, জ্ঞানী ও পণ্ডিত। সদাগর ফুরসত পেলেই তার সঙ্গে তত্ত্বালোচনা ও রসালাপ করতেন।
প্রশ্ন গ: সদাগরের প্রশ্নে তোতা হিন্দুস্তান থেকে কোন উপহার আনার কথা জানিয়েছিল?
উত্তর: সদাগরের প্রশ্নে তোতা জানিয়েছিল, তার জাতভাইদের থেকে বন্দিদশা থেকে মুক্তির উপায় জেনে আসাই হবে তার উপহার। সে বলে, “খাঁচায় বন্দি চিড়িয়া মুক্তি চায় না এমন নেই।” তাই এই সওগাত চাওয়া অন্যায় নয়।
প্রশ্ন ঘ: ‘তার মুক্তির উপায় বলে দিতে পারো?’— কে, কোন প্রসঙ্গে, কাকে এই প্রশ্ন করেছেন?
উত্তর: এই প্রশ্নটি করেছেন ইরান দেশের সদাগর। তিনি ভারত থেকে ফেরার পথে এক বনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং একঝাঁক তোতা পাখি দেখতে পান। সেই সময় তিনি তাদের উদ্দেশে তাঁর খাঁচাবন্দী তোতার মুক্তির উপায় জানতে চেয়ে এই প্রশ্ন করেন।
প্রশ্ন ঙ: ‘কিন্তু এ তো ঘুঘু’— কার সম্বন্ধে কেন এ কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এই কথাটি বলা হয়েছে সদাগরের পোষা তোতাকে উদ্দেশ করে। সদাগর তোতার ঘরে ঢুকে পড়লে তোতা সওগাতের কথা জিজ্ঞাসা করে। তখন সদাগর মনে মনে বলেন, “তোতা আর ঘুঘু এক নয় জানি, কিন্তু এ তোতা ঘুঘু।” অর্থাৎ তোতাটি অত্যন্ত চালাক ও তীক্ষ্ণবুদ্ধি, যা তাকে নিরীহ ঘুঘু থেকে আলাদা করেছে।
প্রশ্ন চ: কীভাবে তোতা খাঁচা থেকে মুক্তি পেল?
উত্তর: তোতাটি মরার ভান করার কৌশল অবলম্বন করে মুক্তি পেয়েছিল। সদাগরের মুখে ভারতের তোতার মৃত্যুর কথা শুনে সে ধপ করে পড়ে যায়। সদাগর তাকে মৃত ভেবে খাঁচা খুলে আঙ্গিনায় ফেললে তোতাটি উড়ে গিয়ে ছাদে বসে। পরে সে জানায়, তার ভাই মরার ভান করেছিল, সেই কৌশলেই সে মুক্তি পেয়েছে।
প্রশ্ন ছ: ‘একই ভুল, দুবার করলুম’— কে, কেন এই কথা বলেছেন? এখানে ভুলটা কী?
উত্তর: এই কথা বলেছেন সদাগর। তিনি ভারতে তোতাদের দুঃসংবাদ জানিয়ে একটি পাখিকে মেরে ফেলেছিলেন এবং একই ভুল পুনরায় নিজের তোতাকে দুঃসংবাদ দিয়ে করেছেন। ফলত তোতাটিও মরে যায় (ভান করে)। তাই তিনি অনুতপ্ত হয়ে বলেন, “একই ভুল, দুবার করলুম।”
—
৫। রচনামূলক প্রশ্নোত্তর (Essay Type Answers)
প্রশ্ন ক: ‘তোতা কাহিনী’ নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর: ‘তোতা কাহিনী’ নামটি সরল হলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গল্পটির কেন্দ্রবিন্দু হলো ভারতীয় এক তোতা, যে ইরানের সদাগরের খাঁচায় বন্দী ছিল। গল্পের প্রতিটি ঘটনা—তোতার সওগাত চাওয়া, সদাগরের ভারতযাত্রা, দুঃসংবাদ, এবং তোতার মুক্তি—সবই তোতাকে ঘিরে। এই তোতা শুধু গল্পের চরিত্র নয়, সে আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রতীক। তাই গল্পটির নামকরণ ‘তোতা কাহিনী’ একেবারে যথাযথ ও সার্থক।
প্রশ্ন খ: প্রবাসের বন্দি জীবন থেকে তোতা কীভাবে মুক্তি পেল?
উত্তর: ইরানের সদাগরের খাঁচায় বন্দি তোতা ছিল জ্ঞানী ও তীক্ষ্ণবুদ্ধি। সে সদাগরকে অনুরোধ করেছিল তার মুক্তির উপায় জানতে। সদাগর ভারতে গিয়ে বনের তোতাদের কাছে জানতে চাইলে একটি পাখি দুঃসংবাদ শুনে মরে যাওয়ার ভান করে। সেই ইঙ্গিতই বন্দি তোতার কাছে মুক্তির সংকেত হয়। সদাগর ফিরে এসে খবরটি দিলে সে একইভাবে মরে যাওয়ার ভান করে। সদাগর খাঁচা খুলে তাকে বাইরে ফেললে, সে উড়ে গিয়ে মুক্ত হয়। এই মুক্তি ছিল আত্মিক মুক্তির প্রতীক।
প্রশ্ন গ: সদাগরের চরিত্র বর্ণনা করো।
উত্তর: সদাগর ছিলেন ইরানের এক বণিক, যিনি তোতাপ্রেমী ও রসিক। তিনি অর্থলোভী হলেও জ্ঞানপিপাসু ও আবেগপ্রবণ। নিজের ভুল বুঝে অনুতপ্ত হন এবং সত্যবাদিতার পরিচয় দেন। তাঁর চরিত্রে মানবিকতা, সরলতা, দুঃখবোধ ও বিবেকবোধের সংমিশ্রণ দেখা যায়। তাই সদাগর চরিত্রটি বাস্তব ও হৃদয়স্পর্শী।
—
৬। ব্যাখ্যা করো (Explain):
প্রশ্ন ক: “জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভেলেন্টিনো, পাণ্ডিত্যে ম্যাক্সম্যুলার।”
উত্তর: এই উক্তিটি ‘তোতা কাহিনী’ থেকে নেওয়া। এটি তোতার অসাধারণ গুণাবলীর প্রশংসা প্রকাশ করে। বৃহস্পতি ও ম্যাক্সম্যুলার জ্ঞানের প্রতীক, কালিদাস রসের প্রতীক এবং ভেলেন্টিনো সৌন্দর্যের প্রতীক। অর্থাৎ তোতাটি জ্ঞান, রস, সৌন্দর্য ও পাণ্ডিত্যে ছিল অনন্য।
প্রশ্ন খ: “গোঁফ কামানোর পরও হাত ওঠে অজানতে চাড়া দেবার জন্য।”
উত্তর: এই প্রবাদবাক্যের অর্থ হলো—পুরোনো অভ্যাস সহজে ভোলে না। সদাগর তোতার ঘরে যাওয়া বন্ধ করেছিলেন, কিন্তু অভ্যাসবশে বে-খেয়ালে আবার ঢুকে পড়েন। ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তোতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে যায় এবং ঘটনা মোড় নেয়।
প্রশ্ন গ: “সদাগর ফাটা বাঁশের মধ্যিখানে।”
উত্তর: এই বাক্যটি একটি বাগধারা। এর অর্থ হলো উভয় সংকটে পড়া। সদাগর বুঝতে পারছিলেন না—তোতাকে সত্যি কথা বলবেন, না লুকাবেন। বন্ধুর প্রতি দায়িত্ব ও দুঃসংবাদ দেওয়ার ভয়—এই দুইয়ের মাঝে তিনি ফাটা বাঁশের মতো অবস্থায় পড়েন।
প্রশ্ন ঘ: “ঘোড়া চুরির পর আস্তাবলে তালা মেরে কি লভ্য!”
উত্তর: এটি একটি প্রবাদবাক্য, যার অর্থ হলো—ঘটনা ঘটার পর সতর্ক হলে কোনো লাভ হয় না। সদাগর তোতার মৃত্যুর পর আফসোস করে কাঁদেন, কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না।
প্রশ্ন ঙ: “মরার আগেই যদি মরতে পারো, তবেই মোক্ষ লাভ।”
উত্তর: এটি তোতার মুখে বলা শেষ তত্ত্ব। এখানে ‘মরা’ অর্থাৎ জাগতিক আকাঙ্ক্ষা, অহংকার ও কামনা-বাসনা ত্যাগ করা। মানুষ যদি জীবিত থাকতেই এই বন্ধনগুলো কাটাতে পারে, তবে সে সত্যিকারের মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করতে পারে। তোতার মুক্তি সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রতীক।
—
৭। টীকা লেখো (Write Notes):
প্রশ্ন: কালিদাস
উত্তর: কালিদাস ছিলেন প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। তিনি রসপ্রকাশে অনন্য প্রতিভাবান ছিলেন। ‘তোতা কাহিনী’তে সদাগর তাঁর তোতাকে “রসে কালিদাস” বলে প্রশংসা করেছেন, যার দ্বারা তোতার রসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
—
৮। পাঠভিত্তিক ব্যাকরণ (Grammar Based on the Text)
প্রশ্ন ক: শব্দের উৎস ও শ্রেণি লেখো।
উত্তর:
ফুরসৎ – আরবি উৎস – বিদেশি শব্দ।
খবর – আরবি উৎস – বিদেশি শব্দ।
সওদা – ফারসি উৎস – বিদেশি শব্দ।
বেইমান – ফারসি/আরবি উৎস – বিদেশি শব্দ।
সওগাত – ফারসি উৎস – বিদেশি শব্দ।
দোস্ত – ফারসি উৎস – বিদেশি শব্দ।
তাজ্জব – আরবি উৎস – বিদেশি শব্দ।
আপসোস – ফারসি উৎস – বিদেশি শব্দ।
প্রশ্ন খ: পদ পরিবর্তন করো।
উত্তর:
দেশ (বিশেষ্য) → দেশীয় (বিশেষণ)।
জ্ঞান (বিশেষ্য) → জ্ঞানী (বিশেষণ)।
সৌন্দর্য (বিশেষ্য) → সুন্দর (বিশেষণ)।
পাণ্ডিত্য (বিশেষ্য) → পণ্ডিত (বিশেষণ)।
মুক্তি (বিশেষ্য) → মুক্ত (বিশেষণ)।
স্থির (বিশেষণ) → স্থিরতা (বিশেষ্য)।
বন্ধু (বিশেষ্য) → বন্ধুত্ব (বিশেষ্য)।
তত্ত্ব (বিশেষ্য) → তাত্ত্বিক (বিশেষণ)।
ক্ষুধা (বিশেষ্য) → ক্ষুধার্ত (বিশেষণ)।
প্রশ্ন গ: বাক্য পরিবর্তন করো।
১। সদাগর ভারতবর্ষে এসে মেলা পয়সা কামালেন।
→ সদাগর ভারতবর্ষে এলেন এবং মেলা পয়সা কামালেন।
২। যাবার আগে আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যাও।
→ যখন যাবে, তার আগে আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যেও।
—
